wb 10th Bengali

WBBSE 10th Class Bengali Solutions Chapter 4 প্রতিবেদন

WBBSE 10th Class Bengali Solutions Chapter 4 প্রতিবেদন

West Bengal Board 10th Class Bengali Solutions Chapter 4 প্রতিবেদন

West Bengal Board 10th Bengali Solutions

প্রতিবেদন রচনা

সাধারণত সংবাদপত্রে প্রকাশের উদ্দেশ্যে বা কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো সংগঠনের বিবিধ কাজের বিবরণ দিয়ে একটি বিষয়কে যেভাবে তুলে ধরা হয়, তাকেই প্রতিবেদন বলে। প্রতিবেদন কথাটির সাধারণ অর্থ বিবরণী বা রিপোর্ট এবং এই প্রতিবেদন রচয়িতাকে আমরা বলে থাকি প্রতিবেদক বা রিপোর্টার। রাজনীতি, খেলাধুলো, পরিবেশ, বিনোদন, বাণিজ্য ইত্যাদি নানান বিষয়ের উপর প্রতিবেদন রচিত হতে পারে।

প্রতিবেদন রচনার দৃষ্টান্ত

১. ওড়িশার কেন্দ্রাপড়ায় পাওয়া গেল পুরা-নিদর্শন
বৌদ্ধ পুরা-নিদর্শন মিলল কেন্দ্রাপড়ায়
বিশেষ সংবাদদাতা, ভুবনেশ্বর, ৪ আগস্ট : ওড়িশার কেন্দ্রাপড়ায় গোবরি নদীর কাছে অতি সম্প্রতি পাওয়া গিয়েছে বৌদ্ধযুগের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। ইতিহাসবিদ ও বৌদ্ধ গবেষক হরিশচন্দ্র পুষ্টি আজ জানান, পনসপুর গ্রামে খননকাজ চালানোর সময় কয়েকটি ছোটো ছোটো বৌদ্ধস্তূপ এবং স্তম্ভ পাওয়া গিয়েছে। স্তম্ভগুলির গায়ে পালি ভাষার লিপি খোদাই করা আছে। এ ছাড়াও ধ্যানরত অমিতাভ বুদ্ধ, অবলোকিতেশ্বর বুদ্ধ এবং নৃত্যরতা তরুণীদের কয়েকটি মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। বেশ কিছু মাটির মূর্তিরও খোঁজ মিলেছে। পনসপুর গ্রামে খননকালে প্রাচীন একটি সিঁড়ি লাগানো কূপেরও ধ্বংসাবশেষ মিলেছে। শ্রী পুষ্টির দাবি, এই অঞ্চলেই কান্তিকিয়ারি গ্রামের কাছে গোবরি নদীর গর্ভে রয়েছে একটি বড়ো বৌদ্ধবিহার। শ্রী পুষ্টি এর আগেও ওইসব অঞ্চলে নিজ উদ্যোগে খননকাজ চালিয়েছিলেন এবং মৃত্তিকাগর্ভ থেকে পেয়েছিলেন বৌদ্ধ পুরাবস্তুর নানা নিদর্শন।
ওড়িশার রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিকে রথ আজ বলেন, এই প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার ইতিহাসবিদদের বিশেষ কাজে লাগবে। তবে তিনি বা পুরাতত্ত্ব বিভাগের কেউ এখনও নব আবিষ্কৃত এই বৌদ্ধ-নিদর্শনগুলি দেখেননি।
২. দূরপাল্লার ট্রেনের এক দুর্ঘটনা
সরাইঘাট এক্সপ্রেসের চারটি কামরা বেলছিন
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুরারই, ২৫ জানুয়ারি: হাওড়ামুখী ২৩৪৬ ডাউন সরাইঘাট এক্সপ্রেসের একটি জেনারেল কামরা এবং একটি জেনারেল কামরা-কাম লাগেজভ্যান-সহ চারটি কামরা বেলাইন হল। শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে পূর্ব রেলের সাহেবগঞ্জ বর্ধমান লুপলাইনে ঝাড়খণ্ডের নগরনবি স্টেশনের কাছে। ঘটনাস্থল থেকে বীরভূম জেলার মুরারইয়ের রাজগ্রাম স্টেশনও দূরে নয়। যদিও দুর্ঘটনার সময়ে ট্রেনটি আস্তে চলায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে দুর্ঘটনার জেরে মালদহ থেকে হাওড়াগামী ইনটারসিটি এক্সপ্রেস এবং শিয়ালদহগামী মুঘলসরাই এক্সপ্রেস প্রায় ঘণ্টা দেড়েক দেরিতে চলে। গুয়াহাটিগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসকে নলহাটিআজিমগঞ্জ শাখা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সাহেবগঞ্জগামী রামপুরহাট প্যাসেঞ্জার ট্রেনকে মুরারই থেকে রামপুরহাটে ফিরিয়ে আনা হয়। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্যাম কুমার-সহ পদস্থ রেলকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। রেলপুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তের পরে সন্দেহ করা হচ্ছে লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইতিপূর্বে এই শাখাতেই শিয়ালদহমুখী ডাউন তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস ভয়ংকর দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছিল। দু-সপ্তাহও কাটেনি, তার মধ্যেই সরাইঘাট এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও যাত্রীবোঝাই ট্রেনের কামরা বেলাইন হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা ক্রমশ আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। তাঁরা এই বাড়তে থাকা রেলদুর্ঘটনার জন্য আধিকারিকদের কর্তব্যের গাফিলতিকেই কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
৩. প্রতিটি জেলায় কৃষি-বিদ্যালয় গড়ার সরকারি পরিকল্পনা
জেলায় জেলায় কৃষি বিদ্যালয় গড়বে রাজ্য সরকার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ৩১ জুলাই: রাজ্যের প্রতিটি জেলায় কৃষিবিদ্যালয় গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভারতের তিনটি রাজ্য—উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্ণাটকে যে কৃষি-বিদ্যালয়গুলি আছে, তারই মডেলে পশ্চিমবঙ্গেও কৃষি-বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। আপাতত কোচবিহার আর বাঁকুড়া জেলায় এই ধরনের বিদ্যালয় গড়ে তুলবে রাজ্য সরকার। পরিকল্পিত কৃষি- বিদ্যালয়গুলি হবে আবাসিক। প্রত্যেক জেলা থেকে চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ জন কৃষককে ভরতি করা হবে এক একটি প্রতিষ্ঠানে। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁরা ছ-মাসের প্রশিক্ষণ নেবেন। কিছুটা শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, এমন কৃষকদেরই ভরতি করা হবে কৃষি-বিদ্যালয়ে। প্রশিক্ষণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কীটনাশক প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বন, আবহাওয়া বিষয়ে সুনিশ্চিত পূর্বধারণা লাভ করা—এই ধরনের প্রাথমিক ও আবশ্যিক প্রসঙ্গগুলি কৃষকদের সামনে উপস্থাপিত করা হবে বলে জানিয়েছেন কোচবিহারের ভারপ্রাপ্ত কৃষি আধিকারিক।
উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ বা কর্ণাটকের কৃষি-বিদ্যালয়গুলি কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা পেলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার আপাতত কোনো কেন্দ্রীয় সাহায্য নিতে রাজি নয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই পরিকল্পিত কৃষি-বিদ্যালয়গুলিতে কাজ শুরু করার জন্য জেলার কৃষি-আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
8. প্রতি দশ হাজার মানুষপিছু এ রাজ্যে ডাক্তার মাত্র সাত জন
রাজ্যে চিকিৎসক বিরল
বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা, ৩ মে: পশ্চিমবঙ্গে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ৭ জন ডাক্তার রয়েছেন। অথচ, পাঞ্জাবে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য আছেন ১৫.৩ জন ডাক্তার, হরিয়ানায় ১৬ জন ডাক্তার, হিমাচলপ্রদেশে ১৪.৫ জন। এমনকি এ-ব্যাপারে মহারাষ্ট্র, মণিপুর, কেরল প্রভৃতি রাজ্যের অবস্থাও পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে অনেক ভালো। বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো গুটিকয়েক রাজ্য আছে পশ্চিমবঙ্গের দলে। কেন্দ্ৰীয় সরকারের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের বার্ষিক রিপোর্টে প্রতি ১০ হাজার নাগরিকপিছু রেজিস্টার্ড ডাক্তারদের সংখ্যা সংক্রান্ত রাজ্যওয়াড়ি পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ৬ কোটি ৮০ লক্ষ (১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের জনগণনা অনুযায়ী) মানুষের জন্য মোট ৪৫ হাজার ১০৫ জন নথিভুক্ত চিকিৎসক রয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ১০ হাজারে ৬.৬ জন। তবে এ ব্যাপারে সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতিতে রয়েছে অসম ও জম্মু-কাশ্মীর। চিকিৎসায় সরকারিক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ বাড়ছে দিনে দিনে। হাসপাতালে বেড না পাওয়া, পর্যাপ্ত ওষুধের অভাবে রোগীমৃত্যুর ঘটনা ইদানীং সময়ে ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যে ডাক্তারের ঘাটতির তথ্য সমস্যাকে আরও জটিল করবে বলেই সকলের ধারণা।
৫. তোমাদের এলাকায় অরণ্য-সপ্তাহ পালন
অরণ্য-সপ্তাহ উদযাপনে মধ্যমগ্রাম
বিশেষ সংবাদদাতা, মধ্যমগ্রাম, ৮ আগস্ট: মধ্যমগ্রামের বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা গত ৩০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত পালন করল অরণ্য-সপ্তাহ। সপ্তাহব্যাপী এই অনুষ্ঠানে তাদের সঙ্গে ছিলেন শিক্ষকশিক্ষিকা ও অভিভাবকগণ এবং এলাকার বিধায়ক, পুরপিতা ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। ৩০ জুলাই মধ্যমগ্রাম চৌমাথা থেকে মধ্যমগ্রাম স্টেশন পর্যন্ত শোভাযাত্রা সহকারে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান পালিত হয়। ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় নজরুল শতবার্ষিকী সদনে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক গীতি-আলেখ্য ‘এসো শ্যামল সুন্দর পরিবেশিত হয়। এলাকার বিশিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি পরিবেশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং এ-বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব সম্বন্ধে আলোচনা করেন। পুরসভার চেয়ারম্যান পরিবেশদূষণ থেকে মধ্যমগ্রামকে মুক্ত করার সংকল্প ঘোষণা করেন। চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে জঞ্জালে ভরা মধ্যমগ্রামের ক্রমশ বেড়ে চলা প্রাকৃতিক দূষণের কথা বলতে গিয়ে আরও বেশি করে গাছ লাগানোর ব্যাপারে সকলকে এগিয়ে আসতে বলেন। অঞ্চলের প্রতিটি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের তিনি এই বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সমাপ্তি ভাষণ দেন মধ্যমগ্রামের কুমুদপুর হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধানশিক্ষক দীে বিশ্বাস মহাশয়।
৬. তোমাদের এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা
শেষ হল বগুলার ক্রিকেট প্রতিযোগিতা
বিশেষ সংবাদদাতা, বগুলা, ১০ ডিসেম্বর: গতকাল এক বিরাট ক্রিকেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বগুলার স্কুল মাঠে। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে ২০ ওভারের যে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়ে চলছিল, গতকাল ছিল তার ফাইনাল ম্যাচ। রানাঘাট ভ্রাতৃসংঘ এবং বগুলা যুবকসংঘ একের পর এক ম্যাচ জিতে এই নকআউট টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠে। ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। অঞ্চলের ক্রিকেট দলের জয়লাভের আশায় সকলেই উন্মুখ হয়ে ছিলেন। সেমি-ফাইনালে বগুলা যুবক সংঘের একপেশে জয় তাদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দেয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই সকাল ১০টায় ম্যাচ শুরু হয়। কিন্তু তার প্রায় ২ ঘন্টা আগে থেকেই স্কুল মাঠ দর্শকে ভরে যায়। ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতেও বহু কচিকাঁচাদের মাঠে দেখা যায়।
ফাইনালে টসে জিতে রানাঘাট ভ্রাতৃসংঘ ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৬ রান করে। অধিনায়ক সমর ঘোষ একাই করেন ৫১ রান। তারপর বগুলা যুবকসংঘ ১৮ ওভারে ১০৭ রান করে অলআউট হয়ে যায়। দলের কুশলী খেলোয়াড় গৌতম অধিকারী ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ফলে ৯ রানে জিতে যায় রানাঘাট ভ্রাতৃসংঘ এবং তারা বিষু চ্যাটার্জী স্মৃতি কাপ জিতে নেয়। বগুলার দর্শকরা নিজেদের অঞ্চলের দলের পরাজয় দেখে দুঃখ পেলেও বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেনি
৭. জলা বুজিয়ে, সবুজ ধ্বংস করে আবাসন নয়
জলা বোজানোর বিরুদ্ধে জেহাদ
নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউ ব্যারাকপুর, ৫ জুন: আবাসন আবশ্যক কিন্তু জলা বুজিয়ে বা সবুজ ধ্বংস করে নয়—৫ জুন এই সিদ্ধান্তই জানালেন নিউ ব্যারাকপুরের মানুষ। প্রতি বছরের মতো এবছরেও স্থানীয় ‘বিজ্ঞান চেতনা ফোরাম’ বিশ্ব-পরিবেশ দিবসের দিন পরিবেশ বিষয়ক এক আলোচনাচক্রের আয়োজন করেছিল। ওই দিন সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত স্থানীয় কৃষ্টি সাংস্কৃতিক হলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আলোচনাসভা। এবারের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘জলা বুজিয়ে সবুজ ধ্বংস করে আবাসন নয়’।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শহুরে জীবনে যে আবাসনের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে—এ কথা কেউ আর অস্বীকার করতে পারবেন না। কিন্তু পুকুর বোজানোর এবং নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন করার পরিণাম যে অত্যন্ত ভয়ংকর, সে-কথা বোঝার সময় সবার এসেছে। এর ফলে ক্রমে ক্রমে আমরা পরিবেশকে আমাদের বসবাসের অযোগ্য করে তুলছি। আলোচনাসভায় এসব ব্যাপারেই বিস্তৃত আলোচনা করেন পরিবেশবিজ্ঞানী শ্রীঅশোক মিত্র মহাশয়, ফোরামের সম্পাদক শ্রীশুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় মহাশয়, সহ-সম্পাদক শ্রীসুরেশ কুণ্ডু মহাশয়। এক শ্রেণির অসাধু আবাসন ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদের যোগসাজশের অভিযোগ আনেন অনেকেই। জলাভূমি বুজিয়ে এবং সবুজ ধ্বংস করে বহুতল বাড়ি নির্মাণের বিরুদ্ধে সভায় সকলে ক্ষোভ দেখান। নিউ ব্যারাকপুর ও সংলগ্ন অঞ্চলকে পরিবেশদূষণ থেকে মুক্ত করার সংকল্প ঘোষিত হয় ‘বিজ্ঞান চেতনা ফোরাম’-এর তরুণ সম্পাদকের কণ্ঠে। শহরকে সবুজ ও দূষণমুক্ত করে তোলার প্রতিজ্ঞা করেন নিউ ব্যারাকপুরের কয়েকশো মানুষ।
৮. ডাইনি সন্দেহে এক বৃদ্ধাকে নিপীড়ন করার বিরুদ্ধে গ্রামের একদল যুবকের প্রতিবাদ
ডাইনি সন্দেহে নির্যাতিতা বৃদ্ধা
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ৬ জুন: গতকাল দুপুরে পুরুলিয়ার বহেরু, গ্রামে এক বৃদ্ধাকে ডাইনি সন্দেহে নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানায় গ্রামেরই একদল যুবক।
স্বামী ও একমাত্র সন্তান মারা যাওয়ার পর থেকে শান্তি সোরেন (৭০) নামে ওই মহিলা তাঁর বাড়িতে একাই থাকতেন বলে জানা গেছে। গতকাল সকালে গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামলবাবুর ছোটো ছেলে হঠাৎই অজানা জ্বরে মারা যায়। এ কথা জানাজানি হওয়ার পর গ্রামের বেশ কিছু লোক উন্মত্তের মতো লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে চড়াও হয় এবং তাঁকে প্রচণ্ড মারধোর করতে থাকে। সেই সময়ে গ্রামেরই একদল যুবক খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পৌঁছোয় এবং বৃদ্ধাকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করে। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তারা। বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুবকদের পুরস্কৃত করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় থানার আইসি মৃন্ময় নন্দী। এই যুবকদের অন্যতম জয়রাম মাহাতো বলেন যে, স্থানীয় শিক্ষিত মানুষের সাহায্যে গ্রামের লোকের মন থেকে কুসংস্কার দূর করতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে তারা।
৯. একটি বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান কর্মশালার আয়োজন
সামান্য উপকরণে আয়োজিত বিজ্ঞান কর্মশালা
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া, ৭ সেপ্টেম্বর: ৫-৬ সেপ্টেম্বর বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের কাছে রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল স্বল্প ও বিনামূল্যের সামগ্রী দিয়ে ‘হাতেকলম বিজ্ঞান’ শীর্ষক কর্মশালা। রাধানগর উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় এবং রাধানগর শাখার ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই কর্মশালা। এখানে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামের প্রাক্তন অধিকর্তা ও দূরদর্শনের বিখ্যাত বিজ্ঞান অনুষ্ঠান ‘কোয়েস্ট’-এর প্রযোজক সমর বাগচি ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক বীরেন্দ্রনাথ দাস।
এই কর্মশালায় ৬টি জেলার শিক্ষক ও বিজ্ঞানকর্মী-সহ যোগ দিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, খড়্গপুর আইআইটি এবং আরজিকর মেডিকেল কলেজের ছাত্ররাও।
অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে পরিত্যক্ত বোতল এবং হাতের সামনে পাওয়া নানা জিনিস ও অত্যন্ত কমদামের কিছু যন্ত্রপাতি দিয়ে সমরবাবু ও ড. দাস শেখালেন যে, হাতেকলমেই নানান পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে পদার্থবিদ্যার নানা নিয়ম-নিউটনের গতিসূত্র, বর্ষণ, চুম্বকত্ব, চাপ, বল, আলোক, আর্কিমিডিসের সুত্র, বানৌলি নীতি, তরলের সমোচ্চশীলতা ধর্ম, মাধ্যাকর্ষণ–প্রভৃতি বিষয় কত সহজে এবং নির্ভুল পদ্ধতিতে শেখানো যায়। সবশেষে, বিষয়টিকে কীভাবে আরও ছড়িয়ে দেওয়া যায় ও প্রতিটি স্কুলের শিক্ষকদের অংশগ্রহণ করানো যায়—তা নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়।
১০. দূষণ প্রতিরোধে সেমিনারের আয়োজন
‘প্লাস্টিক দূষণ’ প্রতিরোধে বিদ্যালয়ে আয়োজিত সেমিনার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ১০ মে: গত ৫ মে শিক্ষামন্দির উচ্চবিদ্যালয়’-এ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘প্লাস্টিক দূষণ’ প্রতিরোধের ওপর একটি সেমিনার। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। তিন দিন ধরে এই সেমিনার চলে। এই তিন দিনে বক্তৃতা, আলোচনা এবং দূষণের প্রতিকার সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এই সেমিনারে প্রতিদিনই বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ছাড়াও শিক্ষক/শিক্ষিকারাও উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও প্রায় প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিল। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের তৈরি নানারকম মডেল প্রদর্শনীর ব্যবস্থা ছিল। শিক্ষক/শিক্ষিকা এবং কিছু ছাত্রছাত্রীও এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পেশ করেন। কীভাবে প্লাস্টিক পরিবেশকে দূষিত করে এবং এই প্লাস্টিক দূষণ রুখতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিক্ষক/শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও এই সেমিনারে স্থানীয় অধিবাসীরাও যোগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় স্বাস্থ্য আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন এই সেমিনারে। তৃতীয় দিনে অর্থাৎ সেমিনারের শেষ দিনে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিলেন। প্লাস্টিক দূষণের প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করার জন্যই মূলত এই শোভাযাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
১১. মানবসুরক্ষায় এগিয়ে এল মোবাইল
সুরক্ষা এখন মোবাইল অ্যাপে
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ৬ সেপ্টেম্বর: মেয়েদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিল মোবাইলের সেফটি অ্যাপ। যে-কোনো স্মার্ট ফোনে ডাউনলোড করা যাবে এই ‘উইথ ইউ’ সেফটি অ্যাপ। বিপদে পড়লে পাওয়ার বাটনে দু-বার পুশ করলেই আপৎকালীন বা এসওএস মেসেজ পৌঁছে যাবে মোবাইলের তালিকায় থাকা প্রিয়জনদের কাছে। আর এই মেসেজে জানানো থাকবে বিপদে পড়ার কথা এবং লোকেশন। মেয়েদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে মাইক্রোসফটও বাজারে এনেছে ‘গার্ডিয়ান’ নামের সেফটি অ্যাপ। বিপদ এলে এসওএস বাটন প্রেস করলেই পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবরা সতর্ক হয়ে যাবে। এরকম আর একটি অ্যাপ ‘উইমেন সেফ সার্কল’। এই অ্যাপ চেনাপরিচিতদের কাছে পাঠিয়ে দেবে মেল। ব্ল্যাকবেরি আর অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য রয়েছে স্ক্রিম অ্যালার্ম। এটি পুশ করলেই মহিলার গলার চিৎকার শোনা যাবে। এতে কাছের লোকেরা সচেতন হবে। এ ছাড়া ‘ফাইট ব্যাক’ অ্যাপও আছে। এরা দাবি করেছে এরাই প্রথম মেয়েদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আসা অ্যাপ। প্রযুক্তির দিক থেকে এই অ্যাপ খুবই উন্নতমানের। এমার্জেন্সি মেসেজ ছাড়াও ফেসবুক ও ই-মেল মারফত বিপদের খবর পৌঁছে যাবে প্রিয়জনদের কাছে। এই সুরক্ষা অ্যাপগুলি আসায় মানুষ অনেক নিশ্চিন্ত। তবে, মোবাইলের সিগন্যাল যদি ঠিক সময় কাজ না করে, তখন কী হবে—এ-বিষয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছেই। ভৱসা এটুকুই যে, বুদ্ধি করে স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে পারলে বিপদের ন ব্যবহার করা আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমবে।
১২. হাসপাতালের অমানবিক আচরণ
মৃত্যুপথযাত্রীকে বিনা চিকিৎসায় ফেরাল হাসপাতাল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ২০ জুলাই: চিকিৎসা না করেই হাসপাতাল ফিরিয়ে দিল ডেঙ্গিজ্বরে আক্রান্ত এক রোগীকে। অবশেষে সংকটজনক অবস্থায় তাকে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। রোগীর অবস্থা সংকটজনক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি হাসপাতালে ভরতির ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনোরকম সাহায্য তারা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর পরিবার।
মুরশিদাবাদের বাসিন্দা অমল দে চাকরিসূত্রে কলকাতায় থাকে। কলকাতায় থাকাকালীন তার জ্বর হয়। শারীরিক পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হতে থাকলে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে মুরশিদাবাদ মেডিকেল কলেজে ভরতি করানোর চেষ্টা করা হলে উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবের অজুহাতে তাকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর কলকাতার নামি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকেও বিনা চিকিৎসায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দুটি সরকারি হাসপাতালে একই ঘটনা ঘটলে অবশেষে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয় পরিবারের একমাত্র রোজগেরে অমলকে। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় বিধায়ককে ফোন করা হলেও কোনোরকম সাহায্য তারা পায়নি। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অনেক খরচসাপেক্ষ হওয়ায় প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা চাঁদা তুলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। অমলের পরিবারের এখন একটাই প্রার্থনা ঘরের ছেলে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে আসুক।
১৩. ধীরে ধীরে দুর্ঘটনার হার কমছে কলকাতায়
কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে কমছে পথ দুর্ঘটনা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ৩ জুলাই: কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে কমছে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা। কলকাতা পুলিশের হিসাব অনুযায়ী ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা আগের থেকে অনেকটাই কমেছে। পুলিশ কমিশনারের মতে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমার পেছনে ট্রাফিক পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। কলকাতা শহরে ট্রাফিক নিয়ে এবং প্রতিদিন হওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে সকলেরই যথেষ্ট অভিযোগ ছিল। পথ দুর্ঘটনা কমানোর জন্য আইনব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছিল। লালবাজারের একাংশ বলছে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমার পেছনে আইনের কড়াকড়ি, সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়াও অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার উন্নতিও যথেষ্ট সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। এখন আহত ব্যক্তিকে অনেক দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়। যেটা আগে সম্ভব হত না। কিন্তু পুলিশের বক্তব্য এখনও শহরের নাগরিকরা অনেকেই পথ নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নন। সচেতনতা যত বাড়বে দুর্ঘটনার হার তত কমবে। কমিশনারের মতে বিদেশের মানুষ এই সচেতনতার ব্যাপারে আমাদের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে এখনও। কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে অনেকেই এখন বাহবা দিচ্ছেন। বেশিরভাগ মানুষের মতেই, কলকাতা পুলিশ এখন যেভাবে উৎসব-অনুষ্ঠান এবং সাধারণ দিনে ট্রাফিক সামলায় তা নজিরবিহীন। পথ নিরাপত্তা নিয়ে শহরে অনুষ্ঠান করা হবে বলেও পুলিশ কমিশনার জানান। এর মধ্যে থাকবে শহরের বিভিন্ন মোড়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিভিন্ন গাড়ির প্রদর্শনী এবং পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন।
১8. টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শহরের জনজীবন
জলনিকাশের সমস্যায় পর্যুদস্ত শহর
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ১০ জুন: তিন দিনের ভারি বৃষ্টিতে জিয়াগঞ্জের রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল। জলনিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা জিয়াগঞ্জে বেশ অনেকদিন ধরেই। বৃষ্টিতে এখানাকার বেশ কিছু এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা এতটাই বেহাল হয় যে, যে-কোনো সময় বড়ো কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্রশাসনিক দফতর বারবার এই সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও সমস্যার কোনোরকম সমাধান আজও হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। পুরপ্রধান বলেছেন, পুরসভার যে-দুটি পথ দিয়ে জল বের করা হয় তা বাগডোগরা পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। ওই কাজ করার জন্য পঞ্চায়েত ৪০ শতাংশ ও পুরকর্তৃপক্ষ ৬০ শতাংশ অর্থ দেয়। আর সেইমতোই কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রাক্তন পুরপ্রধান অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন যেখানে কাজ হয়েছে সেখানেও ভালো কাজ হয়নি। বাসিন্দাদের অভিযোগ সমর্থন করে তিনি বলেছেন অঞ্চলের বিভিন্ন ওয়ার্ডেই নিকাশিব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তাই অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে। প্রতি বর্ষাতেই এই অঞ্চলকে এইভাবে ডুবতে হয়। যদিও অঞ্চলের বাসিন্দাদের পুরসভাপ্রধান আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন তাঁরা শহরটাকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। জলনিকাশি ব্যবস্থা-সহ আগামী কয়েক বছরে উন্নত পরিসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে পৌরসভা কাজ করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
১৫. মাধ্যমিক পরীক্ষার পরে কয়েকজন বন্ধু মিলে বিনা পয়সায় ফুটপাথবাসী শিশুদের পড়াচ্ছে। —এই বিষয়ে প্রতিবেদন লেখো।
ফুটপাথের স্কুল থেকেই শুরু মানবতার উড়ান
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ১লা মে: চারপাশের স্বার্থপরতা এবং অমানবিকতার ভিড়ে একটু অন্যরকম খবর তৈরি হল শহর কলকাতায়। দক্ষিণ কলকাতার প্রাণকেন্দ্র গড়িয়াহাটের উড়ালপুলের নীচে বেশ কিছু ফুটপাথবাসী মানুষের বাস। তাদের বিরুদ্ধে নানা অসামাজিক কাজের অভিযোগও আসে মাঝেমধ্যে। এদেরকেই সমাজের মূলস্রোতে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে এমন কয়েকজন যাদের কৈশোর এখনও শেষ হয়নি। স্থানীয় সাউথ পাইওনিয়ার স্কুলের সাত জন ছাত্র মাধ্যমিকের পরে নিজেদের প্রচেষ্টায় ওই ফুটপাথবাসী বাচ্চাদের লেখাপড়া শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তাদেরই একজন অভীক, আমাদের জানাল “পড়াশোনার পরে এই তিন-চার মাস আমাদের কিছুটা ফাঁকা সময় থাকে। যদি কিছু ভালো কাজে নিজেদের জড়াতে পারি তাই এই উদ্যোগ।” সপ্তাহে চার দিন করে বসছে অভীকদের ফুটপাথের স্কুল। ছাত্রদের বয়স পাঁচ থেকে পনেরো। এরকম আঠারোটি বাচ্চাকে নিয়ে আপাতত স্কুল শুরু হয়েছে। বইপত্র বা খাতা পেন কেনায় সাহায্য করছেন তাদের বাড়ির লোকেরা। অভীক-সায়ন্তন-স্বপ্নিলরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যে এই চেষ্টাকে তারা ভবিষ্যতেও চালিয়ে নিয়ে যাবে। আর এই কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা ঝরে পড়ল ফুটপাথেরই এক শিশুর মা মঙ্গলা দাসের কথায়। তাঁর মতে, সবাই তাঁদের ঘেন্না করে, কিন্তু এখন তাঁরা বুঝতে পারছেন যে তাঁদের কথা ভাবার জন্যও কেউ কেউ আছেন।
১৬. একজন ট্যাক্সিচালকের সততার নিদর্শন—এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
ট্যাক্সিচালকের সততায় যাত্রী ফেরত পেলেন টাকা, কার্ড
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ১২ জুলাই: ট্যাক্সিচালকদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, যাত্রী না তোলা, বেশি ভাড়া চাওয়া—এরকম হাজারো অভিযোগ কান পাতলেই শোনা যায়। এই অবস্থায় নজিরবিহীন এক সততার দৃষ্টান্ত রাখলেন ট্যাক্সিচালক রঘুনাথ ঝা। যাদবপুরের বাসিন্দা অনল গুহ ধর্মতলা থেকে রঘুনাথের ট্যাক্সিতে উঠেছিলেন। যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে তিনি ভাড়া মিটিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যান। গাড়ি ঘুরিয়ে বেঙ্গল ল্যাম্পের কাছে পৌঁছোনোর পরেই রঘুনাথ খেয়াল করেন পিছনের সিটে একটি চামড়ার ব্যাগ পড়ে আছে। তিনি একটুও বিলম্ব না করে ব্যাগটি যাদবপুর থানায় জমা দেন। অন্যদিকে ব্যাগ হারিয়ে সন্ধ্যায় অনলবাবুও ডায়রি করতে আসেন থানায়। ব্যাগ ফেরত পেয়ে উচ্ছ্বসিত অনলবাবু বলেন যে, ব্যাগের ভিতরে প্রায় তিরিশ হাজার টাকার সঙ্গে প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাংকের দরকারি অনেক কাগজ পত্রও ছিল। ট্যাক্সিচালকের সততায় মুগ্ধ অনলবাবু বলেন—“এরকম সৎ মানুষ তো আজকের সমাজে বিরল।” যদিও রঘুনাথ ঝার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যে, তিনি যেটুকু করা উচিত ছিল সেটুকুই করেছেন। যাদবপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ প্রদীপ্ত প্রধান জানিয়েছেন যে তারা রঘুনাথ ঝাকে পুরস্কৃত করার কথা ভাবছেন।
১৭. রক্তদান জীবনদান—এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। 
সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে রক্তদান শিবিরে এল সাফল্য
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ২৬ জুন:গড়িয়ার নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হল এক রক্তদান শিবির। গত ২৫ জুন স্থানীয় কমিউনিটি হলে এই রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট প্রাক্তন ফুটবলার বিশ্বজিত চ্যাটার্জী। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে সম্পাদক রাজরূপ দে জানান যে, এ বছর ৭৩ জন রক্তদাতা রক্ত দান করেছেন। সংখ্যাটা গতবারের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেশি। এলাকার মানুষদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং রক্তদান বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই সাফল্যের কারণ বলে তাঁর মত। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, নেতাজি স্পোর্টিং-এর রক্তদান শিবির এবার পনেরো বছরে পড়ল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিখ্যাত লেখক ও সমাজকর্মী অনুরাধা মিত্র মনে করিয়ে দেন যে, প্রতিটি ক্লাবেরই নিজেদের এলাকায় এরকম একটি সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে ব্লাড ব্যাংকগুলিতে যখন রক্তের আকাল তখন এই ধরনের উদ্যোগ যে বহু বিপন্ন মানুষের প্রাণ রক্ষা করবে সে কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সমগ্র রক্তদান শিবিরটিকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছিলেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স।
১৮. মোবাইল ফোন কানে রাস্তা পার হওয়া বিপজ্জনক—এ সম্পর্কে সংবাদপত্রের জন্য একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
অসতর্ক রাস্তা পার কেড়ে নিল জীবন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ৪ জুলাই: মোবাইল ফোন ক্রমশই আধুনিক মানুষের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। নানা সার্ভিস প্রোভাইডারকে নামমাত্র মূল্যে নানা সুযোগসুবিধাপ্রদান, হ্যান্ডসেটের দাম কমে যাওয়া—এসব কারণে গরিব বড়োলোক নির্বিশেষে এখন সকলের হাতেই মুঠোফোন। শুধু তো কথা বলা বা শোনা নয়, ইনটারনেটের মাধ্যমে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো নানাবিধ সোশ্যাল মিডিয়ার নেশাতেও মজেছে আপামর বাঙালি। আর সেই নেশা প্রাণঘাতীও হয়ে উঠছে যখন তখন। আজ দু পুরে লর্ডসের মোড়ে এরকমই একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মোবাইলের হেডফোন কানে গুঁজে সিগন্যাল না দেখেই রাস্তা পার হওয়ার সময়ে ১৮সি রুটের বাসে চাপা পড়েন এক তরুণী। যুবতীকে কাছেই অরবিন্দ সেবাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালসূত্রে জানা গিয়েছে তার নাম মিতা পাল, বাড়ি মুকুন্দপুরে। তার অবস্থা এখনও যথেষ্ট সংকটজনক। ঘটনার পরে উত্তেজিত জনতা বাসটিতে ভাঙচুর চালায় এবং এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। কলকাতা পুলিশের ডি সি (ট্রাফিক) ডি. বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে পথ নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রচার সত্ত্বেও মানুষের সচেতনতার অভাবই এইসব বিপদ ডেকে আনছে।
১৯. নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী—এ বিষয়ে  সংবাদ পত্রের জন্য কমবেশি ১৫০ শব্দে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
সাম্প্রতিককালে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষের অসহায়তা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ২৩ মার্চ: চৈত্রের শুরুতেই রাজ্যে নেমে এসেছে গ্রীষ্মের দাবদাহের আগুন। কিন্তু রাজ্যের আপামর সাধারণ মানুষ বেশ কয়েক মাস ধরেই পুড়ছেন মূল্যবৃদ্ধির আগুনে। চাল, গম, আলু থেকে শুরু করে প্রতিটি নিত্যব্যবহার্য জিনিসের দাম এখন আকাশছোঁয়া। দিন দিন সোনার দাম যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে, তেমনি চাল, ডাল, মাছ, তরিতরকারি এবং ওষুধও অগ্নিমূল্য। সরকারি এবং আধাসরকারি কর্মচারী ও অন্যান্য উচ্চ বেতনভোগীদের অবশ্য মূল্যবৃদ্ধির অনুপাতে বেতন বাড়ছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এবং তাদের পরিবার আজ এক দুর্বিষহ অবস্থার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। নিম্নবিত্ত মানুষ আজ সন্তানের মুখে দু-মুঠো অন্ন তুলে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এদিকে বারবার ডিজেল এবং পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি হওয়াতে অবস্থা আরও চরম জায়গায় পৌঁছোচ্ছে। অর্থনীতিবিদ এবং কৃষিবিদরা জানিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়বে। কয়েকদিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের একটা গোটা পরিবার চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। সুতরাং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার যদি অবিলম্বে সাধারণ মানুষের পাশে এসে না দাঁড়ায়, তবে দেশ এক চরম সর্বনাশের অবস্থায় গিয়ে পৌঁছোবে।
২০. কোনো গ্রামীণ এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল উদ্‌বোধন হল—এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্বোধন
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান, ২২ ফেব্রুয়ারি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে চালু হল পূর্বস্থলী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বর্ধমান জেলার এই প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষেরা এত দিন চিকিৎসার জন্য ছুটে যেত তিরিশ কিলোমিটার দূরবর্তী কালনা মহকুমা হাসপাতালে। নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু হওয়ার ফলে এলাকার মানুষকে আর দূরে যেতে হবে না। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক, জেলাশাসক ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির উপস্থিতিতে উদ্‌বোধনী অনুষ্ঠানটি অন্য মাত্রা পায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিতে কেটে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দ্বারোদ্ঘাটন করেন। তিনি বলেন, কুড়ি শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাবতীয় রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। দুজন ডাক্তার এবং তিন জন নার্স আপাতত নিযুক্ত হয়েছেন। পরে এর সম্প্রসারণ করা হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়াও কিছু বড়ো ধরনের চিকিৎসাও এখানে করা হবে। ছোটোখাটো অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও থাকবে। থাকবে সাপে কাটা, কুকুরে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা। উদ্‌বোধনী অনুষ্ঠানের দিন স্থানীয় স্কুলের শিক্ষকশিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালটি প্রায় দশটি গ্রামের মানুষকে পরিসেবা দিতে পারবে বলে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন। পরবর্তী পদক্ষেপে এখানে একটি ব্লাডব্যাংক স্থাপনেরও পরিকল্পনা আছে। নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে ঘিরে এলাকার মানুষদের উৎসাহ এবং উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
২১. তোমার এলাকায় একটি পাঠাগার উদ্বোধন হল-এ বিষয়ে  একটি প্রতিবদেন রচনা করো। 
আমিনপুরে গ্রন্থাগার উদ্‌বোধন
নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট, ১০ সেপ্টেম্বর: বসিরহাট মহকুমার আমিনপুর গ্রামে এলাকার মানুষদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হল গ্রামীণ গ্রন্থাগার। গত ৮ সেপ্টেম্বর এই গ্রন্থাগারের উদ্‌বোধন করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক প্রবীর ধর। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ দীনবন্ধু রপ্তান। এলাকায় একটি হাই স্কুল এবং তিনটি প্রাইমারি স্কুল থাকলেও বর্ধিষ্ণু গ্রাম আমিনপুরে কোনো গ্রন্থাগার ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দা দুলালচন্দ্র ঘোষের দেওয়া জমিতে গড়ে উঠেছে এই গ্রন্থাগার। আপাতত, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ মিলিয়ে প্রায় দেড়হাজার বই এখানে স্থান পেয়েছে। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও নিজস্ব সংগ্রহের বই গ্রন্থাগারে দান করেছেন। গ্রন্থাগার পরিচালন সমিতির সম্পাদক জুবেদ আলির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল আগামী দিনে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য দুটি বিভাগ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এ ছাড়া গ্রন্থাগারের সদস্যদের দ্বারা একটি দেয়াল পত্রিকাও নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাহিত্যিক প্রবীর ধর আশা প্রকাশ করেন যে এলাকার মানুষের শিক্ষা ও চেতনার মান উন্নয়নে এই গ্রন্থাগার বিশেষ ভূমিকা নেবে। কর্মাধ্যক্ষ তার ভাষণে বলেন, গ্রন্থাগার যাতে নিয়মিতভাবে সরকারি অনুদান পায় তার চেষ্টা করা হবে। বিশিষ্ট শিল্পী তানিয়া সরকারের সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
২২. বিদ্যালয়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
সুন্দরপুর আদর্শ বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসাত, ১২ ফেব্রুয়ারি: উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সুন্দরপুর আদর্শ বিদ্যালয় এ বছর তাদের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন করছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই বর্ষব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক আলোক সরকার। প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. সুছন্দ ব্যানার্জি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ইতিহাস নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ একটি স্মারক পত্রিকা প্রকাশ করা হয়। সকাল 9 টায় স্কুলের ছেলেমেয়েদের বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরির মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। ছেলেদের রণপা নৃত্য এবং স্কাউট প্রদর্শনী সকলের প্রশংসা কুড়ায়। বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্কুলের ছেলেমেয়েদের অভিনীত নাটক এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকর্ম প্রদর্শিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনারুল সর্দার বলেন যে ফুটবল প্রতিযোগিতা, ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ইত্যাদি সারাবছর ধরে চলবে। গ্রামবাসীরা সকলেই এই অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *