WBBSE 10th Class Science Solutions Biology Chapter 2 জীবনের প্রবহমানতা (TOPIC 4 বৃদ্ধি ও বিকাশ)
WBBSE 10th Class Science Solutions Biology Chapter 2 জীবনের প্রবহমানতা (TOPIC 4 বৃদ্ধি ও বিকাশ)
West Bengal Board 10th Class Science Solutions Biology Chapter 2 জীবনের প্রবহমানতা (TOPIC 4 বৃদ্ধি ও বিকাশ)
West Bengal Board 10th Biology Solutions
TOPIC 4 বৃদ্ধি ও বিকাশ
বিষয়সংক্ষেপ
- জীবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বৃদ্ধি। যে উপচিতি প্রক্রিয়ায় জীবের আকার, আয়তন এবং দেহের শুষ্ক ওজন স্থায়ীভাবে বাড়ে, তাকে বৃদ্ধি বলা হয়। পক্ষান্তরে জীবের দেহে জটিলতা বৃদ্ধির ঘটনাকে বিকাশ বলা হয়।
- বৃদ্ধির তিনটি দশা—কোশ বিভাজন দশা, কোশীয় আকার বৃদ্ধিকরণ দশা এবং কোশ বিভেদন দশা।
- কোশ বিভাজন দশায় কোশের সংখ্যা বাড়ে, কোশীয় আকার বৃদ্ধিকরণ দশায় কোশের প্রোটোপ্লাজম বৃদ্ধি পায় আর কোশ বিভেদন দশায় কোশগুলি পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত কোশ বা কলা এবং কলাতন্ত্র তৈরি করে।
- সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনে দৈহিক, মানসিক ও আবেগ সংক্রান্ত পরিবর্তনের ঘটনাকে বলে মানব বিকাশ। মানব জীবনে বিকাশের পাঁচটি দশা দেখা যায়। যেমন—সদ্যোজাত, শৈশব, বয়ঃসন্ধি, পরিণত দশা এবং অন্তিম পরিণতি দশা বা বার্ধক্য দশা। প্রতিটি দশায় নির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
1. বৃদ্ধি কাকে বলে? প্রকৃতি অনুযায়ী জীবের বৃদ্ধির তিনটি ধরন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর – বৃদ্ধি: যে উপচিতি বিপাকক্রিয়ায় কোশ বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহের আকার, আয়তন ও শুষ্ক ওজন সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে স্থায়ী এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে বেড়ে যায়, তাকে বৃদ্ধি বলে।
জীবের বৃদ্ধির ধরন: জীবদেহের বৃদ্ধি তিনটি ভিন্ন প্রকৃতিতে হতে পারে, নীচে এই তিন প্রকার বৃদ্ধির সংজ্ঞা দেওয়া হল।
- অঙ্গজ বৃদ্ধি বা দৈহিক বৃদ্ধি: এইপ্রকার বৃদ্ধির ফলে এককোশী ভ্রূণাণু থেকে বহুকোশী পূর্ণাঙ্গ জীবদেহ সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের জীবনচক্রে বীজের অঙ্কুরোদ্গম, চারাগাছের সৃষ্টি, পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদদেহ সৃষ্টি পর্যন্ত সময়কালকে অঙ্গজ বা দৈহিক বৃদ্ধি বলে।
- পুনরুৎপাদনমূলক বৃদ্ধি: এইপ্রকার বৃদ্ধির ফলে জীবদেহের জীর্ণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত স্থানগুলির নিরাময় হয় এবং দেহ পুনর্গঠিত হয়ে স্বাভাবিক আকার ধারণ করে।
- জননগত বৃদ্ধি: এইপ্রকার বৃদ্ধির দ্বারা জীবদেহের জনন-অঙ্গসমূহের পূর্ণতাপ্রাপ্তি ঘটে থাকে। পরিণত উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ফুল, ফল এবং বীজ গঠনকে এবং প্রাণীদের ক্ষেত্রে জননাঙ্গ গঠন ও তাদের বৃদ্ধিকে জননগত বৃদ্ধি বলা হয় ।
2. বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রধান তিনটি দশার নাম লেখো। এদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর – বৃদ্ধির প্রধান তিনটি দশা: বহুকোশী জীবের বৃদ্ধিকে প্রধান তিনটি দশায় ভাগ করা যায়। এই দশাগুলি হল— (1) কোশ বিভাজন দশা, (2) কোশীয় আকার বৃদ্ধিকরণ দশা এবং (3) কোশীয় বিভেদন দশা।
বৃদ্ধির দশাগুলির বিবরণ: বৃদ্ধির তিনটি দশা সম্পর্কে নীচে বর্ণনা করা হল।
- কোশ বিভাজন দশা: এই দশায় কোশ মূলত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে নতুন কোশ উৎপন্ন করে। ফলে কোশের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। উদ্ভিদে প্রধানত অগ্রস্থ ও পার্শ্বস্থ ভাজক কলার বিভাজনের দ্বারা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি ঘটে। প্রাণীদের ক্ষেত্রে এককোশী ভ্রুণাণু থেকে মাইটোসিস বিভাজনের দ্বারা মরুলা, ব্লাস্টুলা, গ্যাস্টুলা দশার মাধ্যমে বহুকোশী প্রাণীদেহ গঠিত হয়।

- কোশীয় আকার বৃদ্ধিকরণ দশা: এই দশায় বিভাজিত কোশগুলি জল শোষণ করে ও প্রোটোপ্লাজম সংশ্লেষ করে। ফলে কোশের আকার অপরিবর্তনীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। অনেকক্ষেত্রে আকারের এই বৃদ্ধি বহিঃকোশীয় প্রকৃতির হয়। যেমন—অস্থি ও তরুণাস্থি কলাকোশ ক্ষরিত ধাত্র এই কলার আয়তন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- কোশীয় বিভেদন দশা: এই দশায় অপত্য কোশগুলির বিশেষত্ব লাভ করে। কোশগুলি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত কোশ, কলা ও কলাতন্ত্র গঠন করে। পরিবর্ধন ও বিভেদনের মাধ্যমে কোশগুলি পরিণত হয় ও ভিন্ন ভিন্নভাবে বিন্যস্ত হয়ে পৃথক পৃথক অঙ্গ সৃষ্টি করে।
3. মানব বিকাশের প্রধান পাঁচটি দশার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর – মানব বিকাশের প্রধান পাঁচটি দশা: মানব বিকাশের প্রধান পাঁচটি দশা হল—সদ্যোজাত, শৈশব, বয়ঃসন্ধি, পরিণত দশা ও অন্তিম পরিণতি দশা বা বার্ধক্য।
- সদ্যোজাত: জন্মের সময় থেকে শুরু করে প্রথম মাস পর্যন্ত সময়কালকে সদ্যোজাত দশা বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য: [i] এই দশায় শিশু অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে কাটায়। শিশু মায়ের মুখ, প্রাথমিক বর্ণ, আলো প্রভৃতি চিনতে পারে। [ii] এইসময়ে শিশুর দেহে বিপাকের হার খুব বেশি থাকে। [iii] এইসময়ে ওজন সামান্য হ্রাস পেলেও কিছুদিন পরে তা পুনরায় বাড়তে থাকে। [iv] সদ্যোজাতদের কান্না ও হাসি হল মনের ভাবপ্রকাশের উপায়।
- শৈশব: সাধারণত জীবনের দ্বিতীয় মাস থেকে 10 বছর বয়স পর্যন্ত সময়কালকে শৈশব বলে।
বৈশিষ্ট্য: [i] এইসময়ে সদ্যোজাত শিশুর মাথার আকার দেহের সাপেক্ষে ছোটো হয়, তবে হাত ও পায়ের বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। [iI] পরবর্তী ধাপে চেষ্টীয় ক্রিয়াগুলি (যেমন—লেখা, দৌড়োনো) বিকশিত হয় ও শিশুদের বৃদ্ধি, স্মৃতি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। [iii] এইসময়ে ভয়, আনন্দ প্রভৃতি আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটলেও বিভিন্ন সূক্ষ্ম অনুভূতির বিকাশ ধীরে হয়। - বয়ঃসন্ধি বা কৈশোর: শৈশব ও পরিণত দশার মধ্যবর্তী পর্যায় হল বয়ঃসন্ধি বা কৈশোর। সাধারণত 10-19 বছর (WHO অনুযায়ী) বয়সকালকে বয়ঃসন্ধিকাল হিসেবে গণ্য করা হয়। ব্যক্তি, লিঙ্গ, পরিবেশ ও অঞ্চলভেদে বয়ঃসন্ধি আগমনের সময় ভিন্ন হয়।
বৈশিষ্ট্য: [i] এই পর্যায়ে ছেলেমেয়েদের দৈহিক, মানসিক, সামাজিক এবং প্রাক্ষোভিক দিকের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। যেমন— এই সময়ে দৈহিক বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। [ii] সাধারণত এইসময় থেকে যৌন চেতনার উন্মেষ ঘটে ও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। [iii] মনোযোগ, চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও বুদ্ধির বিকাশ দ্রুত ঘটে। [iv] বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পায়। এইসব কারণে বয়ঃসন্ধিকালকে ঝড়ঝঞ্ঝার কাল বলা হয়।
- পরিণত দশা বা প্রাপ্তবয়স্ককাল: 19-60 বছর বয়সিদের পরিণত দশার অন্তর্গত বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য: [i] এইসময় দৈহিক বৃদ্ধি ক্রমশ হ্রাস পায় ও ক্রমে একেবারে বন্ধ হয়। [ii] পরিণত দশার মানুষদের নিজের ও পরিবার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়। [iii] এই পর্যায়ে মানুষদের জীবন সম্বন্ধে অভিজ্ঞতাও ক্রমশ বাড়তে থাকে।
- অন্তিম পরিণতি দশা বা বার্ধক্য দশা: 60 বছর বয়সের পরবর্তী সময়কালকে অন্তিম পরিণতি দশা বা বার্ধক্য দশা বলে।
বৈশিষ্ট্য: [i] এই দশায় দেহের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে এবং ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি ক্রমশ হ্রাস পায়। [ii] অস্থি ও অস্থিসন্ধির ক্ষয়ের ফলে এইসময় অস্থিজনিত বিভিন্ন রোগ, যথা—অস্টিওপোরোসিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস দেখা দেয়। [iii] এইসময়ে চুলের বর্ণ ধূসর হয় ও ত্বক কুঞ্চিত হয়। [iv] এই দশায় ব্যক্তির স্মৃতিহ্রাস, অবসাদ ও হীনমন্যতা প্রভৃতি মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

4. বয়ঃসন্ধিকাল কাকে বলে? বয়ঃসন্ধিকালে পুরুষ ও স্ত্রীদেহে কী কী পরিবর্তন ঘটে তা লেখো।
উত্তর – বয়ঃসন্ধিকাল: যে বয়সে নারী ও পুরুষের দেহে গৌণ যৌন লক্ষণগুলি প্রকাশিত হয় এবং একই সঙ্গে মুখ্য যৌনাঙ্গের অন্তঃক্ষরণধর্মী কাজ ও জননকোশের উৎপাদন শুরু হয়, সেই বয়সকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। সাধারণত 10-19 বছর বয়স পর্যন্ত সময়কাল বয়ঃসন্ধিকালের অন্তর্ভুক্ত।
বয়ঃসন্ধিকালে পুরুষ ও স্ত্রীদেছে পরিবর্তন
- পুরুষের দেহে পরিবর্তন: এইসময় পুরুষদের দৈহিক পরিবর্তনগুলি হল—[i] দৈহিক ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। [ii] তেল ও ঘর্মক্ষরণকারী গ্রন্থির সক্রিয়তার ফলে মুখমণ্ডলে ব্রণ হয়। [iii] বক্ষ, বগল, মুখমণ্ডল এবং পিউবিক অঞ্চলে লোম ও চুল গঠিত হয়। [iv] পেশি ও অস্থি শক্তিশালী ও কঠিন হয়। [v] দেহের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলির পূর্ণ বিকাশ ঘটে। [vi] কণ্ঠস্বর ভারী হয়। [vii] পুরুষের জননাঙ্গের পরিণতি-প্রাপ্তি ঘটে।
- স্ত্রীদেহে পরিবর্তন: এইসময় নারীদের দৈহিক পরিবর্তনগুলি হল— [i] দৈহিক ওজন ও উচ্চতার বৃদ্ধি ঘটে। [ii] ত্বকের নীচে মেদ জমায় দেহে নমনীয় ভাব দেখা যায়। [iii] স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি ঘটে। [iv] নারীত্বের লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। [v] তেল ও ঘর্মগ্রন্থির সক্রিয়তার কারণে মুখে ব্রণ গঠিত হয়। [vi] পিউবিক অঞ্চলে লোম ও চুল গঠিত হয়। [vii] নারীদেহে জননাঙ্গের পরিণতিপ্রাপ্তি ঘটে। [viii] রজঃচক্র শুরু হয়।
5. বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো। বৃদ্ধির শর্তগুলি আলোচনা করো।
উত্তর – বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য: (1) কোশ বিভাজন, কোশের আকার পরিবর্তন দ্বারা বৃদ্ধি ঘটে। (2) বৃদ্ধির দ্বারা জীবের আকার, আয়তন ও শুষ্ক ওজনের স্থায়ী, ধনাত্মক পরিবর্তন ঘটে। (3) জীবের জীবনকালে বৃদ্ধির হার বিভিন্ন হতে পারে। (4) বৃদ্ধির সময় উপচিতি বিপাক অপচিতি বিপাকের তুলনায় বেশি মাত্রায় ঘটে। (5) প্রাণী ও উদ্ভিদের বৃদ্ধির ধরন পৃথক হয়। উদ্ভিদের বৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রেই আমৃত্যু হয়।
বৃদ্ধির শর্ত: বৃদ্ধির শর্তগুলিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়— (1) বাহ্যিক শর্ত, (2) অভ্যন্তরীণ শর্ত।
- বাহ্যিক শর্ত: [i] জল: প্রোটোপ্লাজমে উপচিতি বিপাকের জন্য জল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। [ii] তাপমাত্রা: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বিস্তারে জীবের বৃদ্ধি ভালো ঘটে। [iii] আলো: উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সালোকসংশ্লেষ ও প্রাণীর হাড়ের বৃদ্ধিতে আলোর গুরুত্ব অপরিসীম। উল্লেখ্য, সালোকসংশ্লেষ প্রোটোপ্লাজমীয় ওজন বৃদ্ধি করে।
- অভ্যন্তরীণ শর্ত: [i] হরমোন: উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে অক্সিন, জিব্বেরেলিন আর প্রাণীর বৃদ্ধিতে গ্রোথ হরমোন, থাইরক্সিন ও যৌন হরমোনগুলির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। [ii] জিনগত গঠন: কোনো জীবের জিনগত বৈশিষ্ট্য তার বৃদ্ধির হার নির্ণয়ে মুখ্য ভূমিকা নেয়।
6. মানুষের বৃদ্ধি ও বিকাশের পার্থক্য লেখো।
উত্তর – মানুষের বৃদ্ধি ও বিকাশের পার্থক্য

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
1. ধনাত্মক বৃদ্ধি বলতে কী বোঝ?
উত্তর – অপচিতিমূলক বিপাক অপেক্ষা উপচিতিমূলক বিপাকের পরিমাণ বেশি হলে কোশের শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনাকে বলা হয় ধনাত্মক বৃদ্ধি। যেমন—মুখ্য বৃদ্ধিকালে জীবদেহে যে প্রকার বৃদ্ধি ঘটে তা ধনাত্মক বৃদ্ধি।
2. কোশীয় আকার বৃদ্ধি দশা বলতে কী বোঝ ?
উত্তর – জীববৃদ্ধির দ্বিতীয় দশায় কোশ বিভাজনের পর কোশের প্রোটোপ্লাজমীয় আকার অপরিবর্তনীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। অন্তঃকোশীয় ও বহিঃকোশীয় উপাদান সংশ্লেষ দ্বারা তা ঘটে থাকে। একেই কোশীয় আকার বৃদ্ধি দশা বলে।
3. কোশীয় বিভেদন দশা কাকে বলে?
উত্তর – জীব বৃদ্ধির তৃতীয় তথা সর্বশেষ যে দশায় পূর্ণ আয়তন কোশগুলি নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে বিশেষ বিশেষ কলাকোশে পরিবর্তিত হয় তাকে কোশীয় বিভেদন দশা বলে। যেমন—মানবদেহে স্নায়ুকোশ ও পেশিকোশ বিভেদন।
4. বৃদ্ধির দশা হিসেবে বিভেদন দশার তাৎপর্য কী?
উত্তর – কোশীয় বিভেদন দশায় বিভাজিত কোশগুলি তাদের কাজ অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় ও পরিণত হয়ে ওঠে। এভাবে নানাপ্রকার কলা তথা কলাতন্ত্র তৈরি করে দেহ প্রয়োজনমতো সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারে। যেমন— মানবদেহে বিভেদন দ্বারা স্নায়ুকোশ ও পেশিকোশের সৃষ্টি হয়।
5. বিকাশ কাকে বলে?
উত্তর – জাইগোট বা ঘৃণাণু থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত প্রতিটি জীবের জীবনচক্রে বৃদ্ধি ও তৎ-পরবর্তী বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে সংঘটিত যাবতীয় ঘটনাকে একত্রে বিকাশ বলে।
6. মানব বিকাশ বলতে কী বোঝ ?
উত্তর – সময়ের সঙ্গে মানুষের জৈবিক, মানসিক ও আবেগ-সংক্রান্ত পরিবর্তন হল মানব বিকাশ। এই বিকাশের ফলে মানুষ শৈশব থেকে পরিণত দশায় পৌঁছোয় ও শেষে বার্ধক্য লাভ করে।
7. মানব বৃদ্ধি বলতে কী বোঝ?
উত্তর – একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মানবদেহের আকার, আয়তন, ওজন ও উচ্চতার স্বতঃস্ফূর্ত, স্থায়ী পরিবর্তনই হল মানব বৃদ্ধি।
8. প্রিন্যাটাল বা প্রাক্জন্মস্তর বলতে কী বোঝ ?
উত্তর – গর্ভসঞ্চার থেকে শিশু জন্মাবার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত সময়কালকে (প্রায় 10 মাস) প্রাক্জন্মস্তর বলে। এই সময়কালে শিশু মাতৃগর্ভে থাকে।
9. সদ্যোজাত অবস্থা বলতে কী বোঝ?
উত্তর – শিশুর প্রসব থেকে প্রথম মাস (0-28 দিন) পর্যন্ত সময়কালকে সদ্যোজাত অবস্থা বলে। এইসময় শিশু সম্পূর্ণরূপে অন্যের ওপর নির্ভরশীল।
10. সদ্যোজাতের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর – সদ্যোজাতের বৈশিষ্ট্যগুলি হল— (1) এই সময়ে মায়ের মুখ, প্রাথমিক বর্ণ, শব্দ, আলো প্রভৃতি চিনতে পারে। (2) কান্না হল এদের একমাত্র মনের ভাবপ্রকাশের উপায়। (3) জন্মের ঠিক পর দেহের ওজন সামান্য হ্রাস পেলেও তারপরে বৃদ্ধি দ্রুতগতিতে ঘটে।
11. শৈশবকাল কাকে বলে ?
উত্তর – জীবনের দ্বিতীয় মাস থেকে 10 বছর বয়স পর্যন্ত সময়কাল হল শৈশবকাল। এইসময়ে দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, প্রাক্ষোভিক সব ধরনের বিকাশের হার বৃদ্ধি পায়, বিভিন্ন ধরনের চেষ্টীয় ক্রিয়াগুলি বিকশিত হয় কিন্তু সূক্ষ্ম অনুভূতির বিকাশ ধীরে হয়।
12. শৈশবের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর – শৈশবকালে বৈশিষ্ট্যগুলি হল— (1) সদ্যোজাতর মাথার আকার দেহের সাপেক্ষে ছোটো হয়, তবে হাত-পা তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধি পেতে থাকে। (2) শিশুর বৃদ্ধি মাঝারি মাত্রায় ঘটে। (3) চেষ্টীয় ক্রিয়াগুলি (যেমন—লেখা, দৌড়ানো) বিকশিত হয়। (4) শিশুদের বুদ্ধি, স্মৃতি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। (5) ভয়, আনন্দ প্রভৃতি আবেগের বহিঃপ্রকাশ শুরু হয়। অন্যের জন্য চিন্তা করার মতো সূক্ষ্ম অনুভূতির বিকাশ ধীরে হয়।
13. জীবের বৃদ্ধির প্রথম দশা ও তৃতীয় দশার নাম উল্লেখ করে প্রতিটি দশার একটি করে বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – প্রথম দশা হল সদ্যোজাত দশা, বৈশিষ্ট্য—হাসি ও কান্না হল মনের ভাব প্রকাশের উপায়।
তৃতীয় দশা হল বয়ঃসন্ধি দশা, বৈশিষ্ট্য—দেহের উন্নতি, বৃদ্ধি ও তীব্র মানসিক আবেগ সৃষ্টি হওয়া।
14. বয়ঃসন্ধিকালের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – বয়ঃসন্ধিকালের তিনটি বৈশিষ্ট্য হল— (1) এইসময়ে দৈহিক বৃদ্ধিদ্রুত ঘটে। (2) সাধারণত এই সময় থেকেই যৌন চেতনার উন্মেষ ঘটে ও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। (3) মনোযোগ, চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও বুদ্ধির বিকাশ দ্রুত ঘটে।
15. মানব বিকাশের ক্ষেত্রে পরিণত অবস্থা বলতে কী বোঝ ?
উত্তর – 19 বছর থেকে 60 বছর বয়স পর্যন্ত সময়কালকে সামগ্রিকভাবে পরিণত দশা বলা হয়। এইসময়ে দৈহিক বৃদ্ধি হ্রাস পায় ও ক্রমশ বন্ধ হয়, পক্ষান্তরে দায়িত্ববোধ অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
16. বৃদ্ধি ও বিকাশের সম্পর্ক লেখো।
অথবা, ‘বৃদ্ধি ছাড়া বিকাশ সম্ভব নয়’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর – বৃদ্ধি ছাড়া বিকাশ সম্ভব নয়। বিকাশ হল একটি বৃহত্তর জীবন বৈশিষ্ট্য। সাধারণত কোনো জীবের পরিমাণগত অর্থাৎ দেহের শুষ্ক ওজনের পরিবর্তন ঘটার মাধ্যমে বৃদ্ধি সম্পন্ন হয়। কিন্তু বিকাশে শুধুমাত্র জীবদেহের পরিমাণগতই নয়, গুণগত পরিবর্তনও হয়ে থাকে। বহুকোশী জীবে কোশীয় বিভেদন দশায় উৎপন্ন বিভিন্ন কলা ও কলাতন্ত্র জীবদেহের জটিলতা বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ ক্রমেই জীবের বিকাশ ঘটে জাইগোট থেকে জটিল পূর্ণাঙ্গ প্রাণী সৃষ্টি, বৃদ্ধি ছাড়া সম্ভব নয় এবং প্রাণীর বৃদ্ধি না হলে তার বিকাশও সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, বিকাশ বৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল, বৃদ্ধি ছাড়া কোনোভাবেই বিকাশ সম্ভব নয়।
17. পরিণত দশার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর – পরিণত দশার বৈশিষ্ট্যগুলি হল—(1) দৈহিক বৃদ্ধি বয়ঃসন্ধির তুলনায় হ্রাস পায়। (2) মানুষের নিজের ও তার পরিবার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়। (3) জীবন সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
18. বার্ধক্য কাকে বলে?
উত্তর – পরিণত জীবদেহে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ধীরে ধীরে ক্ষয় ও অবনতিজনিত যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে বার্ধক্য বলে। সাধারণত 60 বছর বয়সের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিরা এই দশার অন্তর্ভুক্ত হন।
19. মানুষের বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলি কী কী ?
উত্তর – পরিণত মানবদেহ মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং তার মধ্যে বিভিন্ন অবনতিজনিত পরিবর্তন দেখা দেয়। এই লক্ষণগুলি হল— (1) ক্যাটারাক্টের সমস্যা দেখা দেয়। অস্থি ও অস্থিসন্ধি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। (2) দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়। (3) স্মৃতি হ্রাস, অবসাদ, হীনমন্যতা, চুলের ধূসর বর্ণ, ত্বকের কুঞ্জন প্রভৃতি সমস্যার শিকার হয়।
20. মানববিকাশের অন্তিম পরিণতি বা বার্ধক্য দশায় দৃষ্টিশক্তি ও অস্থি-সংক্রান্ত দুটি পরিবর্তন উল্লেখ করো।
উত্তর – বার্ধক্য দশায়— (1) দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়, প্রেসবায়োপিয়ার লক্ষণ প্রকাশিত হয়, কর্মক্ষমতা কমে যায়, (2) অস্থি ও অস্থিসন্ধি ক্ষয় পেয়ে যথাক্রমে অস্টিওপোরোসিস ও অস্ট্রিওআর্থ্রাইটিস রোগ দেখা যায়।
21. বার্ধক্য দশায় সুস্থভাবে বাঁচার জন্য কী কী করা দরকার ?
উত্তর – বার্ধক্য দশায় সুস্থভাবে বাঁচার জন্য দরকার – (1) পরিমিত মাত্রায় পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, কারণ এই বয়সে বিপাকহার কমে যায়। (2) প্রতিদিন সহজ শরীরচর্চা, (3) বিভিন্ন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। (4) পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মেলামেশা করা ও যতটা সম্ভব চিন্তামুক্ত ও চাপমুক্ত থাকা।
22. মানব বিকাশের বিভিন্ন দশাগুলি সঠিক ক্রমে লেখো।
উত্তর – সদ্যোজাত দশা → শৈশব দশা → বয়ঃসন্ধি দশা → পরিণত দশা → বার্ধক্য বা অন্তিম পরিণতি দশা।
23. উদ্ভিদ বৃদ্ধি ও প্রাণী বৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর – উদ্ভিদ বৃদ্ধি ও প্রাণী বৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্যগুলি হল—
| বিষয় | উদ্ভিদ বৃদ্ধি | প্ৰাণী বৃদ্ধি |
| 1. বৃদ্ধির সময়কাল | আজীবন বৃদ্ধি ঘটে। | নির্দিষ্ট সময়কাল অবধি বৃদ্ধি ঘটে। |
| 2. বৃদ্ধির স্থান | নির্দিষ্ট দেহাংশে বৃদ্ধি ঘটে থাকে। | সমগ্র দেহের নিয়ত বৃদ্ধি ঘটে। |
| 3. হরমোন | অক্সিন, জিব্বেরেলিন ও সাইটোকাইনিন। | গ্রোথ হরমোন, টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন। |
| 4. বৃদ্ধির প্রকার | কোশের আকার বৃদ্ধির দ্বারা মূলত বৃদ্ধি ঘটে। | কোশের সংখ্যা বৃদ্ধি দ্বারা মূলত বৃদ্ধি ঘটে। |
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো
1. যে বিপাকে দেহের শুষ্ক ওজন স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি পায়, তাকে বলে—
(a) উপচিতিমূলক বিপাক
(b) অপচিতিমূলক বিপাক
(c) বৃদ্ধিমূলক বিপাক
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (a) উপচিতিমূলক বিপাক
2. যে বিপাকে দেহের শুষ্ক ওজন হ্রাস পায়, তাকে বলে—
(a) উপচিতিমূলক বিপাক
(b) অপচিতিমূলক বিপাক
(c) বৃদ্ধিমূলক বিপাক
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (b) অপচিতিমূলক বিপাক
3. অপচিতিমূলক বিপাক অপেক্ষা উপচিতিমূলক বিপাক বেশি হলে, দেহের শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায়, একেই বলে—
(a) ঋণাত্মক বৃদ্ধি
(b) নিয়ত বৃদ্ধি
(c) অনিয়ত বৃদ্ধি
(d) ধনাত্মক বৃদ্ধি
উত্তর – (d) ধনাত্মক বৃদ্ধি
4. জীবের শুষ্ক ওজনের স্থায়ীভাবে বেড়ে যাওয়াকে বলে—
(a) বিকাশ
(b) বিভেদন
(c) বিভাজন
(d) বৃদ্ধি
উত্তর – (d) বৃদ্ধি
5. উদ্ভিদ বৃদ্ধির একটি বাহ্যিক শর্ত হল—
(a) জিন
(b) হরমোন
(c) সূর্যালোক
(d) সবকটি
উত্তর – (c) সূর্যালোক
6. উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপা যায়, যার সাহায্যে—
(a) অক্সানোমিটার
(b) আর্ক-ইন্ডিকেটর
(c) অনুভূমিক মাইক্রোস্কোপ
(d) উপরোক্ত সবগুলির সাহায্যেই
উত্তর – (d) উপরোক্ত সবগুলির সাহায্যেই
7. জীবের বৃদ্ধির প্রধান দশার সংখ্যা হল –
(a) 4টি
(b) 5টি
(c) 3টি
(d) 2টি
উত্তর – (c) 3টি
৪. বর্ধিষু জীবের বৃদ্ধির সময়ে কোন্ দশাটি প্রথম দেখা যায়?
(a) কোশ পরিণতি
(b) কোশ পরিবর্তন
(c) কোশ পরিস্ফুরণ
(d) কোশ বিভাজন
উত্তর – (d) কোশ বিভাজন
9. ভাজক কলার স্থায়ী কলায় পরিণত হওয়া যে বৃদ্ধি দশার অন্তর্ভুক্ত, তা হল—
অথবা, কোন্ প্রক্রিয়ায় নতুন অঙ্গ তৈরি হয়?
(a) কোশীয় বিভেদন দশা
(b) কোশ দীর্ঘিকরণ দশা
(c) কোশ বিভাজন দশা
(d) সবগুলিই সঠিক
উত্তর – (a) কোশীয় বিভেদন দশা
10. প্রাথমিক ভাজক কলার কোশের বিভাজনের ফলে যে বৃদ্ধি ঘটে, তাকে বলা হয়—
(a) জননগত বৃদ্ধি
(b) ধনাত্মক বৃদ্ধি
(c) গৌণ বৃদ্ধি
(d) প্রাথমিক বৃদ্ধি
উত্তর – (d) প্রাথমিক বৃদ্ধি
11. গৌণ ভাজক কলার কোশের বিভাজনের ফলে যে বৃদ্ধি ঘটে, তাকে বলা হয়—
(a) অঙ্গজ বৃদ্ধি
(b) প্রাথমিক বৃদ্ধি
(c) জননগত বৃদ্ধি
(d) গৌণ বৃদ্ধি
উত্তর – (d) গৌণ বৃদ্ধি
12. উদ্ভিদের প্রস্থে বৃদ্ধিকে বলে—
(a) অঙ্গজ বৃদ্ধি
(b) প্রাথমিক বৃদ্ধি
(c) গৌণ বৃদ্ধি
(d) জননগত বৃদ্ধি
উত্তর – (c) গৌণ বৃদ্ধি
13. বৃদ্ধির দ্বিতীয় দশাটি হল —
(a) কোশীয় আকার বৃদ্ধিকরণ দশা
(b) কোশ বিভাজন দশা
(c) কোশীয় বিভেদন দশা
(d) বিলম্ব দশা
উত্তর – (a) কোশীয় আকার বৃদ্ধিকরণ দশা
14. বৃদ্ধির শেষ দশাটি হল—
(a) কোশীয় আকার বৃদ্ধিকরণ দশা
(b) কোশ বিভাজন দশা
(c) কোশীয় বিভেদন দশা
(d) বিলম্ব দশা
উত্তর – (c) কোশীয় বিভেদন দশা
15. স্টেমকোশ থেকে বিভিন্ন প্রকার রক্তকোশ উৎপাদন, বৃদ্ধির যে দশার অন্তর্ভুক্ত, তা হল—
(a) কোশ বিভাজন দশা
(b) কোশ দীর্ঘিকরণ দশা
(c) কোশীয় বিভেদন দশা
(d) কোশের জরা দশা
উত্তর – (c) কোশীয় বিভেদন দশা
16. বৃদ্ধিতে কোনপ্রকার কোশ বিভাজন ঘটে?
(a) অ্যামাইটোসিস
(b) সাইটোকাইনেসিস
(c) মিয়োসিস
(d) মাইটোসিস
উত্তর – (d) মাইটোসিস
17. নীচের কোন্টি বৃদ্ধির দশা নয়?
(a) কোশ বিভাজন
(b) কোশের আকার বৃদ্ধি
(c) কোশীয় সংশ্লেষ
(d) কোশের বিভেদন
উত্তর – (c) কোশীয় সংশ্লেষ
18. নীচের কোনটি সঠিক অনুক্রম?
(a) জাইগোট → ব্লাস্টুলা → মরুলা → গ্যাস্টুলা
(b) জাইগোট → গ্যাস্টুলা → মরুলা → ব্লাস্টুলা
(c) গ্যাস্ট্রলা → জাইগোট → মরুলা → ব্লা স্টুলা
(d) জাইগোট → মরুলা → ব্লাস্টুলা → গ্যাস্টুলা
উত্তর – (d) জাইগোট → মরুলা → ব্লাস্টুলা → গ্যাস্টুলা
19. জীবের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোন্ অনুক্রমটি সঠিক?
(a) কোশ বিভাজন → কোশীয় বিভেদন → কোশীয় বৃদ্ধিকরণ
(b) কোশীয় বৃদ্ধিকরণ → কোশীয় বিভেদন → কোশ বিভাজন
(c) কোশ বিভাজন → কোশীয় বৃদ্ধিকরণ → কোশীয় বিভেদন
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (c) কোশ বিভাজন → কোশীয় বৃদ্ধিকরণ → কোশীয় বিভেদন
20. বৃদ্ধি ও তৎ-পরবর্তী পরিবর্তনের মাধ্যমে জীবদেহের জটিলতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বলে—
(a) বৃদ্ধি
(b) বিকাশ
(c) বিভাজন
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (b) বিকাশ
21. মানব বিকাশের মোট দশার সংখ্যা হল-
(a) 3
(b) 4
(c) 5
(d) 6
উত্তর – (c) 5
22. প্রদত্ত কোন্ দশাতে বৃদ্ধি সর্বাধিক দ্রুতগতিতে হয়?
(a) সদ্যোজাত
(b) শৈশব
(c) বয়ঃসন্ধি
(d) পরিণত
উত্তর – (c) বয়ঃসন্ধি
23. মানুষের বয়ঃসন্ধিকাল হল –
(a) 10-19 বছর
(b) 8-19 বছর
(c) 15-25 বছর
(d) 25-35 বছর
উত্তর – (a) 10-19 বছর
24. বয়ঃসন্ধিতে যে গ্রন্থির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, তা হল—
(a) সিবেসিয়াস গ্রন্থি
(b) ঘর্মগ্রন্থি
(c) যৌন গ্রন্থি
(d) সবকটি
উত্তর – (d) সবকটি
25. যৌন চেতনার ও যৌনাঙ্গের বিকাশ ঘটে যে বিকাশ দশায়, তা হল—
(a) শৈশব
(b) পরিণত
(c) বয়ঃসন্ধি
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (c) বয়ঃসন্ধি
26. কোন্ সময়কালকে মানুষের মুখ্য বৃদ্ধিকাল বলে?
(a) 3-11 বছর
(b) 12-20 বছর
(c) 20-30 বছর
(d) 30-40 বছর
উত্তর – (b) 12-20 বছর
27. জননাঙ্গ ও জননগ্রন্থির পরিপূর্ণতা ঘটে মানব পরিস্ফুরণের—
(a) শৈশব দশায়
(b) বয়ঃসন্ধি দশায়
(c) বার্ধক্য দশায়
(d) সদ্যোজাত দশায়
উত্তর – (b) বয়ঃসন্ধি দশায়
28. 60 বছরের পর মানবদেহে শুরু হয়—
(a) শৈশব দশা
(b) পরিণত দশা
(c) বার্ধক্য দশা
(d) যৌবন দশা
উত্তর – (c) বার্ধক্য দশা
29. মানব বিকাশের যে দশাটিতে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া অত্যন্ত সক্রিয় থাকে এবং মানসিক দিক থেকে ব্যক্তি সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয়, তা হল—
(a) সদ্যোজাত
(b) শৈশব
(c) পরিণত
(d) বার্ধক্য
উত্তর – (c) পরিণত
30. মানব বিকাশের অন্তিম পরিণতি দশার বৈশিষ্ট্য হল—
(a) মোটর ক্রিয়ার বিকাশ
(b) বুদ্ধির দ্রুত বিকাশ
(c) বিমূর্ত চিন্তার বিকাশ
(d) স্মৃতিহ্ৰাস
উত্তর – (d) স্মৃতিহ্ৰাস
31. মানুষের বার্ধক্য দশায় কোন্টি ঘটতে পারে?
(a) রক্তচাপ বৃদ্ধি
(b) দৈহিক বৃদ্ধি
(c) যৌন চেতনার বিকাশ
(d) বুদ্ধির বিকাশ
উত্তর – (a) রক্তচাপ বৃদ্ধি
32. জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বার্ধক্য সম্পর্কিত বিষয় আলোচিত হয়, তাকে বলে—
(a) অ্যানথ্রোপোলজি
(b) সাইকোলজি
(c) ফিজিওলজি
(d) জেরোন্টোলজি
উত্তর – (d) জেরোন্টোলজি
33. নীচের কোন্ বয়ঃক্রমটি সঠিক?
(a) শৈশব→সদ্যোজাত→বয়ঃসন্ধি→পরিণত→বার্ধক্য
(b) বয়ঃসন্ধি→পরিণত→বার্ধক্য→শৈশব→সদ্যোজাত
(c) সদ্যোজাত → শৈশব →পরিণত →বয়ঃসন্ধি→বার্ধক্য
(d) সদ্যোজাত→শৈশব→ বয়ঃসন্ধি→ পরিণত →বার্ধক্য
উত্তর – (d) সদ্যোজাত→শৈশব→ বয়ঃসন্ধি→ পরিণত →বার্ধক্য
34. মানব পরিস্ফুরণের যে দশায় স্বাভাবিকভাবেই স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হতে থাকে—
(a) শৈশব
(b) বয়ঃসন্ধি
(c) বার্ধক্য
(d) সদ্যোজাত
উত্তর – (c) বার্ধক্য
35. মানব বিকাশের যে দশায় ঋণাত্মক বৃদ্ধি হয় তা হল—
(a) বার্ধক্য দশা
(b) সদ্যোজাত দশা
(c) পরিণত দশা
(d) বয়ঃসন্ধি দশা
উত্তর – (a) বার্ধক্য দশা
দু-একটি শব্দে বা বাক্যে উত্তর দাও
1. বৃদ্ধিহার কাকে বলে?
উত্তর – একক সময়কালে জীবদেহের বৃদ্ধির পরিমাপকে বৃদ্ধির হার বলে।
2. বৃদ্ধি কোন্ ধরনের বিপাক ক্রিয়া?
উত্তর – উপচিতি বিপাক।
3. বহুকোশী জীবের বৃদ্ধির তিনটি দশার নাম লেখো।
অথবা, বৃদ্ধির কয়টি দশা?
উত্তর – বহুকোশী জীবের বৃদ্ধির তিনটি দশা হল—কোশ বিভাজন দশা, কোশীয় আকার বৃদ্ধিকরণ দশা, কোশীয় বিভেদন দশা।
4. প্রকৃতি অনুযায়ী বৃদ্ধি কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর – প্রকৃতি অনুযায়ী বৃদ্ধি প্রধানত তিন প্রকার। যথা— (1) অঙ্গজ বৃদ্ধি, (2) পুনরুৎপাদনমূলক বৃদ্ধি এবং (3) জননগত বৃদ্ধি।
5. বৃদ্ধির দুটি অভ্যন্তরীণ শর্তের নাম লেখো।
উত্তর – বৃদ্ধির দুটি অভ্যন্তরীণ শর্ত হল হরমোন ও জিন।
6. একটি শর্তের নাম লেখো যা উদ্ভিদ ও প্রাণী বৃদ্ধির জন্য জরুরি।
উত্তর – খাদ্য।
7. বৃদ্ধির যে পর্যায়ে জীবের শুষ্ক ওজন বাড়ে তাকে কী বলে?
উত্তর – মুখ্য বৃদ্ধিকাল।
8. প্রাথমিক ভাজক কলাকোশের বিভাজনে যে বৃদ্ধি ঘটে তাকে কী বলে?
উত্তর – প্রাথমিক বৃদ্ধি।
9. গৌণ ভাজক কলার কোশের বিভাজনে যে বৃদ্ধি ঘটে, তাকে কী বলে?
উত্তর – গৌণ বৃদ্ধি।
10. উদ্ভিদের অঙ্গজ বৃদ্ধি কীভাবে ঘটে?
উত্তর – প্রাথমিক ও গৌণ বৃদ্ধির দ্বারা উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন অঙ্গের বৃদ্ধি ঘটে। ফলে উদ্ভিদের শাখাপ্রশাখা, পাতা ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
11. নিষিক্ত ডিম্বাণু কোন্ প্রকার বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করে?
উত্তর – মাইটোসিস বিভাজন।
12. বৃদ্ধির প্রারম্ভিক স্থান কোথায়?
উত্তর – ” ভ্রূণ।
13. কলা গঠিত হয় কোন্ বৃদ্ধি দশায় ?
উত্তর – কোশীয় বিভেদন দশায়।
14. পেশি ও স্নায়ুকোশের সৃষ্টি হয় কোন্ বৃদ্ধি দশায় ?
উত্তর – কোশ বিভেদন দশায়।
15. উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে অনির্ধারিত বৃদ্ধি বলে কেন?
উত্তর – উদ্ভিদের বৃদ্ধির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় এই বৃদ্ধিকে অনির্ধারিত বৃদ্ধি বলে।
16. প্রাণীর বৃদ্ধিকে নির্ধারিত বৃদ্ধি বলে কেন?
উত্তর – প্রাণীর বৃদ্ধি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (বার্ধক্য পর্যন্ত) ঘটে বলে, এই বৃদ্ধিকে নির্ধারিত বৃদ্ধি বলে।
17. দেহের কোনো অংশের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ ও নিবারণের ক্ষমতাকে কী বলে?
অথবা, একটি কাঁকড়ার সন্ধিপদ ভেঙে গেলেও তা আবার মাইটোসিস দ্বারা তৈরি হয়ে যায়। এই ঘটনাকে কী বলে?
উত্তর – পুনরুৎপাদন।
18. যে বৃদ্ধিতে দেহের সব অঙ্গ সমান অনুপাতে বাড়ে তাকে কী বলে?
উত্তর – আইসোমেট্রিক বৃদ্ধি।
19. আইসোমেট্রিক বৃদ্ধির একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর – মাছের বৃদ্ধি।
20. যে বৃদ্ধিতে দেহের সব অঙ্গ সমান অনুপাতে বাড়ে না তাকে কী বলে?
উত্তর – অ্যালোমেট্রিক বৃদ্ধি।
21. অ্যালোমেট্রিক বৃদ্ধি কোন প্রাণীতে দেখা যায় ?
উত্তর – মানুষ।
22. নিওনেট বা সদ্যোজাত কারা ?
উত্তর – জন্মের দিন থেকে 28 দিন বা প্রায় একমাস সময়কালের শিশুকে বলে নিওনেট বা সদ্যোজাত।
23. টলার (Toddler) বলতে কাদের বোঝায়?
উত্তর – 1-3 বছর সময়কালে শিশুর হাঁটতে শেখা দশাকে বলে টলার।
24. মানব বিকাশের কত বছর বয়স পর্যন্ত সময়কালকে শৈশবকাল ধরা হয়।
উত্তর – 10 বছর বয়স পর্যন্ত সময়কালকে।
25. শৈশব এবং পরিণত দশা এই দুইয়ের সন্ধিকাল কী?
উত্তর – বয়ঃসন্ধি।
26. মানব বিকাশের কোন্ দশায় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হরমোনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় ?
উত্তর – বয়ঃসন্ধি দশা।
27. মানুষের মুখ্য বৃদ্ধিকাল কাকে বলে?
উত্তর – বয়ঃসন্ধি সময়কালে মানুষের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি সর্বাধিক হয়। এই সময়কালকে মুখ্য বৃদ্ধিকাল বলে ৷
28. আবেগের বিকাশ ঘটে কোন্ মানব বৃদ্ধি দশায় ?
উত্তর – বয়ঃসন্ধিতে।
29. তুমি মানব বিকাশের কোন্ দশায় পড়ো বলে তুমি মনে করো?
উত্তর – বয়ঃসন্ধি দশা।
30. বয়ঃসন্ধিকাল বলতে কোন বয়সকে বোঝায়?
উত্তর – বয়ঃসন্ধিকাল বলতে 10 থেকে 19 বছর পর্যন্ত বয়সকে বোঝায়।
31. মানব বিকাশের কোন সময়ে স্ত্রী এবং পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৈহিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে?
উত্তর – বয়ঃসন্ধিকালে।
32. মোটর ক্রিয়ার বিকাশ ঘটে মানুষের কোন্ বৃদ্ধি দশায় ?
উত্তর – বয়ঃসন্ধিকালে।
33. মানব বিকাশের কোন স্তরকে ঝড়ঝঞ্ঝার কাল বলে অভিহিত করা হয়?
উত্তর – কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকে।
34. মানব বিকাশের 19 থেকে 60 বছর বয়স পর্যন্ত সময়কালকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
উত্তর – পরিণত দশা।
35. বিপাকহার হ্রাস পায় কোন্ বৃদ্ধি দশায় ?
উত্তর – বার্ধক্য দশায়।
36. মোটর ক্রিয়া হ্রাস পায় কোন্ বৃদ্ধি দশায় ?
উত্তর – বার্ধক্য দশায়।
শূন্যস্থান পূরণ করো
1. বৃদ্ধির ফলে জীবদেহের শুষ্ক ওজন ………… ।
উত্তর – বাড়ে
2. প্রাণীদেহে বৃদ্ধি ……….. সময়কাল পর্যন্ত ঘটে থাকে।
উত্তর – অভ্যন্তরীণ
3. জিন হল বৃদ্ধির একটি ………… শর্ত।
উত্তর – নির্দিষ্ট
4. সাধারণভাবে বৃদ্ধিকে ……….. টি সুস্পষ্ট দশায় বিভক্ত করা যায়।
উত্তর – তিন
5. নিষেকের পরে সৃষ্টি হয় এককোশী ………… ।
উত্তর – জাইগোট
6. কোশ বিভাজন দশায় মরুলা থেকে ………… গঠিত হয়।
উত্তর – ব্লাস্টলা
7. কোশ বিভাজন দশায় ব্লাস্টুলা থেকে ……….. গঠিত হয়।
উত্তর – গ্যাস্টুলা
৪. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ………. কলার নীচের কোশস্তরে বৃদ্ধিকরণ দশা দেখা যায়।
উত্তর – ভাজক
9. বিভেদন দশায় উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ………… কোশপ্রাচীর সৃষ্টি হয়।
উত্তর – গৌণ
10. জীবদেহের গঠনগত জটিলতা বৃদ্ধি পায় ……….. ফলে।
উত্তর – বিকাশের
11. সাধারণত 60 বছরের ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা …………. দশার অন্তর্ভুক্ত হন।
উত্তর – বার্ধক্য
12. মানব বিকাশের ………… টি দশা বর্তমান।
উত্তর – 5
13. প্রসব থেকে প্রথম মাস পর্যন্ত সময়কালকে ……….. বলে।
উত্তর – সদ্যোজাত বা নিওনেট
14. সাধারণত জীবনের দ্বিতীয় মাস থেকে ………… বয়স পর্যন্ত সময়কালকে শৈশব বলে।
উত্তর – 10 বছর
15. শিশুর চেষ্টীয় ক্রিয়াগুলি বিকশিত হয় ………… দশায়।
উত্তর – শৈশব
16. জীবনের 2 মাস থেকে 10 বছরের সময়কালকে …………. বলে।
উত্তর – শৈশবকাল
17. কল্পনাপ্রবণ ও মেজাজি হওয়া, মানব বিকাশের ……….. দশার বৈশিষ্ট্য।
উত্তর – বয়ঃসন্ধি/কৈশোর
18. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ দেখা যায় ……… কালে।
উত্তর – বয়ঃসন্ধি
19. 12-20 বছর বয়স পর্যন্ত দশাকে ……….. বলে।
উত্তর – বয়ঃসন্ধিকাল বা মুখ্য বৃদ্ধিকাল
20. সাধারণত 19 বছর থেকে …………. পর্যন্ত সময়কালকে পরিণত দশা বলে।
উত্তর – 60 বছর
