wb 10th science

WBBSE 10th Class Science Solutions Biology Chapter 1 জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (TOPIC 4 প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয় — স্নায়ুতন্ত্র)

WBBSE 10th Class Science Solutions Biology Chapter 1 জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (TOPIC 4 প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয় — স্নায়ুতন্ত্র)

West Bengal Board 10th Class Science Solutions Biology Chapter 1 জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (TOPIC 4 প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয় — স্নায়ুতন্ত্র)

West Bengal Board 10th Biology Solutions

TOPIC 4 প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয় — স্নায়ুতন্ত্র

SUB-TOPIC 4.1 স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়; স্নায়বিক পথ; স্নায়ুকোশ, নিউরোগ্লিয়া এবং স্নায়ু; স্নায়ুর প্রকারভেদ; স্নায়ুগ্রন্থি; স্নায়ুসন্নিধি

বিষয়সংক্ষেপ

  • রাসায়নিক (হরমোন) ক্ষরণ ছাড়াও প্রাণীদেহ গ্রাহক দ্বারা পরিবেশের পরিবর্তন অনুভব করে সেই অনুযায়ী সাড়াপ্রদান করতে পারে। যেমন—দরজায় কেউ বেল বাজালে তা শুনে (শ্রবণ গ্রাহক) আমরা পেশির সাহায্যে (কারক) দরজা খুলে দিই। স্নায়ুতন্ত্র প্রাণীদেহের এই ভৌত সমন্বয় ঘটিয়ে থাকে।
  • নির্দিষ্ট স্নায়বিক পথে আমরা বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনার পরিবর্তনে সাড়া দিই। এই স্নায়বিক পথটি হল উদ্দীপনা—গ্রাহক-স্নায়ুকেন্দ্র—কারক—সাড়াপ্রদান।
  • স্নায়ুতন্ত্রের একক হল নিউরোন বা স্নায়ুকোশ। এর গঠনগত তিনটি অংশ হল ডেনড্রন (সংজ্ঞাবহ প্রবর্ধক), কোশদেহ এবং অ্যাক্সন (চেষ্টীয় প্রবর্ধক)। এটি উদ্দীপনা প্রেরণে সাহায্য করে।
  • নিউরোন ছাড়াও নিউরোগ্লিয়া বা গ্লিয়াল কোশ স্নায়ুতন্ত্রে দেখা যায়। এরা নিউরোনকে ধারণ করা ছাড়াও প্রতিরক্ষা, পুষ্টি প্রদান, উদ্দীপনার দ্রুত প্রবাহে সহায়তা প্রভৃতি কাজ করে থাকে।
  • মূলত নিউরোন কোশের অ্যাক্সন নামক লম্বা প্রবর্ধকগুলি একসাথে একাধিক আবরণে আবৃত হয়ে স্নায়ু তৈরি করে।
  • প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত স্নায়ুসংলগ্ন নিউরোনের কোশদেহগুলি যোগকলা দ্বারা আবৃত হয়ে যে স্ফীত গ্রন্থি তৈরি করে তাকে স্নায়ুগ্রন্থি বলে। এরা মূলত গ্রাসনালী, পাচকগ্রন্থি প্রভৃতির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • দুটি স্নায়ুপ্রবর্ধক উদ্দীপনা প্রবাহের জন্য যে স্থানে মিলিত হয়, তাকে স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাস বলে।

বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন – 1. স্নায়বিক পথ বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর – স্নায়বিক পথ: স্নায়ুতন্ত্র বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা গ্রহণ  করে তার পরিপ্রেক্ষিতে দেহে প্রতিক্রিয়া বা সাড়া সৃষ্টি করে। কিন্তু দেহে স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা এই সমন্বয়সাধনের জন্য স্নায়বিক পথের প্রয়োজন। বাহ্যিক উদ্দীপনার উপস্থিতিতে তা গ্রাহক বা রিসেপটর দ্বারা গৃহীত হয়। তারপর তা সংবেদী স্নায়ু বা নার্ভ দ্বারা স্নায়ুকেন্দ্রে (মস্তিষ্ক বা সুষুম্নাকাণ্ড) যায়। মস্তিষ্ক উদ্দীপনাটি বিশ্লেষণ করে এবং ভিন্ন স্নায়ুপথে চেষ্টীয় স্নায়ুর মাধ্যমে তা কারক, বা ইফেকটর অংশে প্রতিক্রিয়া পাঠায়। পেশি, গ্রন্থি প্রভৃতি কারক তখন সেই প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী কাজ করে থাকে।
উদাহরণ: আমাদের বাড়িতে দরজায় কেউ বেল বাজালে তা কান দিয়ে। অনুভব করি ও তারপর দরজা খুলে দিই। এক্ষেত্রে কানে উপস্থিত গ্রাহক শব্দের উদ্দীপনা গ্রহণ করে স্নায়ুর দ্বারা মস্তিষ্কে পাঠায়। মস্তিষ্ক তা বিশ্লেষণ করে দেহের কারক অঙ্গে (হাত, পা-এর পেশি) তার চেষ্টীয় উদ্দীপনা পাঠায় ও আমরা দরজা খুলি।
প্রশ্ন – 2. স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান উপাদান দুটির নাম লেখো এবং এদের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও ও কাজ উল্লেখ করো।
উত্তর – স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান উপাদান: স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান উপাদান দুটি হল— 1. নিউরোন বা স্নায়ুকোশ, 2. নিউরোগ্লিয়া বা ধারক কোশ।
  1. নিউরোন: স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত এবং কার্যগত একক হল নিউরোন। প্রতিটি নিউরোনে একটি কোশদেহ এবং কতকগুলি প্রবর্ধক থাকে। কোশদেহের কেন্দ্রে একটি আদর্শ নিউক্লিয়াস থাকে। এ ছাড়া কোশদেহে নিল দানা ও নিউরোফাইব্রিল বর্তমান। অন্যান্য কোশীয় অঙ্গাণু, যেমন—মাইটোকনড্রিয়া, গলগি বডি প্রভৃতিও উপস্থিত থাকে, তবে সেন্ট্রোজোম নিষ্ক্রিয় প্রকৃতির । স্নায়ুকোশের প্রবর্ধক দু-প্রকারের হয়। দীর্ঘ, অশাখ প্রবর্ধক বা অ্যাক্সন এবং ক্ষুদ্র প্রবর্ধক বা ডেনড্রন। ডেনড্রন সাধারণত শাখাপ্রশাখাযুক্ত হয়। অশাখ অ্যাক্সন মায়েলিন আবরণযুক্ত বা নগ্ন হতে পারে। অনেকগুলি অ্যাক্সনের বান্ডিলকেই স্নায়ু বলে। এগুলির মধ্যে দিয়েই স্নায়ুসংবেদ পরিবাহিত হয়।
    কাজ: নিউরোনের প্রধান কাজ হল স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণ করা।
  2. নিউরোগ্লিয়া: নিউরোগ্লিয়া ধারক কোশ হিসেবে স্নায়ুতন্ত্রে উপস্থিত থাকে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে স্নায়ুকোশের তুলনায় অধিক সংখ্যক নিউরোগ্লিয়া থাকে এবং প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রেও নিউরোগ্লিয়া বা গ্লিয়াল কোশ বর্তমান। নিউরোগ্লিয়া বিভিন্ন প্রকারের হয়। যথা—মাইক্রোগ্লিয়া, অলিগোডেন্‌ড্রোগ্লিয়া, অ্যাস্ট্রোসাইট। নিউরোগ্লিয়া উদ্দীপনা বা স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণে অক্ষম।

    কাজ: এরা প্রধানত ধারক কোশ হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া এরা আগ্রাসী কোশ হিসেবে স্নায়ুকে রক্ষা করে ও মায়েলিন আবরণী তৈরিতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন – 3. একটি আদর্শ নিউরোনের গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করো।
উত্তর – আদর্শ নিউরোনের গঠন: একটি আদর্শ নিউরোনের প্রধানত তিনটি গঠনগত অংশ — 1. সেল বডি বা কোশদেহ, 2. অ্যাক্সন এবং 3. ডেনড্রন।
  1. কোশদেহ বা সেলবডি বা সোমা: [i] নিউরোনের প্রোটোপ্লাজম সমন্বিত সর্বাপেক্ষা স্ফীত গোলাকার বা ডিম্বাকার বা তারকাকার অংশটিকে কোশদেহ বলে। [ii] কোশদেহের কেন্দ্রে সুগঠিত আদর্শ নিউক্লিয়াস
    থাকে। [iii] কোশদেহের সাইটোপ্লাজমকে নিউরোপ্লাজম বলা হয়। [iv] নিউরোপ্লাজমে অবস্থিত নিউক্লিওপ্রোটিন নির্মিত দানাগুলিকে নিল দানা বলে। এগুলি মূলত অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা (RER) যা প্রোটিন উৎপাদন করে। [v] কোশদেহের মধ্যে সূক্ষ্ম তন্তুর মতো নিউরোফাইব্রিল বা নিউরোফিলামেন্ট উপস্থিত। [vi] অন্যান্য কোশ-অঙ্গাণুর মধ্যে মাইটোকনড্রিয়া ও গলগি বড়ির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তবে সেন্ট্রোজোম উপস্থিত থাকলেও তা নিষ্ক্রিয় হয়। তাই নিউরোন বিভাজিত হতে পারে না।
  2. ডেনড্রন: [i] যে ক্ষুদ্র প্রোটোপ্লাজমীয় শাখান্বিত সূত্র নিউরোনের কোশদেহ থেকে নির্গত হয় তাকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন সাধারণত গোড়ার দিকে চওড়া হয় এবং ক্রমশ সরু হয়ে শাখান্বিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। [ii] ডেনড্রনে মায়েলিন সিদ্ এবং সোয়ান কোশ থাকে না। [iii] এতে নিউরোপ্লাজম, নিউরোফাইব্রিল এবং নিল দানা থাকে।
  3. অ্যাক্সন: [i] নিউরোনের যে দীর্ঘ ও সাধারণত শাখাহীন অংশ কোশদেহ থেকে নির্গত হয় তাকে অ্যাক্সন বলে। [ii] অ্যাক্সনের অভ্যন্তরে যে অর্ধতরল সাইটোপ্লাজম থাকে তাকে অ্যাক্সোপ্লাজম বলে। [iii] কোশদেহের যে শাঙ্কব অংশ থেকে অ্যাক্সন উৎপন্ন হয় তাকে অ্যাক্সন হিলক বলে। [iv] অ্যাক্সোপ্লাজম যে পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে তাকে অ্যাক্সোলেমা বলে। [v] অ্যাক্সোলেমার বাইরে স্নেহজাতীয় পদার্থ সঞ্চিত হয়ে একটি বিশেষ ধরনের আবরণ তৈরি করে, একে মায়েলিন সিদ্ বলা হয়। [vi] মায়েলিন সিদ্ স্থানে স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যে ছোটো ছোটো পর্বের সৃষ্টি করে তাদের র‍্যানভিয়ারের পর্ব বলে। [vii] মায়েলিন সিদযুক্ত স্নায়ুতন্তুকে মায়েলিনেটেড স্নায়ু বা মেডুলেটেড স্নায়ু বলে। যেসব স্নায়ুতন্তুর মায়েলিন সিদ্ থাকে না সেগুলিকে নন্-মায়েলিনেটেড স্নায়ু বা নন্-মেডুলেটেড স্নায়ু বলে। [viii] অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত সূক্ষ্ম শাখান্বিত হয়ে এন্ডব্রাশ বা প্রান্তবুরুশ গঠন করে। [ix] প্রান্তবুরুশের প্রতিটি শাখাপ্রান্ত স্ফীত হয়ে প্রান্তীয় নব বা প্রান্তস্ফীতি গঠন করে।
প্রশ্ন – 4. নিউরোনের কার্যগত শ্রেণিবিন্যাস বর্ণনা করো। অ্যাক্সন ও ডেনড্রন-এর প্রধান কাজ লেখো।
উত্তর – নিউরোনের কার্যগত প্রকারভেদ: কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী নিউরোন তিন ধরনের। যেমন—
  1. সংজ্ঞাবহ নিউরোন: যে নিউরোন গ্রাহক থেকে স্নায়ুস্পন্দনকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পরিবহণ করে তাকে সংজ্ঞাবহ নিউরোন বলে। এই ধরনের নিউরোন বাইরে থেকে ভিতরে উদ্দীপনা বহন করে বলে এদের অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট নিউরোনও বলা হয় ।
  2. আজ্ঞাবহ নিউরোন: যে নিউরোন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে উদ্দীপনা কারকে (ইফেকটর-এ) বহন করে তাকে আজ্ঞাবহ নিউরোন বলে। এই প্রকার নিউরোন দেহের অভ্যন্তর থেকে বাইরের দিকে স্নায়ুস্পন্দন বহন করে বলে এদের বহির্বাহী বা ইফারেন্ট নিউরোনও বলা হয়ে থাকে।
  3. সহযোগী নিউরোন: যে নিউরোন সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে তাকে সহযোগী নিউরোন বলে। এই নিউরোনগুলির অপর নাম রিলে নিউরোন।
ডেনড্রন ও অ্যাক্সন-এর কাজ
  1. ডেনড্রন: ডেনড্রন কোনো পেশি, গ্রাহক অঙ্গ বা অন্য কোনো নিউরোন থেকে স্নায়ুস্পন্দন গ্রহণ করে তা কোশদেহে প্রেরণ করে।
  2. অ্যাক্সন: অ্যাক্সন একটি নিউরোনের কোশদেহ থেকে স্নায়ুস্পন্দন গ্রহণ করে তা পরবর্তী নিউরোন বা কারক অঙ্গে প্রেরণ করে।
প্রশ্ন – 5. নিউরোন ও স্নায়ুর মধ্যে সম্পর্ক ছবি এঁকে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর – নিউরোন ও স্নায়ুর মধ্যে সম্পর্ক: নিউরোন ও স্নায়ুর মধ্যে সম্পর্কগুলি হল—
  1. স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক হল নিউরোন। একটি আদর্শ নিউরোন অ্যাক্সন, ডেনড্রন ও কোশদেহ দ্বারা গঠিত। ডেনড্রন-এর সাহায্যে নিউরোন উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং অ্যাক্সন-এর সাহায্যে তাকে পরবর্তী নিউরোন বা পেশিতে প্রেরণ করে। অন্যদিকে, আবরণীযুক্ত অ্যাক্সনকে স্নায়ুতন্তু বলে। যে তন্তুময় পর্দা দ্বারা অ্যাক্সন আবৃত থাকে, তাকে এন্ডোনিউরিয়াম বলে। কিছু সংখ্যক স্নায়ুতন্তু একত্রিত হয়ে বান্ডিল গঠন করে।
    এই বান্ডিলগুলি যে পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে তাকে পেরিনিউরিয়াম বলে। এইজাতীয় ছোটো ছোটো কতকগুলি বান্ডিল আবার এপিনিউরিয়াম দ্বারা আবৃত হয়ে স্নায়ু গঠন করে।
  2. অন্তর্বাহী স্নায়ু গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ে যায় এবং বহির্বাহী স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে ইফেকটরে উদ্দীপনা বহন করে আনে। এরা যথাক্রমে সেনসরি বা সংজ্ঞাবহ নিউরোন ও মোটর বা আজ্ঞাবহ নিউরোনের সমন্বয়ে গঠিত হয়। অর্থাৎ, নিউরোন ও স্নায়ু উভয়ই স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণ করে। প্রকৃতপক্ষে স্নায়ুর গঠনগত উপাদান নিউরোনই স্নায়ুর মধ্যে উপস্থিত থেকে স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণ করে। সুতরাং বলা যায়, নিউরোন ও স্নায়ু পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন – 1. স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর – স্নায়ুকোশ বা নিউরোন দিয়ে গঠিত যে তন্ত্র প্রাণীদেহে উদ্দীপনা গ্রহণ ও উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদানের মাধ্যমে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের পরিবর্তনের সাপেক্ষে দেহের জৈবিক কার্যাবলির সামঞ্জস্য রক্ষা এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয়সাধন করে, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বা নাৰ্ভতন্ত্র বলে ৷
প্রশ্ন – 2. সমন্বয় বা কোঅরডিনেশন বলতে কী বোঝ? একটি করে ভৌত ও রাসায়নিক সমন্বায়কের নাম লেখো।
উত্তর – সমন্বয় : জীবদেহের নানান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও বিভিন্ন তন্ত্রের পারস্পরিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেহের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশের সমতাবিধানকে সমন্বয় বা কোঅরডিনেশন বলে।
ভৌত ও রাসায়নিক সমন্বায়ক: প্রাণীদের ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্র হল ভৌত সমন্বায়ক ও হরমোন হল রাসায়নিক সমন্বয়ক।
প্রশ্ন – 3. স্নায়ুতন্ত্রকে ভৌত সমন্বায়ক বলে কেন?
উত্তর – স্নায়ু, মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড জ্ঞানেন্দ্রিয় প্রভৃতি কতকগুলি ভৌত গঠন দ্বারা দেহের নানা কাজের সমন্বয় ঘটায় স্নায়ুতন্ত্র। তা ছাড়া বাইরের পরিবেশের সঙ্গেও তা দেহকে মানিয়ে চলতে সাহায্য করে। এজন্য স্নায়ুতন্ত্রকে ভৌত সমন্বায়ক বলা হয়।
প্রশ্ন – 4. বহুকোশী উন্নত প্রাণীদের স্নায়ুতন্ত্র না থাকলে কী হত?
উত্তর – বহুকোশী জীবের দেহ বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্র নিয়ে গঠিত। বিভিন্ন অঙ্গের ও তন্ত্রের মধ্যে কার্যগত সমন্বয়সাধন নিয়ন্ত্রণ করে স্নায়ুতন্ত্র। ফলে এই তন্ত্র পরিবেশ ও দেহের মধ্যে সমন্বয়সাধনে সাহায্য করে। যদি স্নায়ুতন্ত্র না থাকত তাহলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের ও তন্ত্রের মধ্যে কার্যগত সমন্বয়সাধন ঘটত না এবং দেহতন্ত্র বিনষ্ট হত।
প্রশ্ন – 5. স্নায়বিক পথ কী? একটি শব্দচিত্র দ্বারা দেখাও।
উত্তর – স্নায়বিক পথ: স্নায়ুতন্ত্রের যে নির্দিষ্ট পথে উদ্দীপনা গ্রহণ, বিশ্লেষণ ও সাড়াপ্রদান ঘটে থাকে, তাকে স্নায়বিক পথ বলে।
শব্দচিত্র: এই পথটি হল—
উদ্দীপক → গ্রাহক → স্নায়ুকেন্দ্র → কারক → সাড়াপ্রদান
প্রশ্ন – 6. গ্রাহক বা রিসেপটর কাকে বলে?
উত্তর – স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত যেসব কোশ বা অঙ্গসমূহ বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উদ্দীপনা গ্রহণ করে, তাদের গ্রাহক বলে।
প্রশ্ন – 7. কারক কাকে বলে ? 
উত্তর – দেহের যেসব অঙ্গ (যেমন—পেশি, গ্রন্থি) উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্দীপিত হয় এবং নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তাদের কারক (effector) বলে।
প্রশ্ন – 8. বাড়িতে কেউ ডোরবেল বাজালে আমাদের সাড়াপ্রদান পদ্ধতিটি কীভাবে ঘটে?
অথবা, দরজায় ঘণ্টা বাজার শব্দ শুনে তুমি যেভাবে দরজা খুলবে, সেই স্নায়বিক পথটি একটি শব্দছকের মাধ্যমে দেখাও।
উত্তর – বাড়িতে দরজায় কেউ বেল বাজালে তা কান দিয়ে অনুভব করি ও তারপর দরজা খুলে দিই। এক্ষেত্রে কানে উপস্থিত গ্রাহক শব্দের উদ্দীপনা গ্রহণ করে স্নায়ুর দ্বারা স্নায়ুকেন্দ্রে পাঠায়। স্নায়ুকেন্দ্র তা বিশ্লেষণ করে দেহে (হাত, পা-এর পেশি) তার প্রতিক্রিয়া পাঠায় ও আমরা দরজা খুলি।
প্রশ্ন – 9. দৌড়োনোর সময় স্নায়ুতন্ত্রের সমন্বয় কীভাবে ঘটে?
উত্তর – দৌড়োনোর সময়ে স্নায়ুতন্ত্রের দ্বারা বিভিন্ন উদ্দীপনা ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয়সাধন ঘটে। যথা—
  1. দৌড়োনোর মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই আমাদের স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ প্রাথমিকভাবে বাড়িয়ে দেয়, ফলে পায়ের পেশিতে প্রাথমিকভাবে O2 ও গ্লুকোজ সরবরাহ বৃদ্ধি পায়।
  2. দৌড়ের সময় মস্তিষ্ক নির্দিষ্ট ছন্দে দেহপেশির চলন নিয়ন্ত্রণ করে।
  3. এই সময় মস্তিষ্ক, রক্তের O2 এর মাত্রা হ্রাস ও CO2 এর মাত্রা বৃদ্ধি শনাক্ত করে এবং মস্তিষ্ক ফুসফুস, পঞ্জরাস্থি পেশি ও মধ্যচ্ছদাতে আজ্ঞাবহ স্নায়ু উদ্দীপনা পৌঁছে দেয়। ফলে ফুসফুস  দ্রুত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে গভীরভাবে শ্বাসগ্রহণে সাহায্য করে। পঞ্জরাস্থি পেশি ও মধ্যচ্ছদা, ফুসফুসের সংকোচন-প্রসারণে সহায়তা করে।
  4. স্নায়ুতন্ত্র হৃৎপিণ্ডেরও স্পন্দন বৃদ্ধি করে, ফলে দ্রুত পেশিতে O2 ও গ্লুকোজ পৌঁছোয়।
প্রশ্ন – 10. নিউরোনকে স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক কেন বলা হয়?
উত্তর – স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ, যেমন—মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিউরোন দ্বারা গঠিত হয়, তাই এটি গঠনগত একক। আবার, স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কাজ, অর্থাৎ উদ্দীপনা প্রেরণ ও বিভিন্ন কাজের সমন্বয়সাধনও নিউরোনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। তাই এটি কার্যগত একক।
প্রশ্ন – 11. অ্যাক্সন কী ? এর দুটি গঠনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – অ্যাক্সন: নিউরোন বা স্নায়ুকোশের লম্বা বহির্বাহী প্রবর্ধককে অ্যাক্সন বলে।
গঠনগত বৈশিষ্ট্য : 1. অ্যাক্সনের সাইটোপ্লাজমকে অ্যাক্সোপ্লাজম বলে।
2. অ্যাক্সনের বাইরে মায়েলিন আবরণী থাকে ও অ্যাক্সন প্রান্তে এন্ডব্রাশ গঠন দেখা যায়।
প্রশ্ন – 12. ডেনড্রন কী ? এর দুটি গঠনগত বৈশিষ্ট্য লেখো। 
উত্তর – ডেনড্রন: নিউরোন বা স্নায়ুকোশের ছোটো অন্তর্বাহী প্রবর্ধককে ডেনড্রন বলে।
গঠনগত বৈশিষ্ট্য : 1. ডেনড্রনে নিউরোপ্লাজম ও নিল দানা থাকে।
2. এদের সংখ্যা সাধারণত 3-5 টি হয় ও ডেনড্রনে মায়েলিন পর্দা থাকে না।
প্রশ্ন – 13. অ্যাক্সনের দুটি গঠনগত বৈশিষ্ট্য লেখো যা ডেনড্রনে অনুপস্থিত।
উত্তর – 1. অ্যাক্সনের বাইরে মায়েলিন আবরণী থাকে যা ডেনড্রনে থাকে না।
2. ডেনড্রন ক্ষুদ্র ও শাখাযুক্ত হয়, অ্যাক্সন লম্বা ও সাধারণত শাখাবিহীন হয়।
প্রশ্ন – 14. নিস্ল দানা কী? এটি কেন প্রয়োজনীয় ?
উত্তর – নিস্ল দানা: স্নায়ুকোশের কোশদেহের ও ডেনড্রনে সাইটোপ্লাজমে অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা নির্মিত যে বৃহৎ দানাগুলি ছড়িয়ে থাকে তাদের নিস্ল দানা (nissl granule) বলে।
প্রয়োজনীয়তা : নিস্ল দানায় প্রোটিন, উৎসেচক, নিউরোট্রান্সমিটার ইত্যাদি সংশ্লেষ ঘটে থাকে।
প্রশ্ন – 15. নিউরোফাইব্রিল কী? এটি কেন প্রয়োজনীয় ?
উত্তর – নিউরোফাইব্রিল: নিউরোনের কোশদেহ, ডেনড্রন ও অ্যাক্সনে যে সূক্ষ্ম সুতোর মতো গঠন বিন্যস্ত থাকে, তাদের নিউরোফিলামেন্ট বলে। এই নিউরোফিলামেন্ট গুচ্ছকে একত্রে নিউরোফাইব্রিল বলে।
প্রয়োজনীয়তা: এগুলি স্নায়ুকোশের গঠন বজায় রাখে, অ্যাক্সনের ব্যাসও পরিবর্তন করে থাকে।
প্রশ্ন – 16. স্নায়ুকোশ কেন বিভাজিত হতে পারে না?
উত্তর – কোশ বিভাজনের একটি অন্যতম প্রয়োজনীয় অঙ্গাণু হল সেন্ট্রোজোম। স্নায়ুকোশে সেন্ট্রোজোম থাকলেও তা নিষ্ক্রিয় হয়। এই কারণে স্নায়ুকোশ বা নিউরোন বিভাজিত হতে পারে না।
প্রশ্ন – 17. মায়েলিন পর্দা কী? এটি কেন প্রয়োজনীয় ?
উত্তর – মায়েলিন পর্দা: নিউরোন কোশের অ্যাক্সনের বাইরে সোয়ান কোশ অথবা অলিগোডেনড্রাইট কোশ নির্মিত ফ্যাট-জাতীয় পর্দাকে বলে মায়েলিন পর্দা বা মায়েলিন আবরণী।
প্রয়োজনীয়তা: এটি অন্তরক আবরকরূপে কাজ করে এবং স্নায়ু উদ্দীপনার দ্রুত ও কার্যকরী পরিবহণে সাহায্য করে।
প্রশ্ন – 18. র‍্যানভিয়ারের পর্ব কাকে বলে? এর গুরুত্ব লেখো।
অথবা, অ্যাক্সন বরাবর খাঁজগুলিকে কী বলে? এদের প্রয়োজন সংক্ষেপে লেখা।
উত্তর – র‍্যানভিয়ারের পর্ব: অ্যাক্সনের বাইরে মায়েলিন আবরণহীন অংশে নিউরিলেমা ও অ্যাক্সোলেমা যুক্ত হয়ে যে খাঁজ সৃষ্টি করে, তাকে র‍্যানভিয়ারের পর্ব বলে। এই স্থানে প্রচুর আয়ন চ্যানেল থাকে।
গুরুত্ব : মায়েলিনযুক্ত, নিউরোনে উদ্দীপনা পরিবহণ লম্ফন দ্বারা ঘটে। র‍্যানভিয়ারের পর্বগুলি দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এই সলটেটরি পরিবহণ ঘটতে পারে। ফলে দ্রুত উদ্দীপনা পরিবহণ ঘটতে পারে।
প্রশ্ন – 19. নিউরোগ্লিয়া কাকে বলে ? 
উত্তর – নিউরোগ্লিয়া ধারক কোশ হিসেবে স্নায়ুতন্ত্রে উপস্থিত থাকে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে স্নায়ুকোশের তুলনায় অধিক সংখ্যক নিউরোগ্লিয়া থাকে এবং প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রেও নিউরোগ্লিয়া বা গ্লিয়াল কোশ বর্তমান। নিউরোগ্লিয়া বিভিন্ন প্রকারের হয়। যথা—মাইক্রোগ্লিয়া, অলিগোডেনড্রোগ্লিয়া, অ্যাস্ট্রোসাইট। নিউরোগ্লিয়া উদ্দীপনা বা স্নায়ু-স্পন্দন পরিবহণে অক্ষম।
প্রশ্ন – 20. নিউরোগ্লিয়ার দুটি কাজ লেখো।
উত্তর – নিউরোগ্লিয়ার দুটি কাজ হল – 1. সোয়ান কোশ নামক নিউরোগ্লিয়া মায়েলিন আবরণ তৈরি করে স্নায়ু উদ্দীপনার দ্রুত প্রবাহে সাহায্য করে। 2. মাইক্রোগ্লিয়া নামক নিউরোগ্লিয়া রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন – 21. সংজ্ঞাবহ বা অন্তর্বাহী নিউরোন কাকে বলে?
উত্তর – যে নিউরোন গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা বা স্নায়ুস্পন্দন বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে অর্থাৎ মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডে প্রেরণ করে, তাকে সংজ্ঞাবহ বা অন্তর্বাহী নিউরোন বলে।
প্রশ্ন – 22. চেষ্টীয় নিউরোন বা বহির্বাহী নিউরোন কাকে বলে?
উত্তর – যে নিউরোন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, অর্থাৎ মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা বা স্নায়ুস্পন্দন পেশি ও গ্রন্থি, অর্থাৎ কারক অংশে প্রেরণ করে, তাকে চেষ্টীয় নিউরোন বা বহির্বাহী নিউরোন বলে।
প্রশ্ন – 23. অন্তর্বর্তী বা সংযোগকারী বা রিলে নিউরোন কাকে বলে?
উত্তর – যে বিশেষ প্রকার নিউরোন মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডে অবস্থিত থেকে সাধারণত সংজ্ঞাবহ ও চেষ্টীয় নিউরোনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, তাকে অন্তর্বর্তী নিউরোন বা রিলে নিউরোন বা সংযোগকারী নিউরোন বলে।
প্রশ্ন – 24. স্নায়ুতন্তু কাকে বলে?
উত্তর – নিউরোনের মায়েলিন আবৃত বা অনাবৃত অ্যাক্সনকে স্নায়ুতন্তু বলে। স্নায়ুগঠনকালে স্নায়ুতন্তুগুলির প্রত্যেকে পৃথকভাবে প্রথমে এন্ডোনিউরিয়াম দ্বারা ও পরে গুচ্ছরূপে পেরিনিউরিয়াম দ্বারা আবৃত হয়। এ ধরনের একাধিক গুচ্ছ পরিশেষে এপিনিউরিয়াম দ্বারা আবৃত হয়ে এক একটি স্নায়ু গঠন করে।
প্রশ্ন – 25. স্নায়ুর কাজ কী ?
উত্তর – স্নায়ুর কাজগুলি হল— 1. অন্তর্বাহী স্নায়ু রিসেপটর বা গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বহন করে এবং 2. বহির্বাহী স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে উদ্দীপনা ইফেকটরে বা কারকে বহন করে।
প্রশ্ন – 26. অ্যাফারেন্ট বা অন্তর্বাহী বা সংজ্ঞাবহ স্নায়ু কী?
উত্তর – যেসব স্নায়ু বিভিন্ন গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রেরণ করে, তাদের অন্তর্বাহী স্নায়ু বা সংজ্ঞাবহ স্নায়ু বা অ্যাফারেন্ট নার্ভ বলে। যেমন—অলফ্যাক্টরি, অপটিক, অডিটরি ইত্যাদি স্নায়ু।
প্রশ্ন – 27. অন্তর্বাহী বা সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো উদাহরণ দাও।
উত্তর – বৈশিষ্ট্য : 1. অন্তর্বাহী স্নায়ু সেনসরি নিউরোন নিয়ে গঠিত।
2. অন্তর্বাহী স্নায়ু রিসেপটর বা গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ে যায়।
উদাহরণ : অপটিক স্নায়ু, অডিটরি স্নায়ু।
প্রশ্ন – 28. ইফারেন্ট বা বহির্বাহী বা চেষ্টীয় স্নায়ু কী ?
উত্তর – যেসব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে পেশি, গ্রন্থি ইত্যাদি কারক অঙ্গে প্রয়োজনীয় নির্দেশ বা আজ্ঞা বহন করে, তাদের বহির্বাহী বা আজ্ঞাবহ বা চেষ্টীয় বা ইফারেন্ট নার্ভ বলে। যেমন—ট্রকলিয়ার এবং হাইপোগ্লসাল নার্ভ।
প্রশ্ন – 29. বহিৰ্বাহী বা চেষ্টীয় স্নায়ুর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। উদাহরণ দাও।
উত্তর – বৈশিষ্ট্য : (1) বহির্বাহী স্নায়ু মোটর নিউরোন নিয়ে গঠিত।
(2) বহির্বাহী স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে ইফেকটরে স্নায়ুস্পন্দন বহন করে নিয়ে যায়।
উদাহরণ : ট্রকলিয়ার ও হাইপোগ্লসাল স্নায়ু ।
প্রশ্ন – 30. মিশ্র স্নায়ু বা মিক্সড নার্ভ কাকে বলে ?
উত্তর – যেসব স্নায়ু সংজ্ঞাবহ এবং আজ্ঞাবহ দুই প্রকার নিউরোন দিয়ে গঠিত এবং উভয় দিকেই স্নায়ুর উদ্দীপনা বহন করতে পারে, তাদের মিশ্র স্নায় বা মিক্সড নার্ভ বলে। যেমন—ফেসিয়াল ও ভেগাস স্নায়ু।
প্রশ্ন – 31. মিশ্র স্নায়ুর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। উদাহরণ দাও।
উত্তর – বৈশিষ্ট্য: 1. অন্তর্বাহী ও বহির্বাহী উভয় প্রকার স্নায়ুতন্তু দ্বারা গঠিত। 2. এটি গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ে যায়, আবার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে কারক অঙ্গে স্নায়ুস্পন্দন বহন করে নিয়ে যায়।
উদাহরণ: ভেগাস নার্ভ, ফেসিয়াল নার্ভ।
প্রশ্ন – 32. নার্ভ গ্যাংলিয়ন বা স্নায়ুগ্রন্থি কাকে বলে?
উত্তর – স্নায়ুকোশের কোশদেহগুলি মিলিত হয়ে যোগকলা পরিবৃত যে গ্রন্থির সৃষ্টি করে, তাকে স্নায়ুগ্রন্থি বা নার্ভ গ্যাংলিয়ন বলে। অনেকগুলি কোশদেহ একত্রিত হওয়ায় এগুলি কিছুটা স্ফীত হয়।
প্রশ্ন – 33. স্নায়ুগ্রন্থির কাজগুলি লেখো।
উত্তর – স্নায়ুগ্রন্থির কাজগুলি হল— (1) গ্যাংলিয়নগুলি গ্রাসনালী, পাচকগ্রন্থি, অশ্রুগ্রন্থি ইত্যাদির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। (2) অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের ক্ষেত্রে গ্যাংলিয়ন থেকে নিউরোহরমোন ক্ষরিত হয়।
প্রশ্ন – 34. নার্ভ ইমপালস্ বা স্নায়ুস্পন্দন কাকে বলে?
উত্তর – স্নায়ুকোশের ঝিল্লির উভয় পার্শ্বে আয়নের ঘনত্বের পরিবর্তন ঘটিয়ে যে বিশেষ তরঙ্গ এক স্নায়ুকোশ থেকে অন্য স্নায়ুকোশে প্রবাহিত হয়, তাকে নার্ভ ইমপালস্ বা স্নায়ুস্পন্দন বলে।
প্রশ্ন – 35. প্রান্তসন্নিকর্ষ বা সাইন্যাপস্ কী?
উত্তর – দুটি নিউরোনের মধ্যবর্তী ফাঁকযুক্ত যে সংযোগস্থলে একটি নিউরোন থেকে পরবর্তী নিউরোনে উদ্দীপনা বা স্নায়ুস্পন্দন প্রেরিত হয়, তাকে প্রান্তসন্নিকর্ষ বা সাইন্যাপস্ বা স্নায়ুসন্নিধি বলে। সাইন্যাপসের বার্তা প্রেরণকারী নিউরোনটিকে প্রিসাইন্যাপটিক নিউরোন ও বার্তা গ্রহণকারী নিউরোনটিকে পোস্টসাইন্যাপটিক নিউরোন বলে।
প্রশ্ন – 36. সাইন্যাপসের গঠন লেখো।
উত্তর – সাইন্যাপস্ গঠনে সাধারণত একটি নিউরোনের অ্যাক্সনপ্রান্ত ও পরবর্তী নিউরোনের ডেনড্রনপ্রান্ত অংশ নেয়। প্রথমটি বা বার্তা প্রেরণকারী নিউরোনকে প্রি-সাইন্যাপটিক নিউরোন ও পরবর্তী বা বার্তা গ্রহণকারী নিউরোনকে পোস্ট-সাইন্যাপটিক নিউরোন বলে। প্রি-সাইন্যাপটিক নব ও পোস্ট-সাইন্যাপটিক ডেনড্রনপ্রান্ত মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে সাইন্যাপটিক ক্লেফট বলে।
প্রশ্ন – 37. সাইন্যাপসের কার্যপদ্ধতি লেখো।
উত্তর – একটি নিউরোনের কোশদেহ থেকে উদ্দীপনা অ্যাক্সন দ্বারা অ্যাক্সনপ্রান্তে এসে পৌঁছোয়। সাইন্যাপটিক নবে ভেসিকল থেকে নির্গত নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন—অ্যাসিটাইলকোলিন) সাইন্যাপসে অবস্থিত পরবর্তী নিউরোনের ডেনড্রনের গ্রাহক প্রান্তে আবদ্ধ হয় ও স্নায়ু উদ্দীপনা প্রেরণ করে।
প্রশ্ন – 38. প্রান্তসন্নিকর্ষ বিলম্ব কী?
উত্তর – সাইন্যাপস্ অংশে একটি নিউরোন থেকে পরবর্তী নিউরোনে স্নায়ু উদ্দীপনা প্রবাহিত হতে যে সময় প্রয়োজন তাকে প্রান্তসন্নিকর্ষ বিলম্ব বা সাইন্যাপটিক ডিলে বলে।
প্রশ্ন – 39. নিউরোট্রান্সমিটার কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর – নিউরোট্রান্সমিটার : স্নায়ুকোশের অ্যাক্সন প্রান্ত থেকে নির্গত যে উপাদান স্নায়ু উদ্দীপনাকে পরবর্তী স্নায়ুকোশে পৌঁছে দেয়, তাকে নিউরোট্রান্সমিটার বলে। এরা একপ্রকার রাসায়নিক বার্তাবাহক যা প্রান্তসন্নিধি পার হয়ে পরবর্তী নিউরোনের ডেনড্রনে গিয়ে কাজ করে থাকে।
উদাহরণ : অ্যাসিটাইলকোলিন, ডোপামিন, নরএপিনেফ্রিন প্রভৃতি।
প্রশ্ন – 40. অ্যাসিটাইলকোলিনের কাজ লেখো। 
উত্তর – অ্যাসিটাইলকোলিনের কাজ হল- (1) এটি একটি স্নায়ু থেকে পরবর্তী স্নায়ুতে উদ্দীপনা প্রেরণ করে থাকে। (2) এটি স্নায়ু পেশি সন্ধিতে নির্গত হলে পেশির সংকোচন প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
প্রশ্ন – 41. নিউরোন ও নিউরোগ্লিয়ার দুটি পার্থক্য উল্লেখ করো।
উত্তর – নিউরোন ও নিউরোগ্লিয়া-এর মধ্যে পার্থক্যগুলি হল—
বিষয় নিউরোন নিউরোগ্লিয়া
1. কাজ স্নায়ুস্পন্দনের পরিবহণ ও দেহের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয়সাধন। স্নায়ুতন্ত্রের ধারক কোশ হিসেবে কাজ করে।
2. বিভাজন ক্ষমতা নেই। আছে।

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো

1. প্রাণীদেহের ভৌত সমন্বায়ক হল –
(a) হরমোন
(b) হূৎপিণ্ড
(c) স্নায়ুতন্ত্র
(d) সংবহন তন্ত্র
উত্তর – (c) স্নায়ুতন্ত্র
2. যে বহুকোশী প্রাণীটির দেহে স্নায়ুতন্ত্র থাকে না, সেটি হল-
(a) ফিতাকৃমি
(b) গোলকৃমি
(c) তারামাছ
(d) সাইকন
উত্তর – (d) সাইকন
3. পরিবেশের যে বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন জীবদেহে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিতে সক্ষম, তাকে বলে—
(a) গ্রাহক
(b) সাড়া
(c) সংবেদন
(d) উদ্দীপনা
উত্তর – (d) উদ্দীপনা
4. একটি কারক অঙ্গ হল—
(a) কান
(b) পেশি
(c) ত্বক
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (b) পেশি
5. স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একককে কী বলে?
(a) নেফ্রন
(b) নিউরোন
(c) অ্যাক্সন
(d) নিউরোগ্লিয়া
উত্তর – (b) নিউরোন
6. স্নায়ুকোশের নিউক্লিয়াসযুক্ত ও সবথেকে প্রশস্ত অংশকে বলে—
(a) কোশদেহ
(b) দেহকোশ
(c) অ্যাক্সন
(d) ডেনড্রাইট
উত্তর – (a) কোশদেহ
7. নিউরোনের বহির্মুখী শাখাকে কী বলে?
(a) ডেনড্রন
(b) অ্যাক্সন
(c) সাইটন
(d) নিস্ল দানা
উত্তর – (b) অ্যাক্সন
৪. ডেনড্রন থেকে নির্গত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখাপ্রশাখাগুলিকে বলে—
(a) ডেনড্রাইট
(b) প্রান্তবুরুশ
(c) মায়েলিন সিদ্
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (a) ডেনড্রাইট
9. অ্যাক্সনস্থিত সাইটোপ্লাজমকে বলে—
(a) এক্টোপ্লাজম
(b) এন্ডোপ্লাজম
(c) অ্যাক্সোপ্লাজম
(d) নিউরোপ্লাজম
উত্তর – (c) অ্যাক্সোপ্লাজম
10. স্নায়ুকোশের সাইটোপ্লাজমকে বলা হয়—
(a) নিউরোপ্লাজম
(b) অ্যাক্সোপ্লাজম
(c) ডেনড্রোপ্লাজম
(d) অ্যাসিটাইলকোলিন
উত্তর – (a) নিউরোপ্লাজম
11. স্নায়ুকোশের যে অংশে নিল দানা অনুপস্থিত, তা হল—
(a) ডেনড্রাইট
(b) অ্যাক্সন
(c) কোশদেহ
(d) সবকটি
উত্তর – (b) অ্যাক্সন
12. স্নায়ুকোশে প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে—
(a) গলগি বস্তু
(b) সোয়ান কোশ
(c) নিস্ল দানা
(d) কোনোটিই নয়।
উত্তর – (c) নিস্ল দানা
13. নিউরোনের কোন অংশে মায়েলিন সিদ্ বা মেডুলারি আবরণ থাকে?
(a) অ্যাক্সন
(b) ডেনড্রন
(c) কোশদেহ
(d) সবকটি
উত্তর – (a) অ্যাক্সন
14. কোন্‌টি সোয়ান কোশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত?
(a) ডেনড্রাইট
(b) অ্যাক্সন
(c) কোশদেহ
(d) সাইন্যাপস্
উত্তর – (b) অ্যাক্সন
15. যে কোশ মায়েলিন আবরণ তৈরি করে সেটি হল—
(a) নিউরোন
(b) অ্যাস্ট্রোসাইট
(c) সোয়ান কোশ
(d) কোনোটিই নয়।
উত্তর – (c) সোয়ান কোশ
16. অ্যাক্সোপ্লাজমকে ঘিরে যে আবরণী থাকে তাকে বলে-
(a) অ্যাক্সোলেমা
(b) নিউরিলেমা
(c) প্লাজমালেমা
(d) সবকটি
উত্তর – (a) অ্যাক্সোলেমা
17. নিউরিলেমা যাকে আবৃত করে থাকে, তার নাম —
(a) অ্যাক্সিস সিলিন্ডার
(b) কোশদেহ
(c) মেডুলারি আবরণ
(d) এন্ডোনিউরিয়াম
উত্তর – (b) কোশদেহ
18. র‍্যানভিয়ারের পর্ব দেখা যায় —
(a) সকল নিউরোনের অ্যাক্সনে
(b) কিছু নিউরোনের অ্যাক্সনে
(c) সকল নিউরোনের ডেনড্রনে
(d) কিছু নিউরোনের ডেনড্রনে
উত্তর – (b) কিছু নিউরোনের অ্যাক্সনে
19. স্নায়ুতন্ত্রে যে কোশগুলি ধারক কোশের কাজ করে, তাদের বলে—
(a) নিউরিলেমা
(b) অ্যাক্সোলেমা
(c) নিউরোগ্লিয়া বা গ্লিয়াল কোশ
(d) নিউরোন
উত্তর – (c) নিউরোগ্লিয়া বা গ্লিয়াল কোশ
20. নীচের কোন্ কোশ/কোশগুলি স্নায়ু উদ্দীপনা প্রেরণ করে না?
(a) অ্যাস্ট্রোসাইট
(b) অলিগোডেনড্রোসাইট
(c) মাইক্রোগ্লিয়া
(d) সবকটি
উত্তর – (d) সবকটি
21. স্নায়ুতন্ত্রের পুষ্টি ও প্রতিরক্ষায় সাহায্যকারী কোশটি হল—
(a) নিউরোন
(b) নিউরোগ্লিয়া
(c) হেপাটোসাইট
(d) সবকটি
উত্তর – (b) নিউরোগ্লিয়া
22. একটি স্নায়ুর বাইরের আবরণের নাম হল –
(a) এন্ডোনিউরিয়াম
(b) এন্ডোমাইসিয়াম
(c) পেরিনিউরিয়াম
(d) পেরিমাইসিয়াম
উত্তর – (c) পেরিনিউরিয়াম
23. আজ্ঞাবহ বা বহির্বাহী স্নায়ু হল –
(a) অপটিক
(b) অকিউলোমোটর
(c) ভেগাস
(d) অলফ্যাক্টরি
উত্তর – (b) অকিউলোমোটর
24. শুধুমাত্র চেষ্টীয় নার্ভটি হল—
(a) ভেগাস
(b) অকিউলোমোটর
(c) ফেসিয়াল
(d) ট্রাইজেমিনাল
উত্তর – (b) অকিউলোমোটর
25. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু হল –
(a) মিশ্র স্নায়ু
(b) সংজ্ঞাবহ স্নায়ু
(c) চেষ্টীয় স্নায়ু
(d) স্নায়ু গ্রন্থি
উত্তর – (b) সংজ্ঞাবহ স্নায়ু
26. একটি মিশ্র স্নায়ু হল –
(a) অপটিক
(b) অডিটরি
(c) হাইপোগ্লসাল
(d) ভেগাস
উত্তর – (d) ভেগাস
27. স্নায়ুকোশের কোশদেহগুলি পুঞ্জীভূত হয়ে সৃষ্টি হয়—
(a) নিউরোগ্লিয়া
(b) স্নায়ুগ্রন্থি
(c) স্নায়ুতন্ত্র
(d) সাইন্যাপস্
উত্তর – (b) স্নায়ুগ্রন্থি
28. নীচের কোনটি দুটি নিউরোনের সংযোগস্থলের নাম নয়?
(a) সাইন্যাপসিস
(b) সাইন্যাপস্
(c) স্নায়ুসন্নিধি
(d) প্রান্তসন্নিকর্ষ
উত্তর – (a) সাইন্যাপসিস
29. একটি নিউরোট্রান্সমিটার হল—
(a) গ্লাইকোজেন
(b) গ্লুকোজ
(c) লিপিড
(d) অ্যাসিটাইলকোলিন
উত্তর – (d) অ্যাসিটাইলকোলিন
30. অ্যাক্সন প্রান্ত থেকে কোন্ উপাদানটি ক্ষরিত হয়?
(a) গ্লাইকোজেন
(b) গ্লুকোজ
(c) লিপিড
(d) অ্যাসিটাইলকোলিন
উত্তর – (d) অ্যাসিটাইলকোলিন

দু-একটি শব্দে বা বাক্যে উত্তর দাও

1. পরিবেশের পরিবর্তন অনুভব করাকে কী বলে?
উত্তর – সংবেদন।
2. গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা স্নায়ু দ্বারা কোন্ অংশে বাহিত হয় ?
উত্তর – স্নায়ুকেন্দ্র।
3. কারক অঙ্গের কাজ কী?
উত্তর – স্নায়ু উদ্দীপনা স্নায়ু দিয়ে কারকে বাহিত হলে তা দেহে সাড়াপ্রদানে সাহায্য করে।
4. স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একককে কী বলে?
উত্তর – নিউরোন বা স্নায়ুকোশ ।
5. বিভাজন ক্ষমতাবিহীন একটি প্রাণীকোশের নাম লেখো।
উত্তর – নিউরোন বা স্নায়ুকোশ।
6. নিউরোনের প্রধান অংশগুলি নাম লেখো।
উত্তর – নিউরোনের প্রধান অংশগুলি হল—কোশদেহ, অ্যাক্সন ও ডেনড্রন।
7. স্নায়ুকোশের স্বল্প দীর্ঘ প্রবর্ধকের নাম কী?
উত্তর – ডেনড্রন।
8. স্নায়ুকোশের দীর্ঘ চেষ্টীয় প্রবর্ধকের নাম কী ?
উত্তর – অ্যাক্সন।
9. নিউরোনের কোশদেহের অপর নাম কী?
উত্তর –  পেরিক্যারিয়ন বা নিউরোসাইটন।
10. নিউরোনের কোশদেহের মধ্যে অবস্থিত ঘন সাইটোপ্লাজমকে কী বলে?
উত্তর – নিউরোপ্লাজম ।
11. সমগ্র নিউরোপ্লাজম জুড়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম তন্তুর মতো যে অংশ ছড়িয়ে থাকে, তাদের কী বলে?
উত্তর – নিউরোফাইব্রিল ।
12. নিল দানার ভৌত-রাসায়নিক প্রকৃতি কী ?
উত্তর – নিল দানা রাসায়নিক প্রকৃতিতে হল নিউক্লিওপ্রোটিন।
13. স্নায়ুকোশের কোন্ অংশ পূর্ববর্তী স্নায়ুকোশ থেকে স্নায়ুস্পন্দন গ্রহণ করে কোশদেহে পাঠায় ?
উত্তর – ডেনড্রন
14. স্নায়ুকোশের কোন্ অংশ কোশদেহ থেকে স্নায়ুস্পন্দন পরবর্তী স্নায়ুকোশে পৌঁছোতে সাহায্য করে?
উত্তর – অ্যাক্সন।
15. অ্যাক্সন হিলক কোন্ অংশকে বলে?
উত্তর –  নিউরোনের কোশদেহ ও অ্যাক্সনের সংযোগস্থলকে অ্যাক্সন হিলক বলে।
16. অ্যাক্সনের আবরণীগুলি কী কী?
অথবা, স্নায়ুকোশে দীর্ঘ প্রবর্ধকটির আচ্ছাদনগুলির ভিতর থেকে বাইরের দিকের নাম লেখো।
উত্তর – অ্যাক্সোলেমা, মায়েলিন আবরণী ও নিউরিলেমা।
17. নিউরিলেমা কাকে বলে?
উত্তর – সোয়ান কোশের বাইরের পর্দা বা সোয়ান পর্দা যা অ্যাক্সনের সবচেয়ে বাইরে আবরণরূপে বিন্যস্ত থাকে, তাকে নিউরিলেমা বলে।
18. অ্যাক্সনের বাইরে অবস্থিত স্নেহপদার্থ (স্ফিনগোমায়েলিন) নির্মিত আবরণকে কী বলে?
উত্তর – মায়েলিন পর্দা বা মায়েলিন আবরণী।
19. মায়েলিন বা মেডুলারি আচ্ছাদনযুক্ত নিউরোনকে কী বলে?
উত্তর – মায়েলিনেটেড বা মেডুলেটেড নিউরোন।
20. মায়েলিন আচ্ছাদন না থাকলে সেই নিউরোনকে তুমি কী বলবে?
উত্তর – নন-মায়েলিনেটেড বা নন-মেডুলেটেড নিউরোন।
21. মায়েলিন আবরণীর একটি কাজ লেখো।
উত্তর – মায়েলিন আবরণীর কাজ হল অ্যাক্সনের ওপর অন্তরক আবরণ গঠন করে স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবহণে সাহায্য করা ও অ্যাক্সনকে সুরক্ষা প্রদান করা।
22. নিউরোনে মায়েলিন আবরণ না থাকলে কী অসুবিধা হবে?
উত্তর – নিউরোনে মায়েলিন আবরণী না থাকলে স্নায়ু উদ্দীপনা দ্রুত ও কার্যকরীভাবে পরিবাহিত হতে পারবে না।
23. সোয়ান কোশের কাজ কী?
উত্তর – সোয়ান কোশের কাজ হল অ্যাক্সনের মায়েলিন আবরণ সৃষ্টি করা।
24. অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত সূক্ষ্ম শাখান্বিত হয়ে কী গঠন করে ?
উত্তর – প্রান্তবুরুশ ।
25. স্নায়ু কাকে বলে?
উত্তর – প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত রক্তবাহ সমন্বিত যোগকলা দ্বারা আবৃত অ্যাক্সনগুচ্ছ যা উদ্দীপনা বহন করে, তাকে স্নায়ু বা নার্ভ বলে।
26. দুটি চেষ্টীয় স্নায়ুর নাম লেখো।
উত্তর – টুকলিয়ার স্নায়ু এবং হাইপোগ্লসাল স্নায়ু।
27. ক্ষুদ্রতম করোটি স্নায়ুর নাম কী ?
উত্তর – অলফ্যাক্টরি স্নায়ু।
28. মানবদেহের দীর্ঘতম স্নায়ুর নাম কী ?
উত্তর – সায়াটিক স্নায়ু।
29. পরপর অবস্থিত দুটি নিউরোনের সংযোগস্থলকে কী বলা হয় ?
উত্তর – স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাপস্।
30. সাইন্যাপস্-এর অবস্থান লেখো।
উত্তর – একটি নিউরোনের অ্যাক্সনের প্রান্তীয় নব ও অপর নিউরোনের ডেনড্রন বা কোশদেহ বা অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী স্থানে সাইন্যাপস্ অবস্থিত।
31. সাইন্যাপস্-এর দুটি নিউরোনের অন্তবর্তী ফাঁকা স্থানকে কী বলে?
উত্তর – সাইন্যাপটিক ক্লেফট।
32. সাইন্যাপস্-এর কাজ কী?
উত্তর – একটি নিউরোন থেকে পরবর্তী নিউরোনে উদ্দীপনা প্রেরণের কাজ করে সাইন্যাপস্।
33. একটি উদ্দীপকধর্মী নিউরোট্রান্সমিটারের উদাহরণ দাও।
উত্তর – অ্যাসিটাইলকোলিন।
34. নিউরোট্রান্সমিটার কোথায় থাকে?
উত্তর – অ্যাক্সনের শেষপ্রান্তে সাইন্যাপটিক নবের মধ্যে অবস্থিত সাইন্যাপটিক ভেসিকলে নিউরোট্রান্সমিটার থাকে।

শূন্যস্থান পূরণ করো

1. জীবদেহের যেসব অংশ পরিবেশের উদ্দীপনাকে গ্রহণ করে তাদের ……… বলে।
উত্তর – গ্রাহক
2. স্নায়ুকোশের …….. সক্রিয় নয় বলে এই কোশ বিভাজিত হয় না।
উত্তর – সেন্টোজোম
3. কোশদেহ থেকে নির্গত ক্ষুদ্র ও সূক্ষ্ম সূত্রাকার প্রোটোপ্লাজমীয় প্রবর্ধক অংশগুলিকে …….. বলে।
উত্তর – ডেনড্রন
4. …….. হল কোশদেহের সংজ্ঞাবহ প্রবর্ধক।
উত্তর – ডেনড্রন
5. কোশদেহের যে অংশ থেকে অ্যাক্সন নির্গত হয়, তাকে ……. বলে।
উত্তর – অ্যাক্সন হিলক
6. অ্যাক্সনের যে স্থানে মায়েলিন সিদ্ থাকে না তাকে ……… বলে।
উত্তর – র‍্যানভিয়ারের পর্ব
7. মায়েলিন সিদ্ ও নিউরিলেমার মাঝে নিউক্লিয়াসযুক্ত ……… কোশ থাকে।
উত্তর – সোয়ান
8. যোজক কলার আবরণী বেষ্টিত রক্তবাহ সমন্বিত নিউরোনগুচ্ছকে ……… বলে।
উত্তর – স্নায়ু
9. অ্যাস্ট্রোসাইট একপ্রকার …….. কোশ।
উত্তর – নিউরোগ্লিয়া/গ্লিয়াল
10. স্নায়ুতন্ত্রের কোশসমষ্টির অধিকাংশই হল …….. কোশ।
উত্তর – নিউরোগ্লিয়া
11. অ্যাস্ট্রোসাইট হল ……… আকৃতির নিউরোগ্লিয়া।
উত্তর – তারা
12. অ্যাক্সন দিয়ে গঠিত স্নায়ুর প্রধান কাজ হল ………. পরিবহণ করা।
উত্তর – স্নায়ুস্পন্দন
13. সন্নিধি স্ফীতির কোশঝিক্সিকে …….. ঝিল্লি বলে।
উত্তর – প্রাকসন্নিধি
14. প্ৰাক্‌সন্নিধি অঞ্চলে ……… পৌঁছোলে অ্যাক্সনের প্রান্ত থেকে অ্যাসিটাইলকোলিন নির্গত হয়।
উত্তর – স্নায়ুস্পন্দন
15. দুটি নিউরোনের মধ্যবর্তী ফাঁকা অংশে অবস্থিত রাসায়নিক তরলকে …….. বলে।
উত্তর – নিউরোট্রান্সমিটার

SUB-TOPIC 4.2 স্নায়ুতন্ত্রের প্রকারভেদ;মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ড;প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও প্রতিবর্ত পথ

বিষয়সংক্ষেপ

  • মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রকে তিনটি ভাগে বিভক্ত। যেমন—মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড থেকে নির্গত যথাক্রমে করোটি স্নায়ু ও সুষুম্না স্নায়ু নিয়ে গঠিত প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং সমবেদী ও পরাসমবেদী স্নায়ু নিয়ে গঠিত স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র।
  • মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হল অগ্রমস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স যা আমাদের বুদ্ধি-বৃত্তি, চিন্তা-ভাবনা, শ্রবণ- দর্শন প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া অগ্রমস্তিষ্কের থ্যালামাস চাপ, তাপ বুঝতে; খিদে-তৃয়া অনুভবে হাইপোথ্যালামাস কাজ করে থাকে। অগ্র ও পশ্চাৎ মস্তিষ্কের কাজে সমন্বয় ঘটায় মধ্যমস্তিষ্ক। পশ্চাৎ মস্তিষ্কের পস অংশটি হৃৎপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণে, লঘুমস্তিষ্কে বা সেরিবেলাম দেহের ভারসাম্য রক্ষায় এবং সুষুম্নাশীর্ষক বা মেডালা অবলংগাটা শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সুষুম্নাকাণ্ড প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
  • তাৎক্ষণিক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো উদ্দীপনার প্রভাবে প্রাণীদের সাড়া দেওয়ার পদ্ধতিকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। হাঁচি, কাশি, চোখের পলক পড়া প্রভৃতি হল জন্মগত প্রতিবর্ত ক্রিয়া। আবার সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা প্রভৃতি হল অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া। প্রাত্যহিক জীবনে হাঁচি, কাশি ইত্যাদি প্রতিবর্তের গুরুত্ব অসীম।

বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন – 1. স্নায়ুতন্ত্রের শ্রেণিবিভাগ করো ও বিভাগগুলির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর – স্নায়ুতন্ত্রের শ্রেণিবিভাগ: মানুষ ও অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্রকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা—কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, প্রান্তীয়
এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র। এখানে স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন অংশগুলি রেখচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হল।
স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন অংশের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
  1. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম (CNS): মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে গঠিত দেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর বিন্যস্ত স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী অংশ হল কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র। দেহের সঙ্গে বাহ্যিক পরিবেশের সমন্বয় ও বুদ্ধি-আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা এর প্রধান কাজ।
  2. প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র বা পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম (PNS): যে তন্ত্র কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ স্নায়ু দ্বারা যথাক্রমে গ্রাহক ও কারক অঙ্গের সমন্বয়সাধন করে তাকে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র বলে। মানুষের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক নির্গত 12 জোড়া করোটি স্নায়ু ও 31 জোড়া সুষুম্না স্নায়ু নিয়ে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত। এই তন্ত্র বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদানে সহায়তা করে।
  3. স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র বা অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেম (ANS): স্নায়ুতন্ত্রের যে অংশ দেহের আন্তরযন্ত্র, গ্রন্থি, অনৈচ্ছিক পেশিতে বিন্যস্ত হয়ে তাদের কার্যকারিতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র বলে। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দুইপ্রকার—সমবেদী বা সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র এবং পরাসমবেদী বা প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র। দেহের বিভিন্ন আন্তরযন্ত্র, যেমন—বিভিন্ন গ্রন্থি, অনৈচ্ছিক পেশি প্রভৃতির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র।
প্রশ্ন – 2. মানব কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন অংশের বিবরণ দাও।
উত্তর – মানব কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ: মেরুদণ্ডী প্রাণীর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে গঠিত।
মস্তিষ্ক: মানুষের মস্তিষ্কের তিনটি প্রধান অংশ— 1. অগ্রমস্তিষ্ক, 2. মধ্যমস্তিষ্ক ও 3. পশ্চাদমস্তিষ্ক।
  1. অগ্রমস্তিষ্ক: [i] গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস নিয়ে অগ্রমস্তিষ্ক গঠিত। [ii] গুরুমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড়ো অংশ। একটি গভীর স্নায়ুখাঁজ গুরুমস্তিষ্ককে মাঝ বরাবর—বাম ও ডান গোলার্ধে ভাগ করেছে। এদের প্রতিটিকে বলে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার। দুটি গোলার্ধের মধ্যে সংযোগস্থাপন করে একটি অনুপ্রস্থ স্নায়ুতন্তুগুচ্ছ। একে করপাস ক্যালোসাম বলে। [iii] গুরুমস্তিষ্কের বাইরের দিকে থাকে ধূসর বস্তু এবং ভিতরের দিকে থাকে শ্বেত বস্তু। সেরিব্রামের ধূসর অংশকে বলে সেরিব্রাল কর্টেক্স। [iv] থ্যালামাস গুরুমস্তিষ্কের নীচে অবস্থিত এবং ধূসর বস্তু দিয়ে গঠিত। [v] হাইপোথ্যালামাস থ্যালামাসের নীচে অবস্থিত এবং শ্বেত ও ধূসর বস্তু দিয়ে গঠিত।
  2. মধ্যমস্তিষ্ক: মস্তিষ্কের এই অংশটি অগ্র ও পশ্চামস্তিষ্কের মাঝখানে অবস্থান করে, যেটি টেকটাম ও সেরিব্রাল পেডাং নিয়ে গঠিত।
  3. পশ্চাদমস্তিষ্ক: এটি মস্তিষ্কের সব থেকে পিছনের অংশ। লঘুমস্তিষ্ক, পনস্ এবং সুষুম্নাশীর্ষক নিয়ে পশ্চাদমস্তিষ্ক গঠিত। এর মধ্যে লঘু মস্তিষ্ক পশ্চাদমস্তিষ্কের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সুষুম্নাকাণ্ড: (1) এটি মস্তিষ্কের সুষুম্নাশীর্ষকের শেষভাগ থেকে শুরু হয়ে সাধারণত প্রথম লাম্বার কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত। (2) সুষুম্নাকাণ্ড 31টি খণ্ডক নিয়ে গঠিত। প্রতিটি খণ্ডক থেকে এক জোড়া করে মোট 31 জোড়া সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়েছে। এই খণ্ডকগুলি পাঁচটি অংশের অন্তর্গত—সারভাইক্যাল (খণ্ডক সংখ্যা ৪), থোরাসিক (খণ্ডক সংখ্যা 12), লাম্বার (খণ্ডক সংখ্যা 5), স্যাক্রাল (খণ্ডক সংখ্যা 5), কক্সিজিয়াল (খণ্ডক সংখ্যা 1)। (3) সুষুম্নাকাণ্ডের বাইরের দিকে থাকে শ্বেত বস্তু এবং ভিতরের দিকে থাকে ধূসর বস্তু। কেন্দ্রে থাকে কেন্দ্রীয় নালী বা নিউরোসিল, যা মস্তিষ্ক-সুষুম্না রস বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF) দ্বারা পূর্ণ। (4) মানুষের সুষুম্নাকাণ্ড দৈর্ঘ্যে প্রায় 18 inch (45 cm)। (5) সুষুম্নাকাণ্ডের শেষপ্রান্তটি ছুঁচালো।
প্রশ্ন – 3. মানব মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ ছকের সাহায্যে দেখাও।
উত্তর – মানব মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ: মানব মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ নীচে ছকের সাহায্যে উল্লেখ করা হল।
প্রশ্ন – 4. মানব মস্তিষ্কের যে-কোনো পাঁচটি অংশের নাম, অবস্থান ও মানবদেহে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলি লেখো। 
উত্তর – মানব মস্তিষ্কের পাঁচটি অংশের নাম, অবস্থান ও মানবদেহে ভূমিকা
নাম অবস্থান ভূমিকা
1. সেরিব্রাল কর্টেক্স সেরিব্রাম বা গুরুমস্তিষ্কের অন্তর্গত দুটি সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ারের মেনিনজেস-এর নীচে অবস্থিত।
[i] বুদ্ধি, স্মৃতি, বিচার, পরিকল্পনা ইত্যাদি উচ্চ মানসিক গুণাবলীর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
[ii] দর্শন, স্বাদ, ঘ্রাণ, গরম, ঠান্ডা প্রভৃতির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
2. থ্যালামাস মস্তিষ্কের তৃতীয় নিলয়ের উভয় পাশে অবস্থিত।
[i] চাপ, তাপ, দর্শন, বেদনা প্রভৃতি সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা বিশ্লেষিত করে গুরুমস্তিষ্কে প্রেরণ করে অর্থাৎ রিলে কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
[ii] নিদ্রা ও জাগরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
3. হাইপোথ্যালামাস থ্যালামাসের নীচে তৃতীয় ভেন্ট্রিলের অঙ্কদেশে অবস্থিত।
[i] ক্ষুধা, তৃয়া, নিদ্রা, দৈহিক উন্নতা, মানসিক উত্তেজনা প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।
[ii] অগ্র পিটুইটারির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে ও পশ্চাৎ পিটুইটারি নিঃসৃত হরমোন সংশ্লেষ করে।
4. মধ্যমস্তিষ্ক অগ্র ও পশ্চাদ্‌মস্তিষ্কের মাঝামাঝি অংশে অবস্থিত।
[i] অগ্র ও পশ্চামস্তিষ্কের কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন করে।
[ii] মধ্যমস্তিষ্কের টেকটাম দর্শন ও শ্রবণ প্রতিবর্তের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
5. লঘুমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের চতুর্থ নিলয়ের পৃষ্ঠদেশে, গুরুমস্তিষ্কের নীচে অবস্থিত।
[i] প্রধান কাজ হল দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
[ii] পেশির টান ও হাত-পায়ের ঐচ্ছিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রশ্ন – 5. মধ্যমস্তিষ্ক এবং মেডালা অবলংগাটা-র অবস্থান ও কাজ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর – মধ্যমস্তিষ্ক বা মেসেনসেফালন
অবস্থান: অগ্র ও পশ্চামস্তিষ্কের সংযোগকারী অংশরূপে মধ্যমস্তিষ্ক অবস্থিত। এটি টেকটাম ও সেরিব্রাল পেডাংল নিয়ে গঠিত একটি ক্ষুদ্র অংশ।
কাজ: (1) অগ্র ও পশ্চামস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করে। (2)  মধ্য-মস্তিষ্কের টেকটাম অংশ দর্শন ও শ্রবণ প্রতিবর্ত নিয়ন্ত্রণ করে। (3) দৈহিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে মধ্যমস্তিষ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (4) পেশির টান এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। (5) এ ছাড়া ঐচ্ছিক পেশির কার্যকারিতায় সমন্বয়সাধন করে।
মেডালা অবলংগাটা বা সুষুম্নাশীৰ্ষক
অবস্থান: পশ্চাদ্‌মস্তিষ্কের পস অংশটির নীচে এবং সুষুম্নাকাণ্ডের ঠিক ওপরে এর অবস্থান।
কাজ : (1) শ্বাসক্রিয়া, হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। (2) লালাক্ষরণ ও বমি নিয়ন্ত্রণ করে। (3) মেডালা অবলংগাটা শ্বাসকার্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (4) এ ছাড়া এই স্থান থেকে নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ করোটি স্নায়ুজোড়া উৎপন্ন হয়।
প্রশ্ন – 6. সুষুম্নাকাণ্ডের গঠন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। সুষুম্নাকাণ্ডের অবস্থান ও কাজ লেখো। 
উত্তর – সুষুম্নাকাণ্ডের গঠন: সুষুম্নাশীর্ষকের পশ্চাদ্ভাগ থেকে শুরু করে প্রথম বা দ্বিতীয় লাম্বার কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত ও সেরিব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড বা CSF পূর্ণ যে ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু মেরুদণ্ডের দৈর্ঘ্য বরাবর অবস্থান করে, তাকে সুষুম্নাকাণ্ড বলে। মেরুদণ্ডকে অবস্থান অনুসারে মোট পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—সারভাইক্যাল, থোরাসিক, লাম্বার, স্যাক্রাল এবং কক্সিজিয়াল অংশ। মেরুদণ্ডের মধ্যস্থ নিউরাল ক্যানেল দিয়ে সুষুম্নাকাণ্ড বিন্যস্ত হওয়ায় সুষুম্নাকাণ্ডকেও এই পাঁচটি অংশে ভাগ করা যায়। এর সারভাইক্যাল, থোরাসিক, লাম্বার, স্যাক্রাল ও কক্সিজিয়াল অংশ থেকে সর্বমোট 31 জোড়া স্নায়ু বেরিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় 45 cm লম্বা ও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় 42 cm লম্বা হয়। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ।
সুষুম্নাকাণ্ডের প্রস্থচ্ছেদে তার কেন্দ্রে ধূসর বস্তু ও পরিধিতে শ্বেত বস্তু বিন্যস্ত থাকে। ধূসর বস্তু ‘H’ অক্ষরের আকারে গঠিত হয়। এর কেন্দ্রে নিউরোসিল বর্তমান।
সুষুম্নাকাণ্ডের অবস্থান ও কাজ: নীচে সুষুম্নাকাণ্ডের অবস্থান ও কাজ সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।
অবস্থান: মানবমস্তিষ্কের সুষুম্নাশীর্ষকের নীচে এর উৎপত্তি, এটি ফোরামেন ম্যাগনাম ছিদ্র পথ দিয়ে তা মেরুদণ্ডের নিউরাল ক্যানেল বরাবর সাধারণত প্রথম লাম্বার কশেরুকা পর্যন্ত বিন্যস্ত থাকে।
কাজ: (1) সুষুম্নাকাণ্ড দেহের সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ু-উদ্দীপনা গ্রহণ করে পেশি ও আন্তরযন্ত্রীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন করে। (2) সুষুম্নাকাণ্ড বিভিন্ন ধরনের প্রতিবর্ত ক্রিয়াগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। (3) পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে। (4) রক্তনালীর ব্যাসের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে ও তার মাধ্যমে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রশ্ন – 7. নীচের ঘটনাগুলি ঘটলে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়া ঘটে। এই প্রতিবর্ত ক্রিয়া দুটির গুরুত্ব লেখো। (1) যখন শ্বাসনালীতে খাদ্যকণা ঢুকে পড়ে, (2) যখন নাকের মধ্যে কোনো বিজাতীয় বস্তু ঢুকে পড়ে। 
অথবা, প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব কী? উদাহরণের সাহায্যে বোঝাও। উদাহরণসহ একটি সরল প্রতিবর্ত পথের কার্যপ্রণালী সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তর – প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব: আমাদের দেহের অধিকাংশ ক্রিয়াই মস্তিষ্কের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু বহুক্ষেত্রে দ্রুত ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এই সকল ক্ষেত্রে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মস্তিষ্কের সাহায্য ছাড়াই দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় প্রতিবর্তের মাধ্যমে। একটি উদাহরণের সাহায্যে ঘটনাটি বোঝা যায়। শ্বাসনালীতে কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু, যেমন বিষাক্ত গ্যাস, জল, খাদ্যের কণা প্রভৃতি প্রবেশ করলে তৎক্ষণাৎ কাশির উদ্রেক হয়। এই কাশির ফলে ফুসফুসীয় বায়ুর মাধ্যমে ওই বস্তুর নির্গমন ঘটে। এটি একপ্রকার প্রতিবর্ত ক্রিয়া। এক্ষেত্রে কোনোরূপ চিন্তাভাবনা ছাড়াই কাশির উদ্রেক হয়, অর্থাৎ এক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কোনো ভূমিকা থাকে না। এইভাবে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে শ্বাসনালী থেকে অবাঞ্ছিত বস্তু নির্গমন হয় ও দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া চলতে থাকে। এ ছাড়াও চোখে হঠাৎ আলো বা ধূলো পরলে দ্রুত আমাদের চোখের পলক পড়ে। ধূলিকণার সংস্পর্শে আমরা হাঁচি। এগুলিও আমাদের দৈহিক প্রতিরক্ষায় সাহায্য করে।
উদহারণসহ একটি সরল প্রতিবর্ত পথের কার্যপ্রণালী: রাস্তায় হাঁটার সময়ে কাঁটা বিধলে পা তৎক্ষণাৎ রাস্তা থেকে সরে যায়। এটি একটি প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ। নীচে এই প্রতিবর্ত ক্রিয়ার প্রণালীটি আলোচিত হল— (1) পায়ের নীচের চামড়ায় অবস্থিত গ্রাহক বা রিসেপটর কাঁটা বেঁধার অনুভূতি গ্রহণ করে। (2) এই অনুভূতি গ্রাহক থেকে অন্তর্বাহী নিউরোন মাধ্যমে বাহিত হয়ে সুষুম্নাকাণ্ডে পৌঁছোয়। (3) প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ফলে সংজ্ঞাবহ সংবেদ সুষুম্নাকাণ্ডেই আজ্ঞাবহ সংবেদে রূপান্তরিত হয়। (4) সুষুম্নাকাণ্ড থেকে বহির্বাহী নিউরোনের মাধ্যমে কারক বা ইফেকটরে, অর্থাৎ পায়ের পেশিতে বার্তা পৌঁছোয়। (5) এর ফলে পায়ের পেশি সংকুচিত হয় এবং পা তৎক্ষণাৎ মাটি থেকে উঠে আসে।
প্রশ্ন – 8. প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ কাকে বলে?
একটি সরল প্রতিবর্ত পথের চিহ্নিত চিত্র এঁকে ব্যাখ্যা করো।
অথবা, একটি প্রতিবর্ত চাপের চিত্র এঁকে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো। 1. গ্রাহক, 2. সংজ্ঞাবহ স্নায়ু, 3. স্নায়ুকেন্দ্র, 4. চেষ্টীয় স্থায়ী।
উত্তর – প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ: যে নির্দিষ্ট স্নায়ুপথে স্নায়ুস্পন্দন আবর্তনের দ্বারা প্রতিবর্ত ক্রিয়া সংঘটিত হয়, সেই স্নায়ুপথটিকে প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ বলে। প্রতিবর্ত পথটি একটি রেখাচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হল।
প্রতিবর্ত পথের অংশ ও তার কাজ: প্রতিবর্ত পথের পাঁচটি অংশ। নীচে এদের সম্পর্কে আলোচনা করা হল।
  1. গ্রাহক: এর মাধ্যমে পরিবেশ থেকে আগত উদ্দীপনা গৃহীত হয় এবং স্নায়বিক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
  2. অন্তর্বাহী নিউরোন: এর মাধ্যমে উদ্দীপনা গ্রাহক থেকে স্নায়ুকেন্দ্রে পৌঁছোয়।
  3. স্নায়ুকেন্দ্র : এটি সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর বস্তুতে অবস্থিত। এখানে সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা চেষ্টীয় উদ্দীপনায় রূপান্তরিত হয়।
  4. বহির্বাহী নিউরোন : এটি মোটর নিউরোন দিয়ে গঠিত। এর মাধ্যমে চেষ্টীয় উদ্দীপনা কারকে বাহিত হয়।
  5. কারক: পেশি, গ্রন্থি ইত্যাদি হল কারক। এরা উদ্দীপনার প্রভাবে উদ্দীপিত হলে সাড়া দেয়।
প্রশ্ন – 9. নানাপ্রকার প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ ও প্রকৃতি লেখো।
উত্তর – প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ ও প্রকৃতি: নানাপ্রকার প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ ও তাদের প্রকৃতি নীচে সারণির সাহায্যে উল্লেখ করা হল।
প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ প্রকৃতি
1. উজ্জ্বল আলোতে চোখ বুজে ফেলা, জন্মের পরে শিশুর স্তন্যপানের ইচ্ছা, খাদ্যগ্রহণে লালা ক্ষরণ, হাঁটুতে আঘাত করলে হাঁটুর ঝাঁকুনি দিয়ে সামনে সরে যাওয়া, মল-মূত্রের বেগ অনুভব, হাঁচি, বমি, কাশি, পায়ে পিন বিঁধলে তৎক্ষণাৎ পা সরানো, আগুনে ছ্যাঁকা লাগলে তৎক্ষণাৎ হাত বা দেহাংশ সরিয়ে নেওয়া।
সহজাত বা শর্ত নিরপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
2. সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, খাদ্যের দর্শনে, সুগন্ধে বা নাম শুনলে লালা ক্ষরণ, শিশুদের হাঁটতে ও কথা বলতে শেখা, কুকুরের খাদ্যদানের অভ্যাসগত সময়ে ঘণ্টা বাজানোয় লালা ক্ষরণ, স্নানের পর খিদে পাওয়া। অর্জিত বা আহৃত বা শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন – 1. মানুষের স্নায়ুতন্ত্র কয়প্রকার ও কী কী?
উত্তর – মানুষের স্নায়ুতন্ত্র প্রধানত তিনপ্রকার। স্নায়ুতন্ত্রের ভাগগুলি হল—কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র।
প্রশ্ন – 2. মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান গঠনগত পার্থক্য কী?
উত্তর – মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান গঠনগত পার্থক্য হল—মেরুদণ্ডী প্রাণীর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ফাঁপা এবং অমেরুদণ্ডী প্রাণীর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র নিরেট।
প্রশ্ন – 3. প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর – মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ড অর্থাৎ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে সারা দেহে বিন্যস্ত সমস্ত স্নায়ুকে একত্রে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র বা পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম বা PNS বলে।
প্রশ্ন – 4. স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর – যে সকল স্নায়ু দেহের আন্তরযন্ত্র, গ্রন্থি এবং অনৈচ্ছিক পেশিতে বিন্যস্ত থেকে তাদের কার্যকারিতাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের একত্রে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র বা অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম বা ANS বলে।
প্রশ্ন – 5. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর – মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ড সহযোগে গঠিত স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা CNS বলে।
প্রশ্ন – 6. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশগুলি লেখো।
উত্তর – মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত। প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র প্রধানত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে সারাদেহে বিন্যস্ত স্নায়ুগুলি নিয়ে গঠিত। মোট 12 জোড়া করোটি স্নায়ু ও 31 জোড়া সুষুম্না স্নায়ু নিয়ে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।
প্রশ্ন – 7. সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর – স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত যে অংশ থোরাসিক ও লাম্বার সুষুম্না-খণ্ডক থেকে উৎপন্ন হয় ও দেহের আন্তরযন্ত্রীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে. তাকে সমবেদী বা সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র বলে।
প্রশ্ন – 8. সমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের দুটি কাজ লেখো।
উত্তর – সমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের দুটি কাজ হল— 1. তারারম্ভের প্রসারণ ঘটানো। 2.  হৃৎস্পন্দন হার বৃদ্ধি করা।
প্রশ্ন – 9. পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর – স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত যে অংশ করোটি ও সুষুম্নাকাণ্ডের স্যাক্রাল অংশ থেকে উৎপন্ন হয় ও দেহের আন্তরযন্ত্রীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে পরাসমবেদী বা প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র বলে।
প্রশ্ন – 10. পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের দুটি কাজ লেখো।
উত্তর – পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের দুটি কাজ হল – 1. তারারম্ভের সংকোচন ঘটানো। 2. হৃৎস্পন্দন হার হ্রাস করা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরাসমবেদী ও সমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের কাজ বিপরীতমুখী হয়ে থাকে।
প্রশ্ন – 11. মস্তিষ্ক কী?
উত্তর – সুষুম্নাকাণ্ডের অগ্রভাগে অবস্থিত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সর্বাপেক্ষা স্ফীত যে অংশটি প্রাণীর বিচারবুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, স্মৃতিশক্তি প্রভৃতি এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে মস্তিষ্ক বলে।
প্রশ্ন – 12. গুরুমস্তিষ্কের দুটি কাজ লেখো।
উত্তর – গুরুমস্তিষ্কের কাজ হল—গুরুমস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স স্মৃতিশক্তি, বিচারবুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, চিন্তাশক্তি প্রভৃতি উন্নত মানসিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 2. দর্শন, স্বাদ, ঘ্রাণ, গরম, ঠান্ডা, স্পর্শ, ব্যথা প্রভৃতির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্ন – 13. সেরিব্রাল কর্টেক্স কী?
উত্তর – সেরিব্রামের মেনিনজেস-এর ঠিক নীচে অবস্থিত ধূসর বর্ণের বহিস্তর যা বুদ্ধি, স্মৃতি, ইন্দ্রিয়কার্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে সেরিব্রাল কর্টেক্স বলে। এটি গুরুমস্তিষ্কের সব থেকে বাইরে উপস্থিত।
প্রশ্ন – 14. করপাস ক্যালোসাম কী ? এর কাজ কী?
উত্তর – করপাস ক্যালোসাম: সেরিব্রাম বা গুরুমস্তিষ্কের ডান এবং বাম গোলার্ধ (সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার) দুটি, একটি অনুপ্রস্থ স্নায়ুতন্তুগুচ্ছ দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে, এই স্নায়ুতন্তুগুচ্ছকেই করপাস ক্যালোসাম বলে।
কাজ: এটি দুটি সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ারের সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ কাজের সমন্বয় ঘটায়।
প্রশ্ন – 15. থ্যালামাস কী?
উত্তর – মানবমস্তিষ্কের তৃতীয় ভেন্ট্রিকূলের দু-পাশে সেরিব্রাম (গুরুমস্তিষ্ক)-এর নীচে এবং মধ্যমস্তিষ্কের ওপরে যে দুটি ধূসর বর্ণের ডিম্বাকার অংশ লক্ষ করা যায়, তাদের থ্যালামাস বলে।
প্রশ্ন – 16. থ্যালামাসের দুটি কাজ লেখো।
উত্তর – থ্যালামাসের দুটি কাজ হল- 1. থ্যালামাস তাপ, চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা, টান, ঠান্ডা-গরম এবং তীব্র বেদনা প্রভৃতি অনুভূতির পুনঃসম্প্রচার স্থান বা রিলে কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 2. নিদ্রা ও জাগরণ নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্ন – 17. হাইপোথ্যালামাস কী ?
উত্তর – মস্তিষ্কের তৃতীয় প্রকোষ্ঠ এবং থ্যালামাসের তলদেশে অবস্থিত অগ্রমস্তিষ্কের যে অংশ ক্ষুধা, তৃয়া, আবেগ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হাইপোথ্যালামাস বলে। এটি থ্যালামাসের নীচে অবস্থিত থাকায়, এই অংশটির এইরূপ নামকরণ হয়েছে।
প্রশ্ন – 18. হাইপোথ্যালামাস-এর দুটি কাজ লেখো।
উত্তর – হাইপোথ্যালামাস-এর দুটি কাজ হল— 1. হাইপোথ্যালামাস খাদ্যগ্রহণ, খিদে, তৃয়া, নিদ্রা, মানসিক উত্তেজনা, সচেতনতা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। 2. এটি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের উচ্চতম কেন্দ্র রূপেও কাজ করে।
প্রশ্ন – 19. মধ্যমস্তিষ্ক কী?
উত্তর – অগ্র ও পশ্চাদ্‌মস্তিষ্কের সংযোগকারী অংশকে মধ্যমস্তিষ্ক বা মেসেনসেফালন বলে। এটি মস্তিষ্কের সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র অঞ্চল। এই অংশটি মিডব্রেন নামেও পরিচিত। এটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত—টেকটাম ও সেরিব্রাল পেডাংকল।
প্রশ্ন – 20. মধ্যমস্তিষ্কের দুটি কাজ লেখো।
উত্তর – মধ্যমস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাজ হল— 1. অগ্রমস্তিষ্ক ও পশ্চামস্তিষ্কের কাজের সমন্বয়সাধন করা। 2. এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা এবং পেশিটান নিয়ন্ত্রণ।
প্রশ্ন – 21. পশ্চাদমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের অবস্থান লেখো।
উত্তর – পশ্চাদমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের অবস্থান হল—
  1. লঘুমস্তিষ্ক: চতুর্থ মস্তিষ্ক নিলয়ের পৃষ্ঠদেশে, গুরুমস্তিষ্কের নীচে অবস্থিত।
  2. পনস্: মধ্যমস্তিষ্কের নীচে চতুর্থ মস্তিষ্ক নিলয়ের অঙ্কদেশে সুষুম্নাশীর্ষকের ওপরে অবস্থিত।
  3. মেডালা অবলংগাটা বা সুষুম্নাশীর্ষক: পনস্-এর নীচে ও সুষুম্নাকাণ্ডের ঠিক ওপরে অবস্থিত।
প্রশ্ন – 22. পনস্ বা সেতুমস্তিষ্ক কী?
উত্তর – পশ্চাদ্‌মস্তিষ্কের যে অংশটি মধ্যমস্তিষ্কের নীচে চতুর্থ মস্তিষ্ক নিলয়ের অঙ্কদেশে এবং মেডালা অবলংগাটার ওপরে অবস্থিত, তাকে পনস্ বা সেতুমস্তিষ্ক বলে। পনস্ একদিকে মধ্যমস্তিষ্ক এবং অন্যদিকে সুষুম্নাশীর্ষকের মধ্যে সেতুর মতো যোগাযোগ স্থাপন করে বলে একে সেতুমস্তিষ্ক বলে।
প্রশ্ন – 23. পনস্-এর দুটি কাজ লেখো।
উত্তর – 1. পনস্ লালাক্ষরণ, মূত্রত্যাগ, শ্বাসকার্য, চোয়াল ও অক্ষিগোলকের বিচলন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
   2. এটি গুরুমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্কের মধ্যে কার্যগত সমন্বয়সাধন করে।
প্রশ্ন – 24. সুষুম্নাশীৰ্ষক বা মেডালা অবলংগাটা কী?
উত্তর – পন্‌স-এর নীচে সুষুম্নাকণ্ডের ওপরে অবস্থিত মস্তিষ্কের সর্বশেষ অংশকে সুষুম্নাশীর্ষক বা মেডালা অবলংগাটা বলা হয়। এই অংশটি সুষুম্নাকাণ্ডের শীর্ষে অবস্থিত বলে এই অংশের এইরূপ নামকরণ হয়েছে।
প্রশ্ন – 25. মেনিনজেস কী ? এর গঠনগত স্তরগুলির নাম বলো। 
উত্তর – মেনিনজেস: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ দুটি (মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড) যে তিনস্তরবিশিষ্ট তন্তুময় আবরক দ্বারা আবৃত থাকে, তাকে মেনিনজেস বলে।
স্তরসমূহ: মেনিনজেস-এর তিনটি স্তর হল—ডুরামেটার, অ্যারাকনয়েড মেটার এবং পিয়ামেটার।
প্রশ্ন – 26. মেনিনজেস ও CSF-এর অবস্থান বিবৃত করো।
উত্তর – মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের বাইরের দিকে তন্তুময় পর্দারূপে মেনিনজেস অবস্থিত।
CSF বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠে, মেনিনজেস-এর সাব-অ্যারাক্রয়েড স্পেস এবং সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালীর ভিতরে অবস্থিত।
প্রশ্ন – 27. মেনিনজেসের কাজ লেখো।
উত্তর – মেনিনজেসের কাজ হল – 1. মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে আঘাত ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। 2. মেনিনজেস করোটি এবং মস্তিষ্কের  গোলার্ধ্বদ্বয়ে রক্ত সরবরাহে সাহায্য করে।
প্রশ্ন – 28. লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম কী?
উত্তর – চতুর্থ মস্তিষ্ক নিলয়ের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত পশ্চামস্তিষ্কের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশকে লঘুমস্তিষ্ক বলা হয়। এই অংশটি দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন – 29. লঘুমস্তিষ্কের দুটি কাজ লেখো।
উত্তর – লঘুমস্তিষ্কের কাজগুলি হল— 1. দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা। 2. দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ঐচ্ছিক সঞ্চালনে সহায়তা করা।
প্রশ্ন – 30. ভারমিস কী? এর কাজ কী?
উত্তর – ভারমিস: দুটি সেরিবেলার হেমিস্ফিয়ার (লঘুমস্তিষ্কের খণ্ডকদ্বয়) যে তন্তুময় যোজক অংশ দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে ভারমিস বলে।
কাজ: এটি দেহের সোজা দেহভঙ্গি (upright posture) বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন – 31. সুষুম্নাকাণ্ড কী?
উত্তর – সুষুম্নাশীর্ষকের পশ্চাদ্ভাগ থেকে শুরু করে প্রথম বা দ্বিতীয় লাম্বার কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত ও CSF পূর্ণ যে ফাঁপা নলাকার স্নায়ুরজ্জু মেরুদণ্ডের দৈর্ঘ্য বরাবর বিস্তৃত থাকে, তাকে সুষুম্নাকাণ্ড বলে। এই অংশটি দেহের প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ করে।
প্রশ্ন – 32. সুষুম্নাকাণ্ডের যে-কোনো দুটি কাজ লেখো।
উত্তর – সুষুম্নাকাণ্ডের দুটি কাজ হল — 1. সুষুম্নাকাণ্ড বিভিন্ন প্রকার প্রতিবর্ত ক্রিয়ার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 2. এটি দেহের প্রায় সমস্ত অংশের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগসূত্র স্থাপন করে।
প্রশ্ন – 33. CSF কাকে বলে? 
উত্তর – মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠে, সাব-অ্যারানয়েড স্থানে, সাব-ডুরাল স্থানে এবং সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালীর মধ্যে যে স্বচ্ছ, স্বল্প ক্ষারীয় পরিবর্তিত কলারস থাকে, তাকে CSF বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড বা মস্তিষ্ক-সুষুম্নারস বলে।
প্রশ্ন – 34. CSF-এর কাজ কী?
উত্তর – CSF-এর প্রধান কাজ হল— 1. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত স্নায়ুকোশসমূহকে পুষ্টি উপাদান এবং অক্সিজেন সরবরাহ করা। 2. কুশনের মতো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করা।
প্রশ্ন – 35. উদাহরণসহ প্রতিবর্ত ক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
অথবা, প্রতিবর্ত ক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তর – কোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনার প্রভাবে প্রাণীদেহের তাৎক্ষণিক, স্বতঃস্ফূর্ত ও অনৈচ্ছিক স্নায়বিক প্রতিক্রিয়াকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। যেমন—চোখে আলো পড়লে আমরা দ্রুত চোখ বুজে ফেলি।
প্রশ্ন – 36. প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর – প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি উদাহরণ হল –
1. দ্রুত চোখের পলক পড়া: তীব্র আলো বা ধুলো-বালি পড়লে আমরা তৎক্ষণাৎ চোখ বুজে ফেলি ও চোখের প্রতিরক্ষা অজান্তেই করে থাকি।
2. হাঁচি: বাইরের ধুলো-বালি, ধোঁয়া, গ্যাস প্রভৃতির সংস্পর্শে এলে আমরা হাঁচি ও দেহের প্রতিরক্ষা করি।
প্রশ্ন – 37. সহজাত বা শর্তনিরপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর – সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া: যেসব প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মগত এবং কোনো শর্তাধীন নয়, তাদের সহজাত বা জন্মগত বা শর্তনিরপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
উদাহরণ : শিশুর জন্মের পর স্তন্যদুগ্ধ পান করা, সুস্বাদু খাদ্যের গন্ধে লালা নিঃসৃত হওয়া ইত্যাদি।
প্রশ্ন – 38. সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি বৈশিষ্ট্য হল— 1. এই প্রতিবর্ত ক্রিয়া শর্ত-নিরপেক্ষ এবং এর জন্য কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। 2. এই প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মগতভাবে বংশপরম্পরায় উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত।
প্রশ্ন – 39. অর্জিত বা শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর – অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া: যেসব প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মগত নয়, কেবল বারবার অভ্যাসের ফলে বা অভিজ্ঞতার দ্বারা অর্জিত হয় এবং যা শর্তসাপেক্ষ, তাদের অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
উদাহরণ : সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো ইত্যাদি।
প্রশ্ন – 40. অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি বৈশিষ্ট্য হল— 1. এই জাতীয় প্রতিবর্ত ক্রিয়া অভ্যাস, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়। 2. চর্চার অভাবে এই প্রতিবর্ত ক্রিয়া পরিবর্তিত হয় বা লোপ পায়।
প্রশ্ন – 41. নিম্নলিখিত ক্রিয়াগুলির মধ্যে কোন্‌গুলি সহজাত বা কোন্‌গুলি অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া তা তালিকাভুক্ত করো। 1. সদ্যজাতের স্তন্যপানের ইচ্ছা, 2. সাইকেল চালানো, 3. হাঁচি, 4. ক্ষিপ্রতার সঙ্গে উইকেট কিপারের বল ধরা।
উত্তর – 1. সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া, 2. অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া, 3. সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া, 4. অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
প্রশ্ন – 42. প্রতিবর্ত চাপ বা প্রতিবর্ত পথের অংশগুলি তীর চিহ্ন দিয়ে দেখাও।
উত্তর – প্রতিবর্ত পথের প্রধানত পাঁচটি অংশ। যথা—গ্রাহক → অন্তর্বাহী স্নায়ু → স্নায়ুকেন্দ্র → বহির্বাহী স্নায়ু → কারক অঙ্গ।
প্রশ্ন – 43. প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় মস্তিষ্কের ভূমিকা কী ?
উত্তর – প্রতিবর্ত ক্রিয়া একটি তাৎক্ষণিক, স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া যা সুষুম্নাকাণ্ডের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি রিফ্লেক্স আর্ক বা প্রতিবর্ত চাপ দ্বারা ঘটে থাকে বলে মস্তিষ্কের সরাসরি কোনো ভূমিকা থাকে না। তবে প্রতিবর্ত ক্রিয়া সংঘটনের উদ্দীপনা পরবর্তী ধাপে মস্তিষ্কে পৌঁছোয় (যেমন—আগুনে হাত পুড়লে আমরা ‘উফ্’ বলে প্রতিক্রিয়া দেখাই)।
প্রশ্ন – 44. সহজাত বা জন্মগত এবং অর্জিত শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর – সহজাত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্যগুলি হল—
বিষয় সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া  অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া
1. প্ৰকৃতি সহজাত বা জন্মগত। ধারাবাহিক অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত।
2. স্থায়িত্ব স্থায়ী। অস্থায়ী।
3. শর্তাধীনতা শর্ত নিরপেক্ষ। শর্তাধীন।
উদাহরণ শিশুর স্তন্যদুগ্ধ পান করা। সাইকেল চালানো।

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো

1. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের স্নায়ুতন্তুতে যা অনুপস্থিত তা হল—
(a) নিউরিলেমা
(b) অ্যাক্সন
(c) অক্ষতন্তু
(d) ধূসর বস্তু
উত্তর – (a) নিউরিলেমা
2. কোন্ প্রাণীটির কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রটি ফাঁপা?
(a) আরশোলার
(b) জোঁকের
(c) মানুষের
(d) হাইড্রার
উত্তর – (c) মানুষের
3. মানবদেহে করোটি স্নায়ুর সংখ্যা সঠিকভাবে নিরূপণ করো।
(a) 10 জোড়া
(b) 31 জোড়া
(c) 12 জোড়া
(d) 21 জোড়া
উত্তর – (c) 12 জোড়া
4. মানুষের সুষুম্নাস্নায়ুর সংখ্যা হল—
(a) 31 জোড়া
(b) 30 জোড়া
(c) 12 জোড়া
(d) 10 জোড়া
উত্তর – (a) 31 জোড়া
5. পরিণত মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় —
(a) 0.36 kg
(b) 1.36 kg
(c) 2.36 kg
(d) 3.36 kg
উত্তর – (b) 1.36 kg
6. মানব-মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল বা প্রকোষ্ঠ সংখ্যা হল —
(a) 2টি
(b) 3টি
(c) 4টি
(d) 5টি
উত্তর – (c) 4টি
7. অগ্রমস্তিষ্কের সর্বাপেক্ষা বড়ো অংশ হল—
(a) সেরিবেলাম
(b) সেরিব্রাম
(c) থ্যালামাস
(d) হাইপোথ্যালামাস
উত্তর – (b) সেরিব্রাম
8. মস্তিষ্কের সবচেয়ে ছোটো অংশ হল—
(a) গুরুমস্তিষ্ক
(b) লঘুমস্তিষ্ক
(c) অক্ষিগোলক
(d) মধ্যমস্তিষ্ক
উত্তর – (d) মধ্যমস্তিষ্ক
9. কোন্‌টি গুরুমস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
(a) স্মৃতি
(b) হৃৎস্পন্দন
(c) অক্ষিপল্লব সঞ্চালন
(d) দেহের ভারসাম্য
উত্তর – (a) স্মৃতি
10. গুরুমস্তিষ্কের দুটি সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ারের যোজক হল—
(a) পনস্
(b) করপাস ক্যালোসাম
(c) ভারমিস
(d) থ্যালামাস
উত্তর – (b) করপাস ক্যালোসাম
11. দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কের যে অংশ নিয়ন্ত্রণ করে তা হল—
(a) হাইপোথ্যালামাস
(b) লঘুমস্তিষ্ক
(c) গুরুমস্তিষ্ক
(d) সুষুম্নাশীৰ্ষক
উত্তর – (c) গুরুমস্তিষ্ক
12. করপাস ক্যালোসাম মস্তিষ্কের কোন অংশে থাকে?
(a) গুরুমস্তিষ্কে
(b) রেখমস্তিষ্কে
(c) মধ্যমস্তিষ্কে
(d) পশ্চাদমস্তিষ্কে
উত্তর – (a) গুরুমস্তিষ্কে
13. দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশ হল—
(a) সুষুম্নাশীর্ষক
(b) থ্যালামাস
(c) লঘুমস্তিষ্ক
(d) গুরুমস্তিষ্ক
উত্তর – (c) লঘুমস্তিষ্ক
14. ‘দৈহিক উয়তা’ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত মানব মস্তিষ্কের অংশটি হল—
(a) থ্যালামাস
(b) লঘুমস্তিষ্ক
(c) হাইপোথ্যালামাস
(d) সুষুম্নাশীৰ্ষক
উত্তর – (c) হাইপোথ্যালামাস
15. রিলে কেন্দ্র বলা হয় –
(a) থ্যালামাসকে
(b) হাইপোথ্যালামাসকে
(c) সেরিব্রামকে
(d) সেরিবেলামকে
উত্তর – (a) থ্যালামাসকে
16. পশ্চামস্তিষ্কের অংশ হল –
(a) পনস্
(b) সেরিবেলাম
(c) সুষুম্নাশীর্ষক
(d) সবগুলি
উত্তর – (d) সবগুলি
17. লঘুমস্তিষ্কের যোজক হল —
(a) পনস্
(b) ভারমিস
(c) করপাস ক্যালোসাম
(d) থ্যালামাস
উত্তর – (b) ভারমিস
18. সুষুম্নাকাণ্ডের নালীটিকে বলে –
(a) অলিন্দ
(b) কেন্দ্রীয় নালী
(c) নিলয়
(d)কোনোটিই নয়
উত্তর – (b) কেন্দ্রীয় নালী
19. সুষুম্নাস্নায়ুর চেষ্টীয় নিউরোন সুষুম্নাকাণ্ডের কোন্ অংশ থেকে নির্গত হয়?
(a) পৃষ্ঠীয় শৃঙ্গ
(b) অঙ্কীয় শৃঙ্গ
(c) পার্শ্বীয় শৃঙ্গ
(d) নিউরোসিল।
উত্তর – (b) অঙ্কীয় শৃঙ্গ
20. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরের আবরণের নাম—
(a) প্লুরা
(b) পেরিকার্ডিয়াম
(c) পেরিটোনিয়াম
(d) মেনিনজেস
উত্তর – (d) মেনিনজেস
21. মেনিন্‌জেসের একেবারে বাইরের স্তরের নাম—
(a) পিয়ামেটার
(b) ডুরামেটার
(c) অ্যারানয়েড মেটার
(d) গ্রে ম্যাটার
উত্তর – (b) ডুরামেটার
22. নীচের যেটি মেনিনজেস-এর অংশ নয়, সেটি হল—
(a) ডুরামেটার *
(b) গ্রে ম্যাটার
(c)  অ্যারায়েড মেটার*
(d) পিয়ামেটার*
উত্তর – (b) গ্রে ম্যাটার
23. ভিতর থেকে বাইরের দিকে বাইরের দিকে মেনিনজেস পর্দার স্তরগুলি হল—
(a) পিয়ামেটার—ডুরামেটার—অ্যারাকনয়েড মেটার
(b) অ্যারাকনয়েড মেটার— পিয়ামেটার—ডুরামেটার
(c) ডুরামেটার—অ্যারাকনয়েড মেটার—পিয়ামেটার
(d) পিয়ামেটার—অ্যারাকনয়েড মেটার—ডুরামেটার
উত্তর – (d) পিয়ামেটার—অ্যারাকনয়েড মেটার—ডুরামেটার
24. সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালীতে যে তরল পদার্থ থাকে, তা হল
(a) লসিকা
(b) সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড
(c) নিউরোহিউমর
(d) সিরাম
উত্তর – (b) সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড
25. একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের পরিমাণ প্রায় —
(a) 100ml
(b) 150ml
(c) 200ml
(d) 250ml
উত্তর – (b) 150ml
26. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে অংশে CSF উপস্থিত, সেটি হল-
(a) মস্তিষ্কের গহ্বর
(b) সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালী
(c) (a) ও (b) উভয়
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (c) (a) ও (b) উভয়
27. প্রতিবর্ত ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রক হল –
(a) মস্তিষ্ক
(b) স্নায়ুগ্রন্থি
(c) নিউরোগ্লিয়া
(d) সুষুম্নাকাণ্ড
উত্তর – (d) সুষুম্নাকাণ্ড
28. সুস্বাদু খাবার দেখে লালাক্ষরণ হল একধরনের –
(a) অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া
(b) সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া
(c) মস্তিষ্কের ক্রিয়া
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (b) সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া
29. নীচের কোনটি শর্তাধীন প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ?
(a) মানুষ দেখে গোল্ডফিশের অ্যাকোয়ারিয়ামের সামনে (খাদ্যের জন্য) চলে আসা
(b) গরম জল থেকে হাত সরিয়ে নেওয়া
(c) শিশুর স্তন্যপান
(d) পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখ থেকে জল পড়া
উত্তর – (a) মানুষ দেখে গোল্ডফিশের অ্যাকোয়ারিয়ামের সামনে (খাদ্যের জন্য) চলে আসা

দু-একটি শব্দে বা বাক্যে উত্তর দাও

1. দুটি কারকের নাম লেখো।
উত্তর – পেশি ও গ্রন্থি।
2. ইনটারনিউরন কোথায় থাকে?
উত্তর – সুষুম্নাকাণ্ডে থাকে ও প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় সাহায্য করে।
3. CNS-এর পুরো কথাটি কী?
উত্তর – সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম।
4. PNS-এর পূর্ণ নাম লেখো।
উত্তর – পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম।
5. ANS-এর সম্পূর্ণ নাম লেখো।
উত্তর – অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেম।
6. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র কী কী অংশ নিয়ে গঠিত? [Rampurhat High School]
উত্তর – মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড।
7. মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড থেকে উৎপন্ন স্নায়ুগুলি নিয়ে কোন প্রকার স্নায়ুতন্ত্র গঠিত হয়?
উত্তর – প্রান্তস্থ বা প্রান্তীয় বা পেরিফেরাল স্নায়ুতন্ত্র।
৪. দেহের বিভিন্ন আন্তরযন্ত্র, অনৈচ্ছিক পেশির ও গ্রন্থির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে কোন প্রকার স্নায়ুতন্ত্র ?
উত্তর – স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র।
9. মানবমস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশগুলি কী কী?
উত্তর – অগ্রমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক এবং পশ্চাদমস্তিষ্ক।
10. মধ্যমস্তিষ্কের প্রধান অংশ দুটি কী কী ?
উত্তর – সেরিব্রাল পেডাংল ও টেকটাম।
11. পশ্চাদমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশগুলি কী কী ?
উত্তর – লঘুমস্তিষ্ক, পনস্ ও মেডালা অবলংগাটা।
12. গুরুমস্তিষ্কের কোথায় ধূসর বস্তু ও শ্বেত বস্তু থাকে?
উত্তর – গুরুমস্তিষ্কের বহির্ভাগে ধূসর বস্তু ও অন্তর্ভাগে শ্বেত বস্তু থাকে।
13. মস্তিষ্কের গহ্বরগুলিকে কী বলে?
উত্তর – ভেন্ট্রিকল বা মস্তিষ্ক নিলয় ।
14. সুষুম্নাকাণ্ডের গহ্বরকে কী বলে?
উত্তর – নিউরোসিল।
15. সালকাস ও জাইরাস কী ?
উত্তর – গুরুমস্তিষ্কের বহির্ভাগে অবস্থিত নীচু খাঁজগুলিকে সালকাস এবং উঁচু ভাঁজগুলিকে জাইরাস বলে।
16. দেহের উয়তা নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
উত্তর –  দেহের উন্নতা বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র হাইপোথ্যালামাস-এ অবস্থিত।
17. হাঁচি, কাশি, বমি নিয়ন্ত্রণকারী পশ্চাদমস্তিষ্কের অংশটি কী ?
উত্তর – মেডালা অবলংগাটা ।
18. সেরিব্রাল পেডাং কী?
উত্তর – মধ্যমস্তিষ্কের যে অংশ থ্যালামাসের সাথে পশ্চাদমস্তিষ্ক ও মধ্যমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের স্নায়বিক উদ্দীপনা প্রেরণের মাধ্যমে সংযোগ রক্ষা করে, তাকে সেরিব্রাল পেডাংকল বলে।
19. সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর বস্তু ও শ্বেত বস্তুর অবস্থান লেখো।
উত্তর – সুষুম্নাকাণ্ডের ভিতর দিকে ধূসর বস্তু ও বাইরের দিকে শ্বেত বস্তু থাকে।
20. কোন বিজ্ঞানী সহজাত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেন?
উত্তর –  বিজ্ঞানী ইভান প্যাভলভ।
21. মেরুদণ্ডী প্রাণীদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের চারপাশে যে রক্ষামূলক আবরণ থাকে তার নাম কী?
উত্তর – মেনিনজেস।
22. মেনিনজেস গঠনকারী স্তরগুলির নাম লেখো।
উত্তর – ডুরামেটার, অ্যারানয়েড মেটার ও পিয়ামেটার।
23. মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের গহ্বরে যে রস থাকে তার নাম কী?
উত্তর –মস্তিষ্ক-সুষুম্না রস বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF)।
24. প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা reflex action কথাটি কোন্ বিজ্ঞানী প্রথম ব্যবহার করেন?
উত্তর – বিজ্ঞানী শেরিংটন।
25. আন্তরযন্ত্রীয় প্রতিবর্ত ক্রিয়ার একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর – পৌষ্টিকনালীর বিচলন।
26. হাঁচি ও কাশি কোন প্রকারের প্রতিবর্ত ক্রিয়া?
উত্তর – সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
27. হাঁটু ঝাঁকুনি (knee jerk) ও সাইকেল চালানো কোন্ ধরনের প্রতিবর্ত ক্রিয়া?
উত্তর – হাঁটু ঝাঁকুনি একটি সহজাত প্রতিবর্ত, সাইকেল চালানো একটি অর্জিত প্রতিবর্তক্রিয়া ।

শূন্যস্থান পূরণ করো

1. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে নির্গত সমস্ত ………… নিয়ে গঠিত হয় প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র।
উত্তর – স্নায়ু
2. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের স্ফীত ও পরিবর্ধিত অগ্রাংশকে ………. বলে।
উত্তর – মস্তিষ্ক
3. মেরুদণ্ডী প্রাণীর মস্তিষ্ক …………. গহবরে অবস্থান করে।
উত্তর – করোটি
4. মস্তিষ্কের সর্ববৃহৎ অংশটির নাম ……….. |
উত্তর – গুরুমস্তিষ্ক
5. গুরুমস্তিষ্কের বহির্দেশের ভাঁজগুলিকে ……….. বলে।
উত্তর – জাইরাস
6. গুরুমস্তিষ্কের পরিধিসংলগ্ন বহির্ভাগকে …………. বলে।
উত্তর – সেরিব্রাল কর্টেক্স
7. মানুষের উচ্চ মানসিক গুণাবলি নিয়ন্ত্রিত হয় ……….. দ্বারা।
উত্তর – গুরুমস্তিষ্ক
৪. লঘুমস্তিষ্কের গোলার্ধদ্বয় ……….. নামক স্নায়ু-যোজক দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
উত্তর – ভারমিস
9. …………… দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
উত্তর – লঘুমস্তিষ্ক
10. …………. থেকে উৎপন্ন সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনাজাত অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়াকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
উত্তর – সুষুম্নাকাণ্ড
11. জন্মলব্ধ প্রতিবর্ত ক্রিয়াগুলি হল ……… প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
উত্তর – সহজাত
12. প্রতিবর্ত ক্রিয়ার স্নায়ুপথকে ………. বলে।
উত্তর – প্রতিবর্ত পথ
13. মানবমস্তিষ্কের তিনস্তরযুক্ত আবরণী স্তরগুলিকে একত্রে ……….. বলে।
উত্তর – মেনিনজেস

SUB-TOPIC 4.3 চোখ—মানুষের জ্ঞানেন্দ্রিয়; উপযোজন; দৃষ্টির ত্রুটি এবং সংশোধন পদ্ধতি

বিষয়সংক্ষেপ

  • চোখ হল মানুষের একটি জ্ঞানেন্দ্রিয়, যা আলোক উদ্দীপনা গ্রহণে ও দর্শনে সাহায্য করে। এটির প্রধান গঠনগত অংশগুলি হল—অক্ষিগোলক, চোখের রক্ষণমূলক অংশ ও অক্ষিপেশি।
  • অক্ষিগোলক মূলত তিনটি স্তর দিয়ে গঠিত। এর একদম বাইরে দুটি তন্তুসমৃদ্ধ স্তর স্ক্লেরা ও অচ্ছোদপটল বা কর্নিয়া থাকে। অক্ষিগোলকের মধ্যস্তরটি রক্তবাহসমৃদ্ধ কৃষ্ণমণ্ডল বা কোরয়েড, সিলিয়ারি বডি ও আইরিস বা কনীনিকা এই তিনটি অংশ নিয়ে নিয়ে গঠিত। অক্ষিগোলকের ভিতরের দিকে থাকে স্নায়বিক অন্তঃস্তর, রেটিনা। এটি রড ও কোন কোশ নিয়ে তৈরি।
  • চোখের ভিতর দ্বি-উত্তল স্থিতিস্থাপক লেন্স থাকে। অক্ষিগোলকে তিনটি প্রকোষ্ঠ থাকে। কর্নিয়া ও আইরিসের মধ্যবর্তী অগ্রপ্রকোষ্ঠ এবং আইরিস ও লেন্সের মধ্যবর্তী পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অ্যাকুয়াস হিউমর নামে স্বচ্ছ তরল উপস্থিত থাকে। লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠে ভিট্রিয়াস হিউমর নামে স্বচ্ছ তরল উপস্থিত থাকে।
  • চোখকে রক্ষা করে এর রক্ষণশীল গঠনগুলি, যেমন—কনজাংটিভা বা নেত্রবত্মকলা, অক্ষিপল্লব ও অশ্রুগ্রন্থি।
  • অক্ষিকোটরের ভিতরে অক্ষিগোলক নানা পেশি দ্বারা যুক্ত থাকে।
  • কিছু প্রাণীদের ক্ষেত্রে দুটি চোখের মাধ্যমে একটি মাত্র প্রতিবিম্ব তৈরি হয়, যেমন— মানুষ, প্যাঁচা, বেড়াল (শিকারি প্রাণী) প্রভৃতি। একে দ্বিনেত্র বা স্টিরিওস্কোপিক দৃষ্টি বলে। পক্ষান্তরে, যেসব প্রাণীরা শিকার হয়, দেখা যায় তাদের দুটি চোখ দিয়ে দুটি আলাদা প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। একে একনেত্র দৃষ্টি বলে।
  • চোখের সিলিয়ারি পেশি ও লেন্সের স্থিতিস্থাপকতার জন্য কোনো বস্তু কাছে বা দূরে থাকলেও দ্রুত চোখ তা নির্ণয় করে ঠিকভাবে দেখতে সাহায্য করে, একে চোখের উপযোজন বা অ্যাকোমোডেশন বলে।
  • অক্ষিগোলকের রেটিনা স্তরের সামনেই প্রতিবিম্ব গঠিত হলে তাকে মায়োপিয়া বলে। এই রোগে দূরের জিনিস দেখতে অসুবিধা হয়। এক্ষেত্রে চশমায় অবতল লেন্স ব্যবহার করতে হয়। উপযোজন ক্ষমতা হ্রাস পেলে চোখে নানা ত্রুটি দেখা দেয়। আবার হাইপারমেট্রোপিয়া বা হাইপেরোপিয়া ও প্রেসবায়োপিয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবিম্ব রেটিনা স্তরের পিছনে তৈরি হয়। ফলে কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা হয়। এক্ষেত্রে চশমায় উত্তল লেন্স ব্যবহার করতে হয়।
  • নানা কারণে চোখের লেন্সের প্রোটিন বিনষ্ট হলে বা তাতে রঙ্গক জমা হলে রেটিনায় অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়ে থাকে। একে ছানি বলে।

বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন – 1. অক্ষিগোলকের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ও কাজ লেখো।
অথবা, মানব চোখের গঠন ও কাজ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর – অক্ষিগোলক: এটি চোখের গোলাকার অংশবিশেষ যা স্বচ্ছ তরল দ্বারা পূর্ণ থাকে। অক্ষিগোলকের দুটি অংশ— (1) আবরক এবং (2) প্রতিসারক মাধ্যম।
  1. আবরক: [i] আবরক তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত—তন্তুময় বহিস্তর, রক্তজালকসমৃদ্ধ মধ্যস্তর ও স্নায়বিক অন্তঃস্তর। [ii] তন্তুময় বহিরাবরকের দুটি অংশ–পিছন দিকের 5/6 অংশকে স্ক্লেরা বলে এবং সামনের দিকের 1/6 অংশকে অচ্ছোদপটল বাঁ কর্নিয়া বলে। স্ক্লেরা অংশটি চোখের আকৃতি বজায় রাখে, অন্যদিকে কর্নিয়া আলোকরশ্মিকে প্রতিসৃত করতে সাহায্য করে। [iii] রক্তজালকসমৃদ্ধ মধ্যস্তরের তিনটি অংশ— অক্ষিগোলকের পশ্চাদ্ভাগে অবস্থিত কোরয়েড বা কৃয়মণ্ডল, যা মেলানিন নামক রঙ্গক পদার্থে পূর্ণ থাকে। এই অংশটি অক্ষিগোলকে প্রবিষ্ট অতিরিক্ত আলো শোষণ করে। [iv] এ ছাড়া, বাকি দুটি অংশ হল সিলিয়ারি বডি এবং আইরিস। অক্ষিগোলকের মধ্যস্তরের যে স্থূল পেশিময় অংশ লেন্সকে নিজের স্থানে ধরে রাখে তাকে সিলিয়ারি বডি বলে। এর সাথে তন্তুময় সাসপেনসরি লিগামেন্ট যুক্ত থাকে। মানব চোখের লেন্সটি বৃত্তাকার, দ্বি-উত্তল ও স্থিতিস্থাপক হয়। আর কর্নিয়ার পিছনে যে বৃত্তাকার কালো পেশিময় রঙ্গকযুক্ত পর্দা থাকে, তাকে আইরিস বলে। আইরিস-এর কেন্দ্রে অবস্থিত গোলাকার ছিদ্রটিকে তারারন্ধ্র বা পিউপিল বলে। আইরিস তারারন্ত্রের ব্যাস ছোটো-বড়ো করে চোখে প্রবিষ্ট আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। [v] স্নায়বিক অন্তঃস্তর স্নায়ুকোশ দ্বারা গঠিত। এই স্তরকে রেটিনা বলে। এটি আলোক গ্রাহক হিসেবে কাজ করে। রেটিনায় বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এটি রড ও কোন নামক দু-প্রকার কোশ দ্বারা গঠিত। রড কোশগুলি মৃদু আলোকসুবেদী এবং কোন কোশগুলি উজ্জ্বল আলোকসুবেদী। [vi] তারারম্ভের বিপরীতে রেটিনার কেন্দ্রে যে ক্ষুদ্র ডিম্বাকার অংশ থাকে তাকে পীতবিন্দু বা ম্যাকুলা লুটিয়া বলে। এই অংশে শুধু কোন কোশ থাকে ও সৃষ্ট প্রতিবিম্ব সর্বাধিক স্পষ্ট হয়। [vii] রেটিনার যে অংশ দিয়ে অপটিক নার্ভ চোখ থেকে বেরিয়ে যায় সেই অংশে রড ও কোন কোশ না থাকায় সেখানে প্রতিবিম্ব গঠিত হওয়া সত্ত্বেও কোনো দৃষ্টি-সংবেদ সৃষ্টি হয় না। এই অংশটিকে অন্ধবিন্দু বা ব্লাইন্ড স্পট বলে।
  2. প্রতিসারক মাধ্যম: [i] চোখের প্রতিসারক মাধ্যমগুলি হল—কর্নিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমর, লেন্স ও ভিট্রিয়াস হিউমর। [ii] কর্নিয়া অক্ষিগোলকের সম্মুখভাগে অবস্থিত উত্তলাকার একটি স্বচ্ছ স্তর বিশেষ। [iii] অক্ষিগোলকে আইরিসের ঠিক পিছনে স্বচ্ছ, স্থিতিস্থাপক উভোত্তল প্রায় বৃত্তাকার একটি লেন্স অবস্থান করে। লেন্সটি সূত্রাকার সাসপেনসরি লিগামেন্ট ও সিলিয়ারি পেশির দ্বারা অক্ষিগোলকের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে। লেন্সের প্রতিসরাঙ্ক খুব বেশি। আলোকরশ্মিকে প্রতিসৃত করে রেটিনাতে ফোকাস করে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করা লেন্সের কাজ।
    [iv] কর্নিয়ার ও আইরিসের মধ্যবর্তী ছোটো অগ্রপ্রকোষ্ঠটি এবং আইরিস ও লেন্সের মধ্যবর্তী পশ্চাদ প্রকোষ্ঠটি অ্যাকুয়াস হিউমর নামক তরল পদার্থে পূর্ণ থাকে। [v] লেন্স এবং রেটিনার মধ্যবর্তী বৃহৎ ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠটি ভিট্রিয়াস হিউমর নামক স্বচ্ছ সান্দ্র তরলে পূর্ণ থাকে। এই দুই তরলের কাজগুলি হল—চোখের আকৃতি বজায় রাখা, পুষ্টিপ্রদান করা এবং আলোর প্রতিসরণে সাহায্য করা।
প্রশ্ন – 2. উপযোজনের সংজ্ঞা ও প্রাত্যহিক জীবনে এর গুরুত্ব উল্লেখ করো।
কাছের ও দূরের বস্তু দেখার সময়ে চোখের উপযোজন কীভাবে হয়? 
উত্তর – উপযোজন: যে বিশেষ প্রক্রিয়ার দ্বারা স্থান পরিবর্তন না করে চক্ষু পেশির সাহায্যে লেন্সের বক্তৃতার পরিবর্তন করে বস্তুর সঠিক দর্শন সম্ভব হয়, তাকে উপযোজন বলে।
প্রাত্যহিক জীবনে উপযোজনের গুরুত্ব: রাস্তাঘাটে পথচারীকে বা গাড়িচালককে কাছের ও দূরের বস্তুকে দেখে দ্রুত সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। রাস্তার নানা বাধা, ট্রাফিক সিগন্যাল প্রভৃতি নজর করার সময় উপযোজনই আমাদের সাহায্য করে থাকে।
কাছের ও দূরের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে উপযোজনের ভূমিকা: কাছের ও দূরের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে উপযোজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলি নীচে আলোচনা করা হল।
কাছের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে কোনো বস্তু চোখের থেকে 6m দূরত্ব পর্যন্ত অবস্থান করলে তাকে কাছের বস্তু হিসেবে গণ্য করা হয়। এক্ষেত্রে উপযোজন নিম্নলিখিতভাবে হয়।
সিলিয়ারি পেশির সংকোচন → লেন্সের বক্রতা বৃদ্ধি → লেন্সের পুরুত্ব বৃদ্ধি হয় → লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য হ্রাস → রেটিনায় বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন।
দূরের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে: কোনো বস্তুর দূরত্ব চোখের থেকে 6m-এর বেশি হলে, তাকে দূরের বস্তু হিসেবে গণ্য করা হয়। এক্ষেত্রে চোখের উপযোজন নিম্নলিখিতভাবে হয়। সিলিয়ারি পেশির শ্লখন লেন্সের বক্তৃতা হ্রাস লেন্সের পুরুত্ব হ্রাস (চ্যাপটা হয়) লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি→রেটিনায় বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন।
প্রশ্ন – 3. মায়োপিয়া বা নিকটবদ্ধ দৃষ্টি সম্পর্কে চিত্রসহ ব্যাখ্যা দাও।
প্রেসবায়োপিয়া সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও। 
উত্তর – মায়োপিয়া বা নিকটবদ্ধ দৃষ্টি: চোখের যে ত্রুটিতে কাছের দৃষ্টি ঠিক থাকে অথচ দূরের দৃষ্টি ব্যাহত হয়, তাকে মায়োপিয়া বলে। এর বৈশিষ্ট্য ও প্রতিকার নীচে আলোচনা করা হল।
বৈশিষ্ট্য: এক্ষেত্রে অক্ষিগোলকের আকৃতি স্বাভাবিকের তুলনায় বড়ো হওয়ায় বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি রেটিনার সামনে প্রতিবিম্ব গঠন করে। ফলে কাছের বস্তু স্পষ্ট, কিন্তু দূরের বস্তু অস্পষ্ট হয়ে যায়।
প্রতিকার: অবতল লেন্সের মাইনাস (-) পাওয়ারযুক্ত চশমার ব্যবহার প্রতিবিম্বকে রেটিনায় সঠিকভাবে ফোকাস করে এবং এই ত্রুটি দূর করতে সাহায্য করে।
প্রেসবায়োপিয়া : 40 বছরের কাছাকাছি বয়সে পৌঁছোলে, বহু মানুষের চোখের লেন্সের সংকোচন-প্রসারণশীলতা কমে যায় এবং তার ফলে চোখের উপযোজন ক্ষমতা কমে যায়। এই ত্রুটিকে প্রেসবায়োপিয়া বলে। এই রোগে প্রতিবিম্ব রেটিনার পিছনে গঠিত হয়।
বৈশিষ্ট্য: এইজাতীয় ত্রুটিতে কাছের বস্তুকে দেখতে বিশেষ করে বই পড়তে অসুবিধা হয়।
প্রতিকার: উত্তল লেন্স যুক্ত (+4.0 ডায়োপ্টার অবধি) চশমা ব্যবহারের দ্বারা এই ত্রুটি দূর করা যায়।
প্রশ্ন – 4. হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরবদ্ধ দৃষ্টি সম্পর্কে চিত্রসহ ধারণা দাও।
ক্যাটারাক্ট সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।
উত্তর – হাইপারমেট্রোপিয়া: চোখের যে ত্রুটিতে দূরের দৃষ্টি ঠিক থাকে অথচ কাছের দৃষ্টি ব্যাহত হয়, তাকে হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরবদ্ধ দৃষ্টি বলে।
বৈশিষ্ট্য: এক্ষেত্রে, অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের তুলনায় ছোটো হয়। এর ফলে বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি রেটিনার পিছনে প্রতিবিম্ব গঠন করে। রেটিনার ওপরে ওই বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না। ফলে দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা গেলেও কাছের বস্তু অস্পষ্ট হয়ে যায়।
প্রতিকার: উত্তল কৃত্রিম লেন্সের প্লাস (+) পাওয়ারযুক্ত চশমার ব্যবহারের মাধ্যমে রেটিনার পিছনে গঠিত প্রতিবিম্বকে সঠিক অবস্থানে আনা যায় এবং এই ত্রুটি দূর করা যায়। ক্যাটারাক্ট: বয়সজনিত কারণে লেন্সের ওপর প্রোটিন জমা হয়ে দৃষ্টি। ঘোলাটে হয়ে গেলে সেই অবস্থাকে ছানি বা ক্যাটারাক্ট বলা হয়। প্রধানত লেন্সের পুষ্টির অভাব হলে লেন্সের স্বচ্ছতা হ্রাস পায় ও লেন্স ঘোলাটে হয়ে যায়। শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে লেন্স প্রতিস্থাপন করলে সমস্যার সমাধান করা যায়। বর্তমানে ফেকোইমালসিফিকেশন পদ্ধতিতে লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়।
প্রশ্ন – 5. মানবচোখের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।
অথবা, মানুষের চোখের অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদ-এর একটি পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো। (1) কর্নিয়া, (2) লেন্স, (3) ভিট্রিয়াস হিউমর, (4) রেটিনা
উত্তর – মানবচোখের চিহ্নিত চিত্র
প্রশ্ন – 6. পার্থক্য লেখো-রড কোশ ও কোন কোশ।
উত্তর – রড কৌশ ও কোন কোশের পার্থক্য
বিষয় রড কৌশ কোন কোশ
1. গঠন চোখের রেটিনা স্তরে অবস্থিত দণ্ডাকৃতি আলোক সংবেদী কোশ। চোখের রেটিনা স্তরে বিন্যস্ত শঙ্কু আকৃতির আলোক সংবেদী কোশ।
2. রঙ্গক রড কোশে রোডপ্‌সিন নামক রঙ্গক থাকে। কোন কোশে আয়োডপসিন নামক রঙ্গক থাকে।
3. অবস্থান সাধারণত রেটিনার পরিধিতে অবস্থিত। সাধারণত রেটিনার কেন্দ্রের দিকে বিন্যস্ত থাকে।
4. সংখ্যা রড কোশের সংখ্যা রেটিনাতে অনেক বেশি (12.5 কোটি)। কোন কোশের সংখ্যা রেটিনাতে অনেক কম (70 লক্ষ)।
5. কাজ মৃদু আলোতে দেখতে সহায়তা করে, বর্ণ নিরূপণে ভূমিকা নেই। উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে। বর্ণ নিরূপণে ভূমিকা রয়েছে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন – 1. জ্ঞানেন্দ্রিয় কাকে বলে?
উত্তর – বিশেষ ধরনের কিছু গ্রাহক অঙ্গ পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রেরণ করে, এদের জ্ঞানেন্দ্রিয় বলা হয় । যেমন—চোখ, কান ইত্যাদি।
প্রশ্ন – 2. মানুষের চোখের প্রধান অংশগুলি কী কী ?
উত্তর – চোখের প্রধান অংশগুলি হল—অক্ষিগোলক (আবরক ও প্রতিসারক মাধ্যম), রক্ষণমূলক অংশ ও অক্ষিপেশি।
প্রশ্ন – 3. স্ক্লেরা কী ? এর কাজ লেখো।
উত্তর – স্ক্লেরা: অক্ষিগোলকের বাইরের তন্তুময় আবরণটিকে ফাইব্রাস কোট বলে। এর পিছন দিকের 5/6 অংশকে শ্বেতমণ্ডল বা স্ক্লেরা বলে। এই স্তরটি সাদা বর্ণের কোলাজেন তন্তু দ্বারা গঠিত।
কাজ: এটি অক্ষিগোলককে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং চোখের অন্যান্য স্তরকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন – 4. কর্নিয়া কী ? এর কাজ লেখো।
উত্তর – কর্নিয়া: কর্নিয়া হল অক্ষিগোলকের সম্মুখভাগে বিন্যস্ত ও তন্তুময় বহিঃস্তরের 1/6 অংশ। এটি একটি উত্তল স্বচ্ছ প্রতিসারক স্তর।
কাজ: কর্নিয়া অক্ষিগোলকে আলো প্রবেশের প্রথম প্রতিসারক মাধ্যমরূপে কাজ করে। প্রকৃতপক্ষে এটি আলোকরশ্মিকে প্রতিসৃত করে লেন্সে কেন্দ্রীভূত করে।
প্রশ্ন – 5. আইরিস বা কনীনিকা কী ? এর কাজ কী?
উত্তর – আইরিস বা কনীনিকা: লেন্সের সামনে ও কর্নিয়ার ঠিক পিছনে অবস্থিত বৃত্তাকার রঙ্গকযুক্ত গঠনকে আইরিস বলে।
কাজ : গোলাকার আইরিস, পেশি সংকোচনের দ্বারা তারারন্ধ্রকে ছোটো ও বড়ো করে। ফলে চোখে আলোর প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত হয়।
প্রশ্ন – 6. কোরয়েড বা কৃষ্ণমণ্ডল বলতে কী বোঝ ? এর কাজ কী?
উত্তর – কৃমণ্ডল: অক্ষিগোলকের তিনস্তরবিশিষ্ট প্রাচীরে মধ্যভাগের মেলানিন সমৃদ্ধ স্তরটি হল কোরয়েড বা কৃষ্ণমণ্ডল।
কাজ : কোরয়েডের কাজ হল চোখের আবরণী স্তরগুলির পুষ্টি জোগানো এবং অক্ষিগোলকের ভিতরে আলোর প্রতিফলনে বাধা দেওয়া ও অবাঞ্ছিত আলোকে শোষণ করা।
প্রশ্ন – 7. রেটিনা কোথায় অবস্থিত এবং এর কাজ কী?
উত্তর – অবস্থান : রেটিনা অক্ষিগোলকের পশ্চাদভাগে অবস্থিত।
কাজ: রেটিনা বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন করে এবং গঠিত প্রতিবিম্বকে স্নায়ু উদ্দীপনায় পরিবর্তিত করে অপটিক স্নায়ুতে প্রেরণ করে।
প্রশ্ন – 8. রেটিনায় কী কী গ্রাহক কোশ থাকে? এদের কাজ উল্লেখ করো।
উত্তর – রেটিনায় উপস্থিত গ্রাহক কোশ : রেটিনায় গ্রাহক কোশরূপে রড কোশ ও কোন কোশ থাকে।
কাজ : রড কোশ মৃদু আলো শোষণ করে এবং কোন কোশ উজ্জ্বল রঙীন আলো শোষণ করে। উভয়েই দৃষ্টি সংবেদ উৎপাদন করে।
প্রশ্ন – 9. পীতবিন্দু বা ম্যাকুলা লুটিয়া কাকে বলে? এর কাজ উল্লেখ করো।
উত্তর – পীতবিন্দু বা ম্যাকুলা লুটিয়া: চোখে পিউপিল বা তারারষ্ট্রের বিপরীত দিকে রেটিনার ওপরে অবস্থিত যে হালকা হলদে বর্ণের বিন্দুতে বস্তুর প্রতিবিম্ব সর্বাপেক্ষা সুস্পষ্টভাবে গঠিত হয়, তাকে পীতবিন্দু বা ম্যাকুলা লুটিয়া বলে।
কাজ: পীতবিন্দু রেটিনার সর্বাধিক আলোকসুবেদী অংশ। এখানে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
প্রশ্ন – 10. ফোভিয়া সেন্ট্রালিস কী ? এর গুরুত্ব কী ?
উত্তর – ফোডিয়া সেন্ট্রালিস: তারারন্ধ্রের বিপরীতে রেটিনাতে পীতবিন্দুর কেন্দ্রে যে সামান্য অবতল স্থানে কেবলমাত্র কোন কোশ থাকে, সেই স্থানকে ফোভিয়া সেন্ট্রালিস বলে।
গুরুত্ব: গাড়ি চালানো, পড়াশুনোর সময় প্রখর দৃষ্টি এই অঞ্চলেই তৈরি হয়।
প্রশ্ন – 11. অন্ধবিন্দু বা ব্লাইন্ড স্পট কাকে বলে?
উত্তর – রেটিনার যে স্থানে সমস্ত নার্ভগুলি গুচ্ছাকারে অপটিক স্নায়ুরূপে নির্গত হয়, সেইস্থানে কোনো আলোকসুবেদী কোশ না থাকায় প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না। এই স্থানটিকে অন্ধবিন্দু (blind spot) বলে। এর অপর নাম অপটিক ডিস্ক।
প্রশ্ন – 12. চক্ষুর লেন্স অংশের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও ও কাজ লেখো। 
উত্তর – বিবরণ: চোখের লেন্সটি আইরিসের পিছনে অবস্থিত, স্থিতিস্থাপক ও দ্বি-উত্তল। এটি সাস্পেনসরি লিগামেন্টের সাহায্যে চোখের পিউপিলের পিছনে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে।
কাজ: চোখের লেন্স আলোর প্রতিসরণ ঘটিয়ে রেটিনাতে প্রতিবিম্ব গঠন করতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন – 13. অক্ষিগোলকের বিভিন্ন প্রতিসারক মাধ্যমগুলির নাম ক্রমানুসারে লেখো।
অথবা, চোখের প্রতিসারক মাধ্যমগুলির নাম লেখো।
উত্তর – অক্ষিগোলকের বাইরে থেকে ভিতরের দিকে বিভিন্ন প্রতিসারক মাধ্যমগুলি হল—কর্নিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমর, লেন্স ও ভিট্রিয়াস হিউমর বা ভিট্রিয়াস বডি।
প্রশ্ন – 14. অ্যাকুয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী?
উত্তর – অ্যাকুয়াস হিউমর: লেন্স এবং কর্নিয়ার মাঝখানে অবস্থিত গহ্বরটি যে জলীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে, তাকে অ্যাকুয়াস হিউমর বলে।
কাজ : এটি আলোর প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং চোখের বিভিন্ন অংশের পরিপোষকরূপে কাজ করে।
প্রশ্ন – 15. ভিট্রিয়াস হিউমর কাকে বলে? এর কাজ কী?
উত্তর – ভিট্রিয়াস হিউমর: লেন্সের ঠিক পশ্চাৎ অংশে অবস্থিত গহ্বরটি যে স্বচ্ছ, সান্দ্র পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে তাকে ভিট্রিয়াস হিউমর বা ভিট্রিয়াস বডি বলে।
কাজ : এটি আলোর প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং অক্ষিগোলকের আকৃতি ও চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রশ্ন – 16. চোখের আনুষঙ্গিক অংশগুলি কী কী?
উত্তর – চোখের আনুষঙ্গিক অংশগুলি হল—অক্ষিকোটর, অক্ষিপেশি, অক্ষিপল্লব, অক্ষিপক্ষ, কনজাংটিভা ও অশ্রুগ্রন্থি বা ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি।
প্রশ্ন – 17. অক্ষিপেশি বা চক্ষুপেশি কাকে বলে ?
উত্তর – বিভিন্ন অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা অক্ষিগোলক অক্ষিকোটরের প্রাচীরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাদের অক্ষিপেশি বা চক্ষুপেশি বলে। যেমন—রেকটাস পেশি।
প্রশ্ন – 18. চক্ষুর রক্ষণমূলক অংশগুলি কী কী? এদের মধ্যে কোন্‌টি অক্ষিগোলকের সাথে যুক্ত ?
উত্তর – চক্ষুর রক্ষণমূলক অংশগুলি হল—কনজাংটিভা বা নেত্রবর্ত্রকলা, অক্ষিপল্লব ও অশ্রুগ্রন্থি।
নেত্রবত্মকলা অক্ষিগোলকের সাথে যুক্ত থাকে।
প্রশ্ন – 19. অশ্রুগ্রন্থির অবস্থান উল্লেখ করো।
উত্তর – প্রতিটি চোখের ওপরের দিকে এবং ঊর্ধ্ব নেত্রপল্লবের নীচে অশ্রুগ্রন্থি অবস্থিত। অশ্রুগ্রন্থি থেকে বেরিয়ে আসা সূক্ষ্ম নালী দিয়ে অক্ষিগোলকের ওপর অশ্রু ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন – 20. অশ্রুর কাজগুলি লেখো।
উত্তর – অশ্রুর কাজগুলি হল— (1) অক্ষিগোলক সিক্ত রাখা এবং তার চলন স্বাভাবিক রাখে। (2) অক্ষিগোলকের উন্মুক্ত অংশকে ধুলোবালি থেকে মুক্ত রাখে। (3) লাইসোজাইম উৎসেচক ও অ্যান্টিবডি দ্বারা জীবাণু নাশ করে।
প্রশ্ন – 21.  অশ্রুগ্রন্থির ক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেলে কী ঘটবে?
উত্তর – অশ্রুগ্রন্থি থেকে অশ্রু ক্ষরিত হয়। চোখকে আর্দ্র রাখা অশ্রুর প্রধান কাজ। অক্ষিগোলকের উপরিভাগে ধুলোবালি পড়লে অশ্রু সঙ্গে সঙ্গে তা ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়। এ ছাড়াও অশ্রু জীবাণুনাশক হিসেবেও কাজ করে। অশ্রুগ্রন্থির ক্ষরণ হঠাৎ বন্ধ হলে উপরিলিখিত কাজগুলি বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রশ্ন – 22. নেত্ৰবৰ্ত্মকলা (কনজাংটিভা)-র অবস্থান ও কাজ লেখো।
উত্তর – কর্নিয়ার বাইরে স্বচ্ছ পাতলা পর্দা নেত্রবর্ত্রকলা বা কনজাংটিভা অবস্থিত।
কনজাংটিভা কর্নিয়াকে ধুলোবালির হাত থেকে ও ঘর্ষণজনিত আঘাত থেকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন – 23. উপযোজন কাকে বলে?
উত্তর – যে বিশেষ প্রক্রিয়ার দ্বারা স্থান পরিবর্তন না করে চক্ষু পেশির সাহায্যে লেন্সের বক্তৃতার পরিবর্তন করে বস্তুর সঠিক দর্শন সম্ভব হয়, তাকে উপযোজন বলে।
প্রশ্ন – 24. উপযোজন বা অ্যাকোমোডেশন কেন দরকারি?
উত্তর – (1) বাস্তবে নানা বাধা, ট্রাফিক সিগনাল, পথনির্দেশ নানা দূরত্বে থাকে, তাকে ঠিকমতো দেখে চলাচল বা গাড়ি চালানোয় উপযোজন অত্যন্ত দরকারি। (2) শ্রেণিকক্ষে বোর্ড বা শিক্ষকের দিকে তাকিয়ে (দূরবস্তু) খাতায় লিখতে (নিকটবস্তু) উপযোজন প্রয়োজনীয়।
প্রশ্ন – 25. একনেত্র দৃষ্টি কাকে বলে? কোন্ কোন্ প্রাণীর দৃষ্টি এই প্রকারের হয়?
উত্তর – একনেত্র দৃষ্টি: একই সঙ্গে দুটি চোখে দুটি পৃথক বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হলে, অর্থাৎ দুটি চোখে দুটি আলাদা বস্তুকে দেখা গেলে, সেই ধরনের দৃষ্টিকে একনেত্র দৃষ্টি বলে।
উদাহরণ : ব্যাং, মাছ, গোরু প্রভৃতি প্রাণীর দৃষ্টি।
প্রশ্ন – 26. দ্বিনেত্র দৃষ্টি কাকে বলে? কোন্ প্রাণীদের তা দেখা যায় ? 
উত্তর – দ্বিনেত্র দৃষ্টি:একই সঙ্গে দুটি চোখে একই বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হলে, অর্থাৎ দুটি চোখের সাহায্যে একই বস্তুকে সুস্পষ্টভাবে দেখা গেলে, সেই ধরনের দৃষ্টিকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে।
উদাহরণ : মানুষ, বানর, বাঘ, প্যাঁচা প্রভৃতি প্রাণীর দৃষ্টি।
প্রশ্ন – 27. ‘একনেত্র দৃষ্টি শিকার হওয়া প্রাণীতে ও দ্বিনেত্র দৃষ্টি শিকারি প্রাণীতে দেখা যায়’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর – একনেত্র দৃষ্টি বৃহত্তর দৃষ্টিক্ষেত্র দেখতে সাহায্য করে, তাই শিকারি প্রাণীর উপস্থিতি বুঝতে তা সাহায্য করে। এজন্য শিকার হওয়া প্রাণীতে (prey) যেমন—গোরু, ছাগল, হরিণ, পায়রা, খরগোশ, মহিষ প্রভৃতিতে একনেত্র দৃষ্টি দেখা যায়। পক্ষান্তরে, দ্বিনেত্র দৃষ্টিতে দৃষ্টিক্ষেত্র কম হলেও তা তীক্ষ্ণ ও গভীরতা (স্টিরিয়পসিস) বুঝতে সাহায্য করে। তাই তা সচরাচর শিকারি প্রাণী (predator) যেমন—ইগল, সাপ, নেকড়ে, বাঘ, সিংহ প্রভৃতি প্রাণীতে দ্বিনেত্র দৃষ্টি দেখা যায়।
প্রশ্ন – 28. চোখের কোন্ কোন্ দৃষ্টিজনিত ত্রুটি সংশোধনের জন্য অবতল লেন্সযুক্ত এবং উত্তল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়?
উত্তর – অবতল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করে মায়োপিয়া নামক চোখের দৃষ্টিজনিত ত্রুটি এবং উত্তল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করে হাইপারমেট্রোপিয়া এবং প্রেসবায়োপিয়া নামক চোখের দৃষ্টিজনিত ত্রুটিগুলি সংশোধন করা হয়।
প্রশ্ন – 29. মায়োপিয়া কী? কীভাবে এর সংশোধন সম্ভব ?
উত্তর – মায়োপিয়া : চোখের যে ত্রুটির কারণে নিকটের দৃষ্টি ঠিক থাকলেও দূরের দৃষ্টি ব্যাহত হয়, তাকে মায়োপিয়া বলে। এক্ষেত্রে, অক্ষিগোলকের আকার বড় হওয়ায় বা লেন্সের ত্রুটির জন্য দূরবর্তী বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি রেটিনার সামনে প্রতিবিম্ব গঠন করে। ফলে দূরদৃষ্টি অস্পষ্ট হয়।
সংশোধন : অবতল লেন্সযুক্ত চশমা বা অবতল কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করে মায়োপিয়ার সংশোধন সম্ভব।
প্রশ্ন – 30. হাইপারমেট্রোপিয়া কাকে বলে? এটি কীভাবে সংশোধন করা যায়?
উত্তর – হাইপারমেট্রোপিয়া: চোখের যে ত্রুটির জন্য দূরের দৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও কাছের দৃষ্টি ব্যাহত হয়, তাকে হাইপারমেট্রোপিয়া বলে। এক্ষেত্রে অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের তুলনায় ছোটো হওয়ায় বা লেন্সের ত্রুটির জন্য রেটিনার পশ্চাতে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
সংশোধন: উত্তল লেন্সযুক্ত চশমা বা উত্তল কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করে হাইপারমেট্রোপিয়া সংশোধন করা যায়।
প্রশ্ন – 31. প্রেসবায়োপিয়া কাকে বলে? এটি কীভাবে সংশোধন করা সম্ভব?
উত্তর – প্রেসবায়োপিয়া: বয়সজনিত কারণে চোখের উপযোজন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় যে রোগে নিকটের দৃষ্টি ব্যাহত হয়, তাকে প্রেসবায়োপিয়া বলা হয়। সাধারণত 40-45 বছর বয়সে এই ত্রুটি ধরা পড়ে।
সংশোধন: উত্তল লেন্সযুক্ত চশমা বা উত্তল প্রকৃতির কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করে প্রেসবায়োপিয়া সংশোধন করা যায়।
প্রশ্ন – 32. চল্লিশ বছরের বেশি বয়সি লোকেদের লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে গেলে কোন্ ধরনের লেন্স ব্যবহার করতে হয়?
উত্তর – (1) এটি প্রেসবায়োপিয়া, যার জন্য উত্তল লেন্স (‘+’ ডায়োপ্টার পাওয়ার) চশমায় ব্যবহৃত হয়। (2) ব্যক্তির একই সঙ্গে মায়োপিয়া থাকলে ওই একই চশমার লেন্সে অবতল অংশও রাখা হয়। অর্থাৎ, এইক্ষেত্রে বাইফোকাল লেন্স (‘+’ ও ‘-’ পাওয়ার যুক্ত) ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন – 33. তোমার কাকার ছোটোবেলায় মায়োপিয়া সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীকালে প্রায় 41 বছর বয়সে তাঁর বই পড়ার সময়ও অসুবিধা দেখা দিল। তিনি কোন্ ধরনের লেন্স চশমায় ব্যবহার করবেন?
উত্তর – কাকার মায়োপিয়া থাকায় অবতল (‘-’ পাওয়ার) লেন্স-এর সঙ্গে প্রেসবায়োপিয়ার জন্য উত্তল (‘+’ পাওয়ার) লেন্স ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ, তাঁকে দুই ধরনের পাওয়ারযুক্ত বাইফোকাল লেন্স (লেন্সের উপরের দিকে মাইনাস ও নিচের দিকে গ্লাস পাওয়ার) ব্যবহার করতে হবে।
প্রশ্ন – 34. ডায়োপ্টার (dioptre) কী ? এর গুরুত্ব কী?
উত্তর – ডায়োপ্টার: চোখের লেন্সের পাওয়ার যে একক দ্বারা পরিমাপ করা হয়, তাকে ডায়োপ্টার বলে।
1 ডায়োপ্টার হল মিটারে ফোকাস দৈর্ঘ্যের ব্যাস্তানুপাতের সমান।
গুরুত্ব: চশমার উত্তল লেন্স ব্যবহৃত হলে তা ধনাত্মক ডায়োপ্টার (+ পাওয়ার) যুক্ত হয়। চশমার উত্তল লেন্স ব্যবহৃত হলে তা ঋণাত্মক ডায়োপ্টার (- পাওয়ার) যুক্ত হয়।
প্রশ্ন – 35. ছানি বা ক্যাটারাক্ট (cataract) কী?
উত্তর – অনেক সময় মানুষের চোখের লেন্সের ওপর অস্বচ্ছ ঘোলাটে পর্দা সৃষ্টি হলে মানুষের দৃষ্টিকে ব্যাহত করে, সেই ঘোলাটে পর্দাকে ছানি বা ক্যাটারাক্ট বলে। সাধারণত বেশি বয়সে চোখে ছানি দেখা যায়।
প্রশ্ন – 36. ছানি সৃষ্টির কারণ কী?
উত্তর – বয়সজনিত কারণে লেন্সের ক্ষতি, অতিবেগুনি বা X রশ্মির সংস্পর্শে, ধূমপান, ডায়াবেটিস, চোখের শল্য চিকিৎসার পরবর্তী সময়ে ছানি তৈরি হয়।
প্রশ্ন – 37. চোখের ছানি সমস্যার লক্ষণগুলি লেখো।
উত্তর – চোখের ছানি সমস্যার লক্ষণগুলি হল আবছা দৃষ্টি, আলোর চারিপাশে আলোর আভা দেখা, রাতে দেখতে অসুবিধা, উচ্চ আলোতে দেখতে অসুবিধা, রং অস্পষ্ট দেখা প্রভৃতি।
প্রশ্ন – 38.চোখের ছানি কীভাবে ঠিক করা সম্ভব?
উত্তর – বর্তমানে ফেকোইমালসিফিকেশন পদ্ধতিতে শল্য চিকিৎসার দ্বারা ছানি সমস্যা সমাধান করা হয়। এক্ষেত্রে কর্নিয়াতে ছিদ্র করে আল্ট্রাসনিক যন্ত্র
(প্রোব) প্রবেশ করিয়ে পুরোনো বিনষ্ট লেন্স ভাঙ্গা হয় ও তা সাকশন পদ্ধতিতে বের করে দেওয়া হয়। পরে ওই স্থানে কৃত্রিম লেন্স বসিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশ্ন – 39. পীতবিন্দু এবং অন্ধবিন্দুর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর – পীতবিন্দু এবং অন্ধবিন্দুর মধ্যে পার্থক্যগুলি হল—
বিষয় পীতবিন্দু অন্ধবিন্দু
1. অবস্থান তারারন্ধ্রের বিপরীত দিকে রেটিনার অবতল অংশ বিশেষ। রেটিনার যে অঞ্চল থেকে অপটিক স্নায়ু নির্গত হয় সেই অংশটিকে বলে অন্ধবিন্দু।
2. গঠনগত বৈশিষ্ট্য কোন কোশ দ্বারা গঠিত অংশ। আলোকসুবেদী কোশ থাকে না।
3. বৈশিষ্ট্য বস্তুর উত্তর প্রতিবিম্ব রি হয়। প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না।
প্রশ্ন – 40. অ্যাকুয়াস হিউমর ও ভিট্রিয়াস হিউমরের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর – অ্যাকুয়াস ও ভিট্রিয়াস হিউমরের মধ্যে পার্থক্যগুলি হল—
বিষয় অ্যাকুয়াস হিউমর ভিট্রিয়াস হিউমর
1. অবস্থান অক্ষিগোলকের অগ্র প্রকোষ্ঠের তরল। অক্ষিগোলকের পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠের তরল।
2. গঠনগত বৈশিষ্ট্য জলীয় তরল। সান্দ্র (ঘন) তরল।
3. কাজ কর্নিয়া ও লেন্সকে পুষ্টি জোগায় ও প্রতিসারক মাধ্যমরূপে কাজ করে। প্রতিসারক মাধ্যমরূপে কাজ করে ও চোখের আকৃতি বজায় রাখে।

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো

1. চক্ষুর স্বচ্ছ বহিরাবরণ অংশটি হল—
(a) কর্নিয়া
(b) স্ক্লেরা
(c) কোরয়েড
(d) রেটিনা
উত্তর – কর্নিয়া
2. কোন্‌টি চোখের প্রতিসারক মাধ্যম নয়?
(a) লেন্স
(b) কর্নিয়া
(c) স্ক্লেরা
(d) অ্যাকুয়াস হিউমর
উত্তর – (c) স্ক্লেরা
3. চোখের রং নীল, কালো বা খয়েরি হয় যে অংশটির বর্ণের জন্য, তা হল—
(a) কর্নিয়া
(b) আইরিস
(c) লেন্স
(d) কোরয়েড
উত্তর – (d) কোরয়েড
4. যে ছিদ্রের মাধ্যমে চোখে আলো প্রবেশ করে, সেটি হল—
(a) তারারন্ধ্র
(b) কর্নিয়া
(c) কোরয়েড
(d) ককলিয়া
উত্তর – (a) তারারন্ধ্র
5. চোখের স্নায়ুস্তরটি হল—
(a) স্ক্লেরা
(b) কোরয়েড
(c) রেটিনা
(d) কর্নিয়া
উত্তর – (b) কোরয়েড
6. দর্শনের উৎকৃষ্টতম অঞ্চলটি হল –
(a) লেন্স
(b) কর্নিয়া
(c) ফোভিয়া সেন্ট্রালিস
(d) অপটিক ডিস্ক
উত্তর – (c) ফোভিয়া সেন্ট্রালিস
7. অক্ষিপটের রড কোশ ও কোন কোশবিহীন অঞ্চলটি হল—
(a) ব্ল্যাক স্পট
(b) ইয়েলো স্পট
(c) ফোভিয়া
(d) ব্লাইন্ড স্পট
উত্তর – (d) ব্লাইন্ড স্পট
৪. রেটিনা ও অপটিক স্নায়ুর সংযোগস্থলকে বলে—
(a) পীতবিন্দু
(b) কোরয়েড
(c) চক্ষুবিন্দু
(d) অন্ধবিন্দু
উত্তর – (d) অন্ধবিন্দু
9. পীতবিন্দু হলদে হয় যে রঙ্গকের উপস্থিতির জন্য-
(a) রোডপসিন
(b) আয়োডপসিন
(c) লিউটিন ও জিয়াজ্যানথিন
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (c) লিউটিন ও জিয়াজ্যানথিন
10. রোডপসিন থাকে—
(a) কোন কোশে
(b) রড কোশে
(c) দেহকোশে
(d) বাহক কোশে
উত্তর – (b) রড কোশে
11. মৃদু আলোতে দেখতে সাহায্য করে—
(a) কোন কোশ
(b) রড কোশ
(c) ধারক কোশ
(d) বাহক কোশ
উত্তর – (b) রড কোশ
12. দর্শন অনুভূতি গ্রহণ করে যে স্নায়ু, তা হল—
(a) অলফ্যাকটরি
(b) অডিটরি
(c) অপটিক
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (c) অপটিক
13. আলোক প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে—
(a) রেটিনা
(b) লেন্স
(c) আইরিস
(d) কোরয়েড
উত্তর – (b) লেন্স
14. মানুষের চোখের লেন্সের আকৃতি হল –
(a) অবতল
(b) উত্তল
(c) দ্বি-উত্তল
(d) দ্বি-অবতল
উত্তর – (c) দ্বি-উত্তল
15. মানব চক্ষুতে বর্তমান প্রতিস্থাপনযোগ্য তরল হল —
(a) অ্যাকুয়াস হিউমর
(b) ভিট্রিয়াস হিউমর
(c) উভয়ই
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (a) অ্যাকুয়াস হিউমর
16. চোখে কর্নিয়া ও লেন্সের মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠে অবস্থিত তরলকে বলে—
(a) পেরিলিম্ফ
(b) এন্ডোলিম্ফ
(c) অ্যাকুয়াস হিউমর
(d) ভিট্রিয়াস হিউমর
উত্তর – (c) অ্যাকুয়াস হিউমর
17. অশ্রুর মধ্যে পাওয়া যায় এমন একটি উৎসেচক হল—
(a) অ্যামাইলেজ
(b) মলটেজ
(c) লাইসোজাইম
(d) সুক্রেজ
উত্তর – (c) লাইসোজাইম
18. নিম্নলিখিত কোন্ প্রাণীর একনেত্র দৃষ্টি?
(a) প্যাঁচা
(b) বানর
(c) বাঘ
(d) ব্যাং
উত্তর – (d) ব্যাং
19. দূরের বস্তুর দেখার ক্ষেত্রে—
(a) লেন্স পুরু হয়
(b) লেন্স সরু হয়
(c) লেন্সের বক্রতা একই থাকে
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (b) লেন্স সরু হয়
20. নিকটবদ্ধ দৃষ্টি বলা হয়—
(a) থ্রেসবায়োপিয়াকে
(b) হাইপারমেট্রোপিয়াকে
(c) মায়োপিয়াকে
(d) ক্যাটারাক্টকে
উত্তর – (c) মায়োপিয়াকে
21. তোমার অপটিমেট্রিস্ট তোমার চোখ দেখে -3 ডায়োপ্টার পাওয়ারের লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করতে বললেন। তোমার চোখের সম্ভাব্য ত্রুটিটি হল –
(a) হাইপেরোপিয়া
(b) প্রেসবায়োপিয়া
(c) মায়োপিয়া
(d) ক্যাটার‍্যাক্ট
উত্তর – (c) মায়োপিয়া
22. রেটিনার পশ্চাতে ফোকাস সৃষ্টি হয় চোখের যে সমস্যায়, তা হল –
(a) মায়োপিয়া
(b) হাইপেরোপিয়া
(c) প্রেসবায়োপিয়া
(d) ক্যাটারাক্ট
উত্তর – (b) হাইপেরোপিয়া
23. তোমার বন্ধু দূরের বস্তু দেখে, কিন্তু কাছের বস্তু ঝাপসা ও অস্পষ্ট দেখে। তাকে কোন্ প্রকারের লেন্সযুক্ত চশমা তুমি পড়তে পরামর্শ দেবে?
(a) উত্তল লেন্সযুক্ত চশমা
(b) অবতল লেন্সযুক্ত চশমা
(c) উভয়েই সঠিক
(d) কোনোটিই সঠিক নয়
উত্তর – (a) উত্তল লেন্সযুক্ত চশমা
24. হাইপেরোপিয়া বা প্রেসবায়োপিয়া-র ক্ষেত্রে কোন্ চশমার পাওয়ারটি প্রযোজ্য হতে পারে বলে তুমি মনে কর?
(a) -2 ডায়োপ্টার
(b) -4 ডায়োপ্টার
(c) +1.5 ডায়োপ্টার
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (c) +1.5 ডায়োপ্টার
25. যে দৃষ্টিতে নিকটের দৃষ্টি ব্যাহত হয় কিন্তু দূরের দৃষ্টি ঠিক থাকে, তাকে বলে –
(a) মায়োপিয়া
(b) নিকটালোপিয়া
(c) প্রেসবায়োপিয়া
(d) ক্যাটার‍্যাক্ট
উত্তর – (c) প্রেসবায়োপিয়া
26. ফেকো সার্জারি করা হয় মানুষের যে অঙ্গে, সেটি হল—
(a) কর্ণ
(b) চক্ষু
(c) চর্ম
(d) জিহ্বা
উত্তর – (b) চক্ষু

দু-একটি শব্দে বা বাক্যে উত্তর দাও

1. অক্ষিগোলকের প্রধান তিনটি স্তর কী কী?
উত্তর – স্ক্লেরা, কোরয়েড ও রেটিনা।
2. সঠিক ক্রমে সাজাও—রেটিনা, কর্নিয়া, কনজাংটিভা, অপটিক স্নায়ু, লেন্স।
উত্তর – কনজাংটিভা→কর্নিয়া→লেন্স→রেটিনা→অপটিক স্নায়ু।
3. চোখের বহিরাবরকের নাম কী?
উত্তর – স্ক্লেরা ও কর্নিয়া।
4. চোখের কোন্ অংশ তারারন্ধ্রকে ছোটো ও বড়ো হতে সাহায্য করে ?
উত্তর – আইরিস।
5. কোন্ ছিদ্রের মাধ্যমে আলো চোখের ভিতর প্রবেশ করে?
উত্তর – পিউপিল বা তারারন্ধ্র।
6. তারারন্ধ্র বা পিউপিলের কাজ কী?
উত্তর – তারারন্ধ্র ছোটো বা বড়ো হয়ে যথাক্রমে বেশি ও কম আলোকের প্রবেশ ঘটায়, অর্থাৎ চোখে আলোক প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে তারারন্ধ্র বা পিউপিল।
7. চোখের কোন্ স্তরে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় ?
উত্তর – রেটিনা।
8. রেটিনার কোন অংশে উজ্জ্বল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়?
উত্তর – ফোডিয়া বা গীতবিন্দু।
9. চোখের ডাক্তারবাবু তারারথ্র দিয়ে রেটিনার কোন অংশ দেখে থাকেন?
উত্তর – ম্যাকুলা লুটিয়া বা পীতবিন্দু।
10. অন্ধবিন্দুতে প্রতিচ্ছবি গঠিত হয় না কেন?
উত্তর – আলোকসুবেদী রড ও কোন কোশ থাকে না বলে অন্ধবিন্দুতে প্রতিচ্ছবি তৈরি হয় না।
11. রড ও কোন কোশের রঙ্গকের নাম লেখো।
উত্তর – রড কোশের রঙ্গকের নাম রোডপসিন ও কোন কোশের রঙ্গকের নাম আয়োডপসিন।
12. মানুষের অক্ষিগোলকের লেন্সের একটি কাজ উল্লেখ করো।
উত্তর – মানুষের অক্ষিগোলকের লেন্স প্রতিসারক মাধ্যমরূপে কাজ করে ও রেটিনাতে প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
13. অক্ষিগোলকের লেন্স ও রেটিনার অন্তর্বর্তী প্রকোষ্ঠে অবস্থিত তরলটির কাজ কী ?
উত্তর – অক্ষিগোলকের লেন্স ও রেটিনার অন্তর্বর্তী প্রকোষ্ঠে অর্থাৎ, ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠে অবস্থিত তরল, ভিট্রিয়াস হিউমর আলোকরশ্মি প্রতিসৃত করে প্রতিবিম্ব গঠন করে এবং অক্ষিগোলকের নির্দিষ্ট আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে।
14. অক্ষিগোলককে যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করে কে?
উত্তর – নেত্ৰবৰ্ত্মকলা।
15. বাইরের আঘাত ও ধূলিকণা থেকে কোন্ অংশ চোখকে রক্ষা করে ?
উত্তর – অক্ষিপল্লব।
16. অণুর উপাদানগুলি লেখো। 
উত্তর – জল, খনিজ লবণ, অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টিবডি, লাইসোজাইম।
17. অশ্রুতে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী উৎসেচকটির নাম কী?
উত্তর – লাইসোজাইম।
18. দ্বিনেত্রবিশিষ্ট প্রাণীর নাম লেখো। 
উত্তর – মানুষ, প্যাঁচা।
19. লেন্সের কোন্ ক্ষমতার জন্য মানবচক্ষু দূরের ও কাছের বস্তুর প্রতিবিম্ব স্পষ্টভাবে দেখতে পায় ?
উত্তর – উপযোজন।
20. কত দূরত্বের বস্তু দূরদৃষ্টির আওতায় পড়ে ?
উত্তর – 6m-এর অধিক দূরত্বে থাকা বস্তু দূরদৃষ্টির আওতায় পড়ে।
21. মায়োপিয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের লেন্সের ব্যবহারে ত্রুটি দূর হয় ?
উত্তর – অবতল লেন্স।
22. হাইপারমেট্রোপিয়ায় কোন্ দৃষ্টি ব্যাহত হয়?
উত্তর – নিকট-দৃষ্টি।
23. প্রেসবায়োপিয়ায় লেন্সের কী গঠনগত পরিবর্তন ঘটে ?
উত্তর – প্রেসবায়োপিয়ায় লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস পায়, ফলস্বরূপ দূরের বস্তুর উপযোজনে সমস্যা দেখা দেয়।
24. প্রেসবায়োপিয়া সংশোধনে কীরূপ লেন্স ব্যবহার করা হয়?
উত্তর – উত্তল লেন্স।
25. লেন্সের প্রোটিন বিনষ্ট হয়ে কোন্ রোগ সৃষ্টি হয় ?
উত্তর – ছানি বা ক্যাটারাক্ট।

শূন্যস্থান পূরণ করো

1. করোটির যে দুটি গোলাকার গহ্বরে অক্ষিগোলক সুরক্ষিত থাকে তাকে …….. বলে।
উত্তর – অক্ষিকোটর
2. কর্নিয়ার ওপরের স্বচ্ছ পাতলা তন্তুময় পর্দাকে …….. বলে।
উত্তর – কনজাংটিভা
3. অক্ষিগোলকের সামনে তন্তুময় বহিস্তরের এক-ষষ্ঠাংশে যে স্বচ্ছ পর্দা থাকে, তাকে ………. বলে।
উত্তর – অচ্ছোদপটল
4. শ্বেতমণ্ডলের ঠিক নীচের স্তরটিকে …….. বলে।
উত্তর – কৃষ্ণমণ্ডল
5. আইরিসের মধ্যবর্তী ছিদ্রকে ……… বলে।
উত্তর – তারারন্ধ্র
6. পীতবিন্দুর কেন্দ্রে ……… নামক একটি অবতল খাঁজ বর্তমান।
উত্তর – ফোভিয়া সেন্ট্রালিস
7. রেটিনায় রড ও ………. নামক কোশ পাওয়া যায়।
উত্তর – কোন
৪. উজ্জ্বল আলোতে বর্ণ নিরূপণে সাহায্য করে ………. কোশ।
উত্তর – কোন
9. রেটিনার যে অবতল ক্ষেত্র থেকে অপটিক স্নায়ু বের হয়, তাকে …….. বলে।
উত্তর – অন্ধবিন্দু
10. লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশ ……… প্রকোষ্ঠ নামে পরিচিত।
উত্তর – ভিট্রিয়াস
11. অণুগ্রন্থি থেকে ক্ষরিত সামান্য লবণাক্ত জলীয় তরলকে …….. বলে।
উত্তর – অশ্রু
12. মানুষের চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য প্রয়োজনমতো পরিমার্জন করার পদ্ধতিকে ……. বলে।
উত্তর – উপযোজন
13. ………. রোগে দূরের দৃষ্টি ব্যাহত হয়।
উত্তর – মায়োপিয়া
14. মায়োপিয়ার ক্ষেত্রে চক্ষুগোলকের আকার …….. পায়।
উত্তর – বৃদ্ধি
15. নিকটবদ্ধ দৃষ্টি সংশোধনের জন্য ……… লেন্স ব্যবহার করা হয়।
উত্তর – অবতল
16. ………. লেন্স হাইপারমেট্রোপিয়ার রোগীর ক্ষেত্রে চশমাতে ব্যবহৃত হয়।
উত্তর – উত্তল
17. ……….. হল বার্ধক্যজনিত দৃষ্টিহীনতা।
উত্তর – ছানি/ক্যাটারাক্ট

The Complete Educational Website

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *