WBBSE 10th Class Science Solutions Physics Chapter 7 পরমাণুর নিউক্লিয়াস
WBBSE 10th Class Science Solutions Physics Chapter 7 পরমাণুর নিউক্লিয়াস
West Bengal Board 10th Class Science Solutions Physics Chapter 7 পরমাণুর নিউক্লিয়াস
West Bengal Board 10th Physics Solutions
TOPIC – A তেজস্ক্রিয়তা
বিষয়সংক্ষেপ
তেজস্ক্রিয়তা: যে ধর্মের জন্য সাধারণত কিছু উচ্চ ভরসংখ্যাবিশিষ্ট মৌল সব অবস্থায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এক বিশেষ ধরনের অদৃশ্য বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং নতুন মৌলের পরমাণুতে পরিণত হয়, তাকে তেজস্ক্রিয়তা বলা হয়।
স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় মৌল: কতকগুলি প্রাকৃতিক স্বাভাবিকভাবেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নিঃসরণ করে। এদের স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় মৌল বলা হয়। যেমন-Po (পোলোনিয়াম), Ra (রেডিয়াম), U (ইউরেনিয়াম)।
তেজস্ক্রিয়তা সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসজনিত ঘটনা: কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম পরমাণুর বাইরের কক্ষে উপস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তেজস্ক্রিয় মৌলগুলি রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে অন্য যৌগ গঠন করলেও তাদের তেজস্ক্রিয়তা বর্তমান থাকে। আবার তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট মৌল উৎপন্ন হয়। এটা সম্ভব যদি একমাত্র নিউক্লিয়াসের গঠনের পরিবর্তন হয়। তাই বলা যায় কোনো মৌলের তেজস্ক্রিয়তা সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসজনিত ঘটনা।
তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
(i) তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ও বিরামহীনভাবে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তা ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
(ii) কোনো মৌলের তেজস্ক্রিয়তা সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসজনিত ঘটনা।
(iii) তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের ফলে নিউক্লিয়াসের গঠনের পরিবর্তন হয় এবং নতুন মৌল উৎপন্ন হয়।
(iv) তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরনের রশ্মি নির্গত হয় –আলকা (α) রশ্মি, বিটা (β) রশ্মি ও গামা (γ) রশ্মি।
(v) তাপ, চাপ, আলো, তড়িৎক্ষেত্র বা চৌম্বক ক্ষেত্র কোনো কিছুর প্রয়োগে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমন প্রভাবিত হয় না।
জনক পরমাণু ও দুহিতা পরমাণুঃ তেজস্ক্রিয় মৌলের যে পরমাণুর তেজস্ক্রিয় বিঘটন হয় তাকে জনক পরমাণু বলে। তেজস্ক্রিয় পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হওয়ার পর যে নতুন মৌলের পরমাণু উৎপন্ন হয় তাকে দুহিতা পরমাণু বলা হয়।
তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকৃতিঃ
- α-রশ্মি: α -রশ্মি হল ধনাত্মক আধানবাহী কণার স্রোত। α -কণার আধান একটি প্রোটনের আধানের দ্বিগুণ বা 3.2 × 10-19 C এবং ভর প্রোটনের ভরের প্রায় 4গুণ (4.0015u) ।
- β -রশ্মি: β -রশ্মি হল ঋণাত্মক আধানবাহী ইলেকট্রন কণার স্রোত। β -কণার আধান একটি ইলেকট্রনের আধানের সমান বা – 1.6 × 10-19 C এবং ভর ইলেকট্রনের ভরের সমান বা 9.1 × 10-31 kg |
- γ -রশ্মি: γ -রশ্মি হল ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.1 Å -এর কম। γ -রশ্মি নিস্তড়িং এবং ভরহীন।
ভেদন ক্ষমতার অনুপাত: α, β ও γ -রশ্মির ভেদন ক্ষমতার অনুপাত প্রায় 1 : 100 : 10000 বা ভেদন ক্ষমতা অনুযায়ী সাজালে পাই α – রশ্মি < β রশ্মি < γ রশ্মি।
গ্যাসকে আয়নিত করার ক্ষমতার অনুপাত: α, β ও γ -রশ্মির গ্যাসকে আয়নিত করার ক্ষমতার অনুপাত প্রায় 10000 100: 1 বা আয়োনাইজিং ক্ষমতা অনুযায়ী সাজালে পাই—
α -রশ্মি > β -রশ্মি > γ –রশ্মি
তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে α, β ও γ রশ্মি নির্গমনের ফল:
- α -রশ্মি: কোনো তেজস্ক্রিয় পরমাণুর α -বিঘটন হলে যে নতুন পরমাণুর সৃষ্টি হয় তার ভরসংখ্যা 4 একক কম হয় এবং পারমাণবিক
- β -রশ্মি: কোনো তেজস্ক্রিয় পরমাণুর β -বিঘটন হলে সৃষ্ট পরমাণুর ভর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে এবং পারমাণবিক সংখ্যা 1 একক বেশি হয়। অর্থাৎ
- γ -রশ্মি: কোনো তেজস্ক্রিয় পরমাণুর থেকে γ -রশ্মি নির্গত হলে ভরসংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের থেকে α-কণা নির্গমনে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় কিন্তু γ -রশ্মি নির্গমনে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় না। কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে একটি α -কণা নির্গত হলে যে নতুন নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয় তার ভরসংখ্যা 4 একক কম হয় ও পরমাণু ক্রমাঙ্ক 2 একক কম হয়। তাই কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের থেকে α -কণা নির্গমনে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয়। আবার γ -রশ্মি হল ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। কোনো তেজস্ক্রিয় পরমাণুর α -বিঘটন বা β বিঘটন হলে পরমাণুটির নিউক্লিয়াস উত্তেজিত অবস্থায় থাকে, তখন নিউক্লিয়াসটি y রশ্মি নির্গমন করে ভৌম অবস্থায় আসে। γ -রশ্মি নির্গত হলে পরমাণুর ভরসংখ্যা বা পরমাণু ক্রমাঙ্ক অপরিবর্তিত থাকে তাই নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় না।
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার:
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে: ক্যানসার রোগের চিকিৎসায় ক্যানসার কোশগুলি নষ্ট করার কাজে তেজস্ক্রিয় কোবাল্ট (60Co) ব্যবহৃত হয়।
- রেডিয়ো-কার্বন (14C) দ্বারা বয়স নির্ণয়: কোনো জীবাশ্ম বা কোনো পুরাতাত্ত্বিক বস্তুর মধ্যে 14C ও 12C-এর অনুপাত নির্ণয় করে তাদের বয়স নির্ণয় করা যায়।
বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
TOPIC – A তেজস্ক্রিয়তা
সংক্ষিপ্ত/ দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
1. তেজস্ক্রিয়তা কাকে বলে?
উত্তর – যে ধর্মের জন্য সাধারণত কিছু উচ্চ পারমাণবিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট মৌল সব অবস্থায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এক বিশেষ ধরনের অদৃশ্য বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং নতুন মৌলের পরমাণুতে পরিণত হয় তাকে তেজস্ক্রিয়তা বলা হয়।
2. স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় মৌল ও স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয়তা কাকে বলে?
অথবা, প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা কী?
উত্তর – স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় মৌল: কতকগুলি প্রাকৃতিক মৌল স্বাভাবিকভাবেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে, এদের স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় মৌল বলা হয়। যেমন-Po (পোলোনিয়াম), Ra (রেডিয়াম), U (ইউরেনিয়াম) ইত্যাদি।
স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয়তা: স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় মৌলের তেজস্ক্রিয়তাকে স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।
3. তেজস্ক্রিয় মৌল কাকে বলে? কোন্ ধরনের মৌলগুলি তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে?
উত্তর – যেসব মৌলের পরমাণু সব অবস্থায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এক বিশেষ ধরনের অদৃশ্য বিকিরণ নিঃসরণ করে নতুন মৌলের পরমাণুতে পরিণত হয় সেই মৌলগুলিকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলা হয়।
যেসব মৌলের নিউক্লিয়াসের নিউট্রন এবং প্রোটন সংখ্যার অনুপাত 1.5 এর চেয়ে বেশি সেই নিউক্লিয়াসগুলি অস্থায়ী হয়। এগুলি কাস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করে স্থায়ী হতে চেষ্টা করে। যেসব মৌলের ভর সংখ্যা সাধারণত 210 বা তার বেশি, সেইগুলি তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
4. α, β ও γ -রশ্মির প্রকৃতি কীরূপ?
উত্তর – α, β ও γ রশ্মির প্রকৃতি—
α -রশ্মি | β -রশ্মি | γ রশ্মি |
α -রশ্মি হল ধণাত্মক আধানবাহী কণার স্রোত। | β -রশ্মি হল ঋণাত্মক আধানবাহী কণার স্রোত। | γ -রশ্মি হল ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, এটি কোনো আধানবাহী কণার স্রোত নয়। |
5. তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর – তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
- তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ও বিরামহীনভাবে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তা ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। এই রশ্মি অস্বচ্ছ কাগজ বা খুব পাতলা ধাতব পাত সহজেই ভেদ করতে পারে।
- তাপ, চাপ, আলো, তড়িৎক্ষেত্র বা চৌম্বক ক্ষেত্র কোনো কিছুর প্রয়োগে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমন প্রভাবিত হয় না।
- তেজস্ক্রিয় মৌলগুলির রাসায়নিক পরিবর্তন হয়ে অন্য যৌগ গঠন করলেও তার তেজস্ক্রিয় ধর্মের পরিবর্তন হয় না।
- কোনো মৌলের তেজস্ক্রিয়তা সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসজনিত ঘটনা, এর সঙ্গে ইলেকট্রন-বিন্যাসের কোনো সম্পর্ক নেই।
- তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের ফলে নিউক্লিয়াসের গঠনের পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার পরিবর্তন হয় তাই নতুন মৌল উৎপন্ন হয়।
- তেজস্ক্রিয় রশ্মি গ্যাসকে আয়নিত করতে পারে এবং এটির ফোটোগ্রাফিক প্লেটের ওপর প্রভাব আছে।
6. কোনো মৌলের তেজস্ক্রিয়তা সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসজনিত ঘটনা’—যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর – কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম পরমাণুর বাইরের কক্ষের ইলেকট্রন-বিন্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তেজস্ক্রিয় মৌলগুলি রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে অন্য যৌগ গঠন করলেও তাদের তেজস্ক্রিয়তা বর্তমান থাকে ৷ আবার তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট মৌল উৎপন্ন হয়। এটা সম্ভব যদি একমাত্র নিউক্লিয়াসের গঠনের পরিবর্তন হয়। তাই বলা যায় কোনো মৌলের তেজস্ক্রিয়তা সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসজনিত ঘটনা।
7 .তেজস্ক্রিয়তার কারণ কী?
উত্তর – পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে নিউক্লীয় বলের প্রভাবে নিউট্রন ও প্রোটনগুলি অবস্থান করে। এ ছাড়া প্রোটন-প্রোটন কুলম্বীয় বিকর্ষণ বল ক্রিয়াশীল থাকে। যেসব মৌলের নিউক্লিয়াসের নিউট্রন ও প্রোটন সংখ্যার অনুপাত 1.5-এর চেয়ে বেশি সেই নিউক্লিয়াসে প্রোটন-প্রোটন বিকর্ষণ বল এমন হয় যে নিউক্লিয়াস অস্থায়ী হয় এবং ভেঙে গিয়ে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে।
8. যে-কোনো তেজস্ক্রিয় ধাতুর খনিজতে লেড থাকে কেন?
উত্তর – কোনো ভারী তেজস্ক্রিয় মৌলের তেজস্ক্রিয় বিভাজন পরপর হতে থাকলে একসময় লেডের (82Pb) কোনো অতেজস্ক্রিয় আইসোটোপে পরিণত হয়। তারপর আর তেজস্ক্রিয় বিঘটন হয় না। তাই যে-কোনো তেজস্ক্রিয় ধাতুর খনিজতে লেড পাওয়া যায়।
9. কোনো কোনো তেজস্ক্রিয় ধাতুর খনিতে হিলিয়াম গ্যাস থাকে কেন?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় ধাতুর খনিতে যদি তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে α -কণা নির্গমন হয় তাহলে ওই α -কণা গ্যাসকে আয়নিত করে এবং পরিবেশ থেকে 2 টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে হিলিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয় এবং হিলিয়াম গ্যাসরূপে খনিতে থেকে যায়। এই কারণে কোনো কোনো তেজস্ক্রিয় ধাতুর খনিতে হিলিয়াম গ্যাস থাকে।
10. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ইলেকট্রন না থাকা সত্ত্বেও তেজস্ক্রিয় মৌলের পরমাণু থেকে β -কণা রূপে ইলেকট্রন নির্গত হয় কীভাবে?
উত্তর – β -কণা নিঃসরণের ঘটনায় তেজস্ক্রিয় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের একটি নিউট্রন (n) বিভাজিত হয়ে একটি প্রোটন (p), একটি ইলেকট্রন (e) এবং একটি আধানহীন, ভরহীন কণা অ্যান্টিনিউট্রিনো উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন প্রোটনটি নিউক্লিয়াসে থেকে যায় এবং ইলেকট্রনটি তীব্র বেগে নিউক্লিয়াস থেকে β -কণা হিসেবে বেরিয়ে আসে।
এইভাবে নিউক্লিয়াসে ইলেকট্রন না থাকা সত্ত্বেও তেজস্ক্রিয় মৌলের পরমাণু থেকে β –কণারূপে ইলেকট্রন নির্গত হয়।
11. 1g রেডিয়াম ও 1g রেডিয়াম থেকে উৎপন্ন রেডিয়াম ব্রোমাইডের (RaBr2) তেজস্ক্রিয়তা কি একই? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর – হ্যাঁ, রেডিয়াম, ব্রোমিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রেডিয়াম ব্রোমাইড গঠন করে। রেডিয়াম তেজস্ক্রিয় এবং যৌগ গঠনকালে পরমাণুর বাইরের কক্ষের ইলেকট্রনগুলি অংশগ্রহণ করে, কিন্তু নিউক্লিয়াসের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই 1g রেডিয়াম থেকে উৎপন্ন রেডিয়াম ব্রোমাইডের তেজস্ক্রিয়তা ও 1g রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা একই।
12. একটি তেজস্ক্রিয় পরমাণুর (X) ভর সংখ্যা A ও পারমাণবিক সংখ্যা Z। ওই পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে একটি α -কণা ও দুটি β -কণা নির্গত হলে তার (Y) ভর সংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যা কত? X ও Y-এর মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর – কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে একটি α -কণা নির্গত হলে যে নতুন নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয় তার ভর সংখ্যা 4 একক কম হয় ও পরমাণু ক্রমাঙ্ক 2 একক কম হয়। আবার কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে 1 টি β -কণা নির্গত হলে যে নতুন নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয় তার ভর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে কিন্তু পরমাণু ক্রমাঙ্ক 1 একক বেশি হয়।
∴ Y মৌলের ভর সংখ্যা = A – 4
এবং পারমাণবিক সংখ্যা = Z – 2 + 1 + 1 = Z
যেহেতু X ও Y উভয়েরই পারমাণবিক সংখ্যা Z অথচ ভর সংখ্যা আলাদা সেহেতু X ও Y পরস্পরের আইসোটোপ।
13. কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের থেকে α -কণা নির্গমনে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় কিন্তু γ -রশ্মি নির্গমনে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় না কেন ব্যাখ্যা করো।
উত্তর – কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে একটি α -কণা নির্গত হলে যে নতুন নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয় তার ভরসংখ্যা 4 একক কম হয় ও পরমাণু ক্রমাঙ্ক 2 একক কম হয়। তাই কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের থেকে α -কণা নির্গমনে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয়। আবার γ -রশ্মি হল ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। কোনো তেজস্ক্রিয় পরমাণুর α -বিঘটন বা β -বিঘটন হলে এর নিউক্লিয়াসটি উত্তেজিত অবস্থায় থাকে, তখন নিউক্লিয়াসটি γ -রশ্মি নির্গমন করে ভৌম অবস্থায় আসে। γ -রশ্মি নির্গত হলে পরমাণুর ভর সংখ্যা বা পরমাণু ক্রমাঙ্ক অপরিবর্তিত থাকে তাই নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় না।
14. তেজস্ক্রিয় পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তনের পার্থক্য লেখো।
উত্তর – তেজস্ক্রিয় পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তনের পার্থক্য—
তেজস্ক্রিয় পরিবর্তন | রাসায়নিক পরিবর্তন |
1. তেজস্ক্রিয় পরিবর্তনে পরমাণুর নিউক্লিয়াস অংশগ্রহণ করে। | 1. রাসায়নিক পরিবর্তনে পরমাণুর যোজ্যতা কক্ষের ইলেকট্রন অংশগ্রহণ করে। |
2. তেজস্ক্রিয় পরিবর্তন বাহ্যিক চাপ, আলো, অনুঘটক, তড়িৎক্ষেত্র বা চৌম্বক ক্ষেত্র প্রভৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয় না। | 2. রাসায়নিক পরিবর্তন বাহ্যিক চাপ, আলো, অনুঘটক প্রভৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়। |
3. তেজস্ক্রিয় পরিবর্তন সর্বদা একমুখী। | 3. রাসায়নিক পরিবর্তন একমুখী ও উভমুখী দু-রকমই হতে পারে। |
4. তেজস্ক্রিয় পরিবর্তনে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় । | 4. রাসায়নিক পরিবর্তনে যৌগ উৎপন্ন হয় কিন্তু নতুন মৌল উৎপন্ন হয় না। |
5. তেজস্ক্রিয় পরিবর্তনে উৎপন্ন শক্তি অনেক বেশি। | 5. যেসব রাসায়নিক পরিবর্তনে শক্তি উৎপন্ন হয়, সেইসব ক্ষেত্রে উৎপন্ন শক্তির পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পরিবর্তনের তুলনায় অনেক কম। |
15. তেজস্ক্রিয়তার SI এককের সংজ্ঞা লেখো।
উত্তর – তেজস্ক্রিয়তার SI একক হল বেকারেল (Bq)।
বেকারেল: কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ তেজস্ক্রিয় নমুনায় যদি 1 সেকেন্ডে 1 টি পরমাণুর বিঘটন হয় তাহলে তার তেজস্ক্রিয়তা 1 বেকারেল ধরা হয়।
16. তেজস্ক্রিয়তার একক কুরির (Ci) সংজ্ঞা লেখো। কার তেজস্ক্রিয়তা 1 কুরি? কুরি ও বেকারেলের মধ্যে সম্পর্ক লেখো।
উত্তর – কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রয় নমুনায় যদি 1 সেকেন্ডে 3.7 × 1010 টি পরমাণুর বিঘটন হয় তাহলে তার তেজস্ক্রিয়তা 1 কুরি (Ci) ধরা হয়।
1g বিশুদ্ধ রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা বা সক্রিয়তা 1 কুরি।
1 কুরি = 3.7 × 1010 বেকারেল।
17. α -কণা বা β -কণা নির্গত হওয়ার আগে γ -রশ্মি নির্গত হয়। না কেন? একটি তরল তেজস্ক্রিয় মৌলের নাম লেখো।
উত্তর – কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের পরমাণুর α বা β বিঘটন হলে নিউক্লিয়াস উত্তেজিত অবস্থায় থাকে। সেই অবস্থা থেকে ভৌম অবস্থায় ফিরে আসার জন্য দুহিতা পরমাণুর নিউক্লিয়াস γ -রশ্মি নির্গমন করে। তাই α -কণা বা β –কণা নির্গত হওয়ার আগে γ -রশ্মি নির্গত হতে পারে না।
একটি তরল তেজস্ক্রিয় মৌল হল ফ্রান্সিয়াম (Fr)।
18. কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে (1) 1 টি α -কণা ও (2) 1 টি β -কণা নির্গত হলে পর্যায় সারণিতে দুহিতা পরমাণুর অবস্থান কীরূপ হবে?
উত্তর – (1) কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে একটি α -কণা নির্গত হলে পরমাণু ক্রমাঙ্ক 2 একক কমে। তাই দুহিতা পরমাণু, জনক পরমাণুর তুলনায় পর্যায় সারণিতে 2 ঘর বামদিকে সরে যায়।
(2) কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে একটি β -কণা নিৰ্গত হলে দুহিতা পরমাণুটির পরমাণু ক্রমাঙ্ক 1 একক বাড়ে। তাই দুহিতা পরমাণু, জনক পরমাণুর তুলনায় পর্যায় সারণিতে 1 ঘর ডানদিকে সরে যায়।
19. তেজস্ক্রিয় দূষণ বলতে কী বোঝ?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করে নিউক্লীয় রিঅ্যাক্টরের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ব্যবহার বা গবেষণার প্রয়োজনে তেজস্ক্রিয় রশ্মি ও তেজস্ক্রিয় অবশেষসমূহ পরিবেশে ছড়িয়ে গিয়ে দূষণ সৃষ্টি করে। একেই তেজস্ক্রিয় দূষণ বলা হয়।
20. তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়গুলি লেখো।
উত্তর – তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়গুলি হল-
(1) তেজস্ক্রিয় নমুনাকে সরু ছিদ্রযুক্ত পুরু দেয়ালবিশিষ্ট সিসার পাত্রে রাখতে হবে। (2) তেজস্ক্রিয় নমুনা আছে এমন গবেষণাগারে কর্মী ও বিজ্ঞানীদের সিসার প্রলেপযুক্ত টুপি, গ্লাভস বা পোশাক পরতে হবে। (3) নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটর বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করে কোনো শিল্প বা গবেষণাগার লোকালয় থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে। (4) স্পর্শ না করে অন্য কোনো পদ্ধতিতে তেজস্ক্রিয় নমুনাকে ব্যবহার করতে হবে।
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো
1. তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন—
(a) রাদারফোর্ড
(b) মাদাম কুরি
(c) পিয়ের কুরি
(d) বেকারেল
উত্তর – (d) বেকারেল
2. নীচের কোনটি তেজস্ক্রিয় নয়?
(a) 32P
(b) 14C
(c) 40K
(d) 23Na
উত্তর – (d) 23Na
3. নিম্নলিখিত আইসোটোপগুলির মধ্যে কোন্টি তেজস্ক্রিয়?
(a) 12C
(b) 14C
(c) 16O
(d) 23Na
উত্তর – (b) 14C
4. নীচের কোন্টি α, β ও γ -রশ্মির আয়নন ক্ষমতার সঠিক ক্রম?
(a) α > β > γ
(b) α > γ > β
(c) γ > β > α
(d) β > α > γ
উত্তর – (a) α > β > γ
5. নিম্নলিখিত রশ্মিগুলির মধ্যে কোন্ রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
(a) α
(b) β
(c) γ
(d) দৃশ্যমান আলো
উত্তর – (c) γ
6. শূন্যস্থানে γ -রশ্মির বেগ –
(a) 2 × 108m/s
(b) 3 × 108m/s
(c) 1.5 × 108m/s
(d) 2.5 × 108m/s
উত্তর – (b) 3 × 108m/s
7. α -কণার আধান –
(a) 1.6 × 10–19C
(b) 3.2 × 10–19C
(c) 4.8 × 10–19C
(d) 6.4 × 10–19C
উত্তর – (b) 3.2 × 10–19C
৪. একটি ইলেকট্রনের ভর m হলে, β –কণার ভর—
(a) m
(b) 2m
(c) 3m
(d) 4m
উত্তর – (a) m
9. নীচের কোন্ বিবৃতিটি সত্য?
(a) β -রশ্মি প্রকৃতপক্ষে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ
(b) α -কণার ভর β -কণার ভরের সমান
(c) α, β ও γ -রশ্মির মধ্যে α -এর ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি
(d) α -রশ্মি প্রকৃতপক্ষে ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট কণার স্রোত
উত্তর – (d) α -রশ্মি প্রকৃতপক্ষে ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট কণার স্রোত
10. তেজস্ক্রিয় রশ্মিগুলির গতিপথের সমকোণে শক্তিশালী স্থির-তড়িৎক্ষেত্র প্রয়োগ করলে কোন্ রশ্মি ধনাত্মক তড়িদাহিত পাতের দিকে বেঁকে যায়?
(a) α
(b) β
(c) γ
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (b) β
11. তেজস্ক্রিয় রশ্মিগুলির গতিপথের সমকোণে শক্তিশালী স্থির-তড়িৎক্ষেত্র প্রয়োগ করলে কোন্ রশ্মি ঋণাত্মক তড়িদাহিত পাতের দিকে বেঁকে যায়?
(a) α
(b) β
(c) γ
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (a) α
12. তেজস্ক্রিয় রশ্মিগুলির গতিপথের সমকোণে শক্তিশালী স্থির-তড়িৎক্ষেত্র প্রয়োগ করলে কোন্ রশ্মির কোনোরকম বিচ্যুতি হয় না?
(a) α
(b) β
(c) γ
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (c) γ
13. α -কণার e/m-এর মান আয়নিত হাইড্রোজেন পরমাণুর এই অনুপাতের—
(a) দ্বিগুণ
(b) চারগুণ
(c) অর্ধেক
(d) সমান
উত্তর – (c) অর্ধেক
14. γ -রশ্মির ভেদন ক্ষমতা α রশ্মির –
(a) সমান
(b) 10 গুণ
(c) 100 গুণ
(d) 10000 গুণ
উত্তর – (d) 10000 গুণ
15. β -রশ্মির ভেদন ক্ষমতা α -রশ্মির —
(a) সমান
(b) 10 গুণ
(c) 100 গুণ
(d) 10000 গুণ
উত্তর – (c) 100 গুণ
16. α -রশ্মির গ্যাসকে আয়নিত করার ক্ষমতা β -রশ্মির —
(a) সমান
(b) 10 গুণ
(c) 100 গুণ
(d) 10000 গুণ
উত্তর – (c) 100 গুণ
17. β -রশ্মির গ্যাসকে আয়নিত করার ক্ষমতা γ –রশ্মির —
(a) সমান
(b) 10 গুণ
(c) 100 গুণ
(d) 10000 গুণ
উত্তর – (c) 100 গুণ
18. α -রশ্মি, β -রশ্মি ও γ -রশ্মির মধ্যে কোন্টির বেগ আলোর গতিবেগের সমান?
(a) α -রশ্মি
(b) β -রশ্মি
(c) γ -রশ্মি
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (c) γ -রশ্মি
19. একটি ইলেকট্রনের ভর m হলে একটি পজিট্রনের ভর –
(a) m
(b) m/2
(c) 2m
(d) 4m
উত্তর – (a) m
20. চৌম্বক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিক্ষেপ হয় –
(a) α -কণার
(b) β -কণার
(c) γ -কণার
(d) নিউট্রন কণার
উত্তর – (b) β -কণার
21. একটি β -কণার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের —
(a) দ্বিগুণ
(b) তিনগুণ
(c) অর্ধেক
(d) সমান
উত্তর – (d) সমান
22. ইউরানিক রশ্মির অন্য নাম হল —
(a) বেকারেল রশ্মি
(b) ক্যাথোড রশ্মি
(c) অ্যানোড রশ্মি
(d) রন্টজেন রশ্মি
উত্তর – (a) বেকারেল রশ্মি
23. তেজস্ক্রিয় পরমাণু থেকে β -কণা নিঃসরণের ফলে উৎপন্ন পরমাণুর —
(a) ভর সংখ্যা বাড়ে
(b) পারমাণবিক সংখ্যা বাড়ে
(c) ভর সংখ্যা কমে
(d) পারমাণবিক সংখ্যা কমে
উত্তর – (b) পারমাণবিক সংখ্যা বাড়ে
24. X পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে একটি ৫ কণা ও পরপর ন্যূনতম ক-টি β -কণা নির্গত হলে নতুন মৌলটি X মৌলের আইসোটোপ হবে?
(a) 1টি
(b) 2টি
(c) 3টি
(d) 4টি
উত্তর – (b) 2টি
25. α -কণাতে নিউট্রনের সংখ্যা –
(a) 1
(b) 2
(c) 3
(d) 4
উত্তর – (b) 2
একটি বা দুটি শব্দে অথবা একটি বাক্যে উত্তর দাও
1. তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রথমে নাম কী ছিল?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রথমে নাম ছিল বেকারেল রশ্মি।
2. তেজস্ক্রিয়তার SI একক কী?
উত্তর – তেজস্ক্রিয়তার SI একক হল বেকারেল (Bq)।
3. তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপক একটি যন্ত্রের নাম লেখো।
উত্তর – তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপক একটি যন্ত্রের নাম হল গাইগার-মুলার কাউন্টার।

4. তিনটি স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় মৌলের নাম লেখো।
অথবা, একটি প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় মৌলের নাম লেখো।
উত্তর – তিনটি স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় মৌলের নাম—পোলোনিয়াম (Po), রেডিয়াম (Ra) ও ইউরেনিয়াম (U)।
5. পোলোনিয়াম ও ইউরেনিয়ামের মধ্যে কার তেজস্ক্রিয়তা বেশি?
উত্তর – পোলোনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা ইউরেনিয়ামের থেকে বেশি (প্রায় হাজার গুণ)।
6. রেডিয়াম ও ইউরেনিয়ামের মধ্যে কার তেজস্ক্রিয়তা বেশি?
উত্তর – রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা ইউরেনিয়ামের চেয়ে বেশি (প্রায় দশ লক্ষ গুণ)।
7. তেজস্ক্রিয় পরিবর্তন পরমাণুর কোথায় সংঘটিত হয়?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় পরিবর্তন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে সংঘটিত হয়।
8. তেজস্ক্রিয় রশ্মি পরমাণুর কোন অংশ থেকে নির্গত হয়?
উত্তর – পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়।
9. জনক পরমাণু কাকে বলে?
উত্তর – কোনো তেজস্ক্রিয় মৌলের যে পরমাণুর তেজস্ক্রিয় বিঘটন হয় তাকে জনক পরমাণু বলা হয় ।
10. দুহিতা পরমাণু কাকে বলে?
উত্তর – কোনো তেজস্ক্রিয় পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হওয়ার পর যে নতুন মৌলের পরমাণু উৎপন্ন হয় তাকে দুহিতা পরমাণু বলা হয়।
11. পটাশিয়াম ইউরেনিল সালফেটের তেজস্ক্রিয়তার জন্য দায়ী কোন্ মৌল?
উত্তর – পটাশিয়াম ইউরেনিল সালফেটের তেজস্ক্রিয়তার জন্য দায়ী ইউরেনিয়াম।
12. তেজস্ক্রিয় বিক্রিয়া একমুখী না উভমুখী?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় বিক্রিয়া সর্বদা একমুখী।
13. তেজস্ক্রিয় মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যৌগ গঠন করলে তেজস্ক্রিয়তার কীরূপ পরিবর্তন হয়?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যৌগ গঠন করলে তেজস্ক্রিয়তা অপরিবর্তিত থাকে।
14. তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে কত ধরনের রশ্মি নির্গত হয়। তাদের নাম লেখো।
উত্তর – তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরনের রশ্মি নির্গত হয়। এরা হল- আলফা (α) রশ্মি, বিটা (β) রশ্মি ও গামা (γ) রশ্মি।
15. α -রশ্মি কোন্ ধরনের তড়িদাহিত কণা দ্বারা গঠিত?
উত্তর – α -রশ্মি ধনাত্মক তড়িদাহিত কণা দ্বারা গঠিত।
16. β-রশ্মি কোন্ কণার স্রোত?
উত্তর – β-রশ্মি ঋণাত্মক আধানবাহী কণার স্রোত।
17. γ রশ্মি কোন্ ধরনের তড়িগ্রস্ত?
উত্তর – γ -রশ্মি নিস্তড়িৎ।
18. α রশ্মি কি তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়?
উত্তর – হ্যাঁ, α রশ্মি তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
19. তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মিগুলির মধ্যে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের নাম কী?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মিগুলির মধ্যে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গটি হল গামা (γ) রশ্মি।
20. α, β ও γ -রশ্মিকে ভেদন ক্ষমতার ঊর্ধ্বক্রমে সাজাও।
অনুরূপ প্রশ্ন, α, β ও γ -রশ্মিকে ভেদন ক্ষমতার অধঃক্রমে সাজাও।
উত্তর – α, β ও γ রশ্মিকে ভেদন ক্ষমতার ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে সাজালে হয়— α-রশ্মি < β -রশ্মি < γ -রশ্মি ।
21. প্রদত্ত রশ্মিগুলিকে গ্যাসকে আয়নিত করার ক্ষমতার ঊর্ধ্বক্রমানুসারে সাজাও : α -রশ্মি, β -রশ্মি, γ -রশ্মি।
উত্তর – α -রশ্মি, β -রশ্মি, γ -রশ্মির গ্যাসকে আয়নিত করার ক্ষমতার ঊর্ধ্বক্রমানুসারে সাজালে হয় — γ-রশ্মি < β -রশ্মি < α -রশ্মি ।
22. তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মিগুলির মধ্যে কণাধর্মী রশ্মি কোন্গুলি?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মিগুলির মধ্যে α ও β -রশ্মি দুটি কণাধর্মী কণার স্রোত।
23. α, β ও γ রশ্মির মধ্যে কার আয়নন ক্ষমতা সর্বাধিক?
উত্তর – α -রশ্মির আয়নন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
24. β -কণার ভর কত?
উত্তর – β -কণার ভর 9.1 × 10-28g |
25. একটি α -কণার আধান β -কণার আধানের মানের কত গুণ?
উত্তর – একটি α -কণার আধান β -কণার আধানের মানের দ্বিগুণ।
26. তেজস্ক্রিয় পরমাণুর কোন্ অংশ থেকে β –কণা নির্গত হয়?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে β -কণা নির্গত হয়।
27. ধনাত্মক আধানযুক্ত তেজস্ক্রিয় কণার নাম লেখো।
উত্তর – ধনাত্মক আধানযুক্ত তেজস্ক্রিয় কণা হল α কণা।
28. α ও β -রশ্মির মধ্যে কোন্টির বেগ কম অথচ গতিশক্তি বেশি?
উত্তর – α ও β -রশ্মির মধ্যে α রশ্মির বেগ কম অথচ গতিশক্তি বেশি।
29. কোন্ তেজস্ক্রিয় রশ্মি ঋণাত্মক তড়িৎগ্রস্ত কণার স্রোত?
উত্তর – β -রশ্মি ঋণাত্মক তড়িৎগ্রস্ত কণার স্রোত।
30. তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে একটি α -কণা নির্গত হলে নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা ক-টি কমে?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে একটি α -কণা নির্গত হলে নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা 2 টি কমে।
31. তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে একটি α -কণা নির্গত হলে নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংখ্যা ক-টি কমে?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে একটি α -কণা নির্গত হলে নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংখ্যা 2 টি কমে।
32. কোনো তেজস্ক্রিয় পরমাণু থেকে একটি α -কণা নির্গত হলে অপত্য পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
উত্তর – একটি α -কণা নিঃসরণের ফলে অপত্য পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা 2 একক ও ভর সংখ্যা 4 একক কমে যায়।
33. γ -রশ্মি বিঘটনের ফলে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যার পরিবর্তন হয় কি?
উত্তর – না, γ রশ্মি বিঘটনের ফলে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
34. কোন্ কণা নিঃসরণের ফলে তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যার কোনো পরিবর্তন না হলেও পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়?
উত্তর – β -কণা নিঃসরণের ফলে তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
35. কোন ধরনের নিউক্লীয় ঘটনায় তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা হ্রাস পায়?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে α -কণা নিঃসরণের ফলে নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা হ্রাস পায়।
36. কোনো মুহূর্তে একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের নমুনা থেকে একটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি নিঃসৃত হল অথচ কোনো নতুন নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হল না। তেজস্ক্রিয় রশ্মিটির স্বরূপ কী?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় রশ্মিটি হল γ -রশ্মি। এটি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
37. কোনো মুহূর্তে একটি তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে একটি কণা নিঃসরণের ফলে নিউক্লিয়াসটির শুধুমাত্র পরমাণু ক্রমাঙ্ক 1 একক বেড়ে যায়। কণাটির স্বরূপ কী?
উত্তর – কণাটি হল β -কণা। এটি প্রকৃতপক্ষে ইলেকট্রন।
38. তেজস্ক্রিয়তার একটি প্যাথলজিক্যাল কুপ্রভাব লেখো।
উত্তর – তেজস্ক্রিয়তার একটি প্যাথলজিক্যাল কুপ্রভাব হল—ত্বকে ক্ষত হওয়া।
39. তেজস্ক্রিয় ক্ষত কী?
উত্তর – তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রভাবে মানব শরীরের জীবন্ত কোশগুলি নষ্ট হয়ে যে ক্ষতের সৃষ্টি করে তাই হল তেজস্ক্রিয় ক্ষত।
65. লিউকিমিয়া চিকিৎসায় কোন্ তেজস্ক্রিয় মৌল ব্যবহার করা হয়?
উত্তর – লিউকিমিয়া চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় 32p ব্যবহার করা হয়।
66. তেজস্ক্রিয়তার একটি ব্যাবহারিক প্রয়োগ লেখো।
উত্তর – রেডিয়াম নিঃসৃত বিকিরণের সাহায্যে কয়েক ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয়।
শূন্যস্থান পূরণ করো
1. তেজস্ক্রিয়তা হল পরমাণুর ………. -এর ধর্ম।
উত্তর – নিউক্লিয়াস
2. ……… কিংবা তার বেশি ভর সংখ্যাবিশিষ্ট মৌলগুলি সাধারণত তেজস্ক্রিয় হয়।
উত্তর – 210
3. γ রশ্মি এক ধরনের ………. তরঙ্গ।
উত্তর – তড়িৎচুম্বকীয়
4. রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা ইউরেনিয়ামের তুলনায় প্রায় …….. গুণ।
উত্তর – দশ লক্ষ
5. একটি α কণার আধান হাইড্রোজেন আয়নের আধানের ……….।
উত্তর – দ্বিগুণ
6. α -রশ্মি জিংক সালফাইডের প্রলেপযুক্ত পর্দার ওপর আপতিত হলে …….. সৃষ্টি করে।
উত্তর – প্রতিপ্ৰভা
7. α -কণা হল ……….. পরমাণুর নিউক্লিয়াস।
উত্তর – হিলিয়াম
8. α -কণা ইলেকট্রন ………. করে হিলিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।
উত্তর – গ্রহণ
9. পজিট্রনের আধান ……….. কুলম্ব।
উত্তর – + 1.6 × 10-19
10. α -রশ্মি হল দ্রুতগামী ………. আধানবিশিষ্ট কণার স্রোত।
উত্তর – ধনাত্মক
11. তেজস্ক্রিয় রশ্মিগুলির মধ্যে ………. -রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সর্বাধিক।
উত্তর – γ
12. α -বিঘটনের ফলে নিউক্লিয়াসের ……… -টি প্রোটন ও 2টি নিউট্রন কমে যায়।
উত্তর – 2
13. ZXA → Z+1YA + ……….।
উত্তর – –1e0
14. সাধারণত তেজস্ক্রিয় পদার্থের α বা β -বিঘটনের পর ……… -রশ্মির নিঃসরণ হয়।
উত্তর – γ
TOPIC – B নিউক্লীয় শক্তি
সংক্ষিপ্ত। দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
1. নিউক্লীয় বিক্রিয়া কী? আইনস্টাইনের ভর ও শক্তির তুল্যতা নীতিটি লেখো।
উত্তর – কৃত্রিম উপায়ে বা স্বাভাবিকভাবে একটি মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটিয়ে কোনো নতুন মৌল গঠন করার প্রক্রিয়াই হল নিউক্লীয় বিক্রিয়া৷
বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব থেকে জানা যায়— শক্তির অপর একটি রূপ হল ভর। পদার্থকে শক্তিতে বা শক্তিকে পদার্থে রূপান্তরিত করা সম্ভব। কোনো পদার্থের m পরিমাণ ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হলে E = mc2 পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়, যেখানে c = 2.998 × 108 m/s ≈ 3 × 108 m/s = শূন্যস্থানে আলোর দ্রুতি।
2. 1u পরিমাণ ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হলে তুল্য শক্তির পরিমাণ নির্ণয় করো।
উত্তর – এখানে, m = 1u = 1.66 × 10-27 kg

3. (i) ভর ত্রুটি বলতে কী বোঝায়?
(ii) M ভরবিশিষ্ট ZXA নিউক্লিয়াসের ভর ত্রুটি কত? (প্রদত্ত একটি প্রোটনের ভর = mp এবং একটি নিউট্রনের ভর = mn)
উত্তর – (i) কোনো নিউক্লিয়াস যতগুলি প্রোটন ও নিউট্রন নিয়ে গঠিত তাদের ভরের সমষ্টি অপেক্ষা নিউক্লিয়াসের ভর কিছুটা কম হয়। ভরের এই পার্থক্যকে ভর ত্রুটি বা ভর বিচ্যুতি (mass defect) বলা হয়।
(ii) প্রশ্নানুসারে, নিউক্লিয়াসটির গঠনগত কণিকা,
Z সংখ্যক প্রোটনের মোট ভর = Zmp
এবং (A – Z) সংখ্যক নিউট্রনের মোট ভর = (A – Z)mn
∴ নিউক্লিয়নগুলির মোট ভর = Zmp + (A – Z)mn
অতএব, ভর ত্রুটি = Zmp + (A – Z)mn – M
4. নিউক্লিয়ন প্রতি বন্ধনশক্তি কাকে বলে? এর রাশিমালাটি নির্ণয় করো।
উত্তর – কোনো নিউক্লিয়াসের বন্ধন শক্তি ও নিউক্লিয়নের সংখ্যার অনুপাতকে নিউক্লিয়ন প্রতি বন্ধন শক্তি বলা হয়।
মনে করি, কোনো পরমাণুর পরমাণু ক্রমাঙ্ক Z ও ভর সংখ্যা A | একটি প্রোটন ও নিউট্রনের ভর যথাক্রমে mp ও mn, পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর M ও শূন্যস্থানে আলোর দ্রুতি c হলে, বন্ধন শক্তি

5. নিউক্লীয় বন্ধন শক্তি বলতে কী বোঝ? M ভরবিশিষ্ট ZXA নিউক্লিয়াসের বন্ধন শক্তি নির্ণয় করো। দেওয়া আছে, একটি প্রোটনের ভর = mp ও একটি নিউট্রনের ভর = mn |
উত্তর – কোনো নিউক্লিয়াসকে ভেঙে ওর মধ্যে থাকা নিউক্লিয়নগুলিকে সম্পূর্ণ স্বাধীন কণায় পরিণত করতে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শক্তিকে নিউক্লীয় বন্ধন শক্তি বলা হয়। নিউক্লিয়াসের মধ্যে নিউক্লিয়নগুলি এই শক্তির জন্যই পরস্পর আবদ্ধ থাকে।
প্রশ্নানুযায়ী, পরমাণুর পরমাণু ক্রমাঙ্ক Z এবং ভর সংখ্যা A।
একটি প্রোটন ও নিউট্রনের ভর যথাক্রমে mp ও mn এবং পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর M হলে,
নিউক্লিয়নগুলির মোট ভর =Zmp + (A – Z)mn.
∴ ভর ত্রুটি = Zmp + (A – Z)mn -M
অতএব বন্ধনশক্তি = {Zmp + (A – Z)mn – M} c2
[যেখানে c হল শূন্যস্থানে আলোর দ্রুতি]
6.
নিউক্লিয়াসের বন্ধনশক্তি 28.2 MeV বলতে কী বোঝ?

উত্তর –
নিউক্লিয়াসের বন্ধন-শক্তি 28.2 MeV বলতে বোঝায়— হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের 2টি প্রোটন ও 2টি নিউট্রনকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন কণায় পরিণত করতে ন্যূনতম 28.2 MeV শক্তির প্রয়োজন।

7. নিউক্লীয় বিভাজন বলতে কী বোঝ ?
উত্তর – সংজ্ঞা: নিউক্লীয় বিভাজন হল একধরনের কেন্দ্রক বিক্রিয়া যেখানে কোনো ভারী নিউক্লিয়াস প্রায় সমান ভরের দুটি নিউক্লিয়াসে বিভাজিত হয় এবং কয়েকটি নিউট্রন, γ -রশ্মি এবং প্রচুর শক্তির উদ্ভব হয়।
উদাহরণ:
নিউক্লিয়াসকে ধীরগতিসম্পন্ন নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে নিউক্লিয়াসটি নিউট্রন গ্রহণ করে সংযুক্ত নিউক্লিয়াস গঠন করে। সেটি অত্যন্ত দুস্থিত হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে দুটি খণ্ডে বিভাজিত হয়। এদের বলা হয় বিভাজন খন্ড। এর সঙ্গে 3 টি নিউট্রন ও γ -রশ্মি নিঃসৃত হয় এবং প্রচণ্ড শক্তির উদ্ভব হয়। এই নিউক্লীয় বিভাজনের সমীকরণটি হল


৪. নিউক্লীয় বিভাজনের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর – নিউক্লীয় বিভাজনের বৈশিষ্ট্যগুলি হল— (1) ধীর গতিসম্পন্ন নিউট্রনের আঘাতে একটি ভারী নিউক্লিয়াস প্রায় সমান ভরের দুটি অংশে বিভাজিত হয়। (2) বিভাজন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত নিউক্লিয়াস দুটি ছাড়া কয়েকটি নিউট্রন ও γ -রশ্মি অপসৃত হয় এবং প্রচণ্ড শক্তির উদ্ভব হয়। (3) নিউক্লীয় বিভাজন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন নিউট্রনগুলি পার্শ্ববর্তী তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াসগুলির বিভাজন ঘটায় এবং শৃঙ্খল বিক্রিয়া বজায় রাখে।
9. ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসের বিভাজন বিক্রিয়াটি সমীকরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর – একটি
নিউক্লিয়াসকে ধীরগতিসম্পন্ন নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে নিউক্লিয়াসটি নিউট্রন গ্রহণ করে সংযুক্ত নিউক্লিয়াস গঠন করে। সেটি অত্যন্ত দুস্থিত হওয়ায়, সঙ্গে সঙ্গে দুটি খণ্ডে বিভাজিত হয়। এর সঙ্গে ও টি নিউট্রন, γ -রশ্মি নিঃসৃত হয় এবং প্রচণ্ড শক্তির উদ্ভব হয়। সমীকরণ-


10. জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত প্রচলিত অন্যান্য শক্তির তুলনায় পারমাণবিক শক্তির সুবিধা কী?
উত্তর – প্রচলিত অন্যান্য শক্তির তুলনায় পারমাণবিক শক্তির সুবিধা—
- প্রধানত জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন—কয়লা, পেট্রোল, ডিজেল ইত্যাদি) ব্যবহারের ফলে বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ফলে এই ধরনের ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ হ্রাস পাবে।
- নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি পাওয়ার জন্য যে পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে হয় তা পারমাণবিক জ্বালানির তুলনায় অনেক বেশি।
11. পারমাণবিক শক্তি ছাড়া চারটি অপ্রচলিত শক্তির নাম লেখো। এই ধরনের শক্তি উৎপাদনের তুলনায় পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের সুবিধা লেখো।
উত্তর – পারমাণবিক শক্তি ছাড়া চারটি অপ্রচলিত শক্তি হল—সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জোয়ারভাটার শক্তি এবং ভূতাপশক্তি।
দিন-রাত, গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত, ঝড়-ঝঞ্ঝা ইত্যাদি প্রাকৃতিক কোনো ঘটনার দ্বারাই পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন প্রভাবিত হয় না। অপ্রচলিত অন্যান্য শক্তিগুলির উৎপাদনের ক্ষেত্রে এমন সুবিধা নেই। পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের সুবিধা এটাই।
12. শৃঙ্খল বিক্রিয়া কী ? নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটর কাকে বলে?
উত্তর – নিউট্রনের আঘাতে প্রতিটি
পরমাণুর নিউক্লীয় বিভাজনের সময় 3 টি উচ্চগতিসম্পন্ন নিউট্রন নির্গত হয়। এদের গৌণ নিউট্রন বলা হয়। এই গৌণ নিউট্রনগুলি পার্শ্ববর্তী ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে আবার নিউক্লীয় বিভাজন ঘটায় ও নতুন নিউট্রন উৎপন্ন করে। যদি ইউরেনিয়াম পিণ্ডের ভর এমন হয় যাতে পিণ্ড ছেড়ে যাওয়ার আগেই গৌণ নিউট্রন আবার নিউক্লীয় বিভাজন ঘটায় তাহলে নিউক্লীয় বিভাজন স্বতঃচালিত হয়। এইরূপ স্বতঃচালিত বিক্রিয়াকে শৃঙ্খল বিক্রিয়া বলা হয় ।


নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটর হল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে নিউক্লীয় বিভাজনকে বিশেষ পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে, নিউক্লীয় বিভাজনে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করে অল্প সময়ে বিপুল শক্তি উৎপন্ন করা হয়।
13. নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে নিম্নলিখিত অংশগুলি হিসেবে কী ব্যবহৃত হয় এবং তাদের কাজ কী?
(1) জ্বালানি (fuel), (2) মডারেটর (moderator), (3) নিয়ন্ত্রক দণ্ড (control rods), (4) শীতক (coolant)।
উত্তর – নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরের উল্লিখিত অংশগুলির ব্যবহার এবং কাজ—
অংশ | ব্যবহৃত মূল উপাদান | কাজ |
1. জ্বালানি | ইউরেনিয়াম (তেজস্ক্রিয় মৌল) [U-235] | U-235-কে তাপীয় নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে বিভাজন ঘটানো হয়। |
2. মডারেটর | ভারী জল (D2O) অথবা গ্রাফাইট | নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিশক্তিসম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে মন্দীভূত করে। |
3. নিয়ন্ত্রক দণ্ড | ক্যাডমিয়াম (Cd) | প্রয়োজনের অতিরিক্ত তাপীয় নিউট্রনগুলিকে শোষণ করা। |
4. শীতক | সাধারণত জল | নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে কোর-এ উৎপন্ন তাপশক্তি শোষণ করা। |
14. নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের ক্রিয়া সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর – নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে, নিউক্লীয় বিভাজনে উৎপন্ন তাপশক্তি দিয়ে সাধারণত জলকে ফুটিয়ে স্টিম তৈরি করা হয়। সেই স্টিম টারবাইনকে ঘোরায় এবং উৎপন্ন হয় তড়িৎশক্তি। এখানে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় কোর নামক

একটি অংশে। প্রেসারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাকটর (PWR) এক ধরনের পরিচিত নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটর। এই যন্ত্রের কোরের মধ্যেই নিউক্লীয় বিভাজন বিক্রিয়াটি ঘটে। এই যন্ত্রের অন্যান্য অংশগুলি হল জ্বালানি রড, নিয়ন্ত্রক রড, মডারেটর ও কুল্যান্ট। এখানে জ্বালানি রড হিসেবে
ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই যন্ত্রে উৎপন্ন নিউট্রনকে নিয়ন্ত্রণ বা শোষণ করার জন্য এক বিশেষ ধরনের দণ্ড ব্যবহার করা হয়। মডারেটর উচ্চগতিসম্পন্ন নিউট্রনকে ধীরগতিসম্পন্ন করে। মডারেটর হিসেবে সাধারণত ভারী জল ব্যবহার করা হয়। নিউক্লীয় বিভাজনে উৎপন্ন তাপকে শোষণ করে কুল্যান্ট। কুল্যান্ট হিসেবে সাধারণত জল ব্যবহার করা হয়।

15. নিউক্লীয় চুল্লিতে ব্যবহৃত ভারী জলের ভূমিকা কী?
উত্তর – নিউক্লীয় চুল্লিতে ভারী জল (D2O) মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয় যা নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিসম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে মন্দীভূত করে।
16. নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে জ্বালানি হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়?
ভারতবর্ষের দুটি স্থানের নাম লেখো যেখানে নিউক্লিয়ার অ্যাকটর ব্যবহৃত হয়?
নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের ক্ষতিকারক দিক কোন্টি?
উত্তর – নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় ইউরেনিয়াম 

ভারতবর্ষের তারাপুর ও কালপক্কমে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটর ব্যবহৃত হয়।
নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরের ক্ষতিকারক দিক হল তেজস্ক্রিয় রশ্মির নির্গমন। এক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বায়ুতে নির্গত হয়ে বা সমুদ্রে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
17. 1945 সালে জাপানে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ও 1986 সালে ইউক্রেনের চেরনোবিল শহরে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরের বিস্ফোরণ— এই দুটি ঘটনার কুপ্রভাবগুলি লেখো।
উত্তর – হিরোসিমায় ইউরেনিয়াম পরমাণু বোমা ও নাগাসাকিতে প্লুটোনিয়াম পরমাণু বোমা ফেলা হয়েছিল। বোমার ক্ষমতা এত বেশি ছিল যে নিক্ষেপস্থলের 500m -এর মধ্যে থাকা 90% মানুষ সঙ্গে সঙ্গে মারা গিয়েছিল। বোমা ফেলার তিন সপ্তাহ পর থেকে যেসব মানুষ বেঁচে ছিল তাদের বেশিরভাগের মধ্যে চুল ওঠা, অ্যানিমিয়া, রক্তপাত, ডায়েরিয়া প্রভৃতি রোগ দেখা দিয়েছিল। বোমা ফেলার অর্ধশতাব্দী পরেও তার প্রভাবে থাইরয়েড ক্যানসার, ফুসফুসে ক্যানসার, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মের মতো সমস্যা রয়ে গেছে।
চেরনোবিলে চারটি ক্রিয়ারত রিঅ্যাকটর ও দুটি তৈরি হচ্ছে এমন রিঅ্যাকটরে বিস্ফোরণ হয়েছিল। তার ফলে রিঅ্যাকটর থেকে গলিত তেজস্ক্রিয় পদার্থ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো বেরিয়ে এসেছিল ও বিস্তীর্ণ এলাকা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ দ্বারা দূষিত হয়েছিল। বিকিরণের বিষক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে 31 জন মারা গিয়েছিল এবং কিছু বছর পরেও কয়েক হাজার মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিল।
18. নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
অথবা, নিউক্লীয় সংযোজনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর – নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য — (1) নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে। (2) নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়া ঘটার জন্য প্রায় 107°C থেকে 108°C উন্নতার প্রয়োজন হয়। (3) যে-কোনো নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়া ঘটানোর পূর্বে নিউক্লীয় বিভাজন ঘটানো হয়। (4) নিউক্লীয় সংযোজনে বর্জ্যগুলি অতেজস্ক্রিয়।
19. নিউক্লীয় সংযোজনকে তাপ নিউক্লীয় বিক্রিয়া বলা হয় কেন?
উত্তর – নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়া সংঘটিত করার জন্য অতি উচ্চ তাপমাত্রার (107°C থেকে 108°C) প্রয়োজন হয় বলে একে তাপ নিউক্লীয় বিক্রিয়া বলা হয়।
20. নিউক্লীয় বন্ধন শক্তির উৎস কী? নিউক্লীয় সংযোজনের দুটি প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ করো।
উত্তর – নিউক্লীয় বন্ধন শক্তির উৎস হল ভর বিচ্যুতির শক্তিতে রূপান্তর।
নিউক্লীয় সংযোজনের দুটি প্রয়োজনীয় শর্ত হল – (1) যে নিউক্লিয়াসগুলির মধ্যে সংযোজন বিক্রিয়া ঘটবে তারা হালকা হয়, না হলে সংযোজনের মুহূর্তে প্রোটন-প্রোটন স্থির তাড়িতিক বিকর্ষণ’বল অস্বাভাবিক রকমের বেশি হবে। (2) নিউক্লীয় সংযোজনের জন্য 107°C থেকে 108°C উন্নতার প্রয়োজন, এর জন্য আগে নিউক্লীয় বিভাজন ঘটিয়ে ওই তাপমাত্রা উৎপন্ন করতে হবে।
21 নিউক্লীয় বিভাজন ও নিউক্লীয় সংযোজনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর – নিউক্লীয় বিভাজন ও নিউক্লীয় সংযোজনের মধ্যে পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ—
নিউক্লীয় বিভাজন | নিউক্লীয় সংযোজন |
1. এই প্রক্রিয়ায় কোনো ভারী নিউক্লিয়াস প্রায় সমান ভরের দুটি নিউক্লিয়াসে বিভাজিত হয়। | এই প্রক্রিয়ায় কয়েকটি হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে। |
2. এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি নিউক্লীয় সংযোজনে উৎপন্ন শক্তির তুলনায় কম। | 2. এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি নিউক্লীয় বিভাজনে উৎপন্ন শক্তির তুলনায় বেশি। |
3. এই প্রক্রিয়ায় টার্গেট নিউক্লিয়াসকে আঘাত করার জন্য তাপীয় নিউট্রনের প্রয়োজন হয়। | 3. এই প্রক্রিয়ায় কোনো আঘাতকারী কণার প্রয়োজন হয় না। |
4. এই প্রক্রিয়া সাধারণ উন্নতাতেই ঘটে। | 4. এই প্রক্রিয়া প্রায় 107°C থেকে 108°C উয়তার মধ্যে ঘটে। |
5. এই প্রক্রিয়ায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। | 5. এই প্রক্রিয়ায় কোনো তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় না। |
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো
1. 1 MeV = কত J ?
(a) 1.6 × 10–13
(b) 3.2 × 10–13
(c) 4.8 × 10–13
(d) 6.4 × 10–13
উত্তর – (a) 1.6 × 10–13
2. 0.1 u পরিমাণ ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হলে উৎপন্ন শক্তি প্রায় —
(a) 186.3 MeV
(b) 46.575 MeV
(c) 93.12 MeV
(d) 372.6 MeV
উত্তর – (c) 93.12 MeV
3. নিউক্লিয়াসের মধ্যে প্রতিটি নিউক্লিয়নের গড় বন্ধনশক্তি কত হলে নিউক্লিয়াসটি স্থায়ী হয়?
(a) প্রায় 2 MeV
(b) প্রায় 2.5 MeV
(c) প্রায় 3 MeV
(d) প্রায় 8 MeV
উত্তর – (d) প্রায় 8 MeV
4. নীচের কোন্টির মধ্যে নিউক্লিয়ন প্রতি বন্ধন-শক্তি সর্বোচ্চ?
(a) 60Ni
(b) 56Fe
(c) 58Fe
(d) 62Ni
উত্তর – (d) 62Ni
5. 62Ni -এর নিউক্লিয়ন প্রতি বন্ধন শক্তির মান প্রায় —
(a) 8.0 MeV
(b) 9.2 MeV
(c) 8.8 MeV
(d) 8.2 MeV
উত্তর – (c) 8.8 MeV
6. নিউক্লীয় বিভাজনের ক্ষেত্রে আদর্শ প্রক্ষেপক হল —
(a) প্রোটন
(b) α -কণা
(c) γ -রশ্মি
(d) নিউট্রন
উত্তর – (d) নিউট্রন
7. 1945 সালের 6 আগস্ট পারমাণবিক বোমা ফেলা হয় —
(a) নাগাসাকিতে
(b) হিরোসিমায়
(c) ইউক্রেনের চেরনোবিলে
(d) ফুকুশিমায়
উত্তর – (b) হিরোসিমায়
৪. অনিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার শৃঙ্খল বিক্রিয়া ঘটে—
(a) নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে
(b) হাইড্রোজেন বোমায়
(c) থার্মাল পাওয়ার স্টেশনে
(d) পরমাণু বোমায়
উত্তর – (d) পরমাণু বোমায়
9. নিউক্লীয় রিঅ্যাকটরে শক্তির রূপান্তরটি হল —
(a) পারমাণবিক শক্তি → তাপশক্তি
(b) তাপশক্তি → তড়িৎশক্তি
(c) তড়িৎশক্তি → পারমাণবিক শক্তি
(d) পারমাণবিক শক্তি → তাপশক্তি → তড়িৎশক্তি
উত্তর – (d) পারমাণবিক শক্তি → তাপশক্তি → তড়িৎশক্তি
10. নিউক্লীয় রিঅ্যাকটরে মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়—
(a) ক্যাডমিয়াম
(b) ইউরেনিয়াম-235
(c) লেড
(d) ভারী জল
উত্তর – (d) ভারী জল
11. সূর্যের শক্তির মূল উৎস হল—
(a) নিউক্লীয় সংযোজন ও নিউক্লীয় বিভাজন
(b) নিউক্লীয় বিভাজন
(c) নিউক্লীয় সংযোজন
(d) কোনোটিই নয়
উত্তর – (c) নিউক্লীয় সংযোজন
12. সূর্যের বাইরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায়—
(a) 600°C
(b) 6000°C
(c) 60000°C
(d) 10000°C
উত্তর – (b) 6000°C
13. নিউক্লীয় সংযোজন হয়—
(a) ইউরেনিয়াম বোমাতে
(b) নক্ষত্রে
(c) পৃথিবীর কেন্দ্রে
(d) যে-কোনো গ্রহে
উত্তর – (b) নক্ষত্রে
14. নিউক্লীয় সংযোজন হল—
(a) কয়েকটি হালকা নিউক্লিয়াসের জন্ম
(b) কয়েকটি ভারী নিউক্লিয়াসের জন্ম
(c) কয়েকটি ভারী নিউক্লিয়াস জুড়ে অপেক্ষাকৃত হালকা একটি নিউক্লিয়াসের জন্ম
(d) কয়েকটি হালকা নিউক্লিয়াস জুড়ে অপেক্ষাকৃত ভারী একটি নিউক্লিয়াসের জন্ম
উত্তর – (d) কয়েকটি হালকা নিউক্লিয়াস জুড়ে অপেক্ষাকৃত ভারী একটি নিউক্লিয়াসের জন্ম
একটি বা দুটি শব্দে অথবা একটি বাক্যে উত্তর দাও
1. 1u পরিমাণ ভরের তুল্য শক্তি কত?
উত্তর – lu পরিমাণ ভরের তুল্য শক্তি হল 931.2 MeV |
2. ভর ও শক্তির তুল্যতার সমীকরণটি লেখো।
উত্তর – ভর (m) ও শক্তি (E) -র তুল্যতার সমীকরণটি হল— E = mc2, যেখানে c = শূন্যস্থানে আলোর দ্রুতি।
3. ভর ত্রুটি Δm হলে নিউক্লীয় বন্ধন-শক্তির পরিমাণ কত?
উত্তর – নিউক্লীয় বন্ধন শক্তি = Δmc2 যেখানে c হল শূন্যস্থানে আলোর দ্রুতি।
4. হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের পরীক্ষালব্ধ ভর 4.0015u | এর নিউক্লিয়নগুলির মোট ভর 4.0320 u। এর ভর বিচ্যুতি কত?
উত্তর – হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের ভর বিচ্যুতি = 4.0320 – 4.0015 = 0.0305 u |
5. ভর ত্রুটির সঙ্গে নিউক্লীয় বন্ধন শক্তির সম্পর্ক
উত্তর – ভর ত্রুটির তুল্য শক্তিই হল নিউক্লীয় বন্ধন শক্তি।
6. নিউক্লিয়নগুলির মোট ভর অপেক্ষা নিউক্লিয়াসের ভর বেশি, কম না সমান হয়?
উত্তর – নিউক্লিয়নগুলির মোট ভর অপেক্ষা নিউক্লিয়াসের ভর কম হয়।
7. কোন্ প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে ইউরেনিয়াম বোমা তৈরি করা হয়?
উত্তর – নিউক্লীয় বিভাজন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে ইউরেনিয়াম বোমা তৈরি করা হয়।
৪. নিউক্লীয় বিভাজন প্রক্রিয়ায় টার্গেট নিউক্লিয়াসকে আঘাত করার জন্য আঘাতকারী কণা হিসেবে কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর – নিউক্লীয় বিভাজন প্রক্রিয়ায় আঘাতকারী কণা হিসেবে নিউট্রন ব্যবহার করা হয়।
9. নিউক্লীয় বিভাজন প্রক্রিয়াকে কি নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
উত্তর – হ্যাঁ, নিউক্লীয় বিভাজন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
10. নিউক্লীয় বিভাজনে আঘাতকারী কণা হিসেবে নিউট্রন ব্যবহার করা হয় কেন?
উত্তর – নিউক্লীয় বিভাজনে আঘাতকারী কণা হিসেবে নিউট্রন ব্যবহার করা হয় কারণ নিউট্রন নিস্তড়িৎ হওয়ায় নিউক্লিয়াস দ্বারা বিকর্ষিত হয় না।
11. নিউক্লীয় বিভাজনে ভরের সংরক্ষণ নীতিটি প্রযোজ্য কি?
উত্তর – না, নিউক্লীয় বিভাজনে ভরের সংরক্ষণ নীতিটি প্রযোজ্য নয়।
12. নিউক্লীয় বিভাজনে ভর ও শক্তির তুল্যতা নীতিটি প্রযোজ্য কি?
উত্তর – হ্যাঁ, নিউক্লীয় বিভাজনে ভর ও শক্তির তুল্যতা নীতিটি প্রযোজ্য।
13. নিউক্লীয় বিভাজনের একটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর – পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লিতে নিউক্লীয় বিভাজন ঘটিয়ে উৎপন্ন তাপশক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন করা হয়।
14. নিউক্লীয় বিভাজনের একটি অপব্যবহার উল্লেখ করো।
উত্তর – নিউক্লীয় বিভাজন বিক্রিয়ার একটি অপব্যবহার হল পরমাণু বোমা।
15. নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে জ্বালানি হিসেবে বহুল ব্যবহৃত একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থের নাম লেখো।
উত্তর – নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে সাধারণত ইউরেনিয়াম নামক তেজস্ক্রিয় মৌলটি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
16. নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে ভারী জলের (heavy water-এর) ভূমিকা কী?
উত্তর – নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে নিউট্রনের উচ্চ গতি কমানোর কাজে ভারী জল ব্যবহার করা হয়।
17. নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে কোন্ প্রক্রিয়া ঘটানো হয়?
উত্তর – নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে নিয়ন্ত্রিতভাবে নিউক্লীয় বিভাজন প্রক্রিয়া ঘটানো হয়।
18. কোন্ ধরনের নিউক্লীয় বিক্রিয়া সূর্যের শক্তির উৎস?
উত্তর – সূর্যের শক্তির উৎস হল নিউক্লীয় সংযোজন।
19. নিউক্লীয় সংযোজনে ভরের সংরক্ষণ নীতিটি প্রযোজ্য কি?
উত্তর – না, নিউক্লীয় সংযোজনে ভরের সংরক্ষণ নীতিটি প্রযোজ্য নয়।
20. নিউক্লীয় সংযোজনে ভর ও শক্তির তুল্যতা নীতিটি প্রযোজ্য কি?
উত্তর – হ্যাঁ, নিউক্লীয় সংযোজনে ভর ও শক্তির তুল্যতা নীতিটি প্রযোজ্য।
21. নিউক্লীয় সংযোজনে যে বিপুল পরিমাণ শক্তি মুক্ত হয় কোন্ সূত্র তা ব্যাখ্যা করে?
উত্তর – নিউক্লীয় সংযোজনে যে বিপুল পরিমাণ শক্তি মুক্ত হয় তা ভর ও শক্তির তুল্যতা সূত্র ব্যাখ্যা করে।
22. নিউক্লীয় সংযোজন ঘটাতে কত তাপমাত্রার প্রয়োজন?
উত্তর – নিউক্লীয় সংযোজন ঘটাতে প্রায় 107°C থেকে 108°C তাপমাত্রার প্রয়োজন।
23. নিউক্লীয় সংযোজনে উৎপন্ন পদার্থ তেজস্ক্রিয় না অতেজস্ক্রিয় ?
উত্তর – নিউক্লীয় সংযোজনে উৎপন্ন পদার্থ অতেজস্ক্রিয়।
24. কোন্ প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়?
উত্তর – নিউক্লীয় সংযোজন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়।
25. নিউক্লীয় বিভাজনে বিপুল শক্তি উৎপন্নের কারণ কী?
উত্তর – নিউক্লীয় বিভাজনে বিপুল শক্তি উৎপন্নের কারণ হল ভরের হ্রাস।
26. নিউক্লীয় সংযোজনে যে শক্তি মুক্ত হয় তার উৎস কী?
উত্তর – নিউক্লীয় বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক অপেক্ষা বিক্রিয়াজাত পদার্থের ভর কম হয়, এই হ্রাসপ্রাপ্ত ভর E = mc2 সূত্রানুযায়ী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এটিই হল নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তির উৎস।
27. সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর কোন্ উপাদান অংশগ্রহণ করে?
উত্তর – সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর সর্ববহিস্থ কক্ষপথের ইলেকট্রনগুলি অংশগ্রহণ করে।
28. নিউক্লীয় বিক্রিয়ায় পরমাণুর কোন্ উপাদান অংশগ্রহণ করে?
উত্তর – নিউক্লীয় বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াস অংশগ্রহণ করে।
29. তেজস্ক্রিয়তার সঙ্গে নিউক্লীয় বিভাজনের মিল কোথায়?
উত্তর – তেজস্ক্রিয়তা ও নিউক্লীয় বিভাজন—এই দুটি ঘটনাতেই পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে।
30. নিউক্লীয় সংযোজন ও বিভাজনের মধ্যে কোন্টিতে শতকরা বেশি ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর – নিউক্লীয় সংযোজন ও বিভাজনের মধ্যে নিউক্লীয় সংযোজনে শতকরা বেশি ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
31. নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটর বিস্ফোরণের দুটি ঘটনার উল্লেখ করো।
উত্তর –1986 খ্রিস্টাব্দের 26 এপ্রিল ইউক্রেনের চেরনোবিল ও 2011 খ্রিস্টাব্দের 11 মার্চ জাপানের ফুকুসিমা।
শূন্যস্থান পূরণ করো
1. শক্তির অপর একটি রূপ হল ……….।
উত্তর – ভর
2. কোনো নিউক্লিয়াস যতগুলি প্রোটন ও নিউট্রন নিয়ে গঠিত তাদের ভরের সমষ্টি অপেক্ষা নিউক্লিয়াসের ভর কিছুটা ………. হয়।
উত্তর – কম
3. নিউক্লীয় সংযোজন প্রক্রিয়া ঘটানোর আগে নিউক্লীয় ……….. ঘটানো হয়।
উত্তর – বিভাজন
4. ডয়টেরিয়াম (21H) নিউক্লিয়াসের ভর 1টি প্রোটন ও 1টি নিউট্রনের ভরের সমষ্টির চেয়ে ……….।
উত্তর – কম
5. ………… তাপমাত্রায় নিউক্লীয় বিভাজন ঘটে।
উত্তর – সাধারণ
6. শৃঙ্খল বিক্রিয়া দেখা যায় নিউক্লীয় ……….।
উত্তর – বিভাজনে
7. প্রাকৃতিক কোনো ঘটনার দ্বারা ………. শক্তি উৎপাদন প্রভাবিত হয় না।
উত্তর – পারমাণবিক
৪. দুটি ………. -এর সংযোজনের ফলে একটি হিলিয়াম আইসোটোপ (2He3) ও একটি নিউট্রন (0n1) উৎপন্ন হয়।
উত্তর – ডয়টেরিয়াম বা 1H2
9. নিউক্লীয় বিক্রিয়ায় হ্রাসপ্রাপ্ত ……….. বুপান্তরিত হয় শক্তিতে।
উত্তর – ভর
10. নিউক্লীয় বিভাজনে ইউরেনিয়ামের যে আইসোটোপটি ব্যবহার করা হয় তা হল ……….।
উত্তর – 

11. হিরোসিমায় ……….. বোমা ফেলা হয়েছিল।
উত্তর – ইউরেনিয়াম পরমাণু
12. 1986 সালে ইউক্রেনের চেরনোবিলে ………. বিস্ফোরণ হয়েছিল।
উত্তর – নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে