wb 10th Bengali

WBBSE 10th Class Bengali Solutions Chapter 12 অদল বদল

WBBSE 10th Class Bengali Solutions Chapter 12 অদল বদল

West Bengal Board 10th Class Bengali Solutions Chapter 12 অদল বদল

West Bengal Board 10th Bengali Solutions

লেখক পরিচিতি

জন্ম: পান্নালাল প্যাটেল ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ৭মে রাজস্থানের দুঙ্গারপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম পান্নালাল নানালাল প্যাটেল।
কর্মজীবন ও সাহিত্যজীবন: পান্নালাল গুজরাতি ভাষার একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি তাঁর মানবি নি ভাবই-এর জন্য ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ সাহিত্যসম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে করি উমাশংকর জেঠালাল যোশীর জ্ঞানপীঠ পাওয়ার পর দ্বিতীয় গুজরাতি লেখক হিসেবে তিনি এই সম্মানে ভূষিত হন। তিনি ৭০টিরও বেশি বই লিখেছেন। তবে তাঁর সবথেকে গুজরাতি গদ্যসাহিত্যিকদের মধ্যে প্যাটেলই একমাত্র যিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর অসামান্য সৃষ্টিগুলি বর্তমান প্রজন্মের কাছে তৎকালীন গুজরাতের গ্রামজীবনের স্পষ্ট ছবি তুলে ধরে। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে তিনি রঞ্জিতরাম সুবর্ণচন্দ্রক পুরস্কার পান।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ—মালেলা জিব, মানবি নি ভাবই, ব্রুনদোথি রক্ষয়িলো জলন্ধর, অনে পদ্‌ছায়া, মহাভারত্ন, প্রথম প্রণয়ঃ ভীম-হিরিম, মানবদেহে কামেদের রতি, নগধ নারায়ণ, পূরাণকথিৎ মা দুর্গা, পাৰ্থ নে কহো চাড়য়ে বাণ, কৃষ্ণ জীবনলীলা ইত্যাদি। তিনি বহু ছোটোগল্পও লিখেছেন। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—‘সুখ দুখথ্নান সাথি’, ‘জিন্দাগিনা খেল, ‘কোই দেশি কোই পরদেশি’ ইত্যাদি।

বিষয়সংক্ষেপ

পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পটিতে অমৃত ও ইসাব নামে আমরা দুই বন্ধুকে পাই। এই দুই বন্ধুর সব কিছুই একরকম। তাদের বাড়িও মুখোমুখি। তাদের মধ্যে পার্থক্য শুধু একটাই—অমৃতের রয়েছে মা, বাবা আর তিন ভাই, সেখানে ইসাব থাকে শুধু তার বাবার সঙ্গে। এমনকি হোলির দিনে তাদের দুজনের পোশাকও একরকম হয়। দুজনের মধ্যে খুব বন্ধুত্ব। ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় সে নতুন জামা পেয়েছিল। কিন্তু অমৃতের নতুন জামা থাকা সত্ত্বেও সেইসাবের মতোই জামা কেনার জেদ ধরে। অবশেষে অমৃত নতুন জামা পেয়েও যায়। এরপর নতুন জামা পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে অমৃত। নতুন জামাটা নোংরা হয়ে যায়, এটা সে কোনোভাবেই চায়নি। অমৃতের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কালিয়া নামে একটি ছেলে তাকে কুস্তি লড়ার জন্য বলে কিন্তু অমৃত লড়তে রাজি না হলে তাকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয় সে। সেই দৃশ্য দেখে অমৃতর বন্ধু ইসাব রেগে গিয়ে কালিয়াকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। এই ঘটনার পর যখন তারা বাড়ির পথে এগোয় তখন অমৃত লক্ষ করে ইসাবের নতুন জামাটা ছিঁড়ে গেছে। ইসাব জানত তার বাবা ছেঁড়া জামা দেখলে তার কপালে দুর্ভোগ আছে, কারণ তার বাবা অনেক কষ্টে সুদখোরের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে জামাটা তৈরি করে দিয়েছেন। ইসাবকে ভয় পেতে দেখে অমৃত ইসাবকে জামা অদলবদলের বুদ্ধি দেয়। তারা নিজেদের জামা বদলে নেয়। ইসাবের ছেঁড়া জামা অমৃত পরে নেয়। কারণ অমৃত জানত, বাবা তাকে বকলেও তার মা তাকে বাঁচিয়ে দেবেন। কিন্তু ইসাবের মা নেই বলে বাবার কাছে সে মার খেলে কেউ তাকে বাঁচাতে আসবে না। কুস্তির ঘটনা আর জামা অদলবদলের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব কত গভীর ছিল। এই জামা অদলবদলের ঘটনা ইসাবের বাবা দেখলে তাঁর মন আনন্দে ভরে যায়। তিনি অমৃতের মা ও পাড়াপড়শির কাছে এই জামা অদলবদলের ঘটনা বলেন। ইসাব আর অমৃতের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনে সকলে খুশি হয়। গ্রামের প্রধান এই ঘটনা শুনে ঘোষণা করেন যে, সেদিন থেকেই অমৃত আর ইসাবকে যথাক্রমে ‘অদল’ এবং ‘বদল’ বলেই সবাই ডাকবে। আর এই ‘অদল বদল’ ডাকে তারা দুজনও অপ্রস্তুত না হয়ে বরং খুশিই হয়।

নামকরণ

যে-কোনো সাহিত্যরচনার মূলভাব বা বিষয় পাঠকের কাছে ফুটে ওঠে রচনার নামকরণের মাধ্যমে। নামকরণ প্রতিটি সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তুকেন্দ্রিক, চরিত্রকেন্দ্রিক, ভাব অনুযায়ী আবার কখনও বা ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে থাকে।
পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল বদল’ গল্পটির নামকরণ করা হয়েছে মূলত গল্পের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে। এই গল্পে আমরা দুই বন্ধুর কাহিনি পাই যাদের সব কিছুই প্রায় একরকম ছিল। এমনকি তারা জামাও পরত একরকম। একজনের বিপদে অন্যজন সবসময় এগিয়ে আসত। ইসাব আর অমৃত দুজনেই হোলি উপলক্ষ্যে পেয়েছিল নতুন জামা আর সেই জামা যাতে না ছেঁড়ে সে ব্যাপারে দুজনেই সচেতন ছিল। কারণ তারা নত, জামা ছিঁড়লে আর সেটা বাড়ির লোকেরা জানতে পেলে তাদের কপালে খুব দুঃখ আছে। হোলির দিন বিকেলবেলায় কালিয়া অমৃতকে কুস্তি লড়ার নাম করে মাটিতে ফেলে দেয়, সেই ঘটনা দেখে ইসাবের মেজাজ চড়ে যায়। সে অমৃতের হেনস্থার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ে এবং তাকে হারিয়ে দেয়। কিন্তু কুস্তি লড়তে গিয়ে তার নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। ইসাব জানত, জামা ছেঁড়ার কথা তার বাবা জানতে পারলে তাকে বাড়ি ফিরে নিশ্চিত মার খেতে হবে। অমৃত ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নিজেদের জামা অদলবদল করার পরামর্শ দেয়। তাদের এই জামা অদলবদলের কাহিনি সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি গ্রামপ্রধানও তাদের নাম ‘অদল’ এবং ‘বদল’ বলে ঘোষণা করেন। গ্রামবাসীদের তাদের সেই নামে ডাকতেও বলেন। অমৃত ও ইসাবের এই জামা অদলবদল আর তাদের নতুন নামকরণ ‘অদল’ আর ‘বদল’—এইসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই গল্পের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। তাই বলা যায়, গল্পের বিষয়বস্তুর অনুসরণে রচিত এই ‘অদল বদল’ নামকরণটি সার্থক হয়েছে।

আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর

বহুৰিকল্পীয় প্রশ্ন [MCQ] ও উত্তর

ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো।

১. ‘অদল বদল’ গল্পের লেখক পান্নালাল প্যাটেল যে ভাষার প্রসিদ্ধ লেখক—
(ক) গুজরাতি
(খ) কন্নড়
(গ) মারাঠি
(ঘ) হিন্দি
২. অমৃত ও ইসাব দুজনের বাবা পেশায় ছিলেন—
(ক) চাষি
(খ) শিক্ষক
(গ) জেলে
(ঘ) উকিল
৩. কোন্ গাছের নীচে ছেলেরা জড়ো হয়ে ধুলো ছোড়াছুড়ি খেলছিল?
(ক) আম
(খ) নিম
(গ) পেয়ারা
(ঘ) বট
৪. হোলির দিন দুই বন্ধু বেরিয়ে বসেছিল-
(ক) খাটিয়ায়
(খ) মাচার ওপর
(গ) বারান্দায়
(ঘ) শান বাঁধানো ফুটপাথে
৫. হোলির দিন দলের ছেলেরা অমৃত আর ইসাবকে একরকম পোশাকে দেখে কী করতে বলেছিল?
(ক) ছবি আঁকতে
(খ) হোলি খেলতে
(গ) কুস্তি লড়তে
(ঘ) ফুটবল খেলতে
৬. ইসাব আর অমৃতদের বাড়ি-
(ক) মুখোমুখি
(খ) পাশাপাশি
(গ) রাস্তার এপার-ওপার
(ঘ) এপাড়া-ওপাড়া
৭. হোলির দিন অমৃত ও ইসাবের কাছে নতুন কী জিনিস ছিল?
(ক) নতুন জামা
(খ) নতুন জুতো
(গ) নতুন ব্যাগ
(ঘ) নতুন পেন
৮. ইসাব কার সঙ্গে থাকত?
(ক) দাদা
(খ) মা
(গ) বাবা
(ঘ) মা-বাবা
৯. অমৃত তার মা-বাবাকে কী কিনে দেওয়ার কথা বলেছিল?
(ক) ব্যাগ
(খ) রং
(গ) জুতো
(ঘ) জামা
১০, অমৃতের বাবাকে জামা কিনে দেওয়ার জন্য কে রাজি করিয়েছিল?
(ক) অমৃতের মা
(খ) অমৃতের দাদা
(গ) ইসাবের বাবা
(ঘ) অমৃতের ভাই
১১. ইসাবের বাবা জামা সেলাইয়ের জন্য টাকা ধার নিয়েছিলেন-
(ক) তাঁর দাদার থেকে
(খ) এক বন্ধুর থেকে
(গ) অমৃতের বাবার থেকে
(ঘ) এক সুদখোরের থেকে
১২. অমৃত সত্যি তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল-
(ক) নতুন বল কিনে দেওয়ার জন্য
(খ) নতুন বই কিনে দেওয়ার জন্য
(গ) মেলা দেখতে নিয়ে যাওয়ার জন্য
(ঘ) ইসাবের মতো জামা কিনে দেওয়ার জন্য
১৩. জামা কিনে দেওয়ার জন্য অমৃত কাকে বা কাদের খুব জ্বালিয়েছিল?
(ক) তার মা-বাবাকে
(খ) তার দিদিকে
(গ) ইসাবকে
(ঘ) ইসাবের বাবাকে

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

১. ‘অদল বদল’ গল্পটি কার রচিত?
উত্তর –‘অদল বদল’ গল্পটি প্রখ্যাত গুজরাতি লেখক পান্নালাল প্যাটেল রচিত।
২. ‘অদল বদল’ গল্পটি কে বাংলায় তরজমা করেছেন? 
উত্তর –‘অদল বদল’ গল্পটি বাংলায় তরজমা করেছেন অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।
৩. “বলতে গেলে ছেলেদুটোর সবই একরকম, তফাত শুধু এই যে,” — তফাতটা কী?
উত্তর –অমৃত আর ইসাবের মধ্যে অনেক মিল থাকলেও তফাত ছিল এই যে, অমৃতের বাবা-মা আর তিন ভাই ছিল, ইসাবের ছিল শুধু তার বাবা।
৪. হোলির দিন পড়ন্ত বিকেলে একদল ছেলে কী করছিল?
উত্তর –হোলির দিন পড়ন্ত বিকেলে একদল ছেলে নিম গাছের নীচে ধুলো ছোড়াছুড়ি করে খেলা করছিল।
৫. অমৃত ও ইসাবের একরকম পোশাক দেখে দলের একটি ছেলে কী বলেছিল?
উত্তর –অমৃত ও ইসাবের একরকম পোশাক দেখে, দলের একটি ছেলে বলেছিল তাদের দুজনকে কুস্তি লড়তে হবে এবং তাহলেই বোঝা যাবে কে বড়ো পালোয়ান।
৬. কুস্তি লড়ার কথা শুনে অমৃত কী বলেছিল?
উত্তর – কুস্তি লড়ার কথা শুনে অমৃত বলেছিল, যদি তার মা এ কথা জানতে পারে তাহলে তাকে ঠ্যাঙাবে।
৭. বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় অমৃতের মা অমৃতকে কী বলেছিলেন?
উত্তর – বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় অমৃতের মা অমৃতকে সাবধান করে দিয়েছিলেন আর বলেছিলেন কোনোভাবেই যেন তার নতুন জামা ময়লা না হয় বা ছিঁড়ে না যায়।
৮. “শোনামাত্র অমৃত ফতোয়া জারি করেছিল..”—অমৃতের মা-বাবা তাকে জামা কিনে দিতে না চাইলে, সে কী ফতোয়া জারি করেছিল? 
উত্তর – অমৃতের মা-বাবা অমৃতকে জামা কিনে দিতে না চাইলে যে ফতোয়া জারি করেছিল যে ইসাবের মতো একই জামা না পেলে সে স্কুলে যাবে না।
৯. অমৃত নতুন জামা কেনার জন্য জেদ করলে তার মা তাকে কী বুঝিয়েছিলেন?
উত্তর – অমৃতের মা অমৃতকে বুঝিয়েছিলেন খেতে কাজ করতে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় তার নতুন জামা দরকার। কিন্তু অমৃতের জামা নতুনই থাকায় এখন তার নতুন জামার প্রয়োজন নেই।
১০. অমৃত কীভাবে নিজের জামাটা ছিঁড়েছিল?
উত্তর – অমৃত নিজের জামার একটা ছোটো ছেঁড়া জায়গায় আঙুল ঢুকিয়ে জামাটা আরও ছিঁড়ে দিয়েছিল।
১১. অমৃতের মা তাকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কী বলেছিলেন? 
উত্তর – অমৃতের মা অমৃতকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বলেছিলেন, নতুন জামা কেনার আগে ইসাবের বাবা ইসাবকে খুব মেরেছিলেন। তাই অমৃতও যদি ইসাবের মতো মার খেতে রাজি থাকে তাহলেই সে নতুন জামা পাবে।
১২. “অমৃত এতেও পিছপা হতে রাজি নয়।”—‘এতেও’ বলতে কোন্ ঘটনাকে নির্দেশ করা হয়েছে?
উত্তর – ‘এতেও’ বলতে নতুন জামা পাওয়ার জন্য বাবার কাছে মার খাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
১৩. জামা কেনার ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য অমৃতের মা কী বলেছিলেন?
উত্তর – জামা কেনার ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য অমৃতের মা অমৃতকে তার বাবার কাছে গিয়ে জামা কেনার কথা বলতে বলেছিলেন।
১৪. “অমৃত নতুন জামা পাওয়ার জন্য কী কী কৌশল অবলম্বন করেছিল?
উত্তর – অমৃত নতুন জামা পাওয়ার জন্য স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিল, খাওয়া ছেড়ে দিল এবং রাত্রে বাড়ি ফিরতে রাজি হল না।
১৫. বাড়ি থেকে জামা কিনে না দেওয়ায় অমৃত কোথায় গিয়ে লুকিয়েছিল?
উত্তর – বাড়ি থেকে জামা কিনে না দেওয়ায় বাড়ি না ফিরে অমৃত ইসাবের বাবার গোয়াল ঘরে লুকিয়েছিল।
১৬. অমৃত কুস্তি লড়তে রাজি ছিল না কেন? 
উত্তর – অমৃত কুস্তি লড়তে রাজি ছিল না, কারণ তার জামাকাপড় নোংরা হোক সেটা সে চায়নি।
১৭. অমৃতকে কে, কেন খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল? 
উত্তর – অমৃতকে কালিয়া কুস্তি লড়ার জন্য খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল।
১৮, “ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল।”—কখন ইসাবের মেজাজ চড়ে গিয়েছিল?
উত্তর – অমৃত কুস্তি লড়তে না চাওয়ায় কালিয়া অমৃতকে ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দেয়, আর তাতেই ইসাবের মেজাজ চড়ে গিয়েছিল।
১৯. “কুস্তি শুরু হয়ে গেল।”—কার সঙ্গে কার কুস্তি শুরু হল?
উত্তর – ইসাবের সঙ্গে কালিয়ার কুস্তি শুরু হয়ে গিয়েছিল।
২০. কালিয়াকে কুস্তিতে কে হারিয়ে দিয়েছিল?
উত্তর – কালিয়াকে কুস্তিতে ইসাব হারিয়ে দিয়েছিল।
২১. কখন ইসাবের জামার ছেঁড়া অংশটা অমৃতের নজরে এল?
উত্তর – কালিয়াকে কুস্তিতে হারিয়ে ইসাব ও অমৃত দুজনে যখন বাড়ি ফিরছিল তখন, অমৃতের নজরে এল ইসাবের জামার পকেটের ছয় ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে গেছে।
২২. “ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।”—ভয় পাবার কারণ কী? 
উত্তর – কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামার পকেটের ছ-ইঞ্জি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে যাওয়ায় অমৃত ও ইসাব ভয়ে কাঠ হয়ে যায়।
২৩. ইসাবের বাবা কীভাবে কাপড় কিনে ইসাবের জন জামা সেলাই করিয়েছিলেন?
উত্তর – ইসাবের বাবা সুদখোরের কাছ থেকে টাকা ধার করে অনেক বেছে কাপড় কিনে ইসাবের জন্য জামা সেলাই করিয়েছিলেন।
২৪. “এসো, আমরা কুস্তি লড়ি।”—কে, কাকে বলেছিল? 
উত্তর – পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পে উল্লিখিত মন্তব্যটি কালিয়া অমৃতকে করেছিল।

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

১. “বলতে গেলে ছেলে দুটোর সবই একরকম, তফাত শুধু এই ষে….।”—ছেলে দুটো কে কে? তাদের মিল ও অমিল উল্লেখ করো।
উত্তর – ‘ছেলে দুটো’-র পরিচয়: উল্লিখিত অংশে ‘ছেলে দুটো’ বলতে অমৃত আর ইসাবের কথা বলা হয়েছে।
ছেলে দুটির মিল ও অমিল: প্রখ্যাত গুজরাতি লেখক পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পের দুই বন্ধু অমৃত ও ইসাব একই ক্লাসে এবং একই স্কুলে পড়ত। তাদের বাড়ি ছিল মুখোমুখি; দুজনেরই বাবা পেশায় ছিল চাষি। জমির পরিমাণও তাদের প্রায় এক। দুজনের বাবাকেই বিপদে-আপদে ধার নিতে হত। এইগুলোই ছিল তাদের মধ্যে মিল। কেবল একটি জায়গাতেই তাদের অমিল ছিল—অমৃত তার মা, বাবা আর তিন ভাইয়ের সঙ্গে থাকত, কিন্তু ইসাবের শুধু বাবাই ছিল।
২. “নতুন জামা পাবার জন্য তুমি কী কাণ্ডটাই না করেছিলে…”কার কথা বলা হয়েছে? নতুন জামা পাওয়ার জন্য সে কী কাণ্ড করেছিল? 
উত্তর – উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: উল্লিখিত অংশে অমৃতর কথা বলা হয়েছে।
নতুন জামা পাওয়ার ঘটনা: ইসাবের নতুন জামা হওয়ায়, অমৃতও চেয়েছিল তার নতুন জামা হোক। কিন্তু বাড়ি থেকে নতুন জামা দিতে রাজি না হওয়ায়, সে স্কুল যাওয়া বন্ধ করেছিল, খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। নতুন জামা পাওয়ার জন্য মার খেতেও সে রাজি ছিল। এমনকি জামা না পাওয়ায় অমৃত রাতে বাড়ি ফিরতেও চায়নি। জামা না দিলে সে বাড়ি আসবে না বলে স্থির করে ইসাবের বাবার গোয়ালঘরে লুকিয়েছিল।
৩. “অমৃত এতেও পিছপা হতে রাজি নয়।”—অমৃত কেন পিছপা হতে রাজি নয়?
উত্তর – অমৃত তার বাবা-মায়ের কাছে ঠিক ইসাবের জামার মতোই একটা জামার জন্য বায়না ধরে। অমৃতের মা তখন ওকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বলেন, “নতুন জামা দেবার আগে ইসাবের বাবা ওকে খুব মেরেছিলেন, তুইও সেরকম মার খেতে রাজি আছিস?” এই কথা শুনেও অমৃত পিছপা হতে রাজি হয়নি। বন্ধুর মতো জামা পেতে সে বাবার কাছে মার খেতেও রাজি ছিল।
৪. নতুন জামা পরে রাস্তায় বেরোনোর পর অমৃতের সঙ্গে কী ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর – অনেক জেদের পর অমৃত তার মা-বাবার থেকে নতুন জামা পায়। তাই সে এমন কিছু করতে চায়নি যাতে তার নতুন জামাটি নোংরা হয়। কিন্তু অমৃতকে নতুন জামা পরে বেরোতে দেখে ছেলেদের দলের মধ্য থেকে একটি ছেলে তাকে কুস্তি লড়তে বলে এবং জোর করে ধরে খোলা মাঠে নিয়ে যায়। অমৃত রাজি না হলেও, কালিয়া বলে ছেলেটি অমৃতকে ছাড়ে না, কুস্তি লড়ার নামে তাকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
৫. “এই বলে সে অমৃতকে খোলা মাঠে নিয়ে এল”—অমৃতকে কেন খোলা মাঠে আনা হয়েছিল? খোলা মাঠে আনার পর কী ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর – অমৃতকে খোলা মাঠে আনার কারণ: কালিয়া নামের একটি ছেলে চেয়েছিল অমৃতের সঙ্গে কুস্তি লড়তে। অমৃত রাজি না হলেও সে তাকে কুস্তি লড়ার জন্য খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল।
পরবর্তী ঘটনা: মাঠে নিয়ে এসে কালিয়া অমৃতকে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে এবং অমৃতকে ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। বন্ধু অমৃতর এই অপমানে ইসাব রেগে যায়। বন্ধুর হারের শোধ নিতে ইসাব নিজে কালিয়াকে তার সঙ্গে লড়তে বলে আর তাকে সে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়।
৬. “অমৃতের অত জোর দিয়ে বলার কারণ ছিল”—–অমৃত জোর দিয়ে কী বলেছিল? জোর দিয়ে বলার কারণ কী ছিল? 
উত্তর – অমৃতের বক্তব্য: অমৃত জোর দিয়ে কুস্তি না লড়ার কথা বলেছিল ।
অমৃতের জোর দেওয়ার কারণ: হোলির দিন বাড়ি থেকে বেরোবার সময় অমৃতের মা তাকে এই বলে সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, অমৃত যেন তার গায়ের নতুন জামাটি ময়লা না করে বা ছিঁড়ে না-আনে। কারণ নতুন জামা পাওয়ার জন্য অমৃত তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল। তাই জামায় ময়লা লাগলে বা সেটা ছিঁড়লে মায়ের হাতে মার খাওয়া নিশ্চিত ছিল বলে অমৃত কুস্তি লড়তে রাজি হয়নি।
৭. “ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল।”—ইসাবের মেজাজ চড়ে গিয়েছিল কেন? 
উত্তর – পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্প থেকে প্রশ্নোধৃত অংশটি নেওয়া হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র ইসাব ও অমৃত খুব ভালো বন্ধু ছিল। একে অন্যের বিপদে সবসময় এগিয়ে যেত। তাদের জামাকাপড়, বাড়ির অবস্থা সব কিছুতেই ছিল মিল। হোলির পড়ন্ত এক বিকেলে এই দুই বন্ধু নতুন জামা পড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তখনই কালিয়া নামের একটি ছেলে অমৃতকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে আর তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। বন্ধুর এই লাঞ্ছনায় ইসাব রেগে গিয়েছিল।
৮. ইসাব কী কারণে রেগে গিয়েছিল? রেগে গিয়ে সে কী করেছিল ?
উত্তর – রেগে যাওয়ার কারণ: “অনুচ্ছেদ: ১-২০ ” অংশের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত ৭ নং প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে লেখো।
রেগে যাওয়ার ফল: ইসাব রেগে গিয়ে কালিয়াকে অর্থাৎ যে ছেলেটি অমৃতকে কুস্তি লড়তে বাধ্য করেছিল, তাকে আবার কুস্তি লড়তে আহ্বান জানায় আর তাকে ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এই ভাবেই ইসাব কালিয়াকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়।
৯. “অমৃত আর ইসাবও রণভূমি ত্যাগ করল।” কাকে রণভূমি বলা হয়েছে। তারা কেন সেই রণভূমি ত্যাগ করেছিল? 
উত্তর – রণভূমির পরিচয়: কালিয়া নামের ছেলেটি অমৃতকে কুস্তি লড়ার জন্য যে খোলা মাঠে নিয়ে গিয়েছিল সেই মাঠটাকেই ‘রণভূমি’ বলা হয়েছে।
রণভূমি ত্যাগের কারণ: কালিয়া অমৃতকে কুস্তি লড়তে গিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার পরে ইসাব আর স্থির থাকতে পারে না। সে নিজেই নেমে পড়ে কুস্তি লড়তে। কালিয়াকে সে হারিয়েও দেয়। কিন্তু কালিয়ার বাবা-মা এসে সেখানে উপস্থিত ছেলেদের মারতে পারে এই ভয়ে তারা সবাই পালিয়ে যায়। সবাই চলে যাবার পর অমৃত আর ইসাবও মাঠ ত্যাগ করে চলে যায়।
১০. “ওদের তখন বুকের ধুকপুকুনি বন্ধ হবার জোগাড়…।”—কখন, কী কারণে ওদের বুকের ধুকপুকুনি বন্ধ হবার জোগাড় হয়েছিল?
উত্তর – সময়কাল: বন্ধু অমৃতের সঙ্গে হওয়া অপমানের বদলা নিতে ইসাব কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়েছিল। সেই কুস্তিতে কালিয়া হেরে গেলেও ইসাবের নতুন জামাটা ছিঁড়ে যায়। জামাটা কতটা ছিঁড়েছে তা পরীক্ষা করার সময় ওরা শুনতে পেল ইসাবের বাবা ইসাবকে ডাকছেন। তখনই তাদের এই অবস্থা হয়।
বুকের ধুকপুকুনি বন্ধ হওয়ার কারণ: জামা ছেঁড়ার জন্য ইসাবের বাবা ওর চামড়া তুলে নেবেন, এই চিন্তা করে ওদের দুজনের বুকের ধুকপুকুনি বন্ধ হবার জোগাড় হয়েছিল।

বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

১ “অমৃত সত্যি তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল।”—অমৃত কীভাবে বাবা-মাকে জ্বালাতন করেছিল? অবশেষে অমৃতের মা কী করেছিল? 
উত্তর – অমৃতের জ্বালাতন: অমৃত ও ইসাব দুজন খুব ভালো বন্ধু ছিল। খেতে কাজ করতে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় তার বাবা তাকে নতুন জামা কিনে দিয়েছিলেন। আর সেটা দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তার জামা প্রায় নতুন থাকা সত্ত্বেও অমৃত জেদ করেছিল তার জন্য নতুন জামা কেনার। নিজের জামার একটা ছোটো ছেঁড়া জায়গা খুঁজে বের করে তাতে আঙুল ঢুকিয়ে সেই জায়গাটাকে সে আরও ছিঁড়ে দিয়েছিল। অমৃতের মা তাকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এটাও বলেছিলেন যে, ইসাবকে জামা কিনে দেওয়ার আগে ইসাবের বাবা তাকে খুব মেরেছিলেন। এই কথা শুনে অমৃত মার খেতেও রাজি ছিল।
অমৃতের মায়ের গৃহীত পদক্ষেপ: এই সমস্ত ঝামেলা থেকে বাঁচবার জন্য অমৃতের মা অমৃতকে তার বাবার কাছে যেতে বলেছিলেন। অমৃত জানত, তার মা যদি না বলেন তাহলে তার বাবার রাজি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্র সে ছিল না। সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল, খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল, রাতে বাড়ি ফিরতেও চায়নি। এমনকি একদিন রাত্রিবেলা ইসাবদের গোয়ালঘরে গিয়েও সে লুকিয়েছিল। অবশেষে অমৃতের মা হাল ছেড়ে দিয়ে অমৃতের বাবাকে রাজি করিয়েছিলেন তাকে জামা কিনে দেওয়ার জন্য।
২. “ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।”— কারা কেন ভয়ে কাঠ হয়ে গেল?
উত্তর – উদ্দিষ্ট ব্যক্তিবৃন্দ: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পের উল্লিখিত অংশে অমৃত আর ইসাবের কথা বলা হয়েছে।
ভয় পাওয়ার কারণ: নতুন জামা পরে অমৃত ইসাবের সঙ্গে বাইরে বেরোলে কালিয়ার দল অমৃতকে জোর করে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে এবং অনিচ্ছুক অমৃতকে মাটিতে ফেলে দেয়। বন্ধুর এই লাঞ্ছনায় ইসাবের মেজাজ চড়ে যায়। সে কালিয়াকে ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। বিষয়টা ঘোরালো হয়ে যাচ্ছে বুঝে এবং কালিয়ার বাবা-মা এসে তাদের পেটাতে পারে বুঝে সবাই এ সময় পালিয়ে যায়। অমৃত আর ইসাবও সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু কিছুটা যাওয়ার পরেই অমৃতর নজরে আসে যে ইসাবের জামার পকেট এবং ছ-ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে গেছে। এতেই তারা ভয়ে কাঠ হয়ে যায়, কারণ ইসাবের বাবা হাসান পাঠান সুদখোরের কাছ থেকে টাকা ধার করে কাপড় কিনে ইসাবের জামা সেলাই করে দিয়েছিলেন। অমৃত আর ইসাব তাই ভয় পেয়েছিল যে ইসাবের বাবার দেওয়া শার্ট দেখামাত্রই তার ‘চামড়া তুলে নেবে’। এই ভয়েই তারা কাঠ হয়ে গিয়েছিল।

হুৰিকল্পীষ্ম প্রশ্ন [MCQ] ও উত্তর

ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো।

১. অমৃত এবং ইসাবের জামা বদলানোর বিষয়টি ঘটেছিল-
(ক) মহরমের দিন
(খ) পুজোর দিন
(গ) ঈদের দিন
(ঘ) হোলির দিন
২. জামা অদলবদলের বুদ্ধি কার মাথায় এসেছিল?
(ক) ইসাবের
(খ) অমৃতের
(গ) ইসাবের স্কুলের এক বন্ধুর
(ঘ) অমৃতের ভাইয়ের
৩. ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায়, কার কাছে তাকে মার খেতে হবে ভেবে সে ভয় পেল?
(ক) মা
(খ) বাবা
(গ) ঠাকুমা
(ঘ) অমৃতের মা
৪. কারা নিজেদের জামা অদলবদল করেছিল?
(ক) ইসাবের বাবা ও অমৃতের বাবা
(খ) ইসাবের স্কুলের দুই বন্ধু
(গ) ইসাব ও অমৃত
(ঘ) এদের কেউই নয়
৫. ইসাব আর অমৃত তাদের জামা অদলবদল করেছিল-
(ক) ইসাবের বাড়িতে
(খ) তাদের দুজনের বাড়ির মাঝখানে
(গ) অমৃতের বাড়িতে
(ঘ) তাদের স্কুলে গিয়ে
৬. অমৃতের বয়স ছিল-
(ক) এগারো
(খ) পনেরো
(গ) বারো
(ঘ) দশ
৭. জামা যেন না ছেঁড়ে—এ ব্যাপারে অমৃতকে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে কে সাবধান করে দিয়েছিলেন?
(ক) অমৃতের মা
(খ) ইসাবের বাবা
(গ) ইসাব
(ঘ) অমৃতের বাবা
৮. অমৃত ও ইসাব ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল, কারণ—
(ক) ইসাবের রেজাল্ট খারাপ হয়েছিল
(খ) কালিরা ইসাবকে কুস্তি লড়তে বলেছিল
(গ) অমৃতের জামা অনেকটা ছিঁড়ে গিয়েছিল
(ঘ) ইসাবের জামা অনেকটা ছিঁড়ে গিয়েছিল
৯. ইসাবের বাবা বাড়ির সামনের দাওয়ায় কীসের ওপর বসেছিলেন?
(ক) খাট
(খ) চেয়ার
(গ) খাটিয়া
(ঘ) বাটিয়া
১০. দাওয়ায় বসে ইসাবের বাবা খাচ্ছিলেন-
(ক) হুঁকো
(খ) লস্যি
(গ) পেয়ারা
(ঘ) কোনোটাই নয়

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

১. “হঠাৎ অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল”—অমৃতের মাথায় কী বুদ্ধি এসেছিল? 
উত্তর – ইসাবের জামা ছিঁড়ে গেছে দেখে অমৃতের মাথায় নিজের সাথে ইসাবের জামা অদলবদল করার বুদ্ধি এসেছিল।
২. অমৃতের বুক ভয়ে ঢিপঢিপ করছিল কেন?
উত্তর – বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে জামা যাতে না ছেঁড়ে সে ব্যাপারে মা অমৃতকে সাবধান করে দিয়েছিলেন। তাই ছেঁড়া জামা পরে বাড়ি ফিরলে মায়ের কাছে মার খেতে হবে ভেবে তার বুক ঢিপঢিপ করছিল।
৩. অমৃতের জামা ছিঁড়ে যাওয়া সত্ত্বেও তার মা তাকে কিছু বললেন না কেন?
উত্তর – হোলির দিন অল্পবিস্তর ধস্তাধস্তি, টানাহ্যাঁচড়া হওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা মনে করে অমৃতের মা একটু অসন্তুষ্ট হলেও অমৃতকে কিছু বললেন না।
৪. অমৃত ও ইসাবের সব আনন্দ মাটি করে দেওয়ার জন্য কে, কী বলেছিল
উত্তর – গ্রামের একটি ছেলে অমৃত ও ইসাবের জামা অদলবদল করা দেখেছিল। তাদের আনন্দ মাটি করে দেওয়ার জন্য ছেলেটি দুজনের কাছে গিয়ে বলেছিল যে, সে সব কিছু দেখে ফেলেছে।
৫. ইসাবের বাবা জামা অদলবদলের সব ঘটনা জানতে পেরে কী করলেন
উত্তর – ইসাবের বাবা জামা অদলবদলের ঘটনা জানার পর খুশি হয়ে অমৃতকে বুকে জড়িয়ে বলেছিলেন, আজ থেকে অমৃত তাঁরই ছেলে।
৬. অমৃত ও ইসাবের জামা অদলবদলের গল্প কে বলল আর কারা শুনল?
উত্তর – অমৃত .ও ইসাবের জামা অদলবদলের গল্প ইসাবের বাবা বললেন আর অমৃতের মা, পাড়াপড়শি মেয়ের দল শুনল।
৭. জামা অদলবদলের কাহিনি সারা গ্রাম ঘুরে শেষে কার কানে পৌঁছোল?
উত্তর – জামা অদলবদলের কাহিনি সারা গ্রাম ঘুরে শেষে গ্রামপ্রধানের কানে পৌঁছোল।
৮. অদল-বদলের গল্প’ গ্রামপ্রধানের কানে গেলে তিনি কী ঘোষণা করেছিলেন? 
উত্তর – ‘অদল-বদলের গল্প’ গ্রামপ্রধানের কানে গেলে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, সেদিন থেকে তাঁরা অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে ডাকবেন।
৯. “উনি ঘোষণা করলেন—” কে, কী ঘোষণা করলেন?
উত্তর – জামা অদলবদলের গল্প শুনে গ্রামপ্রধান ঘোষণা করলেন, সবাই আজ থেকে অমৃত আর ইসাবকে যথাক্রমে ‘অদল’ এবং ‘বদল’ বলে ডাকবে।
১০. ‘অদল বদল’ গল্পে গ্রামপ্রধান কার নাম ‘অদল’ আর কার নাম ‘বদলদিয়েছিলেন এবং তাদের এই নাম শুনে কারা খুশি হয়েছিল?
উত্তর – গ্রামপ্রধান অমৃতকে ‘অদল’ ও ইসাবকে ‘বদল’ নাম দিয়েছিলেন আর তাদের এই নাম শুনে গ্রামের সমস্ত ছেলে খুশি হয়েছিল।
১১. জামা বদলের সময় ইসাব অমৃতকে কী জিজ্ঞাসা করেছিল আর অমৃত তার কী জবাব দিয়েছিল?
উত্তর – জামা বদলের সময় ইসাব জানতে চেয়েছিল, ছেঁড়া জামা দেখে অমৃতের বাবা যদি অমৃতকে মারেন তখন কী হবে। উত্তরে অমৃত বলেছিল, তাকে বাঁচানোর জন্য তার মা রয়েছেন।
১২, ইসাবের বাবার শান্ত গলা শুনে ইসাব ও অমৃত কী ভেবেছিল?
উত্তর – ইসাবের বাবার শান্ত গলা শুনে ইসাব ও অমৃত ভেবেছিল, তিনি হয়তো তাদের জামা অদলবদলের ঘটনাটা জেনে গেছেন। এখন ভালোবাসার ভান করলেও পরে হয়তো ইসাবকে এর জন্য মার খেতে হবে।
১৩. “সজল চোখে পাঠান বললেন”—কী বললেন?
উত্তর – হাসান পাঠান সজল চোখে বলেছিলেন যে, অমৃতের জবাব তাঁকে বদলে দিয়েছে, অমৃত তাকে শিখিয়েছে খাঁটি জিনিস কাকে বলে।
১৪. “ভয়ে অমৃতর বুক ঢিপঢিপ করছিল।”—কেন? 
উত্তর – ইসাবের সঙ্গে অমৃতের জামা বদলের বিষয়টা যদি অমৃতের মা বুঝে ফেলেন—এ কথা ভেবেই অমৃতের বুক ঢিপঢিপ করছিল।
১৫. কোন্ সময় ইসাব আর অমৃতের দুজনেরই ভয় কেটে গেল?
উত্তর – ছেঁড়া জামা দেখার পরও অমৃতের মা তাকে কিছু না বলে শুধু একটু অসন্তুষ্ট হয়ে ছুঁচ-সুতো নিয়ে জামাটা রিফু করে দিলে তাদের দুজনেরই ভয় কেটে গেল।
১৬. অমৃতের মা যখন ইসাবের ছেঁড়া জামা রিফু করে দিলেন তখন অমৃত ও ইসাব কী করল?
উত্তর – অমৃতের মা ছেঁড়া জামাটা রিফু করে দেওয়ার পর অমৃত ও ইসাব দুজনে হাত ধরাধরি করে গ্রামের ধারে বাজি আর বুড়ির বাড়ি পোড়ানো দেখতে গেল।
১৭. ইসাবের সঙ্গে কুস্তি লড়ার পর কালিয়ার অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উত্তর – ইসাব কালিয়াকে কুস্তিতে হারিয়ে দিয়েছিল। ইসাব তাকে এমনভাবে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়েছিল যে কালিয়া ঠিক ব্যাঙের মতো হাত-পা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং চিৎকার করছিল।
১৮. অমৃত-ইসাবের ভালোবাসার গল্প শুনে গ্রামবাসীর প্রতিক্রিয়া কীরুপ হয়?
উত্তর – অমৃত-ইসাবের ভালোবাসার গল্প শুনে গ্রামবাসীরা গর্বিত হয়েছিল।

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

১. “হঠাৎ অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল”— অমৃতের মাথায় কখন কী বুদ্ধি খেলেছিল?
উত্তর – অমৃতের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কালিয়া তাকে কুস্তি লড়ার জন্য জোর করে এবং খোলা মাঠে নিয়ে গিয়ে অমৃতকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। বন্ধু অমৃতর সাথে হওয়া এই অপমানে ইসাব রেগে গিয়ে কালিয়াকে তার সঙ্গে কুস্তি লড়তে বলে এবং তাকে হারিয়ে দেয়। কিন্তু এতে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। ইসাব তখন খুব ভয় পেয়ে যায়, কারণ সে জানত বাবার মারের হাত থেকে সে নিস্তার পাবে না। ইসাবকে ভয় পেতে দেখে অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলেছিল। অমৃত বুদ্ধি দিয়েছিল তার জামার সঙ্গে ইসাবের জামা অদলবদল করে নেওয়ার।
২. “কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।”—কে কথাটি বলেছিল? কথাটি ব্যাখ্যা করো। 
উত্তর – বক্তা : ‘অদল বদল’ গল্প থেকে নেওয়া প্রশ্নোদ্ধৃত কথাটি বলেছিল অমৃত।
ব্যাখ্যা: অমৃর্তের লাঞ্ছনার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। তখন অমৃত ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচাতে ইসাবের সঙ্গে নিজের জামা পালটাপালটি করে নেয়। এতে যদি অমৃতের বিপদ হয়—ইসাব এ কথা বললে অমৃত তার উত্তরে উক্ত মন্তব্যটি করে। অমৃতের এই কথা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে মা-র স্নেহই যে-কোনো সন্তানের নিশ্চিন্ত আশ্রয় হতে পারে। ইসাবের মা না থাকায় সেই সুযোগ ছিল না।
৩. “এতে দু’জনেরই ভয় কেটে গেল …।”—দু’জন কে কে? কী কারণে ওদের ভয় কেটে গেল?
উত্তর – দুজনের পরিচয়: প্রশ্নে উল্লিখিত দুজন হল অমৃত আর ইসাব।
ভয় কেটে যাওয়ার কারণ: ইসাবের সঙ্গে জামা অদলবদল করলেও বাড়ি ফিরে ছেঁড়া জামা দেখে অমৃতের মা কী বলবেন সেটা ছিল অমৃত-ইসাব দুজনেরই ভয়ের কারণ। কিন্তু দিনটা হোলির হওয়ায় একটু ধস্তাধস্তি টানাহ্যাঁচড়া চলেই। তাই অমৃতের মা ভুরু কোঁচকালেও শেষপর্যন্ত জামা ছেঁড়ার জন্য অমৃতকে মাফ করে দিলেন। তিনি একটা ছুঁচ-সুতো নিয়ে ছেঁড়া জামাটা রিফু করে দিলেন। এতে দুজনেরই ভয় কেটে গেল।
8. “তারা ভয়ে বাড়ির দিকে ছুটে পালাতে লাগল” — তারা কারা? তারা কেন বাড়ির দিকে ছুটেছিল?
উত্তর – তাদের পরিচয়: ‘অদল বদল’ গল্প থেকে নেওয়া আলোচ্য অংশে ‘তারা’ বলতে অমৃত ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
বাড়ির দিকে ছুটে যাওয়ার কারণ: কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে গেছিল। ফলে ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত তার সঙ্গে ইসাবের জামা অদলবদল করেছিল। আর এই জামা অদলবদলের দৃশ্য গ্রামের একটি ছেলে দেখেছিল। তার কাছ থেকে অন্য ছেলেরাও ব্যাপারটা জেনে যায়। তখন তারা সবাই ‘অদল-বদল, অদল-বদল’ বলে চিৎকার করতে থাকে। যদি অমৃত ও ইসাবের বাবা-মা এই ব্যাপারটা জেনে যায়, সেই ভয়ে তারা দুজনেই তখন বাড়ির দিকে ছুটেছিল।
৫. ইসাবের বাবা ইসাব আর অমৃতের জামা অদলবদলের কাহিনি কীভাবে জানতে পেরেছিলেন? জানার পর ইসাবের বাবা কী করেছিলেন?
উত্তর – জামা অদলবদলের কাহিনি জানতে পারা: বাবার মারের হাত থেকে ইসাবকে বাঁচাতে অমৃত জামা অদলবদল করার বুদ্ধি দিয়েছিল। তারা যখন গলিতে ঢুকে নিজেদের জামা অদলবদল করছিল তখন সেই দৃশ্য ইসাবের বাবা দেখেছিলেন। সেভাবেই তিনি জামা অদলবদলের কাহিনি জানতে পারেন।
পরবর্তী ঘটনা: তিনি আনন্দে অমৃতকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। তারপর অমৃতের মাকে ডেকে সমস্ত পাড়াপড়শির সামনে ইসাবের বাবা অমৃত ও ইসাবের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনিয়েছিলেন।
৬. “ওঁর শান্ত গলা শুনে ওদের চিন্তা হলো”—ওঁর’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? শান্ত গলা শুনে চিন্তা হওয়ার কারণ কী। 
উত্তর – উদ্দিষ্ট জন: উল্লিখিত অংশে ‘ওঁর’ বলতে ইসাবের বাবা হাসান পাঠানের কথা বলা হয়েছে।
শান্ত গলা শুনে চিন্তার কারণ: কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। অমৃত বুঝতে পারে, এর ফলে ইসাবকে বাবার কাছে মার খেতে হবে। তাই তাকে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সে নিজের জামাটি ইসাবের সঙ্গে পালটে নেয়। পাড়ার ছেলেরা এজন্য তাদের উদ্দেশ্যে ‘অদলবদল’ বলে চিৎকার করতে থাকে। আর বাড়ির লোকের কাছে ব্যাপারটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে ইসাব-অমৃত তখন সেখান থেকে পালাতে থাকে। এই সময়েই দাওয়ায় খাটিয়ায় বসে হুঁকো খেতে ব্যস্ত ইসাবের বাবা তাদের দুজনকে নিজের কাছে ডাকেন। ইসাবরা ভয় পায় যে, তিনি হয়তো প্রকৃত ঘটনাটা জেনেও, শুধু ভালোবাসার ভান করছেন। ইসাবের বাবার শান্ত গলা শুনে তাই ওদের চিন্তা হয়েছিল।
৭. “উনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরলেন”—’উনি’ কে? কেন অমৃতকে উনি জড়িয়ে ধরলেন?
উত্তর – ‘উনি’-র পরিচয়: ‘অদল বদল’ গল্পে ‘উনি’ বলতে ইসাবের বাবাকে বোঝানো হয়েছে।
অমৃতকে জড়িয়ে ধরার কারণ: ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায়, ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত নিজের জামার সঙ্গে তার জামা বদলে নিয়েছিল। কারণ অমৃত বুঝেছিল তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছে কিন্তু ইসাবের মা নেই, তার রয়েছে শুধু বাবা। আড়াল থেকে অমৃতের মনের উদারতার এই পরিচয় পেয়ে আনন্দে ইসাবের বাবা অমৃতকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।
৮. “বাহালি বৌদি, আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।” বাহালি বৌদি কে? বক্তা কেন তাঁকে এ কথা বলেছেন? 
উত্তর – বাহালি বৌদির পরিচয়: বাহালি বৌদি হলেন অমৃতের মা। এ কথা বলার কারণ: ইসাবের ছেঁড়া জামা নিজের গায়ে পরে নিয়ে অমৃত তাকে বাবার হাতে মার খাওয়া থেকে বাঁচিয়েছিল। কারণ সে জানত, ইসাবের মা নেই। অমৃতের মা আছেন, তিনিই অমৃতকে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচাবেন। আড়াল থেকে জামা অদল-বদলের এই দৃশ্য দেখে ইসাবের বাবা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। এত অল্প বয়সে অমৃতের এরকম বন্ধুপ্রীতি আর উদারতার পরিচয় পেয়েই তিনি আলোচ্য উক্তিটি করেছিলেন।
৯. “অমৃতের মতো ছেলে পেলে আমি একুশজনকেও পালন করতে রাজি আছি।”—বক্তা কে? তাঁর এমন উক্তির কারণ কী? 
উত্তর – বক্তা : ইসাবের বাবা হাসান পাঠান হলেন উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা।
এমন উক্তির কারণ: কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে গেলে অমৃত নিজের নতুন জামাটা ইসাবকে দিয়ে দেয়। সে তাকে বলে যে, তার মা তাকে বাবার হাতে মার খাওয়া থেকে বাঁচাবেন কিন্তু ইসাবের তো মা নেই। এ কথা ইসাবের বাবা আড়াল থেকে শুনেছিলেন। একটি ছোটোছেলের বন্ধুর প্রতি এই ভালোবাসা এবং এরকম বড়ো মনের পরিচয় পেয়েই ইসাবের বাবা উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন।
১০. “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।”—’ও’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? সে কাকে, কী শিখিয়েছিল?
উত্তর – উদ্দিষ্ট জন: উল্লিখিত অংশে ‘ও’ বলতে অমৃতকে বোঝানো হয়েছে।
শিক্ষণীয় বিষয়: ইসাবের বাবা ইসাব আর অমৃতের জামা বদলের ঘটনাটা আড়াল থেকে দেখেছিলেন। ইসাবকে অমৃত তার ভালো জামাটা দিয়ে ইসাবের ছেঁড়া জামাটা নিজে নিয়ে বলেছিল যে অমৃতের বাবা অমৃতকে মারলে তার মা তাকে রক্ষা করবেন। অমৃতের এই মন্তব্যকেই ইসাবের বাবা ‘খাঁটি জিনিস’ বলে মনে করেছেন। সংসারে মায়ের যে কতখানি মূল্য তা অমৃত-ই যেন ইসাবের বাবাকে শিখিয়েছিল।
১১. অমৃত ও ইসাবের জামা অদলবদলের কাহিনি যখন সবাই জানতে পারল তখন কী ঘটনা ঘটল ?
উত্তর – অমৃত ও ইসাবের · পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার আর জামা অদলবদলের কাহিনি শুনে পাড়াপড়শির মন ভরে গিয়েছিল। ছেলের দল তাদের ঘিরে “অমৃত-ইসাব অদল-বদল, ভাই অদল বদল” বললে অমৃত এবং ইসাবও আর এই ডাক শুনে অপ্রস্তুত বোধ করত না, বরং বুশিই হত তারা। এমনকি গ্রামপ্রধানের কানে গিয়ে যখন এ কথা পৌঁছোল তখন তিনি ঘোষণা করে দিলেন, অমৃত ও ইসাবকে ‘অদল বদল’ বলে ডাকার কথা। সবাই এই ঘোষণায় খুশি হল।
১২. “গল্প শুনে তাদেরও বুক ভরে গেল।”—কোন্ গল্প? তা শুনে বুক ভরে যাওয়ার কারণ কী? 
উত্তর – গল্পটির পরিচয়: অমৃত আর ইসাবের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার গল্পের কথাই এখানে বলা হয়েছে।
গল্প শুনে বুক ভরে যাওয়ার কারণ: ইসাব আর অমৃত ছিল পরস্পরের বন্ধু। তাদের বন্ধুত্ব এতই নিবিড় ছিল যে, তারা একে অপরের জন্য প্রাণ দিতেও রাজি ছিল। আন্তরিকতাই তাদের বন্ধুত্বকে খাঁটি সোনায় পরিণত করেছিল। জামা অদলবদলের ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ। উভয়ের এই অকৃত্রিম বন্ধুত্বের পরিচয় পেয়ে গর্বে পাড়াপ্রতিবেশীদের বুক ভরে গিয়েছিল।
১৩. “বরঙ অদল-বদল বলাতে তাদের ভালোই লাগল…।” কারা ‘অদল-বদল’ বলেছিল? এ কথা ওদের ভালোলাগার কারণ কী ?
উত্তর – ‘অদল-বদল’ বলা: ছেলের দল বাজি আর বুড়ির বাড়ি পোড়ানো দেখে ফেরার সময় অমৃত আর ইসাবকে ‘অদল বদল’ বলেছিল।
ভালোলাগার কারণ: অমৃত আর ইসাব পরস্পর জামা বদল করেছিল। ইসাবের ছেঁড়া জামাটা অমৃত পরেছিল। ওদের বন্ধুপ্রীতি দেখে ইসাবের বাবা মুগ্ধ হয়েছিলেন। বিশেষ করে ইসাবের প্রতি অমৃতের এই আন্তরিকতা তাঁর মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। ফলে জামা অদলবদলের কারণে তাদের আর ভয় পাওয়ার কোনো কারণ ছিল না। তাই ইসাব আর অমৃত ছেলেদের ‘অদল-বদল’ ডাক শুনে অপ্রস্তুত না হয়ে খুশিই হয়েছিল।

বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

১. গ্রামপ্রধানের অমৃত ও ইসাবের নাম ‘অদল বদল’ ঘোষণা করার পেছনে যে কারণ ছিল তা বর্ণনা করো।
উত্তর – শুরুর কথা: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে কালিয়া যখন অমৃতকে কুস্তিতে হারিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তখন ইসাব বন্ধুর অপমানের প্রতিবাদ জানাতে কালিয়ার সঙ্গে আবার কুস্তি লড়ে। কুস্তি লড়াই: কুস্তিতে ইসাব কালিয়াকে হারিয়েও দেয়। আর এই কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। জামা অদলবদলের বুদ্ধি বাবার মারের হাত থেকে ইসাবকে বাঁচাতে অমৃত জামা অদলবদলের বুদ্ধি দেয়। সে নিজের জামা ইসাবকে দিয়ে ইসাবের জামা নিজে পরে নেয়। তাদের এই জামা অদলবদলের দৃশ্য গ্রামের একটি ছেলে ছাড়া ইসাবের বাবাও দেখেন। এই দৃশ্য দেখে তিনি অমৃতের উদারতা এবং দুই বন্ধুর পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ হন। অদলবদলের কাহিনি বলা: ইসাবের বাবা অমৃতের বাড়ি এসে এই কাহিনি অমৃতের মাকে বলেন এবং পাড়াপড়শিরাও সেই কাহিনি শুনে মুগ্ধ হয়। এমনকি এরপর চারিদিকে ছেলেরা তাদের ‘অদল বদল’ বলেই ডাকতে শুরু করে।‘অদল বদল’ নামকরণ : এই জামা অদলবদলের কাহিনি গ্রামপ্রধানের কানে পৌঁছোয় এবং তাঁরও গল্পটা পছন্দ হয়। তখন তিনি ঘোষণা করেন, অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে ডাকার কথা। আর এরপর থেকে সারা গ্রামে তাদের এই ‘অদল বদল’ নামটি প্রচলিত হয়ে যায়।
২. “উনি ঘটনাটা জানেন, শুধু ভালোবাসার ভান করছেন”আসল ঘটনাটি কী? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি ভালোবাসার ভান করেছিলেন কিনা বুঝিয়ে দাও। 
উত্তর – প্রকৃত ঘটনা: ‘অদল বদল’ গল্পে ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত তার সঙ্গে নিজের ছেঁড়া জামাটি পালটে নেয়। কিন্তু গ্রামের ছেলেরা এই দৃশ্য দেখে ফেলে এবং তাদের পিছন পিছন চলতে চলতে ‘অদল-বদল’ বলে চিৎকার করতে থাকে। বাবারা তাদের বিষয়টি জেনে ফেলবে মনে করে তারা ভয়ে বাড়ির দিকে ছুটতে থাকে। ইসাবের বাবা তখন বাড়ির সামনে দাওয়ায় বসে হুঁকো টানছিলেন। তিনি ইসাব-অমৃতের কাছে জানতে চান যে তারা বন্ধুদের কাছ থেকে পালিয়ে আসছে কেন। তিনি তাঁর কাছে এসে তাদের বসতেও বলেন। ইসাবের বাবার শান্ত গলা শুনেই অমৃতইসাবের চিন্তা হয় যে তিনি হয়তো উল্লিখিত ঘটনাটা জানেন এবং তাদের কাছে আনার জন্য ভালোবাসার ভান করছেন।
উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত মনোভাব: ইসাবের বাবার ভালোবাসার কোনো ভান ছিল না। বরং বন্ধুর প্রতি অমৃতের এরকম ভালোবাসা দেখে তিনি আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরে তিনি অমৃতের মাকে বলেন, “আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।” অমৃতের মতো ছেলে পেলে তিনি যে একুশ জনকেও পালন করতে রাজি এ কথাও বলেন। তিনি আরও বলেন, অমৃতের কাছ থেকেই তিনি শিখেছেন ‘খাঁটি জিনিস কাকে বলে’। অমৃতের মায়ের উদ্দেশে বলা এই কথাগুলো বুঝিয়ে দেয়, অমৃতের বন্ধুপ্রীতি জীবন সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও পালটে দিয়েছিল।
৩. “অমৃতের জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে।”— অমৃতের কোন্ জবাব বক্তাকে বদলে দিয়েছিল ? কীভাবে বদলে দিয়েছিল তার বর্ণনা দাও। 
উত্তর – অমৃতের জবাব: ‘অদল বদল’, গল্পে বন্ধু অমৃতের লাঞ্ছনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইসাব কালিয়াকে কুস্তি লড়তে আহ্বান করে এবং তাকে হারিয়েও দেয়। কিন্তু এতে তার নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত নিজের জামাটি তার সঙ্গে পালটে নেয়। এই সময় ইসাব অমৃতকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “তোর বাবা যদি তোকে মারে কী হবে?” এর উত্তরে অমৃত বলেছিল, “কিন্তু আমার তো মা আছে।” অমৃতের এই জবাব প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তির বক্তা ইসাবের বাবাকে বদলে দিয়েছিল।
বক্তার ওপর অমৃতের জবাবের প্রভাব: ইসাবের বাবা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন অমৃত আর ইসাবের বন্ধুত্বের গভীরতা এবং সরলতা দেখে। অমৃত জানে, তাকে তার বাবা মারলে অমৃতকে তার মা রক্ষা করবে। কিন্তু ইসাবের মা নেই। অমৃতের অনুভবের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বন্ধুত্বের প্রকৃত সংজ্ঞা। ধর্মীয় পার্থক্য কখনোই তার কাছে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ইসাবের বাবা নিজের চোখে বন্ধুত্বের সেই অপূর্ব দৃশ্য দেখেছিলেন। দশ বছরের এই ছোটোছেলেটির নিষ্পাপ হৃদয় ও সরলতা তাঁকে বিস্মিত করেছিল। নিজের প্রতিবেশীদেরও তিনি সেই অবাক করা ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন। এভাবেই অমৃতের দেওয়া জবাবে জীবন সম্পর্কে ইসাবের বাবার উপলব্ধি সম্পূর্ণভাবে বদলে গিয়েছিল।
৪. “পাড়া-পড়শি মায়ের দল পাঠানের গল্প শোনার জন্য ঘিরে দাঁড়াল।”—গল্পটি নিজের ভাষায় লেখো। এই গল্পে সকলের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল? লেখো। 
উত্তর – গল্পটির বিবরণ: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে ইসাবের বাবা বলেছিলেন দুই অভিন্ন হৃদয় বন্ধু ইসাব আর অমৃতের জামা বদলের গল্প। নতুন জামা পরে যাওয়া অমৃতকে কালিয়া কুস্তি লড়ার জন্য জোর করে মাঠে নিয়ে যায়, আর তাকে ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। তখন বন্ধুর অপমানের শোধ নিতে ইসাব কালিয়াকে ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। কিন্তু এই ধস্তাধস্তিতে ইসাবের জামার পকেট এবং ছয় ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে যায়। ছেঁড়া শার্ট দেখে ইসাবের বাবা তাকে প্রচণ্ড মারবে—এই ভেবে ইসাব খুব ভয় পেয়ে যায়। তখনই অমৃত তার নতুন জামাটি ইসাবকে পরিয়ে তার জামাটি পরে নেয়। সে জানায় যে, বাবা তাকে মারলেও তা ঠেকানোর জন্য অমৃতের মা আছে। কিন্তু ইসাবের মা নেই।
গল্পটির প্রতিক্রিয়া: আড়াল থেকে এই দৃশ্যটি দেখে, বন্ধুত্বের এই উদার প্রকাশে ইসাবের বাবা উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। তাঁর মুখে এই কথা শুনে উপস্থিত সকলেরও বুক আনন্দে ভরে যায়। গ্রামের প্রধান ঘোষণা করেন যে, অমৃতরে অদল আর ইসাবকে বদল বলে এখন থেকে ডাকা হবে। তাদের বন্ধুরাও এতে খুব খুশি হয়। ক্রমশ গ্রাম পেরিয়ে আকাশ-বাতাসও এই ‘অমৃত-ইসাব-অদল-বদল’ আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে।
৫. “অমৃত ও ইসাবের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনে তাঁদেরও বুক ভরে গেল।”—তাঁদের’ বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে? অমৃত ও ইসাবের ভালোবাসার গল্পটি কেমন? 
উত্তর – ‘তাঁদের’ পরিচয়: ‘অদল বদল’ গল্পে ‘তাঁদের’ বলতে ইসাবের বাবা হাসান এবং অমৃতের মা বাহালির কথা বলা হয়েছে।
অমৃত ও ইসাবের ভালোবাসার গল্প: পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পটিতে অমৃত আর ইসাব বেশিরভাগ সময় একসঙ্গেই থাকত। তাদের বাড়িও ছিল মুখোমুখি। গল্পে আমরা দেখি অমৃতের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কালিয়া তাকে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে এবং তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, তাই দেখে ইসাব রেগে গিয়ে কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ে তাকে হারিয়ে দেয়। কালিয়া অমৃতকে আঘাত করায় ইসাব সেটা সহ্য করতে পারেনি। কিন্তু এই লড়াইয়ের ফলে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। আর তাতে সে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায়। সে ভাবে, জামা ছেঁড়ার জন্য বাবার কাছে মার খেতে হবে। এই সময় অমৃত ইসাবকে জামা অদলবদলের বুদ্ধি দেয়। ইসাব আপত্তি জানালে অমৃত তাকে বলে, সে মার খেলেও তাকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছে। কিন্তু ইসাবের শুধু বাবা আছেন। তাই বাবার হাতে মার খেলে তাকে কেউ বাঁচাতে আসবে না। এইসব ঘটনা থেকেই বোঝা যায় তারা দুজনে দুজনকে কতটা ভালোবাসত, কত গভীর ছিল তাদের বন্ধুত্ব।
৬. “আজ থেকে আপনার ছেলে আমার” –বক্তা কে? কাকে কেন এ কথা বলেছেন? 
উত্তর – বক্তা : ‘অদল বদল’ গল্প থেকে নেওয়া উদ্ধৃত অংশটির বক্তা ইসাবের বাবা হাসান পাঠান।
উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে এ কথা বলার কারণ: হোলির দিন কালিয়া নামের একটি ছেলে অমৃতকে জোর করে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে এবং অমৃতকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠে। এতে ইসাব রেগে যায়। সে কালিয়াকে লড়তে ডাকে, আর তাকে হারিয়েও দেয়। কিন্তু বন্ধুর ভালোবাসার মাশুল দিতে গিয়ে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। কিন্তু এর জন্য বাবার কাছে মার খেতে হবে ভেবে ইসাব ভয় পেলে, অমৃত তার জামাটা ইসাবের সাথে জামা অদলবদলের কথা বলে। এতে ইসাব আপত্তি জানায়, তখনই ইসাবকে আশ্বস্ত করে সে জানায়, অমৃতের বাবা তাকে মারতে এলেও বাঁচানোর জন্য অমৃতের মা আছে। ইসাবের বাবা আড়াল থেকে ঘটনাটি দেখেছিলেন। তাই বন্ধুরা ইসাবদের জামা অদলবদলের কথা ফাঁস করে দিতে গেলে তিনি তাদের দুজনকে নিজের কাছে ডেকে নেন এবং দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরে প্রশ্নে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেন। এত ছোটোছেলের মধ্যে যে অসামান্য বন্ধুপ্রীতির প্রকাশ ইসাবের বাবা লক্ষ করেছিলেন তা-ই তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি অমৃতের আচরণে জীবন-আচরণের শিক্ষা পেয়েছিলেন।
৭. “আজ থেকে আমরা অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে ডাকব।”—কে, কখন এ কথা ঘোষণা করেন? এর আড়ালে কোন্ সত্য লুকিয়ে আছে? 
উত্তর – ঘোষক এবং ঘোষণার মুহূর্ত: ‘অদল বদল’ গল্পে ইসাব আর অমৃতের জামা অদলবদলের গল্প যখন গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে গ্রামপ্রধানের কানে গেল তখন সব শুনে তিনি খুশি হয়ে প্রশ্নে উদ্ধৃত ঘোষণাটি করেছিলেন।
কথার আড়ালে লুকানো সত্য: বন্ধু অমৃতের অপমানের শোধ নেওয়ার জন্য ইসাব কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়েছিল। এই ঘটনায় ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় ইসাবকে তার বাবার হাত থেকে বাঁচাতে নিজের জামাটা খুলে পরতে দিয়েছিল অমৃত। অমৃতের যুক্তি ছিল যে, তার বাবা তাকে মারতে এলেও ঠেকানোর জন্য তার মা আছে। কিন্তু ইসাবের মা নেই, তাই তাকে বাঁচানোরও কেউ নেই। ইসাব আর অমৃতের ধর্ম ছিল আলাদা। কিন্তু শৈশব-কৈশোরের এই নিষ্পাপ বন্ধুত্বে ধর্ম কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং চারপাশ থেকে এই বন্ধুত্ব সাদর অভ্যর্থনাই পেয়েছিল। যে বাবাকে ইসাব ভয় পেয়েছিল, তিনিই তাদের কাছে টেনে নিয়েছিলেন। ছেলেদের এরকম মানসিকতার পরিচয় পেয়ে গর্বিত হয়েছিলেন ইসাবের বাবা আর অমৃতের মা। ক্রমে চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছিল তাদের জামা অদলবদলের গল্প। আর সে কাহিনি স্বীকৃতি পেয়েছিল গ্রামপ্রধানের ঘোষণাতে। মানবতার কাছে ধর্মের বেড়া কোনো বাধা হতে পারে না। বন্ধুত্বের টানে, ভালোবাসার শক্তিতে মানুষ আত্মার আত্মীয় হয়ে উঠতে পারে। অমৃতইসাবের অদল-বদল নামকরণের মধ্যে দিয়ে গ্রামপ্রধান মানবতার এই চিরসত্যকেই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

সামগ্রিক বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

১. ‘অদল বদল’ গল্পে হোলির পড়ন্ত বিকেলে কী ঘটনা ঘটেছিল তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর – শুরুর কথা: পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পে হোলির পড়ন্ত বিকেলে দুই বন্ধু অমৃত আর ইসাব একইরকম জামা পরে ফুটপাথের শানবাঁধানো রাস্তায় বসে ছেলেদের ধুলো ছোড়াছুড়ি খেলা দেখছিল।কুস্তি লড়াইএর ডাক: আর ঠিক সেই সময়ই, তাদের দুজনের একইরকম পোশাক দেখে ছেলেদের দঙ্গল থেকে একটি ছেলে এসে অমৃতকে কুস্তি লড়তে বলেছিল। অমৃত চায়নি কুস্তি লড়তে, কারণ সে নতুন জামা পরেছিল আর এই জামা সে অনেক কষ্টে, অনেক জেদ করে বাড়ি থেকে আদায় করেছিল। তার মাও তাকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন জামা যাতে সে নোংরা না করে আসে। কুস্তি লড়াই: কিন্তু অমৃতের অমত সত্ত্বেও কালিয়া তাকে বাধ্য করে কুস্তি লড়তে, লড়তে গিয়ে তাকে মাটিতে ছুঁড়েও ফেলে দেয়। এই ঘটনা দেখে ইসাব রেগে গিয়ে কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ে তাকে হারিয়ে দেয়। এই কুস্তি লড়তে গিয়ে আবার ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। অদল বদল’ নামকরণ: বাবার কাছে এই জামা ছেঁড়ার জন্য মার খেতে হবে ভেবে ইসাব যখন ভয় পায়, তখন অমৃত তাকে জামা অদলবদলের বুদ্ধি দেয়। এই জামা অদলবদলের ঘটনার পর থেকে সারা গ্রামে তাদের ‘অদল বদল’ নাম প্রচলিত হয়ে যায়।
২. “ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।”—কারা কেন ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল? কীভাবে এই ভয় থেকে তাদের মুক্তি ঘটেছিল? 
উত্তর – ভয় পাওয়ার কারণ: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত আর ইসাব ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। নতুন জামা পরে ঘর থেকে বেরোনো অমৃতকে কালিয়া কুস্তি লড়ার জন্য জোর করে খোলা মাঠে নিয়ে যায় এবং তাকে ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। ইসাব বন্ধুর এই অপমান সহ্য করতে না পেরে কালিয়ার হাত ধরে তার সাথে লড়ার জন্য আহ্বান করে এবং কালিয়াকে হারিয়েও দেয় সে। জামা ছিঁড়ে ফেলায় ইসাবকে তার বাবার কাছে ভয়ানক মার খেতে হবে— এ কথা ভেবেই দুই বন্ধু তখন ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এসবের মধ্যেই ইসাবের নতুন জামার পকেটটা অনেকটা ছিঁড়ে যায়।
ভয় থেকে মুক্তি: এই ভয় ও ইসাবকে মার খাওয়া থেকে বাঁচতে থেকে অমৃত নিজের জামাটা খুলে ইসাবকে পরতে দেয়, নিজে ইসাবেরটা পরে। এভাবে তারা তখনকার মতো দুশ্চিন্তা ও ভয় থেকে মুক্তি পেয়েছিল। বাড়ি ফেরার পরে অমৃতের মা ছেঁড়া জামা দেখে বিব্রত হলেও সেভাবে কিছু বলেন না, ছুঁচ-সুতো দিয়ে জামাটা রিফু করে দিয়েছিলেন। এতে দুজনের ভয় আরও কেটে গিয়েছিল। গল্পের শেষে যখন ইসাবের বাবা জামা বদলের কাহিনিটি অমৃতের মাকে জানান, আর অমৃতের কাজে এবং বন্ধুপ্রীতিতে খুশি হয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, তখন যাবতীয় ভয় এক অনাবিল আনন্দে বদলে গিয়েছিল।
৩. ‘অদল বদল’ গল্পে হিন্দু মুসলিম পারস্পরিক সম্প্রীতির যে পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
অথবা, ‘অদল বদল’ গল্পের মাধ্যমে চিরন্তন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া হয়েছে — আলোচনা করো। 
উত্তর – শুরুর কথা: পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পটিতে আমরা অমৃত ও ইসাব—এই দুই বন্ধুর কথা জানতে পারি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: এই দুই বন্ধুর প্রায় সব কিছুই ছিল একরকম। তবে তাদের ধর্ম ছিল আলাদা। অমৃত ছিল হিন্দু পরিবারের ছেলে আর ইসাব মুসলিম পরিবারের। কিন্তু এই ধর্মের পার্থক্য তাদের বন্ধুত্বের মধ্যে কখনোই কোনো বাধা হয়ে | দাঁড়ায়নি। তাদের দুজনের পরিবারের মধ্যেও সুসম্পর্ক ছিল। পরিপূরক বন্ধুত্ব: অমৃত আর ইসাব বিপদের দিনে সবসময় একে অন্যের পাশে থাকত। অমৃতকে যখন কালিয়া জোর করে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে এবং তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, তখন ইসাব তার প্রতিবাদ করে। বন্ধুত্বের পরিচয়: বন্ধুর অপমানের শোধ নিতে ইসাব কালিয়াকে তার সঙ্গে কুস্তি লড়ার আহ্বান জানায়। সে কালিয়াকে হারিয়েও দেয়। এই কুস্তি লড়াইয়ের ফলে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। এতে ইসাব প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায়। তখন অমৃত সেই ছেঁড়া জামাটি পরে নিয়ে ইসাবকে নিজের নতুন জামাটি দিয়েছিল। এইভাবে সে ইসাবকে তাঁর বাবার মারের হাত থেকে বাঁচায়। ইতিকথা: এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে, তাদের ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব সমস্ত ধর্মের ভেদাভেদকে অতিক্রম করে গিয়েছিল।
৪. ‘অদল বদল’ গল্প অবলম্বনে ইসাবের বাবা হাসানের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর – কথামুখ : পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে ইসাবের বাবা হাসান পাঠান একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই: হাসানের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বাড়িতে সদস্য বলতে তিনি ও তাঁর ছেলে ইসাব—এই দুজন। কিন্তু ইসাবকেই লেখাপড়া শেখাতে হিমশিম খেতে হয় তার বাবাকে। সাময়িক বিপদ-আপদে সুদে টাকা ধারও নিতে হয় তাঁকে। সামান্য জমির আয়ে কোনোমতে তাদের দিন চলে। ইসাবের বাবা ছেলেকে জামাও কিনে দেন মহাজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে।
পিতৃসত্তার বিকাশ: কুস্তির সময় ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। সহপাঠী অমৃত ইসাবের ছেঁড়া জামাটা নিয়ে তাকে তার ভালো জামাটা দেয়। কারণ, তাতে ইসাব বাবার হাতে মার খাওয়া থেকে রক্ষা পাবে। এ কথা আড়াল থেকে শুনে হাসানের চোখের সামনে থেকে সংকীর্ণ ধর্মের কালো মেঘ সরে যায়। তাঁর মনে হয় অমৃত যেন তাঁরও ছেলে। মুসলমান হাসান একমুহূর্তেই হয়ে ওঠেন শাশ্বত পিতা, মনুষ্যত্ব যাঁর ধর্ম।
মানবতা: দেশকালের সীমা অতিক্রম করে যে মানবতা, গল্পে তার স্বীকৃতি দিয়েছেন হাসান। ধর্ম বা জামা অদলবদল নয়, হৃদয়ের নিখাদ ভালোবাসার বিনিময় ঘটলে আমাদের সমাজে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটবে।
ইতিকথা: এই চিরকালীন সত্যটি গল্পে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হাসান চরিত্রটির মাধ্যমে।
৫. ‘অদল বদল’ গল্প অবলম্বনে অমৃতের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর – কথামুখ: ‘অদল বদল’ গল্পে দেশ-কাল-ধর্মের সীমানা অতিক্রম করে বন্ধুত্বের এক অনবদ্য রূপ ফুটে উঠেছে। সেই চিরন্তন বন্ধুত্ব আসলে মানবতার প্রসার ঘটায়। আর সেখানে সর্বাধিক সক্রিয় চরিত্র হল অমৃত।
অকৃত্রিম বন্ধুপ্রীতি: অমৃত দরিদ্র কৃষক পরিবারের ছেলে। ইসাব তার বন্ধু। একই স্কুলে, একই ক্লাসে পড়ে তারা। দুজনের জামার মাপ, কাপড়, রং— এসবই ছিল এক ধরনের। অন্তরেও তারা দুজনে এক। এই অকৃত্রিম বন্ধুপ্রীতির চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটেছে অমৃত যখন তার ভালো জামাটা দিয়ে ইসাবের ছেঁড়া জামাটা নিজের গায়ে পরে নিয়েছে।
বাস্তব বুদ্ধি : অমৃত ইসাবকে বলেছে, “তোকে তোর বাবা পিটোবে। … কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।” অমৃতের এই উক্তি তার বুদ্ধিমত্তা এবং বাস্তব জ্ঞানের পরিচয় দেয়। পাশাপাশি মা-হারা ইসাবের প্রতি তার এই অতিরিক্ত ভালোবাসাও পাঠককে মুগ্ধ করে।
মানবতা: বন্ধুত্ব যে কখনও ধর্ম-বর্ণ-আর্থিক পরিস্থিতির বাধা মানে না— তার যথার্থ প্রমাণ অমৃত। ইসাবের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় তা আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
অমৃত বয়সে নিতান্তই ছোটো। তবু তার আচার-আচরণে এবং মানসিকতায় সহৃদয়তার প্রকাশ দেখা যায়। এভাবেই অমৃত এক অনবদ্য চরিত্র হয়ে উঠেছে।
৬. ‘অদল বদল’ গল্প অবলম্বনে ইসাবের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। 
উত্তর – কথামুখ: লেখক পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পটি বন্ধুপ্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ। অমৃত আর ইসাব—এই দুজনের আন্তরিক সম্পর্কের স্বরূপই হল গল্পের মুখ্য বিষয়।
পরিচয় : ইসাব দরিদ্র কৃষক পরিবারের ছেলে। তাদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয় । সাময়িক বিপদ-আপদেও তার বাবা হাসানকে সুদে টাকা ধার নিতে হয়। তবে তার মা নেই। বাবা-ই তাদের সংসারের একমাত্র কর্তা। ইসাবকে খেতেও কাজ করতে হয়।
অকৃত্রিম বন্ধুপ্রীতি: অমৃতের সঙ্গে ইসাবের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব। তাদের সব কিছুই একই রকমের। একই স্কুলে একই শ্রেণিতে পড়ে তারা। হোলির দিন কালিয়া বলে একটা ছেলে কুস্তি লড়ার সময় অমৃতকে ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দিলে ইসাব স্থির থাকতে পারেনি। সে কালিয়াকে ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে কালিয়ার ঔদ্ধত্যকে চূর্ণ করে দিয়েছে।
সহমর্মিতা: কালিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ের সময় ইসাবের নতুন জামাটার পকেট এবং কিছুটা অংশ ছিঁড়ে গিয়েছিল। অমৃত তার ভালো জামাটা ইসাবকে পরে নিতে বললে ইসাব স্বার্থপরের মতো তা করতে চায়নি। সে বলেছে—“তোর কী হবে, তুই কী পরবি?” কোনোভাবেই ইসাব অমৃতের থেকে আলাদা হয়ে যায়নি।
ইতিকথা: বন্ধুত্বের যে নিষ্পাপ ও পবিত্র প্রকাশ এই গল্পে মানবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে, তার একদিকে যেমন অমৃত অন্যদিকে তেমনই রয়েছে ইসাবেরও উজ্জ্বল উপস্থিতি।
৭. ‘অদল বদল’ গল্প অবলম্বনে অমৃতের মায়ের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর – কথামুখ: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পটি মূলত অমৃতইসাবের বন্ধুপ্রীতির কাহিনি। এই গল্পের খুব স্বল্প অংশজুড়ে থাকলেও অমৃতের মা-র চরিত্রটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
স্নেহময়ী: খুব সাধারণ পরিবারের গৃহবধূ অমৃতের মা। অমৃতের দুরন্তপনা তাঁকেই সামলাতে হয়। গল্পে আমরা দেখি, ইসাবের মতো নতুন জামা নেবে বলে অমৃত বায়না ধরে। নাছোড়বান্দা ছেলেকে বুঝিয়ে কাজ না হলেও অমৃতের মা কিন্তু তার এই একগুঁয়ে স্বভাব দেখে রেগে যাননি। তাঁর স্বামীকে বুঝিয়ে ইসাবের মতো একটা নতুন জামা অমৃতকে কিনে দিতে রাজি করিয়েছেন। মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন তিনি।
আদর্শময়ী: অমৃতের মা আদর্শ গৃহবধূ। সন্তানের দুরন্তপনায় যেমন তাঁকে বিচলিত হতে দেখা যায় না তেমনই বাবার পিটুনির হাত থেকে অমৃতকে বাঁচানোর দায়িত্ব তিনিই নেন। ইসাবের ছেঁড়া জামাটা নিজের গায়ে পরে নিয়ে অমৃত বাড়ি ফ্রোর সাহস দেখিয়েছে শুধু তার মা আছে বলেই।
উদারমনা : অন্য ধর্মের হলেও তিনি কখনও অমৃতকে ইসাবের সঙ্গে মিশতে বারণ করেননি। বরং ইসাবের বাবাকে ‘হাসান ভাই’ সম্বোধন করে তিনি পারস্পরিক সামাজিক বন্ধনের বিষয়টিকে দৃঢ় করে দেখিয়েছেন।
ইতিকথা: তবে এই গল্পে প্রধানত মাতৃমূর্তিতেই ভাস্বর হয়ে উঠেছেন অমৃতের মা।
৮. ছোটোগল্প হিসেবে ‘অদল বদল’ কতদূর সার্থক বিচার করো।
উত্তর – পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ হল ধর্ম এবং জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে দুই কিশোরের নির্মল বন্ধুত্বের গল্প। আয়তনে ছোটো হওয়া যদি ছোটোগল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয় তাহলে ‘অদল বদল’-এ সেই শর্ত অবশ্যই মানা হয়েছে। কাহিনির শুরুও হয়েছে আকস্মিকতা দিয়ে—“হোলির দিনের পড়ন্ত বিকেল।” ছোটোগল্পের কাহিনিতে শাখাপ্রশাখার বিস্তার ঘটে না। একটি মাত্র ঘটনা তার আশ্রয় হয়। এই গল্পেও দুই বন্ধুর জামাবদল এবং তাদের বাড়ি চারপাশে তার প্রতিক্রিয়াই কাহিনির বিষয়। চরিত্রের সংখ্যাও স্বাভাবিকভাবেই খুব কম। এখানে প্রধান দুই চরিত্র অমৃত ও ইসাব ছাড়া অমৃতের মা বাহালি, আর ইসাবের বাবা পাঠানকে পাওয়া যায়। ছেলের দল এবং কালিয়ার উপস্থিতিও অমৃত ইসাবের বন্ধুত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাই বলাই যায়, প্রথাগতভাবে ‘অদল বদল’ তার ছোটোগল্পের আঙ্গিক বজায় রেখেছে।
অমৃতকে অপমানিত হতে দেখে ইসাব কুস্তি লড়ে, আবার কুস্তির মাঠে ইসাবের জামা ছিঁড়ে গেলে অমৃত নিজের নতুন জামাটা ইসাবকে দিয়ে দেয়। সবমিলিয়ে যে বন্ধুত্বের পরিবেশ তৈরি হয় সেখানে ধর্ম নেই, আছে সহমর্মিতা আর ভালোবাসা। এভাবে বিষয়গত আবেদনেও ‘অদল বদল’ অসামান্য হয়ে উঠেছে। ছোটোগল্প হিসেবে এভাবেই ‘অদল বদল’ সার্থক হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *