WBBSE 10th Class Science Solutions Biology Chapter 2 জীবনের প্রবহমানতা (TOPIC 3 সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন)
WBBSE 10th Class Science Solutions Biology Chapter 2 জীবনের প্রবহমানতা (TOPIC 3 সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন)
West Bengal Board 10th Class Science Solutions Biology Chapter 2 জীবনের প্রবহমানতা (TOPIC 3 সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন)
West Bengal Board 10th Biology Solutions
TOPIC 3 সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন
বিষয়সংক্ষেপ
- সপুষ্পক উদ্ভিদের জননাঙ্গ হল ফুল। এর বৃত্তি ও দলমণ্ডল হল সাহায্যকারী স্তবক যারা সরাসরি জননে অংশ নেয় না। পুংকেশর হল পুং প্রজননিক অংশ, যা পরাগরেণু তৈরি করে। পরাগরেণুর মধ্যে পুংজননকোশ তৈরি হয়। পক্ষান্তরে গর্ভপত্র হল স্ত্রী প্রজননিক অংশ, যার ডিম্বাশয়ের মধ্যে ডিম্বাণু থাকে।
- পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর সেই ফুল বা অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরকে বলে পরাগযোগ। কোনো ফুলের পরাগরেণু সেই ফুলের অথবা একই উদ্ভিদের অন্য একটি ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হলে সেই পরাগযোগকে বলে স্বপরাগযোগ। একই ফুলের মধ্যে ঘটা স্বপরাগ-যোগকে অটোগ্যামি বলে আর একই উদ্ভিদের দুটি ভিন্ন ফুলের মধ্যে ঘটা স্বপরাগযোগকে বলে গেইটোনোগ্যামি। একটি উদ্ভিদের ফুল থেকে অন্য উদ্ভিদের ফুলে পরাগরেণুর স্থানান্তরকে বলে ইতর পরাগযোগ। এর অপর নাম জেনোগ্যামি বা অ্যালোগ্যামি।
- স্বপরাগযোগ এবং ইতর পরাগযোগ উভয়ক্ষেত্রেই নানা সুবিধা ও অসুবিধা লক্ষ করা যায়।
- ইতর পরাগযোগে নানারকম বাহকের প্রয়োজন হয়। যেমন—বায়ু (ধান), জল (পাতাঝাঁঝি), পতঙ্গ (আম) এবং পাখি (শিমুল) ইত্যাদি।
- ইতর পরাগযোগ অপত্য জীবে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
- পরাগরেণুর পুংজননকোশ বা পুংগ্যামেট (n) এবং ডিম্বাশয়ের স্ত্রীজননকোশ বা স্ত্রীগ্যামেট (n) -এর মিলনকে নিষেক বলে। নিষেকের পর ডিপ্লয়েড (2n) ভ্ৰূণাণু বা জাইগোট গঠিত হয়। জাইগোটটি বারবার বিভাজিত হয়ে ভ্রুণ গঠিত হয়। ভ্রূণসহ ডিম্বকটি বীজে আর বীজসহ ডিম্বাশয়টি ফলে পরিণত হয়। অনুকূল পরিবেশে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটে ও নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
1. আদর্শ ফুলের গঠনগত বিভিন্ন অংশসমূহের বর্ণনা দাও ও প্রত্যেকের কাজ লেখো।
উত্তর – আদর্শ ফুলের গঠনগত বিভিন্ন অংশ ও তাদের কাজ: যে ফুলে পুষ্পাক্ষের ওপর চারটি স্তবক অর্থাৎ বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক বর্তমান, তাকে আদর্শ ফুল বলে। যেমন—জবা ফুল। আদর্শ ফুলের এই চারটি স্তবকের মধ্যে পুংস্তবক বা পুংকেশর চক্র এবং স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশর চক্র জননে সাহায্য করে বলে এদের অত্যাবশ্যকীয় স্তবক বা জনন স্তবক বলে। আবার বৃতি ও দলমণ্ডল জননে অংশ নেয় না বলে এদের সাহায্যকারী স্তবক বলে। আদর্শ ফুলের গঠনগত বিভিন্ন অংশগুলির বর্ণনা নিম্নরূপ।
- বৃতি: ফুলের একেবারে বাইরের দিকের স্তবককে বৃতি বলে। বৃতি সবুজ রঙের হয়। বৃতির এক-একটি ছোটো পাতার মতো অংশকে বৃত্যংশ বলে। অনেকক্ষেত্রে বৃতির নীচের দিকে সবুজ বর্ণের উপবৃতি থাকে। কাজ: [i] বৃতি কুঁড়ি অবস্থায় ফুলের অন্যান্য স্তবককে উন্নতা, ঠান্ডা, বৃষ্টি ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ প্রভৃতি থেকে রক্ষা করে। [ii] সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষে অংশগ্রহণ করে।
- দলমণ্ডল: বৃতির পরবর্তী অংশ বা ফুলের দ্বিতীয় স্তবককে দলমণ্ডল বলে। দলমণ্ডলের প্রতিটি অংশকে দলাংশ বা পাপড়ি বলে। এই দলাংশ বা পাপড়ি সাদা বা বিভিন্ন বর্ণের ও গন্ধহীন বা সুগন্ধযুক্ত হয়। কাজ: [i] কুঁড়ি অবস্থায় দলমণ্ডল ফুলের ভিতরের দিকের অপরিহার্য দুটি স্তবককে উয়তা, ঠান্ডা, বৃষ্টি ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। [ii] ফুলের এই অংশ বর্ণময় ও সুগন্ধযুক্ত হওয়ায় কীটপতঙ্গকে পরাগযোগের জন্য আকৃষ্ট করে।
- পুংকেশর চক্র বা পুংস্তবক: ফুলের তৃতীয় স্তবককে পুংকেশর চক্র বা পুংস্তবক বলে। এর প্রতিটি অংশকে বলে পুংকেশর। প্রতিটি পুংকেশরের দুটি অংশ বর্তমান—পুংদণ্ড ও পরাগধানী। পুংদণ্ডের মাথায় অবস্থিত থলির মতো অংশকে পরাগধানী এবং পরাগধানীর নীচের দণ্ডাকার অংশকে পুংদণ্ড বলে। পরাগধানীর ভিতরে অসংখ্য পরাগরেণু থাকে। কাজ: পুংস্তবকের পরাগধানী পরাগরেণু উৎপন্ন করে যৌন জননে সাহায্য করে।

-
গর্ভকেশর চক্র বা স্ত্রীস্তবক: ফুলের চতুর্থ স্তবককে গর্ভকেশর চক্র বা স্ত্রীস্তবক বলে। এটি একটি বা একাধিক গর্ভপত্র বা গর্ভকেশর নিয়ে গঠিত। প্রতিটি গর্ভপত্রের আবার তিনটি অংশ—ডিম্বাশয় বা গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড এবং গর্ভমুণ্ড। গর্ভপত্রের অপেক্ষাকৃত স্ফীত অংশটি গর্ভাশয়। গর্ভাশয়ের পরবর্তী সরু দণ্ডাকার অংশকে গর্ভদণ্ড ও গর্ভদণ্ডের মাথায় অবস্থিত গোলাকার অংশকে গর্ভমুণ্ড বলে। কাজ: [i] স্ত্রীস্তবক ডিম্বাণু উৎপন্ন করে নিষেকে সাহায্য করে। [ii] ফল ও বীজ উৎপাদন করে।
2. ফুলকে পরিবর্তিত বিটপ বলা হয় কেন? সহকারী ও অত্যাবশ্যকীয় (অপরিহার্য) স্তবকের পার্থক্য লেখো।
উত্তর – ফুল একটি পরিবর্তিত বিটপ: ফুলকে পরিবর্তিত বিটপ বলার কারণগুলি হল— (1) পত্রমুকুলের মতো পুষ্পমুকুলও পাতার কক্ষ থেকে বা কাণ্ডের শীর্ষ অংশে উৎপন্ন হয়। (2) পুষ্পাক্ষের ওপর ফুলের স্তবকগুলির সজ্জারীতি কাণ্ডের ওপরে পত্রবিন্যাসের মতো। (3) কাণ্ডের মতো পুষ্পাক্ষেও পর্ব ও পর্বমধ্য উপস্থিত। (4) বৃত্যংশ ও দলাংশ পাতার মতো শিরা উপশিরাযুক্ত হয়।
সহকারী ও অত্যাবশ্যকীয় (অপরিহার্য) স্তবকের পার্থক্য

3. স্বপরাগযোগ কাকে বলে? উদাহরণসহ লেখো।
স্বপরাগযোগের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর – স্বপরাগযোগ: কোনো ফুলের পুংকেশরের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু সেই ফুলের বা সেই গাছের অন্য কোনো ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার পদ্ধতিকে স্বপরাগযোগ বলে। শিম, ধুতরো, মটর ইত্যাদি উদ্ভিদে স্বপরাগযোগ ঘটে।
স্বপরাগযোগের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য: স্বপরাগযোগের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য-গুলি হল— (1) এইজাতীয় পরাগযোগ সহবাসী উদ্ভিদে সম্পন্ন হয়। (2) এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফুলের পরাগধানী ও গর্ভদণ্ড একই সময়ে পরিণত হয়। (3) এইজাতীয় পরাগযোগ একই ফুলেও ঘটে (অটোগ্যামি), আবার একই উদ্ভিদের দুটি ফুলের মধ্যেও সম্পন্ন হতে পারে (গেইটোনোগ্যামি)। (4) সাধারণত উভলিঙ্গ ফুলের ক্ষেত্রে স্বপরাগযোগ ঘটে। (5) এক্ষেত্রে ফুলের পরাগরেণুর অপচয় অনেক কম হয়। (6) এইজাতীয় পরাগযোগের ফলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভিদ থেকে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদ পাওয়া যায় না। (7) অপত্য উদ্ভিদের গুণগত মান একই থাকে অথবা কমতে থাকে। (৪) এই প্রকার পরাগযোগে বাহকের প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক নয়।

4. ইতর পরাগযোগ কাকে বলে? উদাহরণসহ লেখো।
ইতর পরাগযোগের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর – ইতর পরাগযোগ: কোনো একটি ফুলের পুংকেশরের পরাগধানী থেকে উৎপন্ন পরাগরেণু একই প্রজাতিভুক্ত বা অন্য প্রজাতিভুক্ত অপর একটি গাছে উৎপন্ন ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার পদ্ধতিকে ইতর বা বিপরীত পরাগযোগ বলে। যেমন—তাল, পেঁপে, আম, পটল, কুমড়ো ইত্যাদি উদ্ভিদে ইতর পরাগযোগ ঘটে।

ইতর পরাগযোগের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য: ইতর পরাগযোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। যথা— (1) একলিঙ্গ ফুলের ক্ষেত্রেই কেবল ইতর পরাগযোগ হয়। (2) এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফুলগুলির বিষম পরিণতি দেখা যায়। অর্থাৎ, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক একসাথে পরিণত না হয়ে ভিন্ন সময়ে পরিণত হয়। (3) ফুলের গঠনগত প্রতিবন্ধকতার বা বাধার জন্য অনেকক্ষেত্রে স্বপরাগযোগ সম্ভব হয় না। (4) এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পরাগরেণুর স্থানান্তরণের জন্য বিভিন্ন বাহকের (বায়ু, জল, পতঙ্গ) প্রয়োজন হয়। (5) একই প্রজাতির বা অন্য প্রজাতির দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদের দুটি ভিন্ন ফুলের মধ্যে পরাগযোগ সম্পন্ন হয় বলে অপত্য উদ্ভিদে প্রকরণের সৃষ্টি হয়।
5. স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখো।
অংশ প্রশ্ন, স্বপরাগযোগের সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।
উত্তর – স্বপরাগযোগের সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা: (1) এক্ষেত্রে বাহকের প্রয়োজনীয়তা না থাকায় পরাগযোগের নিশ্চয়তা বেশি। এক্ষেত্রে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়। (2) স্বপরাগযোগে উৎপন্ন বীজ তথা অপত্য উদ্ভিদ একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হওয়ায় প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।
অসুবিধা: (1) নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত অপত্য উদ্ভিদ উৎপন্ন হতে পারে না। অর্থাৎ, প্রকরণ ঘটে না ফলে অবলুপ্তির সম্ভবনা থাকে। (2) স্বপরাগযোগে উৎপন্ন বীজ নিম্নমানের হয় ও অঙ্কুরণের হার কম হয়।
ইতর পরাগযোগ সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা: (1) এক্ষেত্রে উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, প্রকরণ ঘটে যা প্রতিকূল পরিবেশে উদ্ভিদকে অভিযোজিত হতে সাহায্য করে। (2) ইতর পরাগযোগে উৎপন্ন বীজ তথা অপত্য উদ্ভিদ উন্নতমানের বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয় ও এদের বীজের অঙ্কুরণের হার বেশি হয়।
অসুবিধা: (1) ইতর পরাগযোগ বাহক-নির্ভর হওয়ায় এদের ক্ষেত্রে পরাগযোগের নিশ্চয়তা কম। (2) ইতর পরাগযোগের ক্ষেত্রে পরাগরেণুর অপচয়ের মাত্রা অনেক বেশি হয়।
6. বিভিন্ন প্রকার বাহকের মাধ্যমে ইতর পরাগযোগ উদাহরণ সহযোগে ব্যাখ্যা দাও।
অংশ প্রশ্ন, কোন্ কোন্ বাহক নীচের উদ্ভিদগুলিতে পরাগযোগ সম্পন্ন করে ?
(ক) ধান, (খ) পাতাঝাঝি, (গ) শিমুল, (ঘ) আম
উত্তর – ইতর পরাগযোগের বিভিন্ন বাহক এবং উদাহরণ
| বাহক | বাখ্যা | উদাহরণ |
| বায়ুর মাধ্যমে | বায়ুর মাধ্যমে সংঘটিত ইতর পরাগযোগকে বায়ু দ্বারা পরাগযোগ বা অ্যানিমোফিলি বলে। যেসব ফুলের পরাগযোগ বায়ুর মাধ্যমে ঘটে, তাদের বায়ুপরাগী ফুল বা অ্যানিমোফিলাস ফুল বলে। এই ফুলগুলি বর্ণহীন, গন্ধহীন, অনুজ্জ্বল ও ক্ষুদ্র হয়। ফুলে মকরন্দ থাকে না। | ধান, ঘাস, গম, বাঁশ, নারকেল |
| জলের মাধ্যমে | জলের মাধ্যমে সংঘটিত ইতর পরাগযোগকে জলের দ্বারা পরাগযোগ বা হাইড্রোফিলি বলে। যেসব ফুলের পরাগযোগ জলের মাধ্যমে ঘটে, তাদের জলপরাগী ফুল বা হাইড্রোফিলাস ফুল বলে। ফুলুগুলি বর্ণহীন, গন্ধহীন, অনুজ্জ্বল ও ক্ষুদ্র হয়। পরাগযোগ জলের ওপরে ঘটলে পরাগরেণু হালকা এবং মোম আবৃত হয়। | পাতাঝাঝি, পাতা শ্যাওলা |
| পতঙ্গের মাধ্যমে | পতঙ্গের মাধ্যমে সংঘটিত ইতর পরাগযোগকে পতঙ্গের দ্বারা পরাগযোগ বা এন্টোমোফিলি বলে। যেসব ফুলের পরাগযোগ পতঙ্গের মাধ্যমে ঘটে, তাদের পতঙ্গপরাগী ফুল বা এন্টোমোফিলাস ফুল বলে। এই ফুলগুলি উজ্জ্বল বর্ণের, মকরন্দযুক্ত ও সুমিষ্ট গন্ধযুক্ত হয়। | আম, বেল, জুঁই, জবা, পদ্ম ও গোলাপ |
| পাখির মাধ্যমে | পাখির মাধ্যমে সংঘটিত ইতর পরাগযোগকে পাখির দ্বারা পরাগযোগ বা তারনিথোফিলি বলে। যেসব ফুলের পরাগযোগ পাখির মাধ্যমে ঘটে, তাদের পক্ষীপরাগী ফুল বা অরনিথোফিলাস ফুল বলে। এই ফুলগুলি আকারে বড়ো, উজ্জ্বল এবং মকরন্দযুক্ত হয়। অনেকক্ষেত্রে পরাগধানীগুলি পাখির খাদ্য হিসেবে গৃহীত হয়। তার ফলে পরাগযোগ ঘটে থাকে। | শিমুল, পলাশ, পেয়ারা |
7. ডিম্বক বলতে তুমি কী বোঝ ? লম্বচ্ছেদে ডিম্বকের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করে তার গঠন বর্ণনা করো।
অনুরূপ প্রশ্ন, লম্বচ্ছেদে ডিম্বকের নানা অংশগুলির চিহ্নিত চিত্র আঁকো।
উত্তর – ডিম্বক: ত্বকবেষ্টিত গর্ভকেশরের যে অংশ থেকে বীজ গঠিত হয়। ও যা স্ত্রীরেণুকে ধারণ করে, তাকে ডিম্বক বলে।
ডিম্বকের গঠন: ডিম্বকের বিভিন্ন অংশগুলি নীচে উল্লেখ করা হল।
- ডিম্বকবৃন্ত: পরিণত ডিম্বকের একটি ছোটো বৃন্ত থাকে, যা ডিম্বককে অমরার সাথে সংযুক্ত রাখে। একে ডিম্বকবৃন্ত বলে।

- ডিম্বকমূল: ডিম্বকের যে অংশ থেকে ডিম্বকত্বক উৎপন্ন হয়, তাকে ডিম্বকমূল বলে।
- ডিম্বকনাভি: ডিম্বকবৃত্তের সঙ্গে ডিম্বকমূলের সংযোগস্থলকে ডিম্বকনাভি বলে।
- ডিম্বকত্বক: ডিম্বকের আবরণীকে ডিম্বকত্বক বলে।
- ঘৃণপোষক কলা: ডিম্বকত্বকের নীচে অবস্থিত যে কলা ডিম্বকের ভ্রূণস্থলীকে ঘিরে রাখে, সেই কলাগুচ্ছকে ভ্রূণপোষক কলা বলে।
- ডিম্বকরন্ধ্র: ডিম্বকত্বক ভ্রূণপোষক কলাকে সম্পূর্ণভাবে আবৃত রাখে না। এই অনাবৃত অংশকে ডিম্বকরন্দ্র বলে।
- ঘৃণস্থলী: ভ্ৰূণপোষক কলার ভিতরে একটি বৃহৎ থলির মতো কোশ থাকে, যাকে ভ্ৰূণস্থলী বা ভ্রূণাধার বলে। এটি ডিম্বকের প্রধান কোশ। প্রতিটি ভ্রূণস্থলীতে ৪ টি হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াস বিশেষভাবে বিন্যস্ত থাকে, যার মধ্যে 3টি ডিম্বকরন্ধ্রের দিকে অবস্থিত। এদের একত্রে গর্ভযন্ত্র বলে। এই তিনটির মধ্যে একটিকে ডিম্বাণু ও বাকি দুটিকে সহকারী কোশ বলে। ভ্রূণস্থলীর মাঝে দুটি নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) ক্রোমোজোয়-বিশিষ্ট নির্ণীত নিউক্লিয়াস গঠন করে। ডিম্বকরন্ধ্রের বিপরীত দিকে বর্তমান 3 টি নিউক্লিয়াসকে একত্রে প্রতিপাদ কোশসমষ্টি বলে।
৪. চিত্রসহ একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক এবং নতুন উদ্ভিদ গঠন পদ্ধতি বর্ণনা করো।
অনুরূপ প্রশ্ন, সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননে নিম্নলিখিত ঘটনা দুটি বিবৃত করো—নিষেক, ভ্রূণ সৃষ্টি ও নতুন উদ্ভিদ গঠন।
অংশ প্রশ্ন, সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের নিম্নলিখিত পর্যায়ের ঘটনাগুলি বিবৃত করো।
(1) জনন কোশ বা গ্যামেট উৎপাদন, (2) নিষেক, (3) ভ্ৰূণসৃষ্টি ও নতুন উদ্ভিদ উৎপাদন।
অংশ প্রশ্ন, সপুষ্পক উদ্ভিদের দ্বিনিষেক প্রক্রিয়া চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা করো।
অংশ প্রশ্ন, সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক বা দ্বিনিষেক পদ্ধতির চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।
উত্তর – সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক ও নতুন উদ্ভিদ গঠন: সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক প্রক্রিয়া উন্নতমানের হয়। সপুষ্পক গুপ্তবীজী উদ্ভিদের নিষেক পদ্ধতির বিভিন্ন ধাপগুলি নীচে বিশদে বর্ণনা করা হল।
- পরাগরেণু সৃষ্টি: ফুলের পুংকেশরের পরাগধানীর মধ্যে অবস্থিত পরাগরেণু মাতৃকোশ ডিপ্লয়েড (2n) প্রকৃতির হয়। এই পরাগরেণু মাতৃকোশের মিয়োসিস বিভাজনের ফলে অসংখ্য পরাগরেণু উৎপন্ন হয়, যেগুলি হ্যাপ্লয়েড (n) প্রকৃতির হয়ে থাকে। পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াস গঠন করে। এগুলি হল নালিকা নিউক্লিয়াস এবং জেনেরেটিভ বা জনন নিউক্লিয়াস।
- ডিম্বাণু বা স্ত্রীগ্যামেট সৃষ্টি: উদ্ভিদের ফুলের ডিম্বাশয়ের মধ্যে এক বা একাধিক ডিম্বক বর্তমান। এই ডিম্বকের ভ্রূণস্থলীর মধ্যে পরিস্ফুটনের মাধ্যমে স্ত্রীগ্যামেট উৎপন্ন হয়। প্রাথমিক অবস্থায় ভ্রূণস্থলীর মধ্যে একটি হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াস অবস্থান করে। এই নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস কোশ বিভাজনের দ্বারা বারবার বিভাজিত হয় এবং ৪টি হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াস গঠন করে। এদের মধ্যে 3টি নিউক্লিয়াস ভ্রূণস্থলীর এক মেরুতে একত্রে অবস্থান করে। এদের প্রতিপাদ কোশ (antipodal cells) বলে। অপর 3টি নিউক্লিয়াস ভ্রূণস্থলীর বিপরীত মেরুতে আসে। এদের মধ্যে দুটি নিউক্লিয়াস সহকারী কোশ (synergids) -রূপে এবং একটি নিউক্লিয়াস ডিম্বাণু (egg) বা স্ত্রীগ্যামেট-রূপে অবস্থান করে। অবশিষ্ট যে 2টি নিউক্লিয়াস থাকে, তারা পরস্পর মিলিত হয়ে একটি নির্ণীত নিউক্লিয়াস (definitive nucleus, 2n) গঠন করে, যা ভ্রূণস্থলীর কেন্দ্রে অবস্থান করে।
- পরাগযোগ: এই পর্যায়ে স্বপরাগযোগ বা বাহক দ্বারা ইতর পরাগযোগের মাধ্যমে পুংকেশরের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু, গর্ভকেশরের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়। পরাগরেণু ফুলের গর্ভমুণ্ডে আবদ্ধ হওয়ার পর তা থেকে একটি পরাগনালী সৃষ্টি হয় ।
- নিষেক ও জাইগোট গঠন: জেনেরেটিভ নিউক্লিয়াসটির ও বিভাজন পরিস্ফুরণ ঘটে এবং 2টি হ্যাপ্লয়েড (n) পুংগ্যামেট উৎপন্ন হয়। নালিকা নিউক্লিয়াসটি এবং পুংগ্যামেট দুটি পরাগনালীতে প্রবেশ করে। নালিকা নিউক্লিয়াসটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় ও পুংগ্যামেট দুটি পরাগনালীর অগ্রভাগে অবস্থান করে। পরাগনালী ক্রমশ দীর্ঘ হয় এবং তার অগ্রপ্রান্ত ডিম্বকরধ্র বা ডিম্বকমূল বা ডিম্বকত্বক ভেদ করে ডিম্বকে প্রবেশ করে। পরাগনালী ভ্রূণস্থলীর প্রাচীর ভেদ করে ভ্রূণস্থলীতে প্রবেশ করে। ক্রমে পরাগনালীর অগ্রপ্রান্ত বিদীর্ণ হয়ে 2টি পুংগ্যামেট ভ্রূণস্থলীতে মুক্ত হয়। অবশেষে একটি পুংগ্যামেট ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে নিষেক ঘটায়, যার ফলস্বরূপ ডিপ্লয়েড (2n) ভ্ৰূণাণু বা জাইগোট গঠিত হয়। অপর পুংগ্যামেটটি (n) নির্ণীত নিউক্লিয়াসকে (2n) নিষিক্ত করে সস্য নিউক্লিয়াস (3n) তৈরি করে। এই ঘটনাকেই দ্বিনিষেক বলা হয়।

- ভ্ৰূণ গঠন: নিষিক্ত এককোশী ভ্রূণাণু বা জাইগোটটি বারবার বিভাজিত হয়ে বহুকোশী ভ্ৰূণ গঠন করে।
- ফল ও বীজ গঠন: নিষেকের পরে ভ্রূণসহ ডিম্বক বীজে ও বীজসহ সমগ্র ডিম্বাশয় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে ফলে রূপান্তরিত হয়।
- বীজের অঙ্কুরোদ্গম এবং নতুন উদ্ভিদ গঠন: বীজের মধ্যে ভবিষ্যতের গাছ বা ভ্রুণ অবস্থান করে। অনুকূল পরিবেশ, অর্থাৎ যথাযথ আলো, উন্নতা, আর্দ্রতা, অক্সিজেন ও অভ্যন্তরীণ শর্তের উপস্থিতিতে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটে। এর ফলে বীজ থেকে নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। ভ্ৰূণমুকুল নামক অংশ থেকে অপত্য উদ্ভিদের বিটপ এবং ভ্রূণমূল থেকে মূলতন্ত্র গঠিত হয়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
1. ফুল কাকে বলে?
উত্তর – উদ্ভিদের যৌন জননে সাহায্যকারী বিশেষভাবে পরিবর্তিত ও সীমিত বৃদ্ধিসম্পন্ন পরিবর্তিত বিটপকে ফুল বা পুষ্প বলে।
2. ফুলের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – ফুলের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি হল— (1) ফুল বিটপের পরিবর্তিত রূপ। (2) ফুল সাধারণত কাক্ষিক বা অগ্রমুকুল থেকে উৎপন্ন হয়। (3) ফুলের প্রধান চারটি স্তবক হল—বৃতি, দলমণ্ডল, পুংকেশর চক্র ও গর্ভকেশর চক্র।
3. ফুলের কাজ কী ?
উত্তর – ফুলের কাজ হল— (1) সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল যৌন জনন সম্পাদন করে থাকে। ফুল থেকে ফল উৎপাদন হলে ফলের বীজ জীবের বংশবৃদ্ধি ঘটায়। (2) ফুলের সবুজ অংশ (বৃতি) সালোকসংশ্লেষে সাহায্য করে।
4. পুষ্পাক্ষ বা থ্যালামাস কাকে বলে? এর কাজ কী?
উত্তর – পুষ্পাক্ষ: বৃত্তের অগ্রভাগে যে স্ফীত অক্ষে পুষ্পস্তবকগুলি পরপর আবর্তাকারে বা সর্পিলাকারে বিন্যস্ত থাকে, তাকে পুষ্পাক্ষ বা থ্যালামাস বলে।
পুষ্পাক্ষের কাজ: ফুলের বিভিন্ন স্তবককে ধারণ করা।
5. পুষ্পাক্ষের ওপর পরপর সজ্জিত চারটি স্তবকের নাম কী ?
উত্তর – পুষ্পাক্ষের ওপর যে চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে, তাদের
নাম — (1) বৃতি, (2) দলমণ্ডল, (3) পুংস্তবক, (4) স্ত্রীস্তবক।
6. আদর্শ ফুল কাকে বলে?
উত্তর – যে ফুলের পুষ্পাক্ষের ওপরে চারটি স্তবক পরপর স্বাভাবিক রীতিতে সজ্জিত থাকে, তাকে আদর্শ ফুল বলে। যেমন—জবা ফুল।
7. নগ্ন ফুল কাকে বলে ?
উত্তর – যেসব ফুলে সাহায্যকারী স্তবক অর্থাৎ বৃতি এবং দলমণ্ডল থাকে না, তাদের নগ্ন ফুল বলে। যেমন—লালপাতা ফুল।
8. পুষ্পবৃত্ত কাকে বলে? এর কাজ কী ?
উত্তর – পুষ্পবৃত্ত: আদর্শ পুষ্পের পুষ্পাক্ষটি যে সরু অংশ দ্বারা কাণ্ডের বা শাখাপ্রশাখার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাকে পুষ্পবৃন্ত বলে ৷
পুষ্পবৃত্তের কাজ: ফুলকে কাণ্ডের শাখাপ্রশাখার সঙ্গে যুক্ত রাখা।
9. সবৃত্তক ফুল ও অবৃত্তক ফুল কাকে বলে?
উত্তর – সবৃন্তক ফুল: যেসব ফুলের পুষ্পবৃত্ত বা বোঁটা থাকে, তাদের সবৃন্তক ফুল বলে। যেমন—জবাফুল, গোলাপ ফুল ইত্যাদি।
অবৃত্তক ফুল: যেসব ফুলের পুষ্পবৃত্ত বা বোঁটা থাকে না, তাদের অবৃত্তক ফুল বলে। যেমন—রজনিগন্ধা।
10. সম্পূর্ণ ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর – সম্পূর্ণ ফুল: যেসব ফুলে বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক—এই চারটি স্তবকই বর্তমান তাদের সম্পূর্ণ ফুল বলে।
উদাহরণ: জবা, মটর, অপরাজিতা, সরষে ইত্যাদি।
11. অসম্পূর্ণ ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর – অসম্পূর্ণ ফুল: যেসব ফুলে চারটি স্তবকের (বৃতি, দলমণ্ডল, পুংকেশর চক্র ও গর্ভকেশর চক্র) মধ্যে এক বা একাধিক স্তবক অনুপস্থিত, তাদের অসম্পূর্ণ ফুল বলে।
উদাহরণ: কুমড়ো, পেঁপে, বনতুলসী, মুক্তঝুরি ইত্যাদি।
12. বন্ধ্যা ফুল বা ক্লীব ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর – বন্ধ্যা বা ক্লীব ফুল: যেসব ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবকের কোনোটিই থাকে না, তাদের বন্ধ্যা ফুল বা ক্লীব ফুল বলে।
উদাহরণ: সূর্যমুখীর প্রান্ত পুষ্পিকা, ওল ।
13. একলিঙ্গ ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর – একলিঙ্গ ফুল: যেসব ফুলে পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবকের মধ্যে যে-কোনো একটি উপস্থিত থাকে, তাদের একলিঙ্গ ফুল বলে। শুধুমাত্র পুংস্তবক থাকলে তাকে পুরুষ ফুল বলে এবং শুধুমাত্র স্ত্রীস্তবক থাকলে তাকে স্ত্রী ফুল বলে।
উদাহরণ: কুমড়ো ফুল।
14. দ্বিলিঙ্গ ফুল বা উভলিঙ্গ ফুল বলতে কী বোঝ? উদাহরণ দাও।
উত্তর – উভলিঙ্গ ফুল: যেসব ফুলে পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক উভয়ই থাকে, তাদের দ্বিলিঙ্গ (বাইসেক্সুয়াল) ফুল বা উভলিঙ্গ ফুল বলে।
উদাহরণ: জবাফুল, ধুতরো ফুল।
15. অপ্রতিসম ফুল কাকে বলে ? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর – অপ্রতিসম ফুল: যখন কোনো ফুলকে তার অক্ষ বরাবর কখনোই সমান ভাগে ভাগ করা যায় না, তখন তাকে অপ্রতিসম ফুল বলে।
উদাহরণ: অর্কিড ফুল।

16. সুষম ফুল বা সমাঙ্গ ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর – সুষম ফুল: যেসব ফুলের প্রতিটি স্তবকের অংশগুলি আকৃতিগতভাবে প্রায় সমান এবং একইরকম দেখতে হয়, তাদের সুষম ফুল বা সমাঙ্গ ফুল বলে।
উদাহরণ: ধুতরো ফুল, নয়নতারা ফুল।
17. বিষম ফুল বা অসমাঙ্গ ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর – বিষম ফুল: : যেসব ফুলের প্রতিটি স্তবকের বা যে-কোনো একটি স্তবকের পুষ্পষ্পত্রগুলি আকৃতিগতভাবে একে অপরের থেকে অসমান, তাদের বিষম ফুল বা অসমাঙ্গ ফুল বলে।
উদাহরণ: মটর ফুল, অপরাজিতা ফুল।
18. সহবাসী উদ্ভিদ (monoecious plant) কাকে বলে?
উত্তর – যে উদ্ভিদে পুরুষ ফুল এবং স্ত্রীফুল পৃথকভাবে কিন্তু একই উদ্ভিদে জন্মায়, তাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে। যেমন—লাউ, কুমড়ো ইত্যাদি।

19. ভিন্নবাসী উদ্ভিদ (dioecious plant) কাকে বলে?
উত্তর – যে উদ্ভিদে পুরুষ অথবা স্ত্রী যে-কোনো একপ্রকারের ফুল জন্মায় তাকে ভিন্নবাসী উদ্ভিদ বলে। যেমন—পেঁপে, তাল প্রভৃতি।

20. বৃতি ও দলমণ্ডলকে ফুলের সাহায্যকারী স্তবক বলে কেন?
উত্তর – বৃতি ও দলমণ্ডলকে ফুলের সাহায্যকারী স্তবক বলে কারণ, এরা সপুষ্পক উদ্ভিদের জননে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ না করলেও পরোক্ষভাবে সাহায্য করে। যেমন—পরাগযোগের জন্য বিভিন্ন বাহকদের আকৃষ্ট করা।
21 বৃতি কাকে বলে ?
উত্তর – ফুলের সর্বাপেক্ষা বাইরের বা নীচের দিকে অবস্থিত স্তবক যা ফুলকে কুঁড়ি অবস্থায় ঢেকে রাখে এবং তাকে রক্ষা করে, তাকে বৃতি বা ক্যালিক্স বলে ৷ বৃতির প্রতিটি একককে বৃত্যংশ বলা হয়। কিছুকিছু ফুলে বৃতির ঠিক নীচে উপবৃতি থাকে।
22. পুংকেশর চক্র ও গর্ভকেশর চক্র কাকে বলে?
উত্তর – পুংকেশর চক্র: পুংদণ্ড ও পরাগধানী সমন্বিত পুংকেশর নিয়ে গঠিত, দলমণ্ডল বা করোলার ভিতরের দিকে অবস্থিত, ফুলের তৃতীয় এবং অপরিহার্য স্তবককে পুংকেশর চক্র বা অ্যান্ড্রোসিয়াম বলে।
গর্ভকেশর চক্র: গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড এবং গর্ভমুণ্ড নিয়ে গঠিত, ফুলের সব থেকে ভিতরে অবস্থিত, ফুলের চতুর্থ এবং অপরিহার্য স্তবককে গর্ভকেশর চক্র বা গাইনোসিয়াম বলে।

23. পরাগযোগ কাকে বলে?
উত্তর – যে পদ্ধতিতে ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলের বা একই গাছের অন্য কোনো ফুলের বা একই প্রজাতির অন্য গাছের কোনো ফুলের গর্ভকেশরের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয় তাকে পরাগযোগ বলে।
24. পরাগযোগ কয়প্রকার ও কী কী ? তা চার্টের সাহায্যে দেখাও।
উত্তর –

25. গেইটোনোগ্যামি কাকে বলে? এটি একলিঙ্গ উদ্ভিদে সম্ভব কি?
উত্তর – যে স্বপরাগযোগ পদ্ধতিতে কোনো উদ্ভিদের দুটি ভিন্ন ফুলের মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটে, তাকে গেইটোনোগ্যামি বলে। যেমন—ভুট্টা-জাতীয় উভলিঙ্গ উদ্ভিদে গেইটোনোগ্যামি দেখা যায়।
একলিঙ্গ উদ্ভিদে গেইটোনোগ্যামি সম্ভব হয় না।
26. পরাগযোগের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর – (1) উদ্ভিদের জননের জন্য পরাগযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরাগমিলন হলে ফল তৈরি হয় এবং ফলের বীজ থেকে নতুন উদ্ভিদ তৈরি সর হয়। (2) অধিকাংশ খাদ্যশস্য ও ফল উৎপাদন পরাগযোগের ওপর নির্ভর করে।
27. ‘স্বপরাগযোগের থেকে ইতর পরাগযোগ বেশি সুবিধাজনক’–ব্যাখ্যা করো।
অনুরুপ প্রশ্ন, ইতর পরাগযোগ, স্বপরাগযোগ অপেক্ষা উন্নততর কেন ?
উত্তর – স্বপরাগযোগের থেকে ইতর পরাগযোগ বেশি সুবিধাজনক, কারণ – (1) ইতর পরাগযোগে দুটি পৃথক উদ্ভিদের জিনগত উপাদানের সমন্বয় ঘটে বলে অধিক প্রকরণ সৃষ্টি হয়। ফলে অপত্য উদ্ভিদ উন্নত গুণমান সম্পন্ন হয়ে থাকে। এগুলির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, কষ্টসহিয়তা ও উৎপাদন ক্ষমতা বেশি হয়। স্বপরাগযোগে সেই সুবিধা নেই। (2) জিনগত প্রকরণ ঘটে বলে উদ্ভিদটি প্রজাতিটির অভিব্যক্তিতেও সাহায্য করে।
28. বায়ুপরাগী বা অ্যানিমোফিলাস ফুলের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – বায়ুপরাগী ফুলের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল – (1) বায়ুপরাগী ফুল সাধারণত সাদা, অনুজ্জ্বল এবং ক্ষুদ্রাকার হয়। এইজাতীয় ফুল দৃষ্টি আকর্ষী হয় না। (2) এই- জাতীয় ফুলে মকরন্দ সঞ্চিত হয় না এবং ফুল সাধারণত গন্ধহীন হয়। (3) দীর্ঘ পুংদণ্ডের উপস্থিতির জন্য দোদুল্যমান পরাগধানী দলমণ্ডলের বাইরে বেরিয়ে আসে। (4) বায়ু দ্বারা বাহিত হওয়ার সময় পরাগরেণু অপচয় হয়, তাই অধিক পরিমাণে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। (5) পরাগরেণু যাতে বাতাসে সহজে উড়তে পারে, তার জন্য পরাগ খুবই হালকা হয়। উদাহরণ-ধান।

29. বায়ুপরাগী বা অ্যানিমোফিলাস ফুলের পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড কেমন হয় ?
উত্তর – বায়ুপরাগী ফুলের পরাগরেণু: বর্ণহীন, গন্ধহীন, অনুজ্জ্বল ও ক্ষুদ্র হয়।
বায়ুপরাগী ফুলের গর্ভমুণ্ড : শাখান্বিত, রোমশ ও আঠালো প্রকৃতির হয় ও তা দলমণ্ডলের বাইরে বেরিয়ে থাকে।
30. জলপরাগী বা হাইড্রোফিলাস ফুলের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – জলপরাগী ফুলের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল— (1) জলপরাগী ফুলের আকৃতি ক্ষুদ্র হয় এবং ফুলগুলি অনুজ্জ্বল প্রকৃতির। (2) জলের তলায় যে ফুলের পরাগযোগ সম্পন্ন হয়, সেই ফুলের পরাগরেণু অপেক্ষাকৃত ভারী হয়। (3) রেণুগুলির বাইরের ত্বকে মোমজাতীয় পদার্থের আস্তরণ থাকে। (4) কিছুসংখ্যক জলপরাগী ফুলের গর্ভকেশর এবং পুংকেশর দলাংশ দিয়ে ঢাকা থাকে না। (5) পরাগরেণুগুলি ক্ষুদ্র হয় এবং সহজে জলের মাধ্যমে থেকে অন্যস্থানে স্থানান্তরিত হতে পারে। উদাহরণ—পাতাঝাঝি।

31. পতঙ্গপরাগী বা এন্টোমোফিলাস ফুলের বৈশিষ্ট্য লেখো।
অনুরূপ প্রশ্ন, পতঙ্গপরাগী ফুল চিনবে কী করে?
উত্তর – পতঙ্গপরাগী বা এন্টোমোফিলাস ফুলের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য-গুলি হল— (1) পতঙ্গপরাগী ফুলগুলি সাধারণত বড়ো ও উজ্জ্বল বর্ণের হয়। (2) ফুলগুলি সুগন্ধযুক্ত হয় এবং ফুলে অনেক সময় মকরন্দ সঞ্চিত থাকে। (3) এইজাতীয় ফুলে পরাগরেণুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়। (4) পরাগরেণু অপেক্ষাকৃত বড়ো, আঠালো এবং খসখসে হয়, যাতে সহজে পতঙ্গের গায়ে আটকে যেতে পারে। (5) এইপ্রকার ফুলের গর্ভমুণ্ড সাধারণত ক্ষুদ্রাকার, আঠালো এবং খসখসে হয়। উদাহরণ—আম।

32. পাখিপরাগী বা অরনিথোফিলাস ফুলের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – পাখিপরাগী ফুলের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি হল— (1) এই ধরনের ফুলগুলি আকারে বেশ বড়ো হয়। (2) এই ফুলগুলির বর্ণ উজ্জ্বল প্রকৃতির হয়, এতে পাখিরা সহজে আকৃষ্ট হয়। (3) এইজাতীয় ফুলে যথেষ্ট পরিমাণে মকরন্দ সঞ্চিত থাকে। (4) অনেকক্ষেত্রে এই ফুলের পরাগধানীগুলি পাখির খাদ্য হিসেবে গৃহীত হয়। উদাহরণ-শিমুল।

33. সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের পর্যায়গুলি কী কী?
উত্তর – সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের পর্যায়গুলি হল— (1) পরাগযোগ: পুংকেশর থেকে গর্ভমুণ্ডে পরাগরেণুর স্থানান্তর। (2) নিষেক ও জাইগোট গঠন: পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেটর মিলনে ভ্ৰূণাণু বা জাইগোট সৃষ্টি। (3) ফল ও বীজ গঠন: ভ্রূণাণুর বৃদ্ধির ফলে বীজ তৈরি হয়, একই সঙ্গে তাকে ঘিরে ফলও গঠিত হয়। (4) বীজের অঙ্কুরোদ্গম: বীজ বিস্তারলাভ করলে অনুকূল পরিবেশে তার অঙ্কুরোদ্গম ঘটে। ফলে নতুন অপত্য উদ্ভিদ তৈরি হয়।
34. নিষেক বা গর্ভাধান কাকে বলে?
উত্তর – উদ্ভিদের পুংজননকোশ বা পরাগরেণু ও স্ত্রীজননকোশ বা ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বা গর্ভাধান বা ফার্টিলাইজেশন বলে।
35. নিষেকের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর – নিষেকের গুরুত্বগুলি হল— (1) পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেটের মিলন বা নিষেক না হলে যৌন জননে জাইগোট সৃষ্টি হতে পারবে না। (2) দ্বিনিষেকে উৎপন্ন সস্যতে ভ্রূণের জন্য সস্য সঞ্চিত থাকে। (3) নিষেকের ফলে জাইগোট তৈরি হলে তা থেকে নতুন অপত্য জীব সৃষ্টি হয়। ফল যৌন জননের উদ্দেশ্য সাধিত হয়।
36. মাইক্রোগ্যামেটোজেনেসিস কাকে বলে?
উত্তর – যে পদ্ধতিতে উদ্ভিদ প্রজননের সময় পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে সঞ্চারণের পর তার হ্যাপ্লয়েড নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয় ও 3টি নিউক্লিয়াস সমন্বিত গঠন তৈরি করে, তাকে মাইক্রোগ্যামেটোজেনেসিস বলে। পরাগধানীর মধ্যে রেণু মাতৃকোশ (2n) থেকে মাইক্রোস্পোর বা পরাগরেণু (n) উৎপন্ন হয়। এটি হল পুংলিঙ্গধর উদ্ভিদের প্রথম কোশ। পরাগরেণুর নিউক্লিয়াসটির মাইক্রোগ্যামেটোজেনেসিস পদ্ধতিতে বিভাজন ও পরিস্ফুরণ ঘটে। দুটি পুংজননকোশ ও একটি নালিকা নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।
37. মেগাগ্যামেটোজেনেসিস কাকে বলে?
উত্তর – যে পদ্ধতিতে সপুষ্পক উদ্ভিদের গর্ভাশয়ে হ্যাপ্লয়েড (n) স্ত্রীরেণ মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত ভ্ৰূণস্থলী বা স্ত্রীলিঙ্গধর সৃষ্টি করে, তকে মেগাগ্যামেটোজেনেসিস বলে। এর ফলে ভ্রূণস্থলীতে দুটি সহকারী কোশ (n), একটি ডিম্বাণু (n), দুটি পোলার নিউক্লিয়াস (n), [দুটি মিলে সৃষ্টি করে একটি সস্য নিউক্লিয়াস (2n)] এবং তিনটি প্রতিপাদ নিউক্লিয়াস (n) সৃষ্টি হয়।
38. মেসোগ্যামি কাকে বলে?
উত্তর – সপুষ্পক উদ্ভিদে ডিম্বকত্বক ভেদ করে পরাগনালী ডিম্বকে প্রবেশ করে নিষেক ঘটালে, তাকে মেসোগ্যামি বলে। যেমন—কুমড়ো।
39. পোরোগ্যামি কাকে বলে ?
উত্তর – সপুষ্পক উদ্ভিদে ডিম্বকরন্দ্রের মধ্যে দিয়ে পরাগনালী ডিম্বকে প্রবেশ করে নিষেক সম্পন্ন করলে, তাকে পোরোগ্যামি বলে। যেমন—লিলি।
40. চ্যালাজ়োগ্যামি কাকে বলে?
উত্তর – সপুষ্পক উদ্ভিদে ডিম্বকমূলের মধ্যে দিয়ে পরাগনালী ডিম্বকে প্রবেশ করে নিষেক ঘটালে, তাকে চ্যালাজোগ্যামি বলে। যেমন—ক্যাসুয়ারিনা (Casuarina) |

41. গৰ্ভযন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর – সপুষ্পক উদ্ভিদে ভ্রূণস্থলীর ভিতর ৪টি হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াস-এর ভিতর 3 টি ডিম্বকরন্ধ্রের দিকে অবস্থিত। এই 3 টির মধ্যে একটি ডিম্বাণু ও বাকি দুটি হল সহকারী কোশ। এই তিনটি কোশকে একত্রে গর্ভযন্ত্র (egg apparatus) বলে।
42. সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননে ডেফিনিটিভ বা নির্ণীত নিউক্লিয়াস কীভাবে গঠিত হয় ? এর পরিণতি কী হয় ?
অনুরূপ প্রশ্ন, নির্ণীত নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত? এটি কী গঠন করে ?
উত্তর – ভ্ৰূণস্থলীতে দুটি হ্যাপ্লয়েড পোলার নিউক্লিয়াস মিলিত হয়ে একটি ডিপ্লয়েড ডেফিনিটিভ নিউক্লিয়াস বা নির্ণীত নিউক্লিয়াস গঠন করে।
ডেফিনেটিভ বা নির্ণীত নিউক্লিয়াস (2n) ভ্ৰূণস্থলীতে আগত অপর পুংগ্যামেট দ্বারা নিষিক্ত হয় ও সস্য (3n) গঠন করে।
43. দ্বিনিষেক কাকে বলে? [Hare School] এর গুরুত্ব কী?
অনুরূপ প্রশ্ন, সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেককে দ্বিনিষেক বলে কেন?
উত্তর – দ্বিনিষেক: গুপ্তবীজী উদ্ভিদের দুটি পুংগ্যামেট-এর একটি ডিম্বাণুকে এবং অপরটি ডেফিনিটিভ (নির্ণীত) নিউক্লিয়াসকে নিষিক্ত করার পদ্ধতিকে দ্বিনিষেক বলে। পরপর দুবার নিষেক ঘটার জন্যই একে দ্বিনিষেক বলা হয়ে থাকে।
দ্বিনিষেকের গুরুত্ব: (1) পুংগ্যামেট (n) ও স্ত্রী গ্যামেটের (n) মিলনে ভ্রূণ বা জাইগোট (2n) উৎপন্ন হয়। (2) দ্বিতীয় পুং গ্যামেটের (n) সাথে ডিপ্লয়েড (2n) নির্ণীত নিউক্লিয়াসের মিলনে ট্রিপ্লয়েড (3n) প্রকৃতির সস্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয়। সস্য নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে সস্যকলা গঠন করে যা ভ্রূণের ভবিষ্যতের খাদ্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
44. নীচের কোশগুলিতে ক্রোমোজোম সেট সংখ্যা লেখো (একসেট = n)— (1) প্রতিপাদ কোশ, (2) নির্ণীত নিউক্লিয়াস, (3) নালিকা নিউক্লিয়াস, (4) সস্য নিউক্লিয়াস, (5) পুংগ্যামেট (6) রেণু মাতৃকোশ, (7) ডিম্বাণু মাতৃকোশ।
উত্তর – উল্লিখিত কোশগুলিতে ক্রোমোজোম সেট সংখ্যা হল— (1) প্রতিপাদ কোশ—এক (n), (2) নির্ণীত নিউক্লিয়াস—দুই (2n), (3) নালিকা নিউক্লিয়াস –এক (n), (4) সস্য নিউক্লিয়াস—তিন (3n), (5) পুংগ্যামেট—এক (n), (6) রেণু মাতৃকোশ—দুই (2n), (7) ডিম্বাণু মাতৃকোশ—দুই (2n)।
45. কোনো উদ্ভিদের সস্যে 36টি ক্রোমোজোম থাকলে তার পুংগ্যামেট ও ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত হবে?
উত্তর – গুপ্তবীজী উদ্ভিদের সস্যে 3 সেট ক্রোমোজোম থাকে, অর্থাৎ 3n = 36 । সেই অনুসারে, জননকোশে 1 সেট ক্রোমোজোম থাকে, অর্থাৎ পুংগ্যামেট ও ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম সংখ্যা হবে n=12।
46. ডিম্বকের ভ্রূণস্থলীর মোট নিউক্লিয়াসের সংখ্যা কত? এর মধ্যে কোন্টি নিষেকের পর সস্য গঠন করে ?
উত্তর – ডিম্বকের ভ্রূণস্থলীর মোট নিউক্লিয়াসের সংখ্যা হল 7টি।
নির্ণীত নিউক্লিয়াস (2n) -টি অপর পুংগ্যামেটের সঙ্গে মিলিত হয়ে সস্য গঠন (3n) করে।
47. একটি গাছের পাতার কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা 12 হলে- (1) পরাগরেণু, (2) ডিম্বাণু, (3) পুংদণ্ডকোশ (4) সস্য-এর ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?
উত্তর – পাতার কোশ, অর্থাৎ দেহকোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n = 12 হলে— (1) পরাগরেণুতে রেণুমাতৃকোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n = 12 হবে, এখানে মিয়োসিস দ্বারা উৎপন্ন পুংগ্যামেট বা শুক্রাণুর ক্রোমোজোম সংখ্যা একক সেট, অর্থাৎ n = 6 হবে। (2) ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম সংখ্যা একক সেট, অর্থাৎ n = 6 হবে। (3) পুংদণ্ডকোশে (দেহকোশে) ক্রোমোজোম সংখ্যা 2 সেট (2n) হবে, অর্থাৎ 2n = 12 হবে। (4) সস্যে 3 সেট ক্রোমোজোম, অর্থাৎ 3n = 18 থাকে।
48. একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n = 18 হলে নালিকা নিউক্লিয়াস ও গর্ভদণ্ডের কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?
উত্তর – সপুষ্পক উদ্ভিদের দেহজ নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n = 18 হলে, নালিকা নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম সংখ্যা হবে n = 9 এবং গর্ভদণ্ডের কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n = 18 হবে।
49. নীচের কোশগুলিতে ক্রোমোজোম সেট কয়টি তা লেখো— (1) সহকারী কোশদ্বয়, (2) ডিম্বাণু, (3) নির্ণীত নিউক্লিয়াস এবং (4) প্রতিপাদ কোশত্রয়।
উত্তর – (1) সহকারী কোশদ্বয়ের ক্রোমোজোম সংখ্যা—হ্যাপ্লয়েড (n), (2) ডিম্বাণুর ক্রোমোজোম সংখ্যা—হ্যাপ্লয়েড (n), (3) নির্ণীত নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোম সংখ্যা—ডিপ্লয়েড (2n) এবং (4) প্রতিপাদ কোশত্রয়ের ক্রোমোজোম সংখ্যা—হ্যাপ্লয়েড (n)।
50. বৃতি ও দলমণ্ডলের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর – বৃতি ও দলমণ্ডলের পার্থক্যগুলি হল—
| বিষয় | বৃতি | দলমণ্ডল |
| 1. অবস্থান | ফুলের সবচেয়ে বাইরের স্তবক। | বৃত্তি পরবর্তী ফুলস্তবক। |
| 2. গঠনগত একক | অনেকগুলি বৃত্যংশ নিয়ে বৃতি গঠিত হয় । | অনেকগুলি দলাংশ বা পাপড়ি মিলে দলমণ্ডল গঠিত হয়। |
| 3. বৰ্ণ | সাধারণত সবুজ। | নানা বর্ণের হয়। |
| 4. কাজ | সালোকসংশ্লেষ করা ও কুঁড়ি অবস্থায় অন্যান্য স্তবককে রক্ষা করা। | বাহককে আকৃষ্ট করে পরাগযোগে সাহায্য করা ও জনন স্তবককে রক্ষা করা। |
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো
1. জননের জন্য পরিবর্তিত, সীমিত বৃদ্ধিসম্পন্ন এবং ফল ও বীজ সৃষ্টিকারী বিটপকে বলে—
(a) সম্পূর্ণ ফুল
(b) ফুল
(c) বিটপ
(d) ফল
উত্তর – (b) ফুল
2. ফুল হল একপ্রকার রূপান্তরিত –
(a) মূল
(b) পাতা
(c) পুষ্পবিন্যাস
(d) বিটপ
উত্তর – (d) বিটপ
3. একটি সম্পূর্ণ ফুলের স্তবক সংখ্যা হল—
(a) 3টি
(b) 4টি
(c) 5টি
(d) 6টি
উত্তর – (b) 4টি
4. যেসব ফুলের পুষ্পাক্ষের ওপর বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক এই চারটি স্তবক সাজানো থাকে, তাকে বলে –
(a) সমাঙ্গ ফুল
(b) সম্পূর্ণ ফুল
(c) পুষ্পবিন্যাস
(d) অসম্পূর্ণ ফুল
উত্তর – (b) সম্পূর্ণ ফুল
5. ফুলের সর্বাপেক্ষা বাইরের স্তবক হল —
(a) বৃতি
(b) পুষ্পাক্ষ
(c) দলমণ্ডল
(d) পুংস্তবক
উত্তর – (a) বৃতি
6. ফুলে বৃতি ও দলমণ্ডল না থাকলে, তাকে বলে-
(a) একলিঙ্গ পুষ্প
(b) উভলিঙ্গ পুষ্প
(c) নগ্ন পুষ্প
(d) আদর্শ পুষ্প
উত্তর – (c) নগ্ন পুষ্প
7. কোনো পুষ্পে বৃতি ও পাপড়ি এই দুই স্তবকের পরিবর্তে একটি স্তবক থাকলে, তাকে বলে –
(a) পুষ্পাক্ষ
(b) পুষ্পপুট
(c) নগ্ন পুষ্প
(d) পুষ্পপত্র
উত্তর – (b) পুষ্পপুট
8. পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক জননে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে, তাই এদের বলা হয়—
(a) সাহায্যকারী স্তবক
(b) আনুষঙ্গিক স্তবক
(c) অপরিহার্য স্তবক
(d) অপ্রয়োজনীয় স্তবক
উত্তর – (c) অপরিহার্য স্তবক
9. পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবকের মধ্যে যে-কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে, সেই ফুলকে বলে—
(a) উভলিঙ্গ ফুল
(b) সমাঙ্গ ফুল
(c) অনাবর্ত ফুল
(d) একলিঙ্গ ফুল
উত্তর – (d) একলিঙ্গ ফুল
10. পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক উভয়ই উপস্থিত থাকলে, সেই ফুলকে বলে—
(a) একলিঙ্গ ফুল
(b) উভলিঙ্গ ফুল
(c) বহুপ্রতিসম ফুল
(d)সমাঙ্গ ফুল
উত্তর – (b) উভলিঙ্গ ফুল
11. নীচের যেটি সমাঙ্গ পুষ্প, সেটি হল-
(a) মটর
(b) ধুতরো
(c) অপরাজিতা
(d) বক
উত্তর – (b) ধুতরো
12. একটি অসমাঙ্গ ও উভলিঙ্গ ফুল হল—
(a) অপরাজিতা
(b) কুমড়ো
(c) ধুতরো
(d) জবা
উত্তর – (a) অপরাজিতা
13. একটি অসম্পূর্ণ, সমাঙ্গ, একলিঙ্গ ফুল হল –
(a) জবা
(b) ধুতরো
(c) কুমড়ো
(d) অপরাজিতা
উত্তর – (c) কুমড়ো
14. মটর ফুল হল-
(a) উভলিঙ্গ
(b) একলিঙ্গ
(c) অসম্পূর্ণ ফুল
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (a) উভলিঙ্গ
15. একই উদ্ভিদে পুংপুষ্প, স্ত্রীপুষ্প এবং উভলিঙ্গ পুষ্প জন্মালে, তাকে বলে—
(a) সহবাসী উদ্ভিদ
(b) ভিন্নবাসী উদ্ভিদ
(c) মিশ্রবাসী উদ্ভিদ
(d) প্রবাসী উদ্ভিদ
উত্তর – (c) মিশ্রবাসী উদ্ভিদ
16. একই প্রজাতির কোনো উদ্ভিদের একটিতে পুংপুষ্প এবং অপর একটি উদ্ভিদে স্ত্রীপুষ্প জন্মালে, তাকে বলে—
(a) একপ্রতিসম
(b) সহবাসী
(c) উভলিঙ্গ
(d) ভিন্নবাসী
উত্তর – (d) ভিন্নবাসী
17. নীচের যেটি পুংকেশর চক্র বা পুংস্তবকের অংশ নয়, সেটি হল—
(a) পরাগধানী
(b) পুংদণ্ড
(c) ডিম্বক
(d) পরাগ
উত্তর – (c) ডিম্বক
18. নীচের যেটি স্ত্রীস্তবকের বা গর্ভকেশর চক্রের অংশ নয়, সেটি হল—
(a) গর্ভমুণ্ড
(b) গর্ভদণ্ড
(c) পরাগ
(d) ডিম্বক
উত্তর – (c) পরাগ
19. জবা ফুলের গর্ভমুণ্ডের সংখ্যা –
(a) 2টি
(b) 3টি
(c) 5টি
(d) অসংখ্য
উত্তর – (c) 5টি
20. পরাগযোগ বলতে বোঝায়—
(a) ডিম্বকের মধ্যে পরাগনালীর বৃদ্ধি
(b) পতঙ্গের বিভিন্ন ফুলে বসা
(c) পরাগরেণুর অঙ্কুরণ
(d) পরাগধানী থেকে গর্ভমুণ্ডে পরাগরেণুর স্থানান্তরণ
উত্তর – (d) পরাগধানী থেকে গর্ভমুণ্ডে পরাগরেণুর স্থানান্তরণ
21. কোন্ উদ্ভিদে স্বপরাগযোগ লক্ষ করা যায় ?
(a) পেঁপে
(b) লাউ
(c) শিম
(d) তাল
উত্তর – (c) শিম
22. কোন্টি স্বপরাগী উদ্ভিদ ?
(a) তাল
(b) লাউ
(c) পেঁপে
(d) সন্ধ্যামালতী
উত্তর – (d) সন্ধ্যামালতী
23. একই উদ্ভিদের একই ফুলের মধ্যে পরাগযোগকে বলে—
(a) অটোগ্যামি
(b) গেইটোনোগ্যামি
(c) হেটেরোগ্যামি
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (a) অটোগ্যামি
24. একই উদ্ভিদের দুটি ভিন্ন পুষ্পের মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটলে, তাকে বলে—
(a) হোমোগ্যামি
(b) ক্লিস্টোগ্যামি
(c) গেইটোনোগ্যামি
(d) জেনোগ্যামি
উত্তর – (c) গেইটোনোগ্যামি
25. একই প্রজাতিভুক্ত দুটি উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে ইতর পরাগযোগ ঘটলে, তাকে বলে—
(a) হোমোগ্যামি
(b) ক্লিস্টোগ্যামি
(c) গেইটোনোগ্যামি
(d) জেনোগ্যামি
উত্তর – (d) জেনোগ্যামি
26. কোনো ফুলের পরাগধানী থেকে উৎপন্ন পরাগ একই প্রজাতির অন্য গাছে উৎপন্ন ফুলের গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়ে পরাগযোগ ঘটালে, তাকে বলে—
(a) ইতর পরাগযোগ
(b) হোমোগ্যামি
(c) ক্লিস্টোগ্যামি
(d) গেইটোনোগ্যামি
উত্তর – (a) ইতর পরাগযোগ
27. কোন পরাগযোগের ফলে অপত্য উদ্ভিদে প্রকরণের সম্ভাবনা থাকে?
(a) ইতর পরাগযোগ
(b) স্বপরাগযোগ
(c) A ও B উভয়ই
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (a) ইতর পরাগযোগ
28. নীচের কোন্ উদ্ভিদটি সবচেয়ে উন্নত বলে তুমি মনে কর?
(a) স্বপরাগযোগী উদ্ভিদ
(b) ইতর পরাগযোগী উদ্ভিদ
(c) একই সঙ্গে স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগে সক্ষম উদ্ভিদ
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (c) একই সঙ্গে স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগে সক্ষম উদ্ভিদ
29. নিম্নলিখিত কোন্টি ইতর পরাগযোগের বৈশিষ্ট্য নয়?
(a) এটি কেবলমাত্র একলিঙ্গ ফুলেই ঘটে
(b) এখানে বাহকের প্রয়োজনীয়তা একেবারেই নেই
(c) কোনো ক্ষেত্রে পুরুষ ফুল আগে আবার কখনও স্ত্রী ফুল আগে পরিণত হয়
(d) অপত্য উদ্ভিদের প্রকরণ সৃষ্টি হয়।
উত্তর – (b) এখানে বাহকের প্রয়োজনীয়তা একেবারেই নেই
30. মধুগ্রন্থি কোন্ পরাগযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়?
(a) এন্টোমোফিলি
(b) অরনিথোফিলি
(c) হাইড্রোফিলি
(d) A ও B উভয়ই
উত্তর – (d) A ও B উভয়ই
31. অ্যানিমোফিলির ক্ষেত্রে যার দ্বারা পরাগযোগ ঘটে, তা হল-
(a) জল
(b) পতঙ্গ
(c) বাতাস
(d) পোকা
উত্তর – (c) বাতাস
32. বায়ুপরাগী পুষ্প হল—
(a) ধান
(b)পাতাশ্যাওলা
(c) আম
(d) শিমুল
উত্তর – (a) ধান
33. প্রদত্ত কোন্ বাক্যটি সঠিক ?
(a) পতঙ্গরা, পাতাঝাঁঝি ও পাতাশ্যাওলা উদ্ভিদের পরাগযোগে সহায়তা করে।
(b) পাখি, গোলাপ ও আম উদ্ভিদের পরাগযোগে সহায়তা করে।
(c) জল, শিমুল ও পলাশ উদ্ভিদের পরাগযোগে সহায়তা করে।
(d) বায়ু, ধান ও ভুট্টা উদ্ভিদের পরাগযোগে সহায়তা করে।
উত্তর – (d) বায়ু, ধান ও ভুট্টা উদ্ভিদের পরাগযোগে সহায়তা করে।
34. ধান গাছের ফুলে কোন্ বৈশিষ্ট্যটি অনুপস্থিত ?
(a) মকরন্দযুক্ত
(b) গন্ধহীন
(c) মসৃণ পরাগযোগ
(d) শাখান্বিত গৰ্ভমুণ্ড
উত্তর – (a) মকরন্দযুক্ত
35. নীচের কোন্টি বায়ুপরাগী ফুলের একটি বৈশিষ্ট্য?
(a) ফুলগুলি উজ্জ্বল বর্ণের হয়
(b) ফুলগুলি সুমিষ্ট গন্ধযুক্ত হয়
(c) ফুলে মকরন্দ থাকে
(d) ফুলগুলি আকারে ক্ষুদ্র হয়
উত্তর – (d) ফুলগুলি আকারে ক্ষুদ্র হয়
36. জলপরাগী পুষ্প হল –
(a)আখ
(b) পাতাঝাঁঝি
(c) আম
(d) শিমুল
উত্তর – (b) পাতাঝাঁঝি
37. নীচের যেটির পরাগযোগে জলের প্রয়োজন হয় না, তা হল—
(a) পাতাঝাঝি
(b) ভুট্টা
(c) সেলাজিনেল্লা
(d) পাতাশ্যাওলা
উত্তর – (b) ভুট্টা
38. কীটপতঙ্গের সাহায্যে পরাগযোগকে বলে—
(a) অরনিথোফিলি
(b) ম্যালাকোফিলি
(c) অ্যানথ্রোপোফিলি
(d) এন্টোমোফিলি
উত্তর – (d) এন্টোমোফিলি
39. পতঙ্গপরাগী পুষ্প হল —
(a) ভুট্টা
(b) ঝাঁঝি
(c)আম
(d) শিমুল
উত্তর – (c)আম
40. পলাশ, শিমুল, মাদার প্রভৃতি উদ্ভিদ হল —
(a) বায়ুপরাগী
(b) পক্ষীপরাগী
(c) জলপরাগী
(d) পতঙ্গপরাগী
উত্তর – (b) পক্ষীপরাগী
41. পিঁপড়ে মাধ্যমে পরাগযোগ ঘটে যে উদ্ভিদে –
(a) পাতা শ্যাওলা
(b) শিমুল
(c) পলাশ
(d) আম
উত্তর – (d) আম
42. পাখির সাহায্যে পরাগযোগকে বলে—
(a) এন্টোমোফিলি
(b) অরনিথোফিলি
(c) সাইকোফিলি
(d) অ্যানথ্রোপোফিলি
উত্তর – (b) অরনিথোফিলি
43. শামুকের দ্বারা পরাগযোগকে বলে—
(a) অ্যানিমোফিলি
(b) এন্টোমোফিলি
(c) হাইড্রোফিলি
(d) ম্যালাকোফিলি
উত্তর – (c) হাইড্রোফিলি
44. সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন—
(a) নাওয়াসিন
(b) মহেশ্বরী
(c) ক্যামেরারিয়াস
(d) স্ট্রাসবার্জার
উত্তর – (d) স্ট্রাসবার্জার
45. পরাগরেণু সৃষ্টি হয় —
(a) গর্ভমুণ্ডে
(b) পুংকেশরে
(c) গর্ভকেশরে
(d) পরাগধানীতে
উত্তর – (d) পরাগধানীতে
46. ভ্রূণস্থলী যার অন্তর্গত, তা হল —
(a) পরাগধানী
(b) পরাগনালী
(c) ডিম্বক
(d) সবকটি
উত্তর – (c) ডিম্বক
47. নীচের যেটি থেকে সপুষ্পক উদ্ভিদের ভ্রূণস্থলী তৈরি হয়, তা হল—
(a) ভ্রূণ
(b) মেগাস্পোর
(c) জাইগোট
(d) নিউসেলাস
উত্তর – (b) মেগাস্পোর
দু-একটি শব্দে বা বাক্যে উত্তর দাও
1. উদ্ভিদের জনন অঙ্গ কোন্টি?
উত্তর – ফুল।
2. বিটপের কোন্ অংশ থেকে ফুল উৎপন্ন হয়?
উত্তর – বিটপের অন্তর্গত পুষ্পমুকুল থেকে ফুল উৎপন্ন হয়।
3. বৃত্তের শীর্ষে পুষ্পস্তবকগুলি যে অংশে সাজানো থাকে তাকে কী বলে?
উত্তর – পুষ্পাক্ষ।
4. সম্পূর্ণ ফুলে কতগুলি স্তবক থাকে?
উত্তর – চারটি।
5. কোন্ প্রকার ফুলকে বহুপ্রতিসম ফুল বলা হয় ?
উত্তর – সমাঙ্গ ফুলকে বহুপ্রতিসম ফুল বলা হয়।
6. বৃত্যংশ কী?
উত্তর – সাধারণত বৃতি কতকগুলি সবুজ পাতার মতো অংশ দ্বারা গঠিত। এই সবুজ অংশ বা একককে বৃত্যংশ বা সেপাল বলে।
7. উপবৃতি কী ?
উত্তর – কোনো কোনো ফুলে বৃতির নীচে সবুজ বর্ণের পাতার মতো অংশ থাকে, তাদের উপবৃতি বা এপিক্যালিক্স বলে।
8. দলমণ্ডল কাকে বলে?
উত্তর – পাপড়ি বা দলাংশ দ্বারা গঠিত ফুলের বৃত্তির ভিতরের দিকে থাকা রঙিন বা সাদা দ্বিতীয় স্তবককে দলমণ্ডল বা করোলা বলে।
9. দলমণ্ডলের প্রত্যেকটি অংশকে কী বলে?
উত্তর – দলাংশ বা পাপড়ি।
10. পুংদণ্ড ও পরাগধানী নিয়ে গঠিত পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে কী বলে?
উত্তর – পুংকেশর।
11. ফুলের পুংজননকোশ কোন্ অংশ থেকে উৎপন্ন হয়?
উত্তর – ফুলের পুংজননকোশ পরাগরেণু থেকে উৎপন্ন হয়।
12. পাতাঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পুংপুষ্পে কতগুলি পুংকেশর থাকে?
উত্তর –30-40টি।
13. ফুলের প্রতিটি গর্ভপত্রের কয়টি অংশ থাকে?
উত্তর – ফুলের প্রতিটি গর্ভপত্রে তিনটি অংশ থাকে, যথা—গর্ভমুণ্ড, গর্ভদণ্ড ও গর্ভাশয় বা ডিম্বাশয়।
14. ডিম্বাশয়ের সঙ্গে যুক্ত যে সরু দণ্ডটি গর্ভমুণ্ডকে ধারণ করে তাকে কী বলে?
উত্তর – গর্ভদণ্ড বা স্টাইল।
15. গর্ভপত্রের মধ্যে ডিম্বক কোথায় থাকে?
উত্তর – গর্ভপত্রের মধ্যে ডিম্বক ডিম্বাশয়ে থাকে।
16. একটি ক্লীব পুষ্পের উদাহরণ দাও।
উত্তর – কচু ফুল ।
17. অটোগ্যামি কী?
উত্তর – একই জীবের দুটি গ্যামেটের মিলন বা স্বনিষেককে অটোগ্যামি বলে উদ্ভিদের স্বপরাগযোগ হল অটোগ্যামির উদাহরণ।
18. পরাগযোগের অজৈব বাহকের নাম লেখো।
উত্তর – বায়ু এবং জল।
19. পরাগযোগের দুটি জৈব বাহকের নাম লেখো।
উত্তর – পতঙ্গ ও পাখি।
20. একটি বায়ুপরাগী বা অ্যানিমোফিলাস উদ্ভিদের সাধারণ নাম ও বিজ্ঞানসম্মত নাম লেখো।
উত্তর – একটি বায়ুপরাগী উদ্ভিদের সাধারণ নাম হল ধান এবং বিজ্ঞানসম্মত নাম হল Oryza sativa (ওরাইজা স্যাটাইভা)।
21. গম ও নারকেল গাছের পরাগযোগের বাহকের নাম লেখো।
উত্তর – বায়ু।
22. একটি জলপরাগী বা হাইড্রোফিলাস উদ্ভিদের সাধারণ নাম ও বিজ্ঞানসম্মত নাম লেখো।
উত্তর – একটি জলপরাগী উদ্ভিদের সাধারণ নাম হল পাতাঝাঁঝি এবং বিজ্ঞানসম্মত নাম Hydrilla verticillata (হাইড্রিলা ভার্টিসিলাটা)।
23. একটি পতঙ্গপরাগী বা এন্টোমোফিলাস উদ্ভিদের সাধারণ নাম ও বিজ্ঞানসম্মত নাম লেখো।
উত্তর – একটি পতঙ্গপরাগী উদ্ভিদের সাধারণ নাম হল আম এবং বিজ্ঞানসম্মত নাম Mangifera indica (ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা)।
24. জুফিলি কাকে বলে ?
উত্তর – কোনো প্রাণী দ্বারা পরাগযোগ ঘটলে সেই পরাগযোগকে জুফিলি বলে। যেমন—শিমুলের পরাগযোগ।
25. একটি পক্ষীপরাগী বা অরনিথোফিলাস উদ্ভিদের সাধারণ নাম ও বিজ্ঞানসম্মত নাম লেখো।
উত্তর – একটি পক্ষীপরাগী বা অরনিথোফিলাস উদ্ভিদের সাধারণ নাম হল শিমুল ও বিজ্ঞানসম্মত নাম হল Bombax ceiba (বমব্যাক্স সিবা)।
26. রেণু মাতৃকোশ কোন্ প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে পরাগরেণু গঠন করে ?
উত্তর – রেণু মাতৃকোশ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে পরাগরেণু গঠন করে।
27. পুংলিঙ্গধরের প্রথম কোশের নাম কী ?
উত্তর – পরাগরেণু।
28. পরাগধানীতে অবস্থিত পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে কী কী উৎপন্ন করে?
উত্তর – জেনেরেটিভ বা জনন নিউক্লিয়াস ও একটি নালিকা নিউক্লিয়াস।
29. পুংজননকোশ এবং স্ত্রীজননকোশের মিলনকে কী বলে?
উত্তর – নিষেক বা ফার্টিলাইজেশন।
30. নির্ণীত নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?
উত্তর – 2n
31. কোনো ভ্রূণস্থলীর প্রতিপাদ কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা n হলে নির্ণীত নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?
উত্তর – 2n
32. সস্য নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?
উত্তর – 3n
33. নিষেকের পরে সস্য নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?
উত্তর – নিষেকের পরে সস্য নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে সস্যে পরিণত হয়।
34. জাইগোট মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে কী উৎপন্ন করে?
উত্তর – ভ্রূণ বা এমব্রায়ো।
35. নিষেকের ফলে ডিম্বকত্বক কীসে পরিবর্তিত হয়?
উত্তর – নিষেকের ফলে ডিম্বকত্বক বীজত্বকে পরিবর্তিত হয়।
36. ফুলের কোন্ দুটি অংশ রূপান্তরিত হয়ে যথাক্রমে ফল ও বীজ সৃষ্টি হয়?
উত্তর – ফুলের ডিম্বাশয় ও ডিম্বক অংশ দুটি রূপান্তরিত হয়ে যথাক্রমে ফল ও বীজ সৃষ্টি করে।
37. ভ্ৰূণাক্ষ কী ?
উত্তর – ভ্রূণের যে দণ্ডাকার অংশ থেকে ভ্রূণমূল ও ভ্ৰূণমুকুল গঠিত হয়, তাকে ভ্ৰূণাক্ষ বলে।
38. পরাগনালিকা কী?
উত্তর – পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে আবদ্ধ হওয়ার পর তা অঙ্কুরিত হয়ে সৃষ্ট যে নলাকার গঠন দ্বারা পুংগ্যামেট ডিম্বকের মধ্যে পৌঁছোয় তাকে পরাগনালিকা বলে।
শূন্যস্থান পূরণ করো
1. ফুলকে উদ্ভিদের ………… অঙ্গ বলে।
উত্তর – জনন
2. ফুলকে গাছের শাখাপ্রশাখার সঙ্গে যুক্ত রাখে …………।
উত্তর – পুষ্পবৃত্ত
3. বৃতি ও দলমণ্ডল হল ফুলের ………… স্তবক।
উত্তর – সাহায্যকারী
4. পুংকেশর চক্র ও গর্ভকেশর চক্র হল ফুলের ………. স্তবক।
উত্তর – জনন
5. বৃতির পাতার মতো অংশকে ……….. বলে।
উত্তর – বৃত্যংশ
6. দলমণ্ডলের প্রতিটি অংশগুলিকে ……… বলে।
উত্তর – দলাংশ
7. পুংস্তবকের নীচের দিকের দণ্ডাকার অংশকে ………. বলে।
উত্তর – পুংদণ্ড
8. পুংদণ্ডের মাথায় অবস্থিত অংশকে ……….. বলে।
উত্তর – পরাগধানী
9. দুটি পরাগধানীর মাঝে অবস্থিত প্যারেনকাইমা কোশ দিয়ে তৈরি অংশকে ………. বলে।
উত্তর – যোজক
10. পরাগরেণু বিভাজিত হয়ে ………. গঠন করে।
উত্তর – পুংগ্যামেট
11. স্ত্রীম্ভবকের প্রতিটি একক অংশকে ……….. বলে।
উত্তর – গর্ভপত্র
12. গর্ভদণ্ডের মাথায় সামান্য স্ফীত অংশকে ……… বলে।
উত্তর – গর্ভমুক্ত
13. পরাগরেণু ফুলের ………. স্থাপিত হয়।
উত্তর – গর্ভমুণ্ডে
14. একই উদ্ভিদের দুটি ফুলের মধ্যে পরাগযোগকে ………… বলে।
উত্তর – গেইটোনোগ্যামি
15. একলিঙ্গ ফুলের স্বপরাগযোগ ঘটে যদি উদ্ভিদটি ………. হয়।
উত্তর – সহবাসী
16. ……….. পরাগযোগে পরাগরেণুর স্থানান্তকরণের জন্য বাহকের প্রয়োজন আবশ্যিক।
উত্তর – ইতর
17. জেনোগ্যামি ………. পরাগযোগের অন্তর্গত।
উত্তর – ইতর
18. বাদুড়ের দ্বারা পরাগযোগকে বলা হয় ………..।
উত্তর – কাইরোপটেরোফিলি
19. দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেটের মিলনে ডিপ্লয়েড ……….. গঠিত হয়।
উত্তর – জাইগোট
20. পরাগনালী ডিম্বকরন্ধ্র পথে ডিম্বকে প্রবেশ করলে, তাকে ………… বলে।
উত্তর – পোরোগ্যামি
21. পরাগনালী ডিম্বকমূল পথে প্রবেশ করলে, তাকে ……….. বলে।
উত্তর – চ্যালাজোগ্যামি
22. সপুষ্পক উদ্ভিদের সক্রিয় ………… কোশ থেকে ভ্ৰূণস্থলী গঠিত হয়।
উত্তর – সক্রিয় স্ত্রীরেণু
23, সক্রিয় স্ত্রীরেণু মাইটোসিস পদ্ধতিতে ……….. নিউক্লিয়াসযুক্ত ভ্রূণস্থলী গঠন করে।
উত্তর – ৪টি
24. সপুষ্পক গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর দু-পাশে ………… কোশ থাকে।
উত্তর – সহকারী
25. দুটি পোলার নিউক্লিয়াস (n) ভ্ৰূণস্থলীতে মিলিত হয়ে ………. নিউক্লিয়াস (2n) তৈরি করে।
উত্তর – নির্ণীত
26. পুং-জননকোশ ও স্ত্রী-জননকোশের মিলনকে ………. বলে।
উত্তর – নিষেক
27. নিষিক্ত নির্ণীত নিউক্লিয়াস থেকে ……….. গঠিত হয়।
উত্তর – সস্য
28. বীজপত্র, ভ্ৰূণমুকুল ও ভ্রূণমূল ……….. থেকে গঠিত হয়।
উত্তর – ভ্রুণ
29. ডিম্বক নিষেকের পর ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে …………. সৃষ্টি করে।
উত্তর – বীজ
30. ………. মধ্যে ভবিষ্যতের গাছ বা ভ্রূণ অবস্থান করে।
উত্তর – বীজের
31. ভ্ৰূণমূল থেকে ………… গঠিত হয়।
উত্তর – মূলতন্ত্র
32. ভ্ৰূণমুকুল থেকে ……….. গঠিত হয়।
উত্তর – বিটপ
